Archive for the ‘মতাদর্শ’ Category


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট মণিপুরের মহারাজা বোধ চন্দ্র আর ইংরেজ সরকারের গভর্নর জেনারেল লুই মাউন্টব্যাটনের মধ্যে এক চুক্তির মধ্য দিয়ে মণিপুর রাজ্যকে ডোমিনিয়ান বা স্বায়ত্বশাসনের মর্যাদা দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট মণিপুর একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষিত হয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা ভারতপাকিস্তানের শাসক শ্রেণীর হাতে ক্ষমতা তুলে দিলেও কোনো কোনো ভূখণ্ড তখনো ভারতপাকিস্তানের সঙ্গে না গিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের একটি মণিপুর। ১৯৪৮ সালে গণভোটের মাধ্যমে মণিপুরের জনগণ রাজাকে সাংবিধানিক প্রধান নির্বাচিত করে, রাজার অধীনে একটি সরকার শপথ গ্রহণও করে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

গত ১৪ জুন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবী সংঘ পুনর্গঠিত হয়। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে আহবায়ক করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠিত হয়। এছাড়াও যারা কমিটি গঠনের সভায় উপস্থিত ছিলেন তাদেরকেও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সংঘের বাইরের সমাজতন্ত্রে আস্থাশীল অন্যান্য প্রগতিশীল লেখকশিল্পীসাহিত্যিকবুদ্ধিজীবীগণ সমালোচনাপর্যালোচনা করে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু এসব সমালোচনায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বুদ্ধিজীবীদের একটি একক সংগঠনে সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়াপদ্ধতি কি হওয়া উচিত, তার ব্যাখ্যা নেই। তাই সমাজতন্ত্রের একজন সমর্থক হিসেবে এ প্রশ্নে আমার অবস্থান ব্যক্ত করা দায়িত্ব মনে করছি। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

সম্প্রতি কামালউদ্দিন নীলুর নির্দেশনায় একটি নাটক শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চস্থ হয়। নামের কারণেই নাটকটি দেখতে সমাজতন্ত্রকমিউনিজমে আস্থাশীল অনেকে আগ্রহ বোধ করেন। কিন্তু ‘স্তালিন’ নামের এ নাটকে কমিউনিস্ট আন্দোলনের মহান শিক্ষক কমরেড যোসেফ স্তালিনকে বিতর্কিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। এ নিয়ে নাটকটি দেখতে আসা দর্শকরা মঞ্চস্থলেই প্রতিবাদ জানান। উপস্থিত একাধিক দর্শক জানান, তারা আগেই ভেবেছিলেন ‘স্তালিন’ নাটকটিতে হয়তো স্তালিনকে দ্বান্দ্বিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। অর্থাৎ, এতে স্তালিনের সমালোচনাও থাকতে পারে, এটা তারা জানতেন। তবে যেভাবে ইতিহাস বিকৃতি ঘটানো হয়েছেস্তালিনের সমসাময়িক যে ঐতিহাসিক বাস্তবতা সাম্রাজ্যবাদীরাও প্রকাশ্য ও গোপন দলিলে মেনে নিতে বাধ্য হয়, সেটাকেও ওই নাটকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। আর এ নিয়েই দর্শকরা কামালউদ্দিন নীলুকে তাদের আপত্তির কথা জানান। এতে নীলু দর্শকদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করেন। ঘটনার পরদিন, ১২ জুন উপস্থিত দর্শক, বিভিন্ন বামপন্থী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ করে শিল্পকলা একাডেমির সামনে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের বিভিন্ন মতামত ও অবস্থান দেখা যায়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অজয় রায়

১৮১৮ সালের ৫ মে প্রুশিয়ার ট্রিয়ের শহরে জন্মগ্রহণ করেন মহান চিন্তাবিদ কার্ল মার্ক্স। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে তাঁর ২০০তম জন্মবার্ষিকী। মার্ক্স তাঁর আজীবনের সহকর্মী ফ্রেরি এঙ্গেলসের সাথে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন সর্বহারার বিপ্লবী মতাদর্শ, যাকে পরবর্তীকালে ‘মার্ক্সবাদ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। বিপ্লবী ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে মার্ক্সবাদ। যে বিজ্ঞান প্রকৃতি, সমাজ ও মানব চিন্তার গতিবিধি উদ্ঘাটন করে। আর মেহনতি মানুষের বিপ্লব সম্পাদনের এবং সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ নির্মাণের পথ দেখায়। মার্ক্সের অবস্থান, দৃষ্টিভঙ্গি ও পদ্ধতিগুলোকে সম্মিলিতভাবে ‘মার্ক্সবাদ’ বলে অভিহিত করা হয়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

