সংকটকালে বিপ্লবী রাজনীতি প্রসঙ্গে

Posted: এপ্রিল 21, 2020 in মতাদর্শ
ট্যাগসমূহ:, , , , , ,

লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

কমিউনিস্ট পার্টি কোনো দাতব্য সংস্থা বা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট নয়। বিপ্লবী রাজনীতি আর চ্যারিটি এক নয়। অথচ ইদানিং দেখা যাচ্ছে, কেউ কেউ রাজনীতি আর চ্যারিটিকে গুলিয়ে ফেলছেন। বিপ্লবী রাজনৈতিক সংগঠনের প্রথম ও প্রধান কাজ হলো বিদ্যমান ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করা, জনগণের সামনে শোষকদের উন্মোচন করা, দাবি আদায়ে আন্দোলনসংগ্রাম পরিচালনা করা, গণঅধিকার কায়েম করা। কোনো দাতব্য সংস্থা নিশ্চয় এমনটা করবে না! দাতব্য কর্মসূচি রাজনীতির একটি অংশ মাত্র, সমগ্র নয়। সংকটকালে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে; কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন না হয়ে সেটা কেবল আংশিকভাবেই করা সম্ভব। ভিক্ষা দেওয়াতে কোনো দোষ নেই, যে কেউ তা করতে পারেন; কিন্তু ভিক্ষা কেন চাইতে হবে, একটা উন্নত সমাজে কেন ভিক্ষুক থাকবে?- এ প্রশ্ন তোলাটাই বিপ্লবী রাজনীতির কাজ।

কেউ কেউ বলছেন, বিপ্লবী রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই সংকটকালে এগিয়ে আসতে হবে, তাদের আত্মনিয়োগ করতে হবে। মার্ক্সবাদে আস্থাশীল যে কেউ বিনা বাক্য ব্যয়ে এ বক্তব্য মেনে নেবেন। তবে প্রশ্ন হলোবিপ্লবী রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড কি দাতব্য সংস্থার মতো হবে? মোটেও তা নয়। ত্রাণ দেওয়া, ধান কেটে দেওয়া, বা এমন গণমুখী কাজে আত্মনিয়োগ করাটা রাজনীতির একটা অংশ। এটা দিয়ে বিপ্লবীঅবিপ্লবী যেমন নির্ধারণ করা যায় না, তেমনি এর মধ্য দিয়ে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের অগ্রসরতাও নির্ধারিত হয় না! বরং জনগণের অধিকারের বার্তা জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়া, ক্ষমতা কাঠামোর গণবিরোধী অবস্থানকে উন্মোচন করার একটা মাধ্যম হতে পারে ওইসব দাতব্য কাজ। তবে এসব দাতব্য কাজকেই রাজনীতির ভিত্তি ধরে নিলে ক্ষমতা দখলের প্রশ্নটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যে অর্থনীতিবাদী চেতনা সুবিধাবাদীসংশোধনবাদী রাজনীতিকে ধারণ করে।

কেউ কেউ বলতে পারেন, সবকিছুতে রাজনীতি খোঁজাটা নাকি বিপ্লবীদের ‘গণবিচ্ছিন্ন’ করে দেয়! অথচ এর উল্টোটাই বাস্তবে দেখতে পাওয়া যায়। কোনো শ্রেণীবিভক্ত সমাজে মানুষ মাত্রই রাজনৈতিক; আর রাজনীতিকে সর্বব্যাপী ধারণ করতে না পারলেই বরং গণবিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। ব্যাপক নিপীড়িত জনগণের পক্ষে দাঁড়ানোর মানেই হলোশোষকশ্রেণীর বিরুদ্ধে শ্রেণীসংগ্রাম পরিচালনা করা। এর ধরন একেক জায়গায় একেক রকম হতে পারে। রণকৌশল ভিন্ন হতে পারে, রণনীতি অভিন্ন। পথ ভিন্ন হতে পারে, লক্ষ্য অভিন্ন। ‘পলিটিক্স ইন কমান্ড’ কথাটা ঊর্ধ্বে তুলে ধরে যে কোনো সামাজিক বা দাতব্য কাজ করলে, তা গুণগতভাবে যেমন ভিন্ন হবে, তেমনি গণভিত্তি তৈরিতেও তা অগ্রসর ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো রাজনৈতিক সংগঠন দাতব্য কাজকে প্রধানভাবে গ্রহণ করে নিলে বুঝতে হবেওই সংগঠন নামে রাজনৈতিক থাকলেও, কার্যক্ষেত্রে দাতব্য সংস্থায় পরিণত হয়েছে। এখানকার কিছু বামপন্থী দাবিদার রাজনৈতিক সংগঠনকেও এমন দাতব্য কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। কার্যত তারা গণক্ষমতা কায়েমের মূলনীতি থেকে সরে এসেই এমন কাজ করছে।

