Archive for the ‘মতাদর্শ’ Category


লিখেছেন: অজয় রায়

আগামী ৭ই নভেম্বর মহান রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ পূর্তী হবে। শোষণহীন মানব সমাজ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল এই নভেম্বর বিপ্লব (জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী অক্টোবর)। সোভিয়েত জনগণের দ্বারা সম্পন্ন এই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব বিশ্বের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। পৃথিবীর ভূভাগের একষষ্ঠাংশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে। আর সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্ম দেওয়ার পাশাপাশি গতি সঞ্চার করে পুঁজিবাদকে অতিক্রমের লক্ষ্যাভিমুখী আন্দোলনেযে দীর্ঘ রূপান্তরের প্রক্রিয়া আজও চলছে। (বিস্তারিত…)

Advertisements

৩০ অক্টোবর ২০১৭, প্রগতি সম্মেলন কক্ষ, মুক্তি ভবন, ঢাকা।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

দুনিয়াকাঁপানো সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষে আপনাদের সবাইকে রক্তিম শুভেচ্ছা। আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হবার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে শুরু করছি।

বন্ধুগণ,

অসহনীয় দ্রব্যমূল্যের কারণে শ্রমিক কৃষক গরীব মেহনতী মানুষের ঘরে ঘরে আজ শুধু হাহাকার আর হাহাকার। মাত্র তিনদিন আগে শেরপুরে ভাতের অভাবে ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হলো কিশোরী কনিকা। এ যেন কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষকের জীবনের করুন অবস্থার এক প্রতিকী চিত্র। অথচ, সরকারের কথিত উন্নয়নের গল্প এ নির্মম বাস্তবতাকে উপহাস করছে।

বাংলাদেশের আকাশে বাতাসে আজ একদিকে বিভৎস নির্যাতনগণহত্যার শিকার হয়ে দেশছাড়া লাখ লাখ রোহিঙ্গার অসহায় আহাজারি; অন্যদিকে গুম, খুন, ধর্ষণসহ হরেক রকম নির্যাতনের শিকার মানুষ ও স্বজনের বুকচাপা কান্নার শব্দ। প্রতিদিনের সংবাদেই ফুটে উঠছে মানুষের নিরাপত্তাহীনতা আর অসহায়ত্বের ছবি। সীমান্তের ওপারে আরাকানে মানুষের বাড়ীঘরে আগুন অথবা নদীসাগরে ভাসমান গলিত লাশ আপনারা দেখছেন। কদিন আগে গোবিন্দগঞ্জে সাওতালদের ঘরে আগুন, ধানক্ষেতে পড়ে থাকা গুলিবিদ্ধ লাশ অথবা বাঁশখালিতে পুলিশের গুলিতে বুক ঝাঁঝড়া হওয়া কৃষকের লাশ আপনারা নিশ্চয় ভোলেননি।

শুধু বাংলাদেশ নয়, মধ্যপ্রাচ্যআফ্রিকাসহ দুনিয়াজুড়ে পুঁজিবাদসাম্রাজ্যবাদ ও দালালদের স্বার্থের সংঘাতসংঘর্ষযুদ্ধ ও নির্যাতনে জর্জরিত লাখো কোটি মানুষ জীবন বাঁচাতে আজ এক দেশ থেকে আর এক দেশে অথবা দেশের ভেতরেই উদ্বাস্তু হয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। নিপীড়িত মানুষ মুক্তির পথ খুঁজছে। কিন্তু, সঠিক দিশার অভাবে যথাযথ সংগ্রাম গড়ে তুলতে পারছে না, নিজেকে মুক্ত করতে পারছে না। দিশাহীনতার এই সময়ে মুক্তির সঠিক দিশাটাই নিপীড়িত জনগণের জন্য সবচেয়ে বেশী দরকারি। একই সাথে দরকার ভুল পথগুলো চিহ্নিত করা। কারণ, ভুল পথে কখনোই মুক্তি আসে না। বরং শোষণনির্যাতনের পুরনো ব্যবস্থাই তাতে পুষ্ট হয়। অবরুদ্ধ হয় মুক্তির পথ। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

