Archive for the ‘সাহিত্য-সংস্কৃতি’ Category


লিখেছেন: স্বপন মাঝি

ফুটপাতের কিনারে কয়েকটি মৃত পিঁপড়া দেখতে পেল সে। লাশগুলো পিঁপড়ার কীনা, এ নিয়ে তার মনে গুরুতর সন্দেহের উদ্রেক হল। সে বসেছিল রাস্তার উপর, ফুটপাত ঘেঁষে। সামান্য ঝুঁকে, চোখ দুটোকে খুব ছোট করে, অনেকটা বীক্ষণ যন্ত্রের মতো, দেখতে গিয়ে দেখল লাশগুলো পিঁপড়ারই। পাশের লাশগুলো আশার চরায় কয়েক ফোঁটা কষ্ট ঝরিয়ে, মনে করিয়ে দিল তার শৈশব। সে চলতে শুরু করে, যেতে যেতে চলে যায় অতীতে, যেখানে খেলার ছলেও হত্যা ছিল আনন্দের। অনেকগুলো মৃত ব্যাঙের ছবি ভেসে উঠে। সেসব মৃত্যু নিয়ে, তখন কোন প্রশ্ন জাগেনি মনে। (বিস্তারিত…)

Advertisements

শব্দমালার বিন্যস্ত স্রোতধারায় আন্দোলিত মনোভূমি

লিখেছেন: নীরা নাজ তারিন

কোনো বই পড়তে গিয়ে কখনো কি আপনার মনে হয়েছে, আপনার জন্যই এটি লেখা হয়েছে? অথবা কখনো কি মনে হয়েছে, আপনাকে নিয়েই রচিত হয়েছে বইটির কোনো কোনো অংশ? আমার সাম্প্রতিক পাঠের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আপনাদের, কখনও কখনও লেখক তার শব্দমালায় সুরধারা সৃষ্টিতে সক্ষম হন। পাঠককে টেনে নিতে সক্ষম হন এক আন্দোলিত মগ্নতার অচেতন বাস্তবতায়। সমস্ত হৃদয়জুড়ে তার শব্দের সুরধারা অবিরাম ঢেউ খেলে যেতে পারে। পড়ে শেষ করার আগ পর্যন্ত ছেড়ে উঠতে কোনোভাবেই মন সায় না দিতে পারে। পড়তে শুরু করতেই বইটি আপনাকে টেনে নিয়ে যেতে পারে এক মোহাবেশে। এমনকি দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় কিংবা অসংখ্য পাঠেও একে আপনার গানের মতো লাগতে পারে, যা আপনি শুনে যেতে পারেন বিরক্তিহীন নিরন্তর।

তো যে বইয়ের কথা বলছি, চূড়ান্ত অর্থে তা যেন জীবনের দালিলিক উপস্থাপনা। সেই বইতে জীবন আছে, মানুষ আছে, প্রকৃতি আছে, আছে রাষ্ট্রের বিধিব্যবস্থা আর একুশ শতকের প্রযুক্তি। আছে অভিজ্ঞতার প্রেরণায় চিনে নেওয়া পরিবর্তনের নিশানা। আমাদের সচেতন মন কিংবা গহীন অবচেতন, আমাদের জীবনমননমৃত্যু, সর্বোপরি আমাদের দৈনন্দিন যাপন; সবই যেন মিশে আছে ওই বইয়ের শব্দমালায়। লেখক তার শব্দমালায় সুরধারা সৃষ্টি করেছে, গানটা তাই গল্প হয়ে গেছে। গল্পটা যেন আমারই কোনো বিগত স্মৃতি। বিগত সেই স্মৃতি আমাকে সংযুক্ত করে সপ্রশ্ন জীবনের সংলগ্নতায়। এখানেই শিল্প আর জীবন সম্মিলিত হয়। শিল্প সেখানে আমার কথা বলে, আপনার কথা বলে, তাদের কথা বলে, সবার কথা বলে। (বিস্তারিত…)


স্পর্ধা

——–

ঘাতক, তোমার প্রতিবন্ধক,

মারণযজ্ঞ, আইনি খড়্গ,

শাসন খেয়াল, নিষেধ দেয়াল,

যুদ্ধবিকার, সবুজ শিকার,

হাতের শেকল – করতে বিকল

যুদ্ধরত, সমুদ্যত

কাস্তে ধরা সংগ্রামী হাত

তরতাজা প্রাণ। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: লাবণী মণ্ডল

শিল্প ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সমালোচনা হলো সংগ্রাম ও বিকাশের অন্যতম প্রধান পদ্ধতি। এর গুরুত্ব উপলব্ধি করেই বস্তার বইটি নিয়ে দুচার কথা লিখতে বসলাম। এই আলোচনা বা সমালোচনা কতটুকু সাহিত্যমানসম্পন্ন হবে, সে সম্পর্কে নিশ্চিত নই। সেক্ষেত্রে এটিকে আমার উপলব্ধির বিকাশ ধরে নেয়াটাই শ্রেয়। রাজনৈতিক দর্শনে নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েই লিখছি। শাহেরীন আরাফাতের লেখা বইটির পুরো নামবস্তার রাষ্ট্রকর্পোরেটহিন্দুত্ববাদের যৌথ সন্ত্রাস। এটি ২০১৭ সালের মে মাসে উৎস পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয়। প্রচ্ছদ করেছেন শিশির মল্লিক।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশসহ তামাম দুনিয়ায় সাম্রাজ্যবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলো শ্রমিকশ্রেণী এবং জনগণের মুক্তি ও অগ্রগতির পথে নানা উপায়ে বাধা সৃষ্টি করার জন্য সংহত হচ্ছে। শিল্পসাহিত্যকেও তারা কাজে লাগাচ্ছে ব্যাপকভাবে। এমন সময়ে বস্তার বইটি নিয়ে আলোচনার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। তবে উৎকৃষ্ট সাহিত্য সমালোচনা করাটা নিতান্ত সহজ কাজ নয়। বরং এমন বইযেখানে সমাহার ঘটেছে ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, আগ্রাসন, সংগ্রাম ও প্রতিরোধের বিপুল তথ্যতা নিয়ে আলোচনা করাটা বেশ কঠিন ও জটিল। (বিস্তারিত…)


আইনের দেবীকে

—————–

হাতে আলু মাপার পাল্লা নিয়া

কই চললা আইনের দেবী?

