Archive for the ‘সাহিত্য-সংস্কৃতি’ Category


কোভিড১৯ আগ্রাসনে যখন বিপর্যস্ত ভারত, তখনও অশীতিপর এক বৃদ্ধকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে নারাজ দেশটির কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। ভিমা কোরেগাঁও মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন ৮১ বছর বয়সী বিপ্লবী কবি ভারাভারা রাও। ইতিমধ্যে ওই কারাগারে কয়েকজন কয়েদি কোভিড১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ বিপ্লবী কবির মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন দেশবিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সমাজে চিন্তাশীল, প্রগতিশীল মানুষ হিসেবে অন্তত মানবিক কারণে ভারাভারা রাওয়ের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করছি। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : সাঈদ বিলাস

ঈশ্বরের দুনিয়ায় স্তব্ধতা! আস্তে আস্তে লু হাওয়া বইছে। ভোর ওয়া আগের এই সময়টায় মনে হয় ঈশ্বর নেমে আসেন পৃথিবীতে। সব শান্ত। নীরবে সারা শহরে বিদ্যুতের আলো জ্বলছে টিম টিম করে! লাল, নীল, হলুদ, সাদাসহ নানা বাহারি রঙের আলো। অবশ্য দুনিয়ার আলো আস্তে আস্তে ফিকে করে দিচ্ছে মানুষের বানানো এইসব কৃত্রিম আলোকে। এই সময় মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানআসসালাতু খাইরুম মিনাননাওম। আল্লাহর বান্দারা জাগে কিনা কে জানে! তবে এই মুহূর্তে তিনটা কাক ক্রমাগত ডেকেই যাচ্ছে, পাশের বাসার টিনের ছাদে বসে। তাদের সেই গগণবিদারী কা কা, হাতে এক টুকরা বিস্কুট নিয়ে জেলখানার মতোন বারান্দায় বসে থাকা নিমগ্ন প্রায় ধ্যানী মজনুর আপাত ধ্যান ভেঙে দেয়। বিরক্ত মজনু প্রায় অনিচ্ছায় চোখ খুলে তাকায় কাক তিনটার দিকে, ওদের মারামারির হেতুটা কী আসলে! চোখ আরেকটু খুললে বুঝতে পারে, মেরে আনা একটা তাজা ইঁদুরের নাড়িভুড়ির ভাগ নিয়ে ওদের এই ঝগড়া! সেই একই প্রাগৈতিহাসিক প্রবৃত্তিক্ষুধা! (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

যে দেশে মৌসুমী ঝড় মানেই
কয়েকটা ‘মূল্যহীন’ প্রাণের বিসর্জন
ফসলের মাঠে আগুন দেয় কৃষক
শ্রমিকের কলে লুটেরা নিয়ন্ত্রণ

অনিশ্চিত জীবন, অনিশ্চিত ভবিষ্যত
অনিশ্চিত প্রজন্ম, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান
(বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শিশির মল্লিক

অদৃশ্য মৃত্যুঘাতী ভাইরাস ওৎ পেতে আছে

রাষ্ট্রীয় গুপ্তচরের মতো

অন্তরীণ থাকা আইসোলেশনের একঘেঁয়েমী

বিপ্লবী করে তুলছে ক্রমশ

কোন এক কমিউনিস্ট বিপ্লবীর মতো

তুমি গোপনে গুপ্তচরদের চোখ

ফাঁকি দিয়ে এলে দেখা করতে;

আমিও সন্ত্রস্ত পায়ে ঘর বার হয়ে

দূরত্ব বজায় রেখে মিলিত হলাম (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

জানো

জনমে দেখিনি এমন পৃথিবী

এভাবে দেখবো, ভাবিওনি

জ্যামের শহর আজ ভুতুরে নগরী

তবু নির্মল বায়ুর মাঝে পাখির কাকলী

চিৎকার করে কিছু বলতে চাইছিলাম

মাথার উপর শকুনের চাহনি (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

গত ১৪ জুন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবী সংঘ পুনর্গঠিত হয়। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে আহবায়ক করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠিত হয়। এছাড়াও যারা কমিটি গঠনের সভায় উপস্থিত ছিলেন তাদেরকেও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সংঘের বাইরের সমাজতন্ত্রে আস্থাশীল অন্যান্য প্রগতিশীল লেখকশিল্পীসাহিত্যিকবুদ্ধিজীবীগণ সমালোচনাপর্যালোচনা করে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু এসব সমালোচনায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বুদ্ধিজীবীদের একটি একক সংগঠনে সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়াপদ্ধতি কি হওয়া উচিত, তার ব্যাখ্যা নেই। তাই সমাজতন্ত্রের একজন সমর্থক হিসেবে এ প্রশ্নে আমার অবস্থান ব্যক্ত করা দায়িত্ব মনে করছি। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

