Posts Tagged ‘আত্মহত্যা’


লিখেছেন: দীপন জুবায়ের

image-2-এখন থেকে মাত্র পাচঁ মিনিট আগে আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধান্ত নিই। এই সিন্ধান্তটা আজ অথবা কাল আমাকে নিতে হবে আমি জানতাম। অবশ্যই নিতে হবে। একটা ব্যাপার লক্ষ্য করে আমি অবাক হচ্ছি, ঠিক যখন থেকে আমি সাহস করে সিন্ধান্তটা নিতে পারলাম তখন থেকে সবকিছু আমার ভালো লাগতে শুরু করেছে। খুব অবাক লাগছে। আমার মধ্যে যে অবর্ননীয় যন্ত্রনাগুলো জট পাকিয়ে ছিল সেগুলো যেন সব বেমালুম কোথায় গায়েব হয়ে গেছে। এবং সব থেকে আশ্চর্য ব্যাপার আমি মনখুলে হাসতে পেরেছি। (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: কল্লোল কর্মকার

আমি লিখতে চাইনি। কারণ আজকাল লেখা আর কারও মনে আঘাত কিংবা প্রতিঘাত করে না। মানুষের মন আজ কর্পোরেট কোম্পানির বাগানে লাগানো প্লাস্টিকের ফুল। তবুও আজ সকালে ঘুম থকে উঠে কলম ধরতে হলো নিজের কাছে নিজের দায় থেকে। সকালে একদিনের বাসি পত্রিকায় একটা নিউজ দেখে নিজেকে সামলে রাখা কষ্টকর হলো। লেখাটা ছিল আমি সর্বহারাশিরোনামে সাংবাদিক মিনার মাহমুদের লেখা একটা চিঠি। আত্মহত্যা করবার আগে স্ত্রী লাজুককে লেখা তার এই শেষ চিঠিতে তিনি লিখে গেছেন তার যন্ত্রনা ও এই সমাজের কুৎসিত ক্ষতগুলোর কথা।

মিনার মাহমুদ

মিনার মাহমুদ যখন সকাল বেলা বাসা থেকে বের হন তখনও তিনি জানতেন যে তিনি আর ফিরে আসবেন না বাসায় নিজের স্ত্রীর কাছে। কতটা স্বপ্নভঙ্গ হলে একজন মানুষ এতটা পরিকল্পিতভাবে নিজেকে সর্বহারা ঘোষণা করে আত্মহত্যা করতে পারে। তার এই আত্মহত্যার জন্য দায়ী এই রাষ্ট্র, এই ব্যবস্থা এবং এই রাষ্ট্রের মিডিয়ার কুৎসিত সম্পাদকরা।

মিনার মাহমুদের চিঠির বয়ানে আত্মহত্যা প্রসঙ্গে: মোটেও না, আসলে নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। কারও প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ আছে আমার বাংলাদেশের সার্বিক সমাজ ব্যবস্থায় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরবর্তী সময় থেকে এযাবৎকাল এদেশের মিডিয়ার উপর এসেছে একের পর এক আঘাত। কখনও মিডিয়াকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। একটা সময় মিডিয়া দাসত্ব করেছে কোনো দলের আর এখন দাসত্ব করছে কর্পোরেট কোম্পানির। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: তারিক মাহমুদ