প্রচলিত সাংবিধানিক নিয়মে পাঁচ বছর ঘুরে আবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হলো। চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। সেই সঙ্গে জনমনে আবারও শঙ্কামৃত্যুর মিছিল এবং নির্বাচনী সহিংসতারও। সরকার, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল, অথবা নির্বাচনপন্থী কথিত বাম দলগুলোর প্রচারণায় মনে হতে পারে, যেন নির্বাচন মানেই গণতন্ত্র! পাঁচ বছর পর পর ভোটগ্রহণ আর তাতে শাসক নির্ধারণের মানেই জনগণের গণতন্ত্র নয়। গণতন্ত্র শ্রেণীনিরপেক্ষও নয়। নির্বাচন প্রশ্নে কেন্দ্রীয় বিষয়টি হলোআমরা কোন ব্যবস্থায় নির্বাচনের কথা বলছি! (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ঔপনিবেশিক আমলের একটি সামন্তীয় চেতনার আইনকে অসাংবিধানিক বলে খারিজ করেছেন। ওই আইনে নারীকে পুরুষের সম্পত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ব্যক্তির স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ককে ফৌজদারি আইনের অধীনস্ত করা হয়েছিল। তা বুর্জোয়া গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আর এ কারণেই ওই আইনটি বাতিল করা হয়।

দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় ‘ব্যভিচারের’ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তাতে বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো নারীর সঙ্গে তার স্বামীর সম্মতি ব্যতীত যৌনসঙ্গম করেন এবং অনুরূপ যৌনসঙ্গম যদি ধর্ষণের অপরাধ না হয়, তাহলে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের দায়ে দায়ী হবেন, যার শাস্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড।

ব্যভিচার’ কি? প্রচলিত সংজ্ঞানুসারে, সমাজআইনের বিধিভুক্ত যে যৌন সম্পর্কের নির্দেশনা, তার বাইরে যাওয়ার মানেই হলো ‘ব্যভিচার’। একটা শব্দ যে পুরো ব্যবস্থাকে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এ শব্দটিযা প্রচণ্ডভাবে নারীবিদ্বেষী, পুরুষতান্ত্রিক এবং সামন্তীয় চেতনাধীন। এর দ্বারা কার্যত নারীর যৌন স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করা হয়। বিয়ের পর নারী তার স্বামীর বাইরে কিছু চিন্তা করতে পারবে না, এমন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। কার্যত ওই ‘ব্যভিচারের’ জুজু দেখিয়ে নারীকে পুরুষের ‘যৌনদাসীতে’ পরিণত করা হয়। ওই ‘ব্যভিচার’এর শাস্তি দিতে যে আইন করা হয়েছে, তা কমিউনিস্ট কেন, কোনো বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক ব্যক্তিও মেনে নেবেন না নিশ্চয়! (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: লাবণী মণ্ডল

তানিয়া। একটি নাম। এক তেজোদীপ্ত তরুণী। যে নামের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আত্মত্যাগ আর বিপ্লবী চেতনা যে নামের অন্তর্নিহিত শক্তিতে চেতনার জগতে প্রবেশ করে বিপ্লবী তেজ। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় তীব্র মনস্তাত্ত্বিক আগ্রাসন সত্ত্বেও আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই, দেখাতে চাই। এজন্য বিপ্লবী তানিয়াদের জীবনচরিত পাঠ করা খুব জরুরি। তানিয়াদের বিপ্লবী তেজ তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা জরুরি। তানিয়াকে জানাবোঝার জন্য, পাঠ করার জন্য খুব বেশি তথ্যউপাত্ত ইতিহাসে নেই বললেই চলে। বেশিভাগ সময় এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তাঁকে চে গুয়েভারার একজন সহযোগী হিসেবেই উপস্থাপন করেছে। এর বাইরেও যে মানুষটির অবদান নিজস্ব সত্তায় যে মানুষটি বিপ্লবের জন্য জীবন দিয়েছিলেন সে অবদান কালের বির্বতনে হারিয়ে যাওয়ার পথে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অভয়ারণ্য কবীর