এক হাঁটু ভাইঙ্গা সামনের দিকে যায়।

দৌড়ের উপর যে রইছ

বোঝাচ্ছে ভঙ্গিমায়।

চোখে আবার পট্টি দিছো, আছাড় খাবা নাতো?

ঈদগাহ হতে এনেক্স ভবনের পথ যে

প্রায় এক মাইলের মতো? (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: লাবণী মণ্ডল

শিল্পসাহিত্যে আলোচনাসমালোচনাপর্যালোচনা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এ নিয়ে সন্দেহ করার কোনো অবকাশ নেই। কোনো শিল্পকর্ম, রচনা বা বইয়ের রিভিউ বা সমালোচনা পত্রিকায় ছাপা হলে সংশ্লিষ্ট শিল্পকর্মটি সম্পর্কে পাঠক আগে থেকেই সে সম্পর্কে জানতে পারেন, তাতে আগ্রহ জন্মায়। আর একজন পাঠকের মতামতের উপর ভিত্তি করে লেখকের লেখনীর গুরুত্ব।

আমি সাধারণত কবিতার বই পড়ি না, কবিতা খুব একটা বুঝিও না! সমর সেন, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা আমায় বেশ টানে তাঁদের কবিতায় আমি ‘আমাকে’ খুঁজে বেড়াই। সেই খুঁজে বেড়ানোকে কেন্দ্র করেই এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্যই শাহেরীন আরাফাত লিখিত ‘আত্মের অন্বেষণ’ শীর্ষক কবিতার বইটি পড়া শুরু করিঅনেকটা দু’টানা মনোভাব নিয়ে। কেননা এ সময়ের কবিদের ‘কবিতা’ কি আমায় টানবে, বা তাঁদের কবিতাকে কি আমি টানতে পারবো! (বিস্তারিত…)


মূল: অ্যালান এডগার

অনুবাদ: কামরুল ইসলাম ঝড়ো

আমি সেই সময়টায় জনবসতি থেকে বহুদূর স্কটিশ হাইল্যান্ডের কেয়ার্নগর্ম পাহাড়ী এলাকার মাঝামাঝি স্থানে ঘোরাঘুরি করছিলাম। দেখলাম একদল মানুষরূপী প্রাণী আমার দিকে এগিয়ে আসছে। বুঝতে পারলাম ওরা ভিন গ্রহের। ওদের প্রত্যেকেরই কান স্টার ট্রেকের মি. স্পকের মতো খাড়া খাড়া। ওরা যখন আমার সামনে এসে পড়ল, তখন তাদের একজন বলে উঠল, “শুভেচ্ছা, আর্থলিং!” পৃথিবীর বাসিন্দাদেরকে ওরা ‘আর্থলিং’ বলে। আরেকটা বিষয় হলো, কোনো সাধারণ মানুষ তাদের মতো করে কথা বলে না। “আমরা মহাকাশ থেকে তোমাদের জন্য অভিবাদন নিয়ে এসেছি!’’ সৌভাগ্যবশত আমি প্রতিটি কথাই বুঝতে পারলাম, কারণ পৃথবীতে যে ছয় হাজার ভাষায় কথা বলা হয়, তারা তার একটা ভাষাই শিখেছে আর সেটাই আমি জানি। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

একেকজন কমরেড শহীদ হওয়ার খবর আসে

কেঁদে উঠে মন

তবু চোখ কাঁদে না

শ্রেণীসংগ্রামে জীবন বিসর্জন

এটাই তো তাঁরা চেয়েছিলো (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অজয় রায়

অন্ধমূকবধির নাকি?

অথর্ব বোধহয়

লোকে তাই ভেবেছিল;

লাথি মেরে ফেলেছিল।

কিন্তু তার যে সাড় আছে!

মৃত তো নয়, কাটলে যে

তারও রক্ত বেরোয়! (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: স্বপন মাঝি

প্রবাসে যারা থাকেন, তারা দেশকে কিছুটা হলেও সঙ্গে করে বয়ে নিয়ে যান। এই বয়ে নিয়ে চলা কেবল পরনেচলনেবলনে নয়, আহারেও নয় কেবল, তারও অধিক, অন্যকিছু। বলা চলে বিদেশের মাটিতে স্বদেশের বীজ বপন। ফলন কেমন হবে, এ নিয়ে তাদের ভাবনা তেমন নেই। ভেতর থেকে উঠে একটা অনুভব, তারিয়ে তারিয়ে নিয়ে যায় ফেলে আসা নিজ বাসভূমিতে। প্রবাসে থেকেও সুযোগ পেলেই, তাই লাউ, শিম, শাক, কী নেই তালিকায়, চাষ করে, বাড়ীর পেছনে; অথবা টবে। (বিস্তারিত…)