Posts Tagged ‘অধিকার’


লিখেছেন: অস্পৃশ্য সৃজন

art works-14-তারপরও

তুমি বেঁচে থাকো নিকৃষ্ট

অন্ধকারে

নির্বাক পশু হয়ে,

অধিকারহীন(বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: আহমদ জসিম

শ্রমিক বিদ্রোহগত দুইদিন ধরে ঢাকার আশুলিয়ায় আবার শুরু হয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক বিদ্রোহ। এবারও বিদ্রোহের কারণ বকেয়া বেতন ও মজুরি বৃদ্ধি। বরাবরের মতো শ্রমিক পক্ষ এবং মালিক পক্ষ থেকে আসছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। যদিও এখানে শ্রমিকের কণ্ঠস্বর অতিক্ষীণ, কারণ শ্রমিকের কথা ব্যথাযন্ত্রনা তুলে ধরার মতো কোন মিডিয়া নেই। অপরপক্ষে সমস্ত বুর্জোয়া মিডিয়াই আদপে মালিকের স্বার্থের পাহারাদার। এই বুর্জোয়া মিডিয়াই শ্রম শোষণকারী মালিক পক্ষের বক্তব্য, শ্রমিক বিদ্রোহকে তৃতীয় পক্ষের উসকানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রয়াসী হয়েছে। এই পর্যন্ত যতবারই শ্রমিক তাদের ন্যায্য দাবিদাওয়া নিয়ে মাঠে নেমেছে মালিক, সরকার আর তাদের স্বার্থের পাহারাদার বুর্জোয়া মিডিয়া একই সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে প্রচার চালিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের উসকানি হিসেবে।

যে কোন আন্দোলনসংগ্রামেই অংশ গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি একধরণের উসকানি বোধ করে। এই উসকানিই ব্যক্তিকে আদর্শের বলে বলিয়ান করে। উদাহরণ হিসেবে আমরা বলতে পারি, শহীদ নুর হোসেনের নাম, স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের একনায়ক শাসনই এই মহান মানুষটাকে সংগ্রামে নামতে বাধ্য করেছিল। যে সংগ্রাম তাঁর কাছে ছিল জীবনের থেকেও বেশি কিছু। যে কারণে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও নুর হোসেন বুকেপিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাক যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লিখে রাজপথে নেমেছিলেন। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: প্রীতম অংকুশ

আর কতই বা সংকুচিত মননে অশ্রু বিসর্জন?

আর কতই বা নত মস্তকে আত্মসমর্পণ?

হ্যাঁ তাই, যা শুধু মুষ্ঠিবদ্ধ হাত আলগা করে,

ক্ষণিক নয়, বরং প্রতিমুহুর্তেই …..

মুহুর্তগুলোও এখন অনেক বড় ঠেকে,

নৈশব্দের প্রতিধ্বনিতে ক্ষতবিক্ষত হয় আপনমন্দির!

সশব্দের তীব্র আস্ফালনে বেদীতে মাথা ঠোঁকাই টিকে আছে আজ অবধি!

ঠিক সেই সময়েই,

যখন একে অপরের স্রষ্টা’র মহিমায় রক্তগঙ্গা বয়,

যখন ঘটা করে ‘শ্রমিক দিবস’ হয় উদযাপিত

যখন রামরহিমের গলা কাটা পড়লেও কিছু যায় আসে না,

যায় আসে শুধু উঁচু উঁচু পদ ও ক্ষমতার ধারালো তীক্ষ্ণ অপব্যবহার! (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শারমিন সুলতানা

কিছুই প্রায় শিখিনি তুলনাহীন শুধুমাত্র অবিরাম গুলির শব্দের মধ্যে জীবনটাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া ছাড়া

ঘটনাবৃত্ত শেষ পর্যন্ত প্রতিমুহূর্তের সংঘাত আর হত্যাকান্ডের ‘নৈতিক’ ষড়যন্ত্রে

সম্পর্কহীন এক সম্পর্কের প্ররোচনায় বন্দী করল

সব চেয়ে বিষ্ময়করভাবে

আমাদেরই নিজস্ব ভূমিতে

আমাদের সন্তানদের ।

কিছুই প্রায় শিখিনি তুলনাহীন শুধুমাত্র অবিরাম গুলির শব্দের মধ্যে জীবনটাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া ছাড়া

আমার মায়ের সেলাই করা জানালায় ঝুলন্ত

জেরুজালেমের নকশায় যেখানে যীশু দাড়িয়ে ছিলেন (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাতিল আহমেদ

ঈশ্বরের ঋষ্যপাল ছোটে পলাতকা গোধূলি

সিঁদুর কপালে দাবড়িয়ে নিয়ে

ডোরাকাটা সুন্দর, সুন্দরবন!