সম্প্রতি কামালউদ্দিন নীলুর নির্দেশনায় একটি নাটক শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চস্থ হয়। নামের কারণেই নাটকটি দেখতে সমাজতন্ত্রকমিউনিজমে আস্থাশীল অনেকে আগ্রহ বোধ করেন। কিন্তু ‘স্তালিন’ নামের এ নাটকে কমিউনিস্ট আন্দোলনের মহান শিক্ষক কমরেড যোসেফ স্তালিনকে বিতর্কিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। এ নিয়ে নাটকটি দেখতে আসা দর্শকরা মঞ্চস্থলেই প্রতিবাদ জানান। উপস্থিত একাধিক দর্শক জানান, তারা আগেই ভেবেছিলেন ‘স্তালিন’ নাটকটিতে হয়তো স্তালিনকে দ্বান্দ্বিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। অর্থাৎ, এতে স্তালিনের সমালোচনাও থাকতে পারে, এটা তারা জানতেন। তবে যেভাবে ইতিহাস বিকৃতি ঘটানো হয়েছেস্তালিনের সমসাময়িক যে ঐতিহাসিক বাস্তবতা সাম্রাজ্যবাদীরাও প্রকাশ্য ও গোপন দলিলে মেনে নিতে বাধ্য হয়, সেটাকেও ওই নাটকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। আর এ নিয়েই দর্শকরা কামালউদ্দিন নীলুকে তাদের আপত্তির কথা জানান। এতে নীলু দর্শকদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করেন। ঘটনার পরদিন, ১২ জুন উপস্থিত দর্শক, বিভিন্ন বামপন্থী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ করে শিল্পকলা একাডেমির সামনে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের বিভিন্ন মতামত ও অবস্থান দেখা যায়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অজয় রায়

বিশ্ববিখ্যাত রুশ কথাশিল্পী ম্যাক্সিম গোর্কির প্রকৃত নাম আলেক্সেই ম্যাক্সিমোভিচ পেশকভ। তাঁর জন্ম ১৮৬৮ সালের ১৬ মার্চ রাশিয়ার নিঝনি নোভোগোরোদ শহরে।[] শৈশবে তিনি অনাথ হয়ে যান। দারিদ্র্যের তাড়নায় আট বছর বয়সেই রুটিরুজির জন্য বেরিয়ে পড়তে হয় আলেক্সেইকে। শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেন। ভোলগা নদীর স্টিমারের কেবিন বয় থাকাকালে স্টিমারের রাঁধুনির কাছে পড়তে শেখেন তিনি।

আলেক্সেইয়ের দিদিমা তাঁকে বিভিন্ন রূপকথা, লোককথা ও লোকসংগীত শোনাতেন। যা থেকেই সাহিত্য সম্পর্কে প্রথম আগ্রহ জন্মায় তাঁর। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত এ মানুষটির ছিল অদম্য জ্ঞানপিপাসা। পৃথিবীর পাঠশালাতেই তিনি হয়ে ওঠেন স্বশিক্ষিত। উনিশ বছর বয়সে অবশ্য আত্মহত্যা করারও চেষ্টা করেছিলেন। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: লাবণী মণ্ডল

তানিয়া। একটি নাম। এক তেজোদীপ্ত তরুণী। যে নামের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আত্মত্যাগ আর বিপ্লবী চেতনা যে নামের অন্তর্নিহিত শক্তিতে চেতনার জগতে প্রবেশ করে বিপ্লবী তেজ। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় তীব্র মনস্তাত্ত্বিক আগ্রাসন সত্ত্বেও আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই, দেখাতে চাই। এজন্য বিপ্লবী তানিয়াদের জীবনচরিত পাঠ করা খুব জরুরি। তানিয়াদের বিপ্লবী তেজ তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা জরুরি। তানিয়াকে জানাবোঝার জন্য, পাঠ করার জন্য খুব বেশি তথ্যউপাত্ত ইতিহাসে নেই বললেই চলে। বেশিভাগ সময় এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তাঁকে চে গুয়েভারার একজন সহযোগী হিসেবেই উপস্থাপন করেছে। এর বাইরেও যে মানুষটির অবদান নিজস্ব সত্তায় যে মানুষটি বিপ্লবের জন্য জীবন দিয়েছিলেন সে অবদান কালের বির্বতনে হারিয়ে যাওয়ার পথে। (বিস্তারিত…)


গ্রন্থ পর্যালোচনা :: মুখোশ ও মুখশ্রী

লিখেছেন: লাবণী মণ্ডল

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত মুখোশ ও মুখশ্রী বইটি শেষ করার মধ্যদিয়ে এটুকু আরও পরিষ্কার হলো যে, জানার কোনো শেষ, শেখারও কোনো শেষ নেই। জীবন মানেই জানা আর শেখা। সেই জানাকে কাজে লাগানোর জন্য, মানুষের জন্য কিছু করার জন্য মানুষের মধ্যে নিজের জ্ঞানকে বিতরণ করার ক্ষুদ্র প্রয়াস এ লেখাটি। একইসাথে এ লেখার যে কোনো মতামত আমাকে বিকশিত করবে বলে প্রত্যাশা করছি।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বন্ধু বই। এখন পর্যন্ত এ সত্যটিকে বিশ্বাস করতে চাই, এ কথাটির উপর আস্থাও রাখতে চাই। একটা বই যে মানুষকে কতটা আন্দোলিত করতে পারে তা তো আর বলে বুঝানো যাবে না। তবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, বই আমাকে বেঁচে থাকার প্রেরণা দেয়। নিজেকে নতুন করে ভাবার জন্য, নতুন করে আবিষ্কার করার জন্য সহযোগিতা করে। যা হোক, মুখোশ ও মুখশ্রী বইটি পড়ে বেশ কিছু প্রশ্ন এরই মধ্যে আমার চিন্তাজগতে প্রবেশ করেছে। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার জন্য আরও কিছু বইয়ের দারস্থ হতে হবে। আলোচ্য বইটিতে মোট দশটি প্রবন্ধ রয়েছে। প্রতিটা প্রবন্ধই চিন্তার উদ্রেক ঘটায়। অভাব, সংস্কৃতি, চেতনা, সাহিত্য, সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, চিত্রকলা সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় এ বইটি থেকে। (বিস্তারিত…)