আমার নোট:ভারত’ দক্ষিণ এশিয়ার এক পরাক্রমশালী রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভঙ্গুর অবস্থার পর এবং মার্কিন ভারত আঁতাত আরো সুদৃঢ় হওয়ার পর, এখন ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানানো মত কোন দেশ এই অঞ্চলে নাই। তার শাসক গোষ্ঠী অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক শক্তি জোরে ‘ভারত’কে ‘সুপার পাওয়ার’ হিসেব প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধ পরিকর। আর এর ভেতরেই চলেছে এক বিরামহীন দু:সহ পরিস্থিতি, কৃষকদের ক্রমাগত আত্মহত্যা। ঘটনাটি দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসছে কিন্তু সরকারের কোন পদক্ষেপ নাই, মিডিয়াগুলোর কোন চেতনা নাই; তারা বরং ‘গ্রেট ইন্ডিয়া’র স্লোগান তুলে দেশটির নিপীড়িত মানুষের আর্তনাদকে চাপা দিতে বদ্ধপরিকর। এই বিষয়ের উপরে করা ডকুমেন্টারি “নিরোস গেস্ট” সম্পর্কে ফেসবুক বন্ধু ‘মনজুরুল হকে’র নোটটি বহু দিন আগেই পড়েছিলাম। তারপর ডকুমেন্টারিটি দেখার পর অত্যন্ত অসহায় বোধ করেছি শাসক ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষরে বিচ্ছিন্নতার ভয়াবহ পরিণতি দেখে। তারপর ঘটনাক্রমে হাসান জাফরুল বিপুল ভাইয়ের কাছে থেকে এই সাক্ষাৎকারটি অনুবাদের দায়িত্ব লাভের মধ্যে দিয়ে এটি সম্পাদিত হয়। অনুবাদের কার্মে বন্ধু শাফায়েত নূরের সাথে আলাপচারিতা এবং সহায়তার কথা মনে রেখে এই নোটে তাকেও স্মরণ করছি। শাসক, শোষক ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বিরুদ্ধে এটি প্রচার ও মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস হিসেবে লেখাটি আরো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশে এখানে শেয়ার করলাম।

আমরা যদি ভারতের কৃষকদের আত্মহত্যার দিকে ফিরে তাকাই, তবে দেখতে পাব গত ১৬ বছরে আড়াই লক্ষ কৃষক আত্মহত্যা করেছে। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি ৩০ মিনিটে একজন করে কৃষক আত্মহত্যা করছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মনজুরুল হক

গত ৩ মার্চ ভারতের ব্যাঙ্গালোর এর আই আই সায়েন্স সিটিতে প্রথম প্রদর্শনী হয়ে গেল বিখ্যাত তথ্যচিত্র ‘নিরোর অতিথিরা’র। ছবিটির অফিসিয়াল ট্রায়ালকে বাধাগ্রস্ত করতে কর্ণাটকের সরকার কম চেষ্টা করেনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছবিটি মুক্তি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষ জানতে পেরেছে গত এক দশক ধরে ভারতের কৃষকদের সঙ্গে কি আচরণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার এবং ভারতের বিখ্যাত সব মিডিয়া টাইকুনেরা! এই ছবিটির নামকরণেও বিশেষ বৈশিষ্ট আছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন শত শত চাষী আত্মহত্যা করছে, তখন সরকারের এবং মিডিয়ার ধারণায় সে সব কেবলই ‘নিরোর বাঁশী’র সুর! আর সেই ব্যঙ্গশ্লেশকে অবলম্বন করেই ছবিটির নাম হয়েছে ‘নিরোর অতিথিরা’ বা “Niro’s Guests”

ছবিটির বিষয় বস্তু ভারতের প্রায় দুই লাখ কৃষক, যারা গত দশ বছরে আত্মহত্যা করেছে। কেন আত্মহত্যা করেছে? কারণ তারা তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, কষ্টার্জিত ধারের টাকা লগ্নি করে যে ফসল উৎপাদন করে তার বাজার মূল্য পায় না। ধার করা টাকা শোধ দিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এভাবে গত দশ বছরে ভারতে প্রায় দুই লাখ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে! চকচকে ঝকঝকে শত শত চ্যানেলে এই খবর আসেনি। তেমনভাবে আসেনি কোনো প্রিন্ট মিডিয়াতেও। ঠিক সেই সময় ‘দ্য হিন্দু’ সংবাদপত্রের মফস্বল বিষয়ক সম্পাদক পি সাঁইনাথ একেবারে প্রান্তিক চাষীদের ভেতরে গিয়ে খবর সংগ্রহ করে তা ছাপিয়ে বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে চাপ দিতে থাকেন। তার পরও সরকার তার সেই রিপোর্টকে আমলে আনেনি। এতে করেও পি সাঁইনাথ হতদ্যোম হয়ে পড়েননি। তিনি একের পর রিপোর্ট লিখে গেছেন, আর সেই সব রিপোর্টের শেষে তিনি একটি বার্তা সমাজকে জানাতে থেকেছেন, আর তা হলো-‘আমরা ভারতকে এই রূপে দেখতে চাই না।’ (বিস্তারিত…)