শুনলাম বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ছাত্র সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মাদ্রাসায় তাদের শাখা বিস্তৃত করেছে। বাসদ সদস্য কিবরিয়া হোসাইনের ফেসবুক আইডি থেকে জানা যায়, দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াবান ছালেহিয়া দারুচ্ছুন্নত দাখিল মাদ্রাসার ১৭ সদস্যবিশিষ্ট ছাত্র ফ্রন্টের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়েছে। তিনি সেখানে কয়েকটি ছবিও পোস্ট করেছেন। ভালো কথা। এতে কেউ কেউ বেশ আপ্লুতও হচ্ছেন। এতে দোষেরও কিছু নেই।

তবে প্রশ্ন হলো, কোনো রাজনৈতিক সংগঠন কিসের ভিত্তিতে নতুন জায়গায় শাখা খুলতে পারে? (বিস্তারিত…)


রাশিয়া ও চীনের ঐতিহাসিক শিক্ষা

লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

জনগণের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংস্কৃতি, সামন্তবাদবিরোধী সংস্কৃতি হলো – নয়াগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি পরিচালিত হতে পারে একমাত্র সর্বহারাশ্রেণীর সংস্কৃতি ও মতাদর্শ; অর্থাৎ কমিউনিজমের মতাদর্শের দ্বারা। অন্য কোনো শ্রেণীর সংস্কৃতি ও মতাদর্শের দ্বারা এই সংস্কৃতি পরিচালিত হতে পারে না। এক কথায়, নয়াগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি হলো সর্বহারাশ্রেণীর নেতৃত্বাধীন জনগণের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এবং সামন্তবাদবিরোধী সংস্কৃতি।”

মাও সেতুঙ, নয়াগণতন্ত্র সম্পর্কে (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

মার্ক্সবাদ হাজার হাজার সত্যের সমষ্টি, কিন্তু এগুলো সবই কেন্দ্রীভূত হয় একটিমাত্র বাক্যে – ‘বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত’। হাজার হাজার বছর ধরে এটা বলে আসা হচ্ছিলো যে, দাবিয়ে রাখাটা ন্যায়সঙ্গত, শোষণ করাটা ন্যায়সঙ্গত এবং বিদ্রোহ করা অন্যায়। এই পুরনো সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র মার্ক্সবাদের উদ্ভবের পরই উল্টে গেলো। এটা একটা মহান অবদান। সংগ্রামের মধ্য দিয়েই সর্বহারাশ্রেণী এই সত্যকে শিখেছে এবং মার্ক্স এই উপসংহার টেনেছেন। আর তারপর এই সত্য থেকেই আসে প্রতিরোধ, সংগ্রাম, সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াই।”

মাও সেতুঙ, স্তালিনএর ষাটতম জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে ইয়োনানে সর্বস্তরের জনগণের সমাবেশে প্রদত্ত ভাষণ থেকে (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আহ্‌নাফ আতিফ অনিক

শ্রদ্ধেয় বদরুদ্দীন উমর তার পুরো জীবনটাই ব্যয় করেছেন জনগণের পক্ষের রাজনীতিতে। তাত্ত্বিক ভ্রান্তি থাকলেও তিনি জীবনভর দৃঢ়ভাবে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী হিসেবে নিজেকে ধরে রাখতে পেরেছেন। দেশের বুদ্ধিজীবীদের একটা বড় অংশ যখন গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়েছেন, তখন তিনি স্রোতের বিপরীতেই থেকেছেন। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদসোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ বিরোধী লড়াইয়ে উমর ভাই যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই তার বক্তব্যকে সমালোচনা করতে গিয়ে কখনোই তাকে ব্যক্তিগতভাবে সমালোচনা করা কোনো মার্ক্সবাদী ব্যক্তির কাজ নয়। উমর ভাই কয়েকদিন আগে প্রথম আলোতে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তাতে তিনি সিপিবিকে বাকশালের গর্ভে জন্ম নেয়া পার্টি বলে উল্লেখ করেছেন। দেখা যাচ্ছে, তার এই বক্তব্যকে খণ্ডন না করে সিপিবিপন্থীরা উমর ভাইকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছেন। তারা বলছেন, উমর ভাই কি করেছেন? হ্যাঁ, এটা একটা প্রশ্ন বটে! কেউ নিজে কিছু না করলে কী জনগণের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া পার্টির সমালোচনা করা যাবে না? উল্লেখ্য, সিপিবির নেতারা তো দাবি করেন, তারা জনগণের অধিকার আদায়ে রাজনীতি করেন। দলটির দলিলেও এমনটা দাবি করা হয়। তবে তাদের সমালোচনা করলেই কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করাটা কিভাবে যৌক্তিক হতে পারে? সিপিবি নিয়ে উমর ভাইয়ের সমালোচনার মীমাংসা করতে হবে লাইনগত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এভাবে উমর ভাইকে আক্রমণ করা সিপিবিপন্থীদের আওয়ামী বামপন্থার শিক্ষা! (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

The philosophers have always interpreted the world in various ways; the point, however, is to change it. (Marx, Theses On Feuerbach: Thesis 11, 1845) 

এক.

