Archive for the ‘দেশ’ Category


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

সহযোগিতায়: আবিদুল ইসলাম

কোনো সমাজের উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে তার শিক্ষাব্যবস্থা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তা সমাজের মেরুদণ্ড স্বরূপ। সমাজ বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সেই সমাজের শিক্ষাব্যবস্থাও বিকশিত হয়। উৎপাদনব্যবস্থা যদি গণমুখী হয়, তবে শিক্ষাব্যবস্থাও হবে গণমুখী। অপরদিকে, যদি এই উৎপাদনব্যবস্থা গণমুখী না হয়, তবে শিক্ষাব্যবস্থাও হবে তার অনুরূপ। কর্পোরেট সাম্রাজ্যবাদপীড়িত বাংলাদেশের উৎপাদনব্যবস্থা নয়াঔপনিবেশিক হওয়ায়, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাও ক্রমেই কর্পোরেট পুঁজি ও সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতি স্বীকার করেছে ও করছে। যার মূল উদ্দেশ্য কেবলই মুনাফা অর্জন, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ আর কর্পোরেট দাস উৎপাদন। এই ব্যবস্থা ক্রমেই মানুষকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তোলে, যা শাসকশ্রেণী এবং কর্পোরেট সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে। এর সঙ্গে মিশেছে কর্পোরেট সংস্কৃতি ও ইতিহাস বিকৃতি। এই শিক্ষাব্যবস্থার ফলে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এই শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় পাশ করতেই শেখাচ্ছে, নৈতিক গুণাবলী বৃদ্ধিতে যার ভূমিকা প্রায় শূন্যের কোঠায়। ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে দিনদিন আত্মকেন্দ্রিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যাদের মামাটিমানুষ নিয়ে ভাবনার চেতনাটুকুও অবশিষ্ট থাকে খুব সামান্যই। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি নয়া কর্পোরেট মোড়কে গ্রাস করেছে ও করছে আমাদের সংস্কৃতিকে। (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: আহ্‌নাফ আতিফ অনিক

শ্রদ্ধেয় বদরুদ্দীন উমর তার সম্পাদিত সংস্কৃতি পত্রিকার অক্টোবরনভেম্বর মহান অক্টোবর বিপ্লবের শত বার্ষিকী বিশেষ সংখ্যায়, ‘সমাজতান্ত্রিক সংগ্রামের পথ’ শিরোনামে কমিউনিস্ট আন্দোলনের মূল্যায়নধর্মী একটি প্রবন্ধ লিখেছেন। ই প্রবন্ধে তিনি তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে দেখেছেন। তার এই লেখাটি ছোট হলেও এটিই তার বর্তমান অবস্থানকে নির্দেশ করছে। তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনের সফলতাব্যর্থতাকে কিভাবে দেখছেন, তা এই লেখায় স্বল্প পরিসরে হলেও সামগ্রিকভাবেই এসেছে। কিন্তু ই লেখায় তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনকে মূল্যায়ন করেছেন এক যান্ত্রিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক মূল্যায়নের দ্বারা। নিঃসন্দেহে বদরুদ্দীন উমর এদেশের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনে এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। আর জন্যই তার অসা যুক্তির লেখাটিকে সংগ্রাম করাকে বিপ্লবী কর্তব্য বলেই মনে করি। (বিস্তারিত…)


(নেসার আহমেদের সাক্ষাৎকারভিত্তিক গ্রন্থ ক্রসফায়ার রাষ্ট্রের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড থেকে)

জামিলা আক্তার

নেসার : আপনার নামটা আগে বলুন।

জামিলা : জামিলা আক্তার। আমার বড় ভাই ছিলেন। আমরা দাদা বলতাম। উনি আমাদের পরিবারের সবাইকে ভীষণ আদর করতেন।

নেসার : আপনার বড় ভাইয়ের নামটা বলুন?

জামিলা : উনার আসল নাম আমি ঠিক বলতে পারব না। সমিরদা নামে ডাকতাম। একদিন উনি আমার বাসায় বাচ্চাদের জন্য কিছু খাবারদাবার আনছেন। তখন আমি বলছি যে, দাদা এগুলার দরকার কী? উনি বলছেন যে, এগুলা তোমার জন্য না। এগুলা আমার ভাতিজিভাতিজার জন্য। তিনি আমাদের পরিবারের লগে এমন আপন ছিলেন যে। তাছাড়া, খুব তাড়াতাড়ি আপন করে নিতে পারতেন তিনি। তার মধ্যে আন্তরিকতা ছিল খুব বেশি।

নেসার : আপনার সাথে রাজনীতি নিয়ে কথা হতো কি তার?

