Archive for the ‘মতাদর্শ’ Category


কোভিড১৯ আগ্রাসনে যখন বিপর্যস্ত ভারত, তখনও অশীতিপর এক বৃদ্ধকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে নারাজ দেশটির কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। ভিমা কোরেগাঁও মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন ৮১ বছর বয়সী বিপ্লবী কবি ভারাভারা রাও। ইতিমধ্যে ওই কারাগারে কয়েকজন কয়েদি কোভিড১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ বিপ্লবী কবির মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন দেশবিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সমাজে চিন্তাশীল, প্রগতিশীল মানুষ হিসেবে অন্তত মানবিক কারণে ভারাভারা রাওয়ের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করছি। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

হিন্দুত্ব’ নামক ধর্মসংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদের উত্থান

তুলনামূলকভাবে দেখলে দেখা যাবে, আজ যে হিন্দুত্ববাদের বিষবৃক্ষটি ফুলেফলে পল্লবিত হয়েছে, ব্রিটিশ সরকারই নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে তার বীজ মাটিতে বপন করেছিল১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ভারতীয় জনগণের একত্রিত বিদ্রোহী চেতনাকে ভাঙতে উপনিবেশবাদী ব্রিটিশ শাসকরা নিয়ে এসেছিল,ভাগ করো ও শাসন করো’ নীতিমূলত এর ওপর ভিত্তি করেই ভারতবাসীর মননে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ঘনবিষ ঢুকিয়ে দেয় তারা। এরই মাধ্যমে ভারতীয় জনগণের ওপর তাদের শাসন, শোষণ ও লুণ্ঠনকে দীর্ঘায়িত করতে পেরেছিল১৮৭৫ সালে হান্টার সাহেবের লেখা ‘দ্য ইন্ডিয়ান মুসলমান’ বই থেকে ব্রিটিশরা আমদানি করেছিল ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : সুশীল ঠাকুর এবং নির্ঝর মন্ডল

যে কোনো সামাজিকরাজনৈতিক গণআন্দোলনগণসংগ্রামের মধ্যেই দু’ধরনের লাইন, দু’ধরনের দৃষ্টিভঙ্গী লক্ষ্য করা যায়। একটি সঠিক লাইন, দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গী তথা সর্বহারার শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গী সজ্জিত লাইন; অন্যটি বেঠিক লাইন তথা অদ্বান্দ্বিক, আধিবিদ্যক দৃষ্টিভিঙ্গী তথা অসর্বহারা দৃষ্টিভঙ্গীর প্রকাশ। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সৌম্য মণ্ডল

অধিকার বোঝার হাসি

কি শুরু করেছেন আপনারা? কোন লাট সাহেব আপনারা যে, গরিব মানুষকে দয়া দেখাচ্ছেন? সহনাগরিক হয়ে মানুষকে তার অধিকার নিয়ে সচেতন না করে, কমরেড হয়ে শাসকশ্রেণীর বিরুদ্ধে সংগঠিত না করে, বাবু সেজে ত্রাণ বিতরণ করে ছবি তোলাটা সংসদীয় বা সংসদ বহির্ভূত কোন পার্টির লাইন? আমাকে উত্তটা দেবেন, নতুন থিওরি জানতে চাই। মানুষের মধ্যে সংগ্রামী চেতনা না গড়ে আপনারা ভিখারি চেতনা তৈরি করছেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে গরীব মানু্ষের চেতনার যেটুকু গণতান্ত্রিকীকরণ হয়েছিল, চেতনার যেটুকু প্রগতি অর্জিত হয়েছিল কমরেডের রক্তের বিনিময়ে, সব আপনারা নষ্ট করার জন্য ওঠে পড়ে লেগেছেন। ইতিহাস আপনাদের ক্ষমা করবে না। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর (গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে) রাশিয়ায় যে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল, তাতে বিপ্লবী কমিউনিস্টরা নিশ্চয় দ্বিমত করবেন না। তবে বলশেভিক বিপ্লব নিয়ে কথা বলার সময় একটা বিষয় অনেকেই এড়িয়ে যান যে, এরপর ১৯২২ সাল পর্যন্ত এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ সেখানে চলমান ছিল, যেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন কয়েক লাখ মানুষ। এমন এক পরিস্থিতিতে বৈপ্লবিক সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণকাজ একরৈখিকভাবে চলমান ছিল না। আর এক পশ্চাৎপদ সমাজে এই বিনির্মাণ প্রক্রিয়ায় পশ্চাদপসরণও ওই বিপ্লবেরই অংশ। কিন্তু তা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে কমিউনিস্ট বা বামপন্থী নামধারী কেউ কেউ এ বিপ্লবকে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করছেন। তারা সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণ প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে এক কথিত বিশুদ্ধ সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন দেখছেন। সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণ প্রক্রিয়ায় যে সমাজতান্ত্রিক উপাদান বিদ্যমান ছিল, তারা সেটাকেই মুখ্য হিসেবে তুলে ধরে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবএর তত্ত্ব ফেরি করছেন। আর তাই একটা নির্ধারিত বিষয় নিয়ে নতুন করে লেখার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও, কেন আমরা বলশেভিক বিপ্লবকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব বলছি, তা স্পষ্ট করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। বলশেভিক বিপ্লবের ঘটনাবলী, তৎকালীন সময়ে রাশিয়ার আর্থসামাজিক অবস্থা এবং বিপ্লব পরবর্তী পুনর্গঠনকালে পার্টি গৃহীত কার্যক্রমে আলোকপাত করার চেষ্টা থাকবে এ লেখায়। রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচী থেকে আমরা কৃষিপ্রধান দেশে সমাজতন্ত্রের পথে প্রাথমিক পুনর্গঠন সম্পর্কে ধারণা পেতে সক্ষম হই। যা এই বিপ্লবের ধরণ সম্পর্কেও আমাদের সম্মক ধারণা প্রদান করে। আর এ ক্ষেত্রে কমরেড ভ্লাদিমির লেনিন ও বলশেভিক পার্টির বক্তব্যকেই মূল তথ্যসূত্র হিসেবে ধরা হয়েছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

কমিউনিস্ট পার্টি কোনো দাতব্য সংস্থা বা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট নয়। বিপ্লবী রাজনীতি আর চ্যারিটি এক নয়। অথচ ইদানিং দেখা যাচ্ছে, কেউ কেউ রাজনীতি আর চ্যারিটিকে গুলিয়ে ফেলছেন। বিপ্লবী রাজনৈতিক সংগঠনের প্রথম ও প্রধান কাজ হলো বিদ্যমান ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করা, জনগণের সামনে শোষকদের উন্মোচন করা, দাবি আদায়ে আন্দোলনসংগ্রাম পরিচালনা করা, গণঅধিকার কায়েম করা। কোনো দাতব্য সংস্থা নিশ্চয় এমনটা করবে না! দাতব্য কর্মসূচি রাজনীতির একটি অংশ মাত্র, সমগ্র নয়। সংকটকালে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে; কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন না হয়ে সেটা কেবল আংশিকভাবেই করা সম্ভব। ভিক্ষা দেওয়াতে কোনো দোষ নেই, যে কেউ তা করতে পারেন; কিন্তু ভিক্ষা কেন চাইতে হবে, একটা উন্নত সমাজে কেন ভিক্ষুক থাকবে?- এ প্রশ্ন তোলাটাই বিপ্লবী রাজনীতির কাজ। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : অজয় রায়

রোজা লুক্সেমবার্গ এবং কার্ল লিবনেখটের শহীদ হওয়ার শততম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে শুধু জার্মানিতে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে১৯১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি বার্লিনে দক্ষিণপন্থী ঘাতক বাহিনীর হাতে শহীদ হন তাঁরা[] তবে মেহনতি মানুষের আন্দোলনসংগ্রামে এই দুই বিপ্লবী কমিউনিস্ট আজও পথ দেখান

রোজা লুক্সেমবার্গের জন্ম ১৮৭১ সালে পোল্যান্ডে[] তিনি ১৫ বছর বয়সেই বিপ্লবী ক্রিয়াকলাপে জড়িয়ে পড়েনগ্রেফতার এড়াতে তাঁকে সুইজারল্যান্ডে চলে যেতে হয়। ১৯৯৮ সালে তিনি অবশ্য জার্মানিতে বসবাস শুরু করেন জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্রাটিক পার্টিতে (জার্মান এসপিডি) যোগ দেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯১৪ সালের আগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাসি নামেই পরিচিত ছিল (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

সংগ্রামী সহযোদ্ধাগণ,

আজ আমরা এমন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এখানে সমবেত হয়েছি, যার ফলে বিশ্বে মানবিকতার ইতিহাস এক নতুন পথে পরিচালিত হয়েছে। আর তাই এ আয়োজনের কারণটা ব্যাখ্যা করা খুব জরুরি। আর তা পেছনে থাকা ব্যানারের তিনটি স্লোগানেই প্রকাশিত। আমি আমার লিখিত বক্তব্যে ইতিহাস বিচারে এ স্লোগানগুলোর তাৎপর্য তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

আন্তর্জাতিক’শুধু একটা শব্দ নয়। এটি আমাদের দেখায় যে, মানুষ ও মানবিকতা জাতি, ধর্ম, বর্ণে আবদ্ধ থাকার বিষয় নয়। এসব আবদ্ধ চিন্তা কার্যত শ্রেণীর ভিত্তিতেই বিভক্ত। ‘আন্তর্জাতিক’আমাদের শেখায়, শ্রেণী সংগ্রামের মধ্য দিয়েই শ্রেণীর বিলোপ সম্ভব, যা জাতীয় গণ্ডিতে আবদ্ধ হয়। সর্বহারাশ্রেণীর আন্তর্জাতিকতাবাদই এর ভিত্তি। (বিস্তারিত…)


১৫ নভেম্বর ২০১৯

আপনি/আপনারা নিশ্চয় অবগত রয়েছেন, মহান কমরেড লেনিনের নেতৃত্বে আজ থেকে ১০০ বছর আগে ১৯১৯ সালে বিশ্বের কমিউনিস্ট সংগঠনগুলোর ঐক্য সংগঠন ‘তৃতীয় কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক’ গড়ে উঠেছিল। ‘তৃতীয় আন্তর্জাতিক’এর নেতৃত্বে কমিউনিস্ট আদর্শ বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করে। চীনসহ বহু দেশে বিপ্লব হয়। আমাদের উপমহাদেশেও সমাজতন্ত্রকমিউনিজমের বার্তা বয়ে আনার ক্ষেত্রে ‘তৃতীয় কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক’এর ভূমিকাই প্রধান। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট মণিপুরের মহারাজা বোধ চন্দ্র আর ইংরেজ সরকারের গভর্নর জেনারেল লুই মাউন্টব্যাটনের মধ্যে এক চুক্তির মধ্য দিয়ে মণিপুর রাজ্যকে ডোমিনিয়ান বা স্বায়ত্বশাসনের মর্যাদা দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট মণিপুর একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষিত হয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা ভারতপাকিস্তানের শাসক শ্রেণীর হাতে ক্ষমতা তুলে দিলেও কোনো কোনো ভূখণ্ড তখনো ভারতপাকিস্তানের সঙ্গে না গিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের একটি মণিপুর। ১৯৪৮ সালে গণভোটের মাধ্যমে মণিপুরের জনগণ রাজাকে সাংবিধানিক প্রধান নির্বাচিত করে, রাজার অধীনে একটি সরকার শপথ গ্রহণও করে। (বিস্তারিত…)