আর কতক মনুষ্যপাল

মানবারণ্যে হ্রেষাধ্বনি তোলে

জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ

মৃতদের নামে কেটে যায়

এভিন্যুর অলৌকিক সন্ধ্যাটুকু। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শিহাব ইশতিয়াক সৈকত

প্রসঙ্গঃ সারা বাংলা ছাত্র সংসদ

১৯৯১ সাল থেকে ভারতে গ্লোবালাইজেশনের হাওয়া বইতে থাকায় আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বিপর্যয় আরো দ্রুতগামী হয়েছে। গত দশকের মাঝামাঝি থেকে এই হাওয়া ঝড়ে পরিণত হয়। কর্মী সংকোচন, বেসরকারীকরণ, গণহত্যাসহ গ্লোবালাইজেশনের একাধিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠে ‘মরূদ্যান’ বাংলায়। আক্রমণ যত তীব্র হয়েছে, জনগণ তত বেশি করে আন্দোলনে নেমেছে, ঘটে গেছে একের পর এক গণআন্দোলন। ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এই সময়টাকে গণসংগ্রামের পূনর্জাগরণ বলা যেতে পারে।

সিঙ্গুর থেকে শুরু, তারপর নন্দীগ্রাম, ভাঙ্গরসহ একাধিক জায়গায় জমি বাঁচাবার আন্দোলন, কালোবাজারির বিরুদ্ধে আন্দোলন, পরবর্তীকালে আত্মমর্যাদা, বিকল্প উন্নয়ন ও সামাজিক কাঠামোর আন্দোলনলালগড় আন্দোলন গড়ে উঠে। স্বাভাবিকভাবেই এই সমস্ত আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিল ছাত্ররা। জনগণ ‘নেতা’দের থেকে ছাত্রদের বেশি বিশ্বাস করে। তাই ২০১১ এর আগে বাম ফ্রন্ট সরকার গরীব, নিপীড়িত মানুষের আন্দোলনকে নারকীয়ভাবে দমন করার সাথে সাথে নিপীড়িত গণমানুষের আন্দোলনের সমর্থক, প্রচারক ছাত্রদের উপর একাধিকবার হুমকি দিয়েছে, আক্রমণ করেছে। আর এই হুমকির সামনে দাঁড়িয়ে ছাত্ররা বারবার কলকাতার রাজপথে নেমেছে, পুলিশের সন্ত্রাস তথা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, ফাঁস করেছে একের পর এক সরকার ও রাষ্ট্রীয় দালাল মিডিয়ার অপপ্রচার। এর জন্য তারা গ্রেপ্তার হয়েছে, মার খেয়েছে ভাড়াটে গুন্ডাদের হাতে।

কিন্তু ২০১১ এর পর বাম ফ্রন্ট সরকারকে হটিয়ে গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা মমতার সরকারের সময়ও অবস্থার কোন পরিবর্তন হলনা। বাম ফ্রন্ট আমলের মতই এই সরকারের সময়েও ছাত্ররা পথে নেমেছে ভোটের প্রতিশ্রুতিমত রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, নিজের দেশের জনগণের উপর সামরিক অভিযান বন্ধের দাবী, সিঙ্গুর এ জমি ফেরত এর দাবী, পুলিশের সন্ত্রাস বা বিশ্ববিদ্যলয়ে অর্ডিন্যান্স জারি করে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের প্রতিবাদ জানাতে। পুরনো বাম ফ্রন্ট আমলের মতো এ আমলেও ছাত্ররা সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। আর গ্লোবালাইজেশনের নীতিগুলোকে বিনা বাধায় প্রয়োগ করতে গেলে আগে ছাত্রদের মুখ বন্ধ করা প্রয়োজন; তাই শুরু হয়ে গেল হুমকি দেয়া। এবার একেবারে সংগঠনপ্রতিষ্ঠানের নাম ধরে ধরে মূখ্যমন্ত্রী হুমকি দিলেন ছাত্র সংগঠনগুলোকে, সেই সাথে অধ্যাপকদের। ‘ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে মাওবাদী যোগাযোগ’, ‘মাওবাদীদের সাহায্য’ ছাড়াও মেয়েদের ‘ইজ্জত, অপহরণ’, ‘পুরুলিয়ার হোটেলে শুধুমাত্র খেয়ে এক লাখ টাকা বিল!!!’, অপহরণ, খুন সহ একাধিক কিছু সুলভ মিথ্যা অভিযোগ আনেন। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মনজুরুল হক