জামিলা : না। আমি সময়ও পাইতাম না। ব্যস্ত থাকতাম সব সময়। (বিস্তারিত…)


৩০ অক্টোবর ২০১৭, প্রগতি সম্মেলন কক্ষ, মুক্তি ভবন, ঢাকা।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

দুনিয়াকাঁপানো সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষে আপনাদের সবাইকে রক্তিম শুভেচ্ছা। আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হবার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে শুরু করছি।

বন্ধুগণ,

অসহনীয় দ্রব্যমূল্যের কারণে শ্রমিক কৃষক গরীব মেহনতী মানুষের ঘরে ঘরে আজ শুধু হাহাকার আর হাহাকার। মাত্র তিনদিন আগে শেরপুরে ভাতের অভাবে ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হলো কিশোরী কনিকা। এ যেন কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষকের জীবনের করুন অবস্থার এক প্রতিকী চিত্র। অথচ, সরকারের কথিত উন্নয়নের গল্প এ নির্মম বাস্তবতাকে উপহাস করছে।

বাংলাদেশের আকাশে বাতাসে আজ একদিকে বিভৎস নির্যাতনগণহত্যার শিকার হয়ে দেশছাড়া লাখ লাখ রোহিঙ্গার অসহায় আহাজারি; অন্যদিকে গুম, খুন, ধর্ষণসহ হরেক রকম নির্যাতনের শিকার মানুষ ও স্বজনের বুকচাপা কান্নার শব্দ। প্রতিদিনের সংবাদেই ফুটে উঠছে মানুষের নিরাপত্তাহীনতা আর অসহায়ত্বের ছবি। সীমান্তের ওপারে আরাকানে মানুষের বাড়ীঘরে আগুন অথবা নদীসাগরে ভাসমান গলিত লাশ আপনারা দেখছেন। কদিন আগে গোবিন্দগঞ্জে সাওতালদের ঘরে আগুন, ধানক্ষেতে পড়ে থাকা গুলিবিদ্ধ লাশ অথবা বাঁশখালিতে পুলিশের গুলিতে বুক ঝাঁঝড়া হওয়া কৃষকের লাশ আপনারা নিশ্চয় ভোলেননি।

শুধু বাংলাদেশ নয়, মধ্যপ্রাচ্যআফ্রিকাসহ দুনিয়াজুড়ে পুঁজিবাদসাম্রাজ্যবাদ ও দালালদের স্বার্থের সংঘাতসংঘর্ষযুদ্ধ ও নির্যাতনে জর্জরিত লাখো কোটি মানুষ জীবন বাঁচাতে আজ এক দেশ থেকে আর এক দেশে অথবা দেশের ভেতরেই উদ্বাস্তু হয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। নিপীড়িত মানুষ মুক্তির পথ খুঁজছে। কিন্তু, সঠিক দিশার অভাবে যথাযথ সংগ্রাম গড়ে তুলতে পারছে না, নিজেকে মুক্ত করতে পারছে না। দিশাহীনতার এই সময়ে মুক্তির সঠিক দিশাটাই নিপীড়িত জনগণের জন্য সবচেয়ে বেশী দরকারি। একই সাথে দরকার ভুল পথগুলো চিহ্নিত করা। কারণ, ভুল পথে কখনোই মুক্তি আসে না। বরং শোষণনির্যাতনের পুরনো ব্যবস্থাই তাতে পুষ্ট হয়। অবরুদ্ধ হয় মুক্তির পথ। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আহ্‌নাফ আতিফ অনিক

শ্রদ্ধেয় বদরুদ্দীন উমর তার পুরো জীবনটাই ব্যয় করেছেন জনগণের পক্ষের রাজনীতিতে। তাত্ত্বিক ভ্রান্তি থাকলেও তিনি জীবনভর দৃঢ়ভাবে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী হিসেবে নিজেকে ধরে রাখতে পেরেছেন। দেশের বুদ্ধিজীবীদের একটা বড় অংশ যখন গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়েছেন, তখন তিনি স্রোতের বিপরীতেই থেকেছেন। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদসোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ বিরোধী লড়াইয়ে উমর ভাই যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই তার বক্তব্যকে সমালোচনা করতে গিয়ে কখনোই তাকে ব্যক্তিগতভাবে সমালোচনা করা কোনো মার্ক্সবাদী ব্যক্তির কাজ নয়। উমর ভাই কয়েকদিন আগে প্রথম আলোতে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তাতে তিনি সিপিবিকে বাকশালের গর্ভে জন্ম নেয়া পার্টি বলে উল্লেখ করেছেন। দেখা যাচ্ছে, তার এই বক্তব্যকে খণ্ডন না করে সিপিবিপন্থীরা উমর ভাইকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছেন। তারা বলছেন, উমর ভাই কি করেছেন? হ্যাঁ, এটা একটা প্রশ্ন বটে! কেউ নিজে কিছু না করলে কী জনগণের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া পার্টির সমালোচনা করা যাবে না? উল্লেখ্য, সিপিবির নেতারা তো দাবি করেন, তারা জনগণের অধিকার আদায়ে রাজনীতি করেন। দলটির দলিলেও এমনটা দাবি করা হয়। তবে তাদের সমালোচনা করলেই কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করাটা কিভাবে যৌক্তিক হতে পারে? সিপিবি নিয়ে উমর ভাইয়ের সমালোচনার মীমাংসা করতে হবে লাইনগত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এভাবে উমর ভাইকে আক্রমণ করা সিপিবিপন্থীদের আওয়ামী বামপন্থার শিক্ষা! (বিস্তারিত…)