গণবিচ্ছিন্নতা’ প্রশ্নে আরও কিছু কথা বলা দরকার। বিপ্লবী রাজনৈতিক দল বা সংগঠনগুলো গ্রামে যাওয়ার কথা বলে গ্রামকে ভিত্তি করে রাজনীতি করার জন্য। সেখানে কমরেডরা যে কৃষকের বাড়িতে থাকেন, সেখানে ঘরের অন্য সদস্যদের চেয়েও বেশি কাজ করেন। একইভাবে যখন কোনো কমরেড শ্রমিক সংগঠন করেন, তখন শ্রমিক অঞ্চলে যাওয়াআসা করা বোঝায় না। বরং এর মানে হলোতিনি দিনের পর দিন ওই শ্রমিকদের সঙ্গে কাটিয়ে তাদেরই একজন হয়ে ওঠেন। ফসল কাটা বা ক্ষেতে কাজ করার মতো গ্রামীণ সমাজে একাত্ম হওয়ার কর্মসূচি বিপ্লবী সংগঠনগুলোর অবশ্যই থাকতে হবে। এর মধ্য দিয়ে শহরাঞ্চলের কমরেডরা গ্রামীণ কমরেড ও গ্রামীণ সমাজের সংস্পর্শে আসার সুযোগ ঘটবে, যা তাদের বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি। তবে এ কর্মসূচি কতটা বিস্তৃততা দিয়ে নিশ্চয় বিপ্লবীত্ব পরিমাপ করা যায় না! কার্যত বিপ্লবী রাজনীতিকে ভেতর থেকে বুঝতে পারলে এটা বোঝা যায়গণবিরোধী শাসকশ্রেণী ও সংশোধনবাদীরাই প্রকৃত অর্থে গণবিচ্ছিন্ন, যা তাদের কর্মকাণ্ডেই সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

দুই.

কেউ কেউ বলছেন, এখন নাকি সর্বদলীয় ঐক্য দরকার! কার্যত এটি ফ্যাসিবাদকেই শক্তিশালী করে। ফ্যাসিবাদের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তো আর ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম করা যায় না! আর ফ্যাসিবাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মানে তো এমনটাই দাঁড়ায়। হ্যাঁ, শর্তসাপেক্ষে ফ্যাসিবাদের সঙ্গেও ইস্যুভিত্তিক আলোচনা হতে পারতো, যদি বিদেশি শক্তির সরাসরি আগ্রাসন হতো। সংকট মানেই শাসকশ্রেণীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে এমন নয়। আর এমনটা মনে করার মানেই সুবিধাবাদ।

ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের নামে শাসকশ্রেণীর ক্ষমতা বঞ্চিত অংশকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার প্রবণতাও বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এমনকি বিপ্লবী রাজনীতির কোনো কোনো মিত্রদের মাঝেও। হয় তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে সরকার বদলের আন্দোলন ভাবছেন; নয়তো নিজের সঠিকতার ওপর, জনগণের ওপরই তারা আস্থা হারিয়ে ফেলছেন! চিহ্নিত গণবিরোধী, ফ্যাসিবাদী, স্বৈরতন্ত্রীদের সঙ্গে সর্বদলীয় অবস্থান নেওয়ার মানে হলোগণক্ষমতায়নের প্রশ্নে জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি।

তিন.

এক তীব্র গণনিপীড়ন আজ আমার দেশের মানুষ ভোগ করছে। অর্থনীতি, স্বাস্থ্য খাত, প্রশাসনসবখানে দুর্নীতি ও নিপীড়ণের আখড়া। অঘোষিত লকডাউন ভেঙে রাস্তায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হচ্ছে শ্রমিক, প্রতিদিন সকালে রাজপথ জুড়ে ত্রাণের জন্য হাজারো মানুষের জটলা, বিভিন্ন স্থানে অভুক্ত মানুষের রাস্তা অবরোধ, মাঠে পড়ে থাকা বৃদ্ধের লাশ, ক্ষুধার জ্বালায় আত্মহননএসব নিয়ে প্রশ্ন তোলা, শোষকলুটেরাদের জনগণের সামনে উন্মোচন করা, সংকট থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য পরিকল্পনা তুলে ধরা, জনগণকে দাবি আদায়ে উজ্জীবিত করাই হলো এ সময়ে বিপ্লবী রাজনৈতিক সংগঠনের প্রধান কাজ। দান করে আত্মতুষ্টি মেটানোর জন্য দাতব্য সংস্থা রয়েছে, যা কার্যত ওই রাজনৈতিক প্রশ্নকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই শাসকশ্রেণী কর্তৃক প্রণোদনা প্রাপ্ত। চলমান ফ্যাসিবাদের একের পর এক গণবিরোধী অবস্থানের বিপরীতে বিপ্লবী রাজনীতির শক্তিশালী প্রতিরোধ না থাকায় সমাজে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তার কারণেই বিভিন্ন ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠন চ্যারিটিতে নাম লেখাচ্ছে। তারা হয়তো এ সমাজের পরিবর্তন চান, ফ্যাসিবাদী শোষণের বিরুদ্ধে এক ধরনের অন্তর্দহনে ভোগেন; কিন্তু বিপ্লবী রাজনৈতিক সংগঠনগুলো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে না পারায় তাদের অনেকেই দাতব্য কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে খানিক আত্মতুষ্টি লাভ করেন মাত্র!