যে কোনো মতাদর্শ কিংবা দার্শনিক তত্ত্বেরই একটা বস্তুগত ভিত্তি থাকে। যে কোনো নির্দিষ্ট দেশকালের নিরিখে, নির্দিষ্ট আর্থসামাজিক ব্যবস্থার মধ্য থেকেই একেকটা মতাদর্শ জন্ম নেয়। সমাজে নতুন বস্তুগত পরিস্থিতি নতুন ধারণা এবং তত্ত্বের জন্ম দেয়। এটাই মার্ক্সবাদের শিক্ষা। মার্ক্সবাদের নিজের ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সৌম্য মন্ডল

নকশালবাড়ির রাজনীতি নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য এই লেখা। যারা সব জানেন, এটা তাদের জন্য লেখা নয়, বরং যারা জানতে চান এ লেখা তাদের জন্য।

) নকশালবাড়ি থেকে অনেক বড় বড় সশস্ত্র কৃষক আন্দোলন বাংলায় বা ভারতে ঘটে গেছে। ঘটে গেছে এবং ঘটে চলেছে অনেক প্রতিরোধ। কিন্তু তবুও সেই আন্দোলনগুলো থেকে নকশালবাড়ির নাম স্বতন্ত্র। কিন্তু কেন? কারণ নকশালবাড়ি আন্দোলন শুধু ১৯৬৭ সালের একটি গ্রাম, বা একটি কৃষক আন্দোলনের নাম নয়। যদি তাই হতো, তাহলে অন্যান্য আন্দোলনগুলোর থেকে আলাদাভাবে নকশালবাড়ির গুরুত্ব থাকতো না। নকশালবাড়ি একটা বিশেষ রাজনৈতিক লাইন বা আন্ডারস্ট্যান্ডিংএর নাম। (বিস্তারিত…)


বস্তার – রাষ্ট্রকর্পোরেটহিন্দুত্ববাদের যৌথ সন্ত্রাস’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে। মধ্যভারতে রাষ্ট্রীয় শোষণনিপীড়নের বিপরীতে আদিবাসীদের সংগ্রামের চিত্র উঠে এসেছে এ গ্রন্থে।

বইটি পাওয়া যাচ্ছে শাহবাগ, আজিজ মার্কেটের ‘প্রথমা’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ‘দেবদারু’তে।

অনলাইনে rokomari.com থেকেও সংগ্রহ করা যাবে।

এছাড়া ০১৯৮০১৩৭৯৫৬ (উৎস পাবলিশার্স) নম্বরে যোগাযোগ করেও বইটি সংগ্রহ করা যাবে।

কলকাতার পরিবশক সেতু প্রকাশনীতে আগামী মাসে বইটি পাওয়া যাবে।

(বিস্তারিত…)


লিখেছেন: নীলিম বসু

ambedkar-marxএই উপমহাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসে বর্ণব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রামের ইতিহাসটাও অনেক পুরনো। চার্বাকদের ধ্বংস করেছিল ব্রাহ্মণ্যবাদীরা, চৈতণ্যের আন্দোলন, গৌতম বুদ্ধের ভাবধারাকে অঙ্গীভূত করে নেয় এই ব্রাহ্মণ্যবাদী ব্যবস্থা। ফুলে দম্পতি ও পেরিয়ারের সংগ্রাম এই ব্রাহ্মণ্যবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। মূলত পেরিয়ারের আন্দোলন দক্ষিণ ভারতে এক গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে যায় ও ব্রাহ্মণ্যবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দ্রাবিড় আত্মমর্যাদার আত্মপ্রকাশে পেরিয়ারের সংগ্রাম ও ভাবধারার গুরুত্ব অস্বীকার করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। তবে ব্রাহ্মণ্যবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ড. বাবাসাহেব আম্বেদকরের ভাবধারায় গড়ে ওঠা সংগ্রাম এই সমস্ত সংগ্রামগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং দলিত আন্দোলনের পরিসরে একটি মোড়। (বিস্তারিত…)