পাহাড়ের কোলে একটি পাহাড়ি কুটির

আমাদের নিজেদের মত করে সাজানো সমাজে আদ্যপান্ত লোহার ব্যারিকেড দিয়ে অনেক ধেয়ে আসা জ্বলজ্বলে সত্য, নির্মম বাস্তবতা, বেশুমার মানবতার অবমাননা আর নির্জলা মনুষ্যমৃত্যু সংবাদগুলোকে আমরা নিখুঁত কায়দায় অবজ্ঞাঅবহেলায় এড়িয়ে যাওয়া রপ্ত করেছি। একে আমরা বলিশান্তি আর সৌহার্দপূর্ণ বসবাস! অ্যাফ্লুয়েন্ট নগরকেন্দ্রীক সমাজে এটি একটি ‘আর্ট’ বটে! চোখ মেললেই যেখানে থ্যাতলানো মুখচ্ছবি, পা বাড়ালেই যেখানে মড়ার খুলি, হাত বাড়ালেই যেখানে এলিট শ্রেণীর পৃষ্ঠপোষকতায় রাষ্ট্রীয় ‘আর্টিস্টিক হত্যাকান্ডের’ শিকার মৃত মানুষের ঠেলে বেরিয়ে আসা নাড়িভুঁড়ি, সেখানে আমাদের প্রাণান্ত চেষ্টা ফরগটফরগটফরগটেন! তার পরেও কিছু বেয়াড়া বাতাস কিছু অপ্রিয় বিষয় বয়ে নিয়ে আসে। আমরা ক্ষণের জন্য থমকে যাই। পর মুহূর্তে নীতি,তত্ত্ব আর আশু করণীয় মিশেল করে নিরাময়ের দাওয়াই আবিষ্কার করি। সেবন করি। অতঃপর নিরাময়! শান্তি! শান্তি! অপার শান্তি!! (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অডঙ চাকমা

এম এন লারমা

আজ ১০ নভেম্বর। জুম্মজাতি তথা মেহনতি মানুষের জন্যে এক শোকাবহ দিন। এই দিনে আমরা জুম্মজাতির মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমাকে হারিয়েছিলাম। ৮৩ সালের ১০ নভেম্বর জুম্মজাতির কুলাঙ্গার, অপরিণামদর্শী গিরিপ্রকাশপলাশদেবেন চক্র বুলেটের আঘাতে ঝাঝরা করে দিয়েছিল মহান নেতার বুক। এনএন লারমার মত মহান নেতা ও উজ্জ্বল এক নক্ষত্রকে হারিয়ে জুম্মজাতি আজও এক বিশাল শূণ্যতায় দীনহীন হয়ে আছে। মহান নেতাকে জানাচ্ছি অজস্র লাল সালাম ও শ্রদ্ধা।

আমি নতুন প্রজন্মের এক সদস্য। মহান নেতা এমএন লারমাকে চোখে দেখিনি। তবে আমি তার গুণমুগ্ধ। তিনি আমার স্বপ্নের নায়ক। তার স্বপ্ন আমারও স্বপ্ন। সে স্বপ্নটা হলো শোষণমুক্ত সমাজ ও মর্যাদাপূর্ণ মানবিক জীবনের স্বপ্ন।

মানুষের মুখে তার কথা শুনেছি। বিভিন্ন কবিতাপ্রবন্ধ ও ইতিহাসের পাতায় তার কথা পড়েছি। তার জীবনী পড়েছি। যতই পড়েছি, ততই মুগ্ধ হয়েছি।আজও আমার এক বন্ধুর মেইলে পাঠানো এমএন লারমার সংসদীয় বিতর্কের পান্ডুলিপি পড়ছিলাম। বুঝার চেষ্টা করছি, সাংসদ হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন। দেখলাম, তিনি কেবল পাহাড়ের পাহাড়ী জনগণের কথা বলেননি, বলেছিলেন কৃষকশ্রমিকরিক্সাওয়ালামাঝিমাল্লাসহ দেশের মেহনতি মানুষের কথা। আজকে আমার লেখার মাধ্যমে মহান নেতা এমএন লারমা’র জীবনের কিছু দিক তুলে ধরার চেষ্টা করছি। (বিস্তারিত…)