উল্লেখ্য, বিপ্লবী সংগঠনগুলোকে অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ করতে হবে, সমালোচনা করতে হবে; কারণ ওই সমালোচনাই বিকাশের শর্ত। তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে খারিজ করে দেওয়ার মানসিকতা ইতিবাচকতাকে প্রকাশ করে না। তাই এক বন্ধুর পরিবেশে শত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও যে সংগঠনগুলো বিপ্লবী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের ইতিবাচকতাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেই সমালোচনা করা দরকার। সমস্যার গভীরে গিয়ে তার সমাধানের খোঁজ করা দরকার। তবেই দ্বন্দ্বতত্ত্বের ভিত্তিতে আমরা অগ্রসরতাকে আলিঙ্গন করতে সক্ষম হবো।

চার.

করোনাভাইরাসের কারণে দেশে যে অঘোষিত লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এর ফলে অর্থনীতি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। জিডিপির নামে সিঙ্গাপুর হওয়ার গল্প গত কয়েকদিনে মিলিয়ে গেছে! রাতারাতি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় পাঁচ কোটি শ্রমজীবী মানুষ, যারা প্রতিদিনের কাজের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন। এখন তাদের একমাত্র ভরসা ত্রাণ, যা ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের বাড়িতেই বেশি মিলছে। সেই সঙ্গে ছোট দোকানদার ও চাকরীজীবীদের অবস্থাও সঙ্গীন। তাদের অনেকেই এখন জমানো টাকা থেকে খরচ করছেন। উল্লেখ্য, সরাসরি লকডাউন ঘোষণা করলে ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও ঘরবন্দি হয়ে পড়তো। তখন ত্রাণের সম্ভাব্য দায়িত্ব থাকতো সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে। ধারণা করা যায়, এতে এমন গণহারে চাল চোর গজিয়ে উঠতো না। ত্রাণ দিতে হলে আওয়ামী নেতাদের সহযোগিতায় দিতে হবেএমন ঘোষণাও কেউ দিতে পারতো না। সরকার যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তা কার্যত ঋণ প্যাকেজ। এর মাধ্যমে বড় শিল্পপতি ও কিছু উদ্যোক্তা উপকৃত হতে পারে, এসব ব্যাপক নিপীড়িত জনগণের কোনো কাজে লাগবে না।

এমন অবস্থায় যে কোনো সরকারের দায়িত্ব থাকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর। বিপ্লবী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সেই দাবিই জানানোর কথা, দাতব্য কাজ দিয়ে যা সম্ভব নয়। বিপ্লবীদের দাবিতে যে বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেতে পারে, তা হলো

১। দেশব্যাপী ব্যাপকহারে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সহজলভ্য স্ট্রিপ পরীক্ষা চালানো হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়া, বা সিঙ্গাপুরের শিক্ষা এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য।

২। স্বাস্থ্যসেবায় জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে ডায়নানিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। করোনাভাইরাসে কার্যকর ওষুধ উৎপাদনের দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। এ মহামারির সময়ে স্বাস্থ্যকর্মীরাই প্রধান যোদ্ধা; অথচ তাদের মাস্ক, গগলস, সুরক্ষা পোশাক (পিপিই) অপ্রতুল। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ডাক্তার, নার্স, অ্যাম্বুলেন্স চালকদের পিপিই প্রদান ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তার কাজে জড়িত রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক এবং জরুরি কাজে নিয়োজিতদেরও পিপিই প্রদান ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন হোটেলকে আইসোলেশন ও কুয়ার‍্যান্টিনের জন্য ব্যবহার করতে হবে।

৩। বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া সাধারণ জনগণসহ প্রত্যেক নাগরিকের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এজন্য ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নয়, দায়িত্ব দিতে হবে সেনাবাহিনীকে। শুধু শহরে নয়, গ্রামেও একইভাবে রেশনিং চালু করতে হবে।

৪। শ্রমিক ছাঁটাই কঠোরভাবে বন্ধ রাখতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের পাওনা মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।

৫। অপ্রাতিষ্ঠানিক ও ভ্রাম্যমান শ্রমিক, গৃহশ্রমিক এবং খুদে বিক্রেতাদের জন্য নগদ আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।

৬। জনগণকে প্রাধান্য দিয়ে অর্থনীতিকে সচল করার উদ্যোগ নিতে হবে। আইএমএফ, বিশ্ব ব্যংকের প্রেসক্রিপশন মেনে চলার সময় এটা নয়। তাই প্রয়োজনে টাকা ছাপিয়ে জনগণের কাছে নগদ অর্থ সরবরাহ করতে হবে।

৭। অঘোষিত লকডাউনে বাজার ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কৃষকের ক্ষেতের সবজি ও ফসল সংগ্রহের জন্য রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করতে হবে। এ কাজে আগ্রহী রাজনৈতিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে আনানেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সবজি ও ফসল শহরের বাজারে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

৮। দেশজুড়ে হাজারো গরুর খামার, ফিশারিস, হাঁসমুরগীর খামার, চিংড়ি ঘের, এমনকি কাঁকড