প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর দীর্ঘদিন ধরেই নকশালবাড়ি আন্দোলন ও কমরেড চারু মজুমদারের উপর বিভিন্নভাবে আক্রমণ চালিয়ে আসছেনতিনি ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনকে বরাবরই শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করেছেন, রাজনৈতিক লাইনের নিরিখে মূল্যায়ন করেননিযদিও বদরুদ্দীন উমর লেনিনস্তালিনের নাম ব্যবহার করে শোধনবাদী রাজনীতির চর্চা করেন; তথাপি তিনি ও তাঁর সংগঠন (মুক্তি কাউন্সিল) বাংলাদেশের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে লেখায় বদরুদ্দীন উমরের ব্যক্তিগত সমালোচনা নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক লাইন ও দৃষ্টিভঙ্গীতে ভ্রান্তি নিয়ে আলাপ করা হবেকেননা এই ভ্রান্ত দৃষ্টি দিয়েই তাঁর সম্পাদিত ‘সংস্কৃতি’ পত্রিকার জুন ২০১৮ সংখ্যায় তিনি নকশালবাড়ি আন্দোলনের নেতা ভাস্কর নন্দীর (যিনি পরবর্তীতে নকশালবাড়ির বিপ্লবী পথ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন) স্মরণে লেখা একটি প্রবন্ধে কমরেড চারু মজুমদারকে (সিএম) যাচ্ছেতাইভাবে আক্রমণ করেছেন নকশালবাড়ি আন্দোলনের বিপ্লবী ঐতিহ্যকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে, কথিত নির্ভুল বিপ্লবের তত্ত্বের সাগরে গা ভাসিয়ে . সিএমকে মূল্যায়ন করেছেন নিছক বিলোপবাদী দৃষ্টিতে (বিস্তারিত…)


বিপ্লবী ছাত্রযুব আন্দোলন

জাতীয় কমিটি

তারিখ: ১৩ জুলাই ২০১৮

সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, আমলামুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদবিরোধী নয়াগণতান্ত্রিক শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নয়াগতান্ত্রিক বিপ্লব বেগবান করুন” ও “সমাজতন্ত্রকমিউনিজমের লক্ষ্যে মার্ক্সবাদলেনিনবাদমাওবাদের আদর্শে সজ্জিত হোন” এই স্লোগানকে ধারণ করে বিপ্লবী ছাত্রযুব আন্দোলনের ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ১৩ জুলাই ২০১৮, শুক্রবার ঢাকাস্থ শিশু কল্যা পরিষদ মিলনায়তনে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিল উদ্বোধন করেন নয়াগতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি কমরেড জাফর হোসেন ও সভায় সভাপতিত্ব করেন কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির সমন্বয়ক কমরেড বিপ্লব ভট্টাচার্য্য। কাউন্সিল কমরেড আহনাফ আতিফ অনিককে সভাপতি করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় কমিটি গঠন করে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

যে স্বপ্ন দেখে না এবং অন্যকে স্বপ্ন দেখাতে পারে না সে বিপ্লবী হতে পারে না।”

সে অনেক বছর আগের কথা। কমিউনিস্ট আন্দোলনের একজন মহান শিক্ষক আমাদের বোকাবুড়োর গল্প শুনিয়েছিলেন। সে গল্প শুনে এদেশে এক বোকাবুড়ো শুরু করেছিলেন পাহাড় সরানোর কাজ। তাঁর ডাকে হাজার হাজার দেবদূত এসেছিলেন এ কাজে অংশ নিতে। তাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন কখনো পুলিশের গুলিতে; কখনো জেলের অন্ধুকুঠুরিতে; কখনো শাসক দলের গুন্ডা বাহিনীর হাতে। কেউ কেউ জীবনের দীর্ঘদিন কাটিয়েছিলেন কারান্তরালে। তাদের মধ্যে আজ কেউ কেউ পাহাড় সরানোর স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন। আজ তাঁরা গাইতিকোদাল নিয়ে ‘হেই সামালো’ হেঁকে চালিয়ে যাচ্ছেন পাহাড় সরানোর কাজ।

ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট আন্দোলনের বয়স নয় নয় করেও বিরানব্বইচুরানব্বই বছর হয়ে গেলো। কিন্তু আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে ঘটে যাওয়া নকশালবাড়ির ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক ছাত্রযুবদের মধ্যে যে আলোড়ন তুলেছিল, তা এক কথায় বললেঅভূতপূর্ব। আত্মত্যাগের এ যেন এক আলোকোজ্জ্বল অধ্যায়। এই আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন সেই বোকাবুড়ো। কি ছিল তাঁর আবেদনে, যা শুনে হাজার হাজার ছাত্রযুব ক্যারিয়ারের মোহ ত্যাগ করে, ঘরবাড়ি, পরিবারপরিজন ছেড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এই পাহাড় সরানোর মহাযজ্ঞে। (বিস্তারিত…)