Archive for the ‘দেশ’ Category


লিখেছেন: অভয়ারণ্য কবীর

১৮ আগস্ট খাগড়াছড়িতে নিহত হলেন সাত জন আদিবাসীএর আগে ১৪ আগস্ট চার জন আদিবাসীকে অপহরণেপর জনগণের প্রতিরোধের মুখে তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় অপহরণকারীরা। অপহরণের প্রতিবাদে ১৮ আগস্ট ছিল ইউপিডিএফের (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট) নেতৃত্বে সমাবেশ। ইউপিডিএফের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই স্বনির্ভর বাজারে অবস্থিত সংগঠনের অফিসে জড়ো হচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে একদল বন্দুকধারী তাদের উপর এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে নিহত হন ছয় জন। আরও কয়েকজন আহত হন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পিসিপির (পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ) নেতা তপন চাকমা। তিনি বেশ অগ্রসর চিন্তা ধার করতেন। বিপ্লবী রাজনৈতিক মহলেও আন্তরিক এ নেতা বেশ পরিচিত ছিলেন।

নিশ্চিতভাবেই এটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। যা শুরু হয়েছে বহুদিন আগেই। পাহাড়ে বিদ্যমান অশান্তির মূলে রয়েছে সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রের অনুমতি সাপেক্ষে তারা পাহাড়ে অঘোষিত সেনা শাসন জারি রেখেছে। আর সেখানে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ ছাড়া এ হামলা যে সম্ভব নয়, তা বলাই বাহুল্য। কারণ দুদফায় হামলা করেছে সন্ত্রাসী চক্র। স্বনির্ভর বাজারে বিজিবি পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। তাদের সামনেই কিভাবে হামলা চালালো সন্ত্রাসীরা? বিজিবি ও পুলিশ কেন কোনো অ্যাকশন নিলো না? এ প্রশ্নগুলো পাহাড়ি জনগণ তুলছেন। প্রশ্নগুলো যৌক্তিক এবং অতীতের ধারাবাহিকতায় এটাও যে সেনা মদদপুষ্ট, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না!

তপনদের রক্ত বৃথা যাবে না

পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরেই সেনামদদে পাহাড়িদের মধ্যে বিভক্তি ও সংঘাতের রাজনীতি চলমান রয়েছে। পাহাড়িদের মধ্যে ডিভাইড এন্ড রুল তত্ত্বের প্রয়োগ করা হয়েছেপাহাড়িদের হাতে পাহাড়িদের হত্যা করিয়ে পাহাড়ের শক্তিকে দুর্বল ও ভঙ্গুর করে দেয়া এ নীতির উদ্দেশ্য। সম্প্রতি ইউপিডিএফের নেতৃস্থানীয় সংগঠক মিঠুন চাকমাকে বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়। গত ১০ মাসে একের পর এক হামলাপাল্টা হামলার ঘটনায় অন্তত ৩৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ লাশের মিছিল নতুন করে ভাববার বাস্তবতা সামনে এনেছে। পাহাড়ের সংগ্রামকে সারসসংকলন না করে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না। প্রকৃত বন্ধু শত্রুদের সম্পর্কে নতুন করে না ভাবতে পারলে সংগ্রাম বারবার বিপর্যয়ের দিকেই ধাবিত হবে। আমরা হারাবো আন্তরিক নেতৃত্বকে। যারা প্রকৃতই পাহাড়ের নিপীড়িত জনগণের পক্ষে লড়াই করতে এসেছিলেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়। মুক্তিযুদ্ধে এদেশের বাঙালি জনগণের সাথেই পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীরাও অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু এর বিপরীতে রাষ্ট্র তাদের কিছুই দেয়নি। জনগণের নূন্যতম মৌলিক অধিকার বাংলাদেশ রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পারেনি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, বিদেশের কর্তৃত্বহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার, শোষণ মুক্তির কোনোটা পূরণ হয়নি। এখানে কখনো সোভিয়েতের, কখনো আমেরিকার আবার কখনো বা ভারতের অথবা চীনের মদদে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে।