১৪ মে ২০১৭

ল্যাম্পপোস্ট ও গণমুক্তির গানের দল যৌথ উদ্যোগে আজ ১৪ মে ২০১৭ (রবিবার), বিকাল ৫টা, জাতীয় জাদুঘর গেটএর সামনে, শাহবাগ, ঢাকাতে ভারতবর্ষে শ্রমিকশ্রেণীর মতাদর্শের উচ্চতর স্তর মাওবাদের প্রবক্তা, ভারতবর্ষে কমিউনিস্ট আন্দোলনের নেতৃত্বের কর্তৃত্ব অবিসংবাদিত নেতা মহান শিক্ষক কমরেড চারু মজুমদারের জন্মশতবর্ষ এবং মহান নকশালবাড়ি কৃষক অভ্যুত্থানের অর্ধশতবর্ষ উদযাপন করা হয়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অজয় রায়

‘‘দাদা গো, আমরার জীবন বাঁচাইবার শেষ অবলম্বনটাও ভাইস্যা গেলো”, হাওরের এক কৃষক যেমন জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে। আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের সাতটি জেলা – কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এ অঞ্চলের প্রধান ফসল বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। বিষক্রিয়ায় বহু মাছ ও হাঁস মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অধিবাসীদের জন্য ত্রাণ সহায়তার অপ্রতুলতা নিয়েও অভিযোগ উঠছে। যখন বহু মানুষ একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন, তাদের অনেকে পরিবার নিয়ে বিভিন্ন শহরে চলে যাচ্ছেন কাজের সন্ধানে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: হারুন উর রশীদ

%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%89%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%a6গতকাল (বৃহস্পতিবার) আমি আমার ফেসবুকএ একটি পোস্ট দেই। ছবিসহ সেই পোস্টটি হলো আমার মা রাজেশ্বরী….. আজ তার স্কুলে পার্টি!

এই পোস্টটিতে তৃতীয় যে কমেন্টটি আসে তা হলো আপনার মেয়ের নাম হিন্দু কেন?

আমি জবাবে বলি, রাজেশ্বরী তো বাংলা নাম। নামের আবার হিন্দু কী?

জবাবে তিনি বলেন, আমি এই প্রথম শুনলাম কোন মুসলামান শিশুর এই ধরণের নাম থাকে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

comando-operation-1গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফেতে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি আরো বেশ কিছুদিন বড় ইস্যু হিসেবেই সামনে থাকবে বলে মনে হচ্ছে। অন্তত এই মাপের বড় কোনো ইস্যু সামনে না আসা পর্যন্ত তা টিকে থাকবে। সেই সঙ্গে এটি এখানকার ভূরাজনীতির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলকও বটে। সবাই যার যার হিসেব কষছে। ওই সন্ত্রাসী হামলার পর কেউ বিদেশি শক্তির দ্বারস্থ হতে উপদেশ দিচ্ছেন, কেউ আবার নিরাপদ দূরত্বে থেকে দেখে যাচ্ছেন। সরকার এতে ‘দেশীয় জঙ্গি’ খুঁজে পাচ্ছে, ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ জামায়াতবিএনপি, বা আইএসআই খুঁজে যাচ্ছে। আর অতিউৎসাহীরা সবকিছুতেই লাফাচ্ছেন! (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: ফারুক আহমেদ

boishakhপহেলা বৈশাখ এবং এই জাতীয় সর্বজনীন উৎসব এলেই প্রধান প্রধান পত্রিকাগুলোতে, বৈদ্যুতিক মাধ্যমে, এসব আশ্রিত বুদ্ধিজীবীদের পক্ষ থেকে, শাসক শ্রেণিতো বটেই শাসক শ্রেণি আশ্রিত বাম নামধারীদের পক্ষ থেকেও তারস্বরে আওয়াজ উঠতে থাকে– ‘এই দিন পার্থক্য ভুলে যাওয়ার দিন, এই দিন বাঙালীর ঐক্যের দিন ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রশ্ন হলো কিসের পার্থক্য? কার সাথে কার ঐক্য? এ পার্থক্য যদি হয় শাসক শ্রেণির লুণ্ঠনের ভাগাভাগির বিরোধ এবং ঐক্য যদি হয় তাদের ঐক্য, তা হলে সেখানে বলবার কিছু থাকে না। কিন্তু যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তারা এই পার্থক্য বুঝায় না। বাঙালীত্বের বাগাড়ম্বরে তারা বুঝাতে চায় ধনীগরীবের পার্থক্য, শোষক আর শোষিতের পার্থক্য, জনগণ এবং দুর্বৃত্তের পার্থক্য। এই দিনে তারা এসব পার্থক্য ভুলিয়ে দেওয়ারই কথা বলে। এর মধ্যদিয়ে তারা যে জনগণের আনন্দ উৎসবের দিনগুলো শোষক, লুণ্ঠক এবং তাদের সেবাদাস দুর্বৃত্তদের দখলে নেওয়ারই মতলব করে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। (বিস্তারিত…)