যে বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তির লড়াই করেছে, সেই দেশের কথিত স্বাধীন সরকার ১৯৭২ সালেই বাংলাদেশেসকল জাতিসত্তার মানুষকে বাঙালি বানাতে চেয়েছিলেন। অন্যান্য জাতিসত্তাকে স্বীকৃতি পর্যন্ত দেয়নি। ১৯৭২ সাল থেকেই পাহাড়ে জাতিসত্তাসমূহ লড়াই চালিয়ে আসছে। পাহাড়ে বাংলাদেশের সকল সরকার নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। লোগাং, লংগদু থেকে শুরু করে অসংখ্য গণহত্যা পাহাড়ে সংগঠিত হয়েছে। পাহাড়ের প্রশ্নে এদেশের শাসকশ্রেণীর সকল অংশের ভূমিকা একই রকম। পাহাড়ের জনগণ এ সমস্ত নিপীড়নের বিরোধিতা করে আসছেন ধারাবাহিকভাবে। আজ পাহাড়ে দিনেরাতে নিপীড়নের স্বীকার হচ্ছেন। পাহাড়ী নারীরা ধর্ষিত হচ্ছেন, খুন হচ্ছেন। তাদের মিটিংমিছিল, সভাসমাবেশ করার অধিকার দেয়া হচ্ছে না। কল্পনা চাকমাদের কোনো খোঁজ রাষ্ট্র দিতে পারেনি আজও। কিলোমিটার প্রতি পর পর সেনাক্যাম্প বসিয়ে পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীকে সামরিক শাসনের ভেতরে রাখা হয়েছে।

বাঙালি গরীব জনগণকে পাহাড়ে পুনর্বাসন করে কৃত্রিমভাবে দাঙ্গা তৈরি করার সকল চক্রান্ত বাস্তবায়ন করে চলেছে বাঙালি ধনিকশ্রেণীর সরকারগুলো। সেটেলারদেরকে জাতিগত উসকানি দিয়ে শাসকগোষ্ঠী ও সেনাবাহিনী সেখানে শক্ত সামরিক ঘাঁটি বানিয়েছে। পাহাড়ীদের নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে সেটেলারদের বসানো হয়েছে এ প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সবের বিরুদ্ধে পাহাড়ের জনগণ বিভিন্নভাবে আন্দোলন করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রকৃত জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম গড়ে তুলতে পারেননি। তারা একই বৃত্তে ঘুরপাক খেয়ে চলেছেদীর্ঘদিন ধরেঅতিসত্তর পাহাড়ের সংগ্রামকে এ বৃত্ত থেকে বের করে আনা দরকার

পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে যে সংগ্রাম চলছে, তাকে ভাতৃঘাতী সংঘাতে পরিত করতে পেরেছে শাসকশ্রেণী। তারা পাহাড়ে যেমন নব্য পাহাড়ী আমলাদালাল তৈরি করেছে। তেমনি তৈরি হয়েছে নানা রঙের বুর্জোয়া। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ সন্তু লারমা। তারা পাহাড়ের জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কিন্তু এর বিপরীতে যারা দাঁড়াতে চেয়েছিল সেই ইউপিডিএফও এখন পর্যন্ত সঠিক বিপ্লবী দিশা হাজির করতে পারেনি। বরং পাহাড়ের বিরোধী দলের মতো করে গড়ে উঠেছে। যদিও ইউপিডিএফের মধ্যেই পাহাড়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নবীন মানুষ রয়েছেন, যারা পাহাড়কে নিপীড়নমুক্ত করতে চান। তাঁদের এখন নতুন করে ভাবতে হবে। কারণ ইউপিডিএফ এবং অন্যান্য সব গ্রুপই পাহাড়ের লড়াইকে পথ দেখাতে পারছে না।

আসুন, একটু লক্ষ্য করি উপরের কথাগুলো সত্য নাকি মিথ্যা! গত কয়েক বছরের কথা যদি আমরা পুনর্মূল্যায়ন করি তাহলে দেখবো পাহাড়ে শুধু পাহাড়ি জনগণই হত্যার্ষণের স্বীকার হচ্ছেন। এর কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। উপরন্তু পাহাড়ে নিজ জাতিগোষ্ঠীর মধ্যেই সংঘাত চলছে। এখানে লাভবান হচ্ছে কে? লাভবান হচ্ছে সেনাবাহিনী, বাঙালি ধনী বুর্জোয়া এবং পাহাড়ি নব্যদালাল ধনীকশ্রেণী

মাও সেতুঙ বলেছিলেন, কে শত্রু আর কে মিত্র এই বিষয়টি ঠিক করাই হচ্ছে সংগ্রামের মূল বিবেচ্য দিক।

এক্ষেত্রে পাহাড়ে শত্রু হলো সেনাবাহিনী, বাঙালি ধনিক শাসকশ্রেণী এবং পাহাড়ের নব্যদালাল বুর্জোয়াশ্রেণী। আর বন্ধু বা মিত্র কারা? পাহাড়ের ব্যাপক নিপীড়িত জনগণ, সমতলের ব্যাপক নিপীড়িত জনগণ, প্রকৃত বিপ্লবী রাজনৈতিক সংগঠনযারা প্রকৃতই পাহাড়ের শোষণমুক্তির পক্ষে। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকবে পাহাড়ের সর্বহারাশ্রেণী।

পাহাড়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এখানে যাদের সেটেল করা হচ্ছে তারাও মূলত শত্রু শিবিরের নয়। পাহাড়ে যেসব বাঙালিকে সেটেল করা হয়েছে, তারাও সমতলে নিপীড়িত। তারা সেনা মদদে বাধ্য হয়েই সেটেল হচ্ছেন। এদের মধ্যকার মানবিক, সবচেয়ে নিপীড়িত অংশটি সংগ্রামের শত্রু নয়। জমি দখলের প্রশ্নে প্রতিরোধ যদিও অনিবার্য। কিন্তু তারা জনগণেরই আরেকটি নিপীড়িত অংশ। তাদেরকে চোখ বন্ধ করে শত্রুর কাতারে ফেলে দেয়াটা হবে মারাত্বক ভুল। যা শাসকরা সব সময়েই চাইবে। পাহাড়ে দীর্ঘদিন আগে সেটেল হওয়া বাঙালিদের মধ্যে অনেকেই এখন লুটপাটের মধ্য দিয়ে নব্যধনীকশ্রেণীতে পরিণত হয়েছে। মূলত তারাই শাসকশ্রেণীর পক্ষে উগ্রবাঙালি চেতনার প্রয়োগকারী, বিভেদ সৃষ্টিকারী। এদের বিরুদ্ধেও লড়াইয়েও নিপীড়িত বাঙালিরা মিত্রশক্তি। অর্থাৎ লড়াইটা হবে শ্রেণীর লড়াই এবং শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। কিন্তু বর্তমানে তা হচ্ছে না।

সারাবিশ্বেই আজ জাতিগত লড়াই সংকীর্ণ আকার ধার করেছে। উগ্রজাতীয়তাবাদ কোনো সমাধান হতে পারে না। বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিপরীতে আরেক জাতীয়তাবাদ কখনো মুক্তি দিতে পারে না। রুশ বিপ্লব এবং চীন বিপ্লব তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে! এর পরেও আমাদের দেশের পাহাড়ি নেতৃত্ব এটা বুঝতে ব্যর্থ হলে, তা হবে হতাশাজনক। তারা এখনো জাতীয়তাবাদী আন্দোলনেই ঘুরপাক খাচ্ছেন। এটাকে বৃহত্তর লড়াইয়ে পরিণত করতে পারেননি।

বৃহত্তর লড়াইয়ে পরিণত করতে হলে অবশ্যই মাওবাদী বিপ্লবী পথ অবলম্বন করতে হবে প্রকৃত শত্রুর বিরুদ্ধে প্রকৃত মিত্রকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

এক্ষেত্রে আমাদের শিখতে হবে ভারতের মাওবাদী পার্টির নেতৃত্বে মধ্যভারতে আদিবাসী জনগণের সংগ্রাম থেকে। তারা কিভাবে জাতিগত লড়াইকে একটি বৃহত্তর দিকে এগিয়ে নিয়েছেন, তা থেকে আমাদের ভালোভাবে উপলব্ধি করতে হবে এবং পাহাড়েও নতুন ভিত্তিতে লড়াইকে জোড়দার করতে হবে। পাহাড়সমতলের সমগ্র নিপীড়িত জনগণ এক হয়ে এই শোষণমূলক রাষ্ট্র উচ্ছেদ করে, গড়ে তুলতে হবে এক মানবিক, নয়াগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রএছাড়া শহীদ তপন চাকমাদের রক্ত বৃথা যাবে। আমরা তা হতে দিতে পারি না। আমাদের অবশ্যই তপন চাকমাদের আত্মত্যাগকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে বৃহত্তর সংগ্রামের জন্যই প্রস্তুত হতে হবে।

পাহাড় থেকে সেনা শাসন তুলে নিতে হবে!

অবিলম্বে সেটেলার বাঙালিদের অন্যত্র সম্মানজনক পুনর্বাসন করতে হবে!

পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি থেকে আদিবাসী উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে!

জঙ্গলের অধিকার আদিবাসীদের হাতে দিতে হবে!

Advertisements

লিখেছেন: অভয়ারণ্য কবীর

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোর চরিত্রকে পাল্টে দিচ্ছে যে আন্দোলন, তা হলো চলমান ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনএই আন্দোলন যারা করছে, তারা হলেন ‘সকাল আটটানটার সূর্য’তাদের আটকানোর মতো কোনো শক্তি নেইতাদের থামিয়ে দেয়ার মতো কোনো ট্যাঙ্ক নেই, নেই কোনো জলকামানশিক্ষার্থীদের একটি স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ যে রাজনৈতিক ভারিক্কি ধার করে, তার অনেকটা এই কিশোরের দল ছাড়িয়ে গেছেতাদের থেকে বাংলাদেশের সকল বিপ্লবীদের শিখতে হবেএখানেই ‘জনগণের কাছ থেকে শেখো’ তত্ত্বের বাস্তব প্রয়োগের প্রশ্ন চলে আসেএটা না করে প্রথমেই তাদের শেখাতে যাওয়া হবে বিরাট মাপের ভুল (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: হাসিবুর রহমান

১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শামসুল হক শিক্ষা কমিশন সরকারের কাছে তার রিপোর্ট পেশের পর থেকেই শিক্ষানীতি, শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য, শিক্ষার সংকট ইত্যাদি বিষয়ে গত দুই বছরে কিছু লেখালেখি হয়েছে। যদিও এই লেখালেখি পরিমাণগত ও গুণগত মানের দিক থেকে যথেষ্ট নয়।

শিক্ষানীতি নিয়ে একটি উল্লেখ্যযোগ্য প্রকাশনা হলো বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান এর শিক্ষানীতি ও শিক্ষা সংকট প্রসঙ্গে পুস্তিকাটি। গত বছরের জুলাই মাসে এই পুস্তিকাটি প্রকাশ করে বাসদএর ছাত্র সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

খালেকুজ্জামান বাসদএর আহ্বায়ক, তারা দাবি করেন যে বাসদই এদেশের একমাত্র প্রকৃত বিপ্লবী রাজনৈতিক দল। সে কারণেই এই বিপ্লবী রাজনৈতিক দলটির শিক্ষা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গী পর্যালোচনার দরকার হয়ে পড়েছিল। এই প্রবন্ধটিতে সেটাই করা হয়েছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: হাসিবুর রহমান

[এখানে ৫ বাম দল নামক যে রাজনৈতিক জোটটির কর্মসূচি পর্যালোচনা করা হয়েছে সেই জোটটি আর নেই, আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সাথে মিলে তারা গঠন করেছে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। তবে বাস্তব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিক থেকে ৫ বাম দল ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। বলা চলে, এ হলো নতুন বোতলে পুরনো মদ। পর্যালোচনাটি ২০০৬ সালে তৈরী করা হলেও এর প্রয়োজন তাই ফুরিয়ে যায়নি। কিছুটা পরিমার্জন করে হাজির করা হলো।লেখক]

৩ এপ্রিল ২০০৬ তারিখে একটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ৫ বাম দল তাদের ৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। জাতীয় গণফ্রন্ট, বিপ্লবী ঐক্য ফ্রন্ট, গণসংহতি আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি- এই চারটি দল মিলে ২০০২ সালে ৪ বাম দল নামে একটি জোট গঠন করে। অন্তর্ভুক্ত দলগুলির সংখ্যা গুণে রাজনৈতিক জোটের নামকরণ অবশ্য নতুন নয়। আশীর দশকে বুর্জোয়া নেতৃত্বাধীন ১৫ দল ও ৭ দল এই দুটি জোটে বামপন্থীদের প্রধান প্রধান সবকটি দলই অন্তর্ভুক্ত ছিল। সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, বাসদ (খালেকুজ্জামান), বাসদ (মাহবুব), শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল এরা ছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৫ দলে। ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ (এখনকার জাতীয় গণফ্রন্টের পূর্বসূরী) ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৭ দলে। ১৯৮৬র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৫ দল ভেঙে গিয়ে জাসদ, দুই বাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল ৫ দল নামে বামপন্থীদের ‘নিজস্ব’ রাজনৈতিক জোট গঠন করে। ৫ দল বামপন্থীদের জোট হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করে। ৯০ দশকের শেষার্ধে বামগণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এর উদ্যোগে গণফোরাম, গণতন্ত্রী পার্টি ইত্যাদি মিলে গঠন করা হয় ১১ দল। আর ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগ এই ১১ দলকে হজম করে নিয়ে গঠন করে ১৪ দলীয় জোট। সুতরাং দল গুণে জোটের নামকরণের এই অদ্ভূত কায়দাটা এদেশে বুর্জোয়াদেরই আবিষ্কার। এতে করে বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলের সাথে ‘কমিউনিস্ট’ ‘সমাজতন্ত্রী’ বা ‘শ্রমিক’ পার্টিসমূহের ঐক্যে মস্ত সুবিধাই হয়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: হাসিবুর রহমান

…“উঠিয়ে দাও শ্রেণী সংগ্রাম, তাহলে বুর্জোয়া ও ‘সমস্ত স্বাধীন লোক’ ‘প্রলেতারিয়েতের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যেতে আর ভয় পাবে না’। তবে ঠকবে ঠিক ঐ প্রলেতারিয়েত।”

বেবেল, লিবক্লেখত, ব্রাকে প্রমুখের প্রতি মার্কস ও এঙ্গেলস (‘সার্কুলার পত্র’) ১৭১৮ই সেপ্টেম্বর, ১৮৭৯

এ বছরের (২০০৩) ৬ থেকে ৯ই মে ৪ দিন ধরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র ৮ম কংগ্রেসে উপস্থাপনের জন্য প্রণীত রাজনৈতিক প্রস্তাবের খসড়া এবং কংগ্রেসে সংশোধনের পর গৃহীত চূড়ান্ত প্রস্তাবের ছাপানো কপি আমাদের হাতে এসেছে।

খসড়া প্রস্তাবে নাম্বার যুক্ত মোট ৪৫টি প্রস্তাব আছে, যা ২০০২ সালের ১৯ ও ২০শে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত হয়। কংগ্রেসে সংশোধনের পর প্রস্তাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মেহেদী হাসান

প্রতিটি খাদ্যকণার জন্য আমরা কৃষকের কাছে ঋণী। তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাদের জন্য ফসল ফলায়। অথচ মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে ফসলের নায্য দাম পায় না কৃষক। যার ফলে তাকে সবসময় অভাবঅনটনের মধ্যে থাকতে হয়। ‘কৃষক’ শব্দটি উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের মনে উস্কখুস্ক চুল, কোটরের ভেতরে ঢুকে যাওয়া ঘোলাটে চোখ, ভাঙা চোয়াল ও কঙ্কালসার দেহের অবয়ব ভেসে উঠে। সমস্ত জাতির খাদ্য উৎপাদনের দায়িত্ব যাদের কাঁধে তারা কোনরকমে ধুঁকেধুঁকে বেঁচেবর্তে থাকে।

তবে সময়ে ঘাটাইলের পাকুটিয়া গ্রামের সেই কঙ্কালসার দেহ ও ঘোলাটে চোখের স্বত্বাধিকারী কৃষকের বাঁচার উপায়টুকুও যেন আর থাকছে না! বিদ্যুতখাতের কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি ও গ্রামের কিছু অসৎ লোকের যোগসাজশে ইরি ধানের মৌসুমে চরাক্ষেতগুলো পরিণত হয় কৃষকের মৃত্যুফাঁদে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অনুপ কুণ্ডু

পূর্ণ হলো না তাঁর ‘সেঞ্চুরি’, অর্থাৎ শতবর্ষ পদার্পণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। শোষণবৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা, শ্রমিকশ্রেণীর রাষ্ট্র কায়েমের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে অপূর্ণতার মতো। ৯৬ পার করে ৯৭ বছর বয়সে পদার্পণ করেই জীবনের দীপটি ধপ করে নিভে গেল। অবসান হলো এক জীবন্ত ইতিহাসের। বর্ণাঢ্য এক সংগ্রামী, আপোষহীন বিপ্লবী চরিত্র রণাঙ্গনের মঞ্চ থেকে প্রস্থান করলেন। ৮ এপ্রিল ২০১৮, রাত সাড়ে ১০টায় প্রস্থান করেন ত্রিকালদর্শী বিপ্লবী কমরেড সত্য মৈত্র। পরিবার প্রদত্ত এটা তাঁর পরিচিতির স্মারক হলেও রাজনীতির ময়দানে তিনি ‘মোমিন ভাই’ নামেই সমধিক পরিচিত। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

সহযোগিতায়: আবিদুল ইসলাম

কোনো সমাজের উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে তার শিক্ষাব্যবস্থা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তা সমাজের মেরুদণ্ড স্বরূপ। সমাজ বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সেই সমাজের শিক্ষাব্যবস্থাও বিকশিত হয়। উৎপাদনব্যবস্থা যদি গণমুখী হয়, তবে শিক্ষাব্যবস্থাও হবে গণমুখী। অপরদিকে, যদি এই উৎপাদনব্যবস্থা গণমুখী না হয়, তবে শিক্ষাব্যবস্থাও হবে তার অনুরূপ। কর্পোরেট সাম্রাজ্যবাদপীড়িত বাংলাদেশের উৎপাদনব্যবস্থা নয়াঔপনিবেশিক হওয়ায়, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাও ক্রমেই কর্পোরেট পুঁজি ও সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতি স্বীকার করেছে ও করছে। যার মূল উদ্দেশ্য কেবলই মুনাফা অর্জন, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ আর কর্পোরেট দাস উৎপাদন। এই ব্যবস্থা ক্রমেই মানুষকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তোলে, যা শাসকশ্রেণী এবং কর্পোরেট সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে। এর সঙ্গে মিশেছে কর্পোরেট সংস্কৃতি ও ইতিহাস বিকৃতি। এই শিক্ষাব্যবস্থার ফলে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এই শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় পাশ করতেই শেখাচ্ছে, নৈতিক গুণাবলী বৃদ্ধিতে যার ভূমিকা প্রায় শূন্যের কোঠায়। ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে দিনদিন আত্মকেন্দ্রিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যাদের মামাটিমানুষ নিয়ে ভাবনার চেতনাটুকুও অবশিষ্ট থাকে খুব সামান্যই। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি নয়া কর্পোরেট মোড়কে গ্রাস করেছে ও করছে আমাদের সংস্কৃতিকে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আহ্‌নাফ আতিফ অনিক

শ্রদ্ধেয় বদরুদ্দীন উমর তার সম্পাদিত সংস্কৃতি পত্রিকার অক্টোবরনভেম্বর মহান অক্টোবর বিপ্লবের শত বার্ষিকী বিশেষ সংখ্যায়, ‘সমাজতান্ত্রিক সংগ্রামের পথ’ শিরোনামে কমিউনিস্ট আন্দোলনের মূল্যায়নধর্মী একটি প্রবন্ধ লিখেছেন। ই প্রবন্ধে তিনি তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে দেখেছেন। তার এই লেখাটি ছোট হলেও এটিই তার বর্তমান অবস্থানকে নির্দেশ করছে। তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনের সফলতাব্যর্থতাকে কিভাবে দেখছেন, তা এই লেখায় স্বল্প পরিসরে হলেও সামগ্রিকভাবেই এসেছে। কিন্তু ই লেখায় তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনকে মূল্যায়ন করেছেন এক যান্ত্রিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক মূল্যায়নের দ্বারা। নিঃসন্দেহে বদরুদ্দীন উমর এদেশের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনে এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। আর জন্যই তার অসা যুক্তির লেখাটিকে সংগ্রাম করাকে বিপ্লবী কর্তব্য বলেই মনে করি। (বিস্তারিত…)


(নেসার আহমেদের সাক্ষাৎকারভিত্তিক গ্রন্থ ক্রসফায়ার রাষ্ট্রের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড থেকে)

জামিলা আক্তার

নেসার : আপনার নামটা আগে বলুন।

জামিলা : জামিলা আক্তার। আমার বড় ভাই ছিলেন। আমরা দাদা বলতাম। উনি আমাদের পরিবারের সবাইকে ভীষণ আদর করতেন।

নেসার : আপনার বড় ভাইয়ের নামটা বলুন?

জামিলা : উনার আসল নাম আমি ঠিক বলতে পারব না। সমিরদা নামে ডাকতাম। একদিন উনি আমার বাসায় বাচ্চাদের জন্য কিছু খাবারদাবার আনছেন। তখন আমি বলছি যে, দাদা এগুলার দরকার কী? উনি বলছেন যে, এগুলা তোমার জন্য না। এগুলা আমার ভাতিজিভাতিজার জন্য। তিনি আমাদের পরিবারের লগে এমন আপন ছিলেন যে। তাছাড়া, খুব তাড়াতাড়ি আপন করে নিতে পারতেন তিনি। তার মধ্যে আন্তরিকতা ছিল খুব বেশি।

নেসার : আপনার সাথে রাজনীতি নিয়ে কথা হতো কি তার?

জামিলা : না। আমি সময়ও পাইতাম না। ব্যস্ত থাকতাম সব সময়। (বিস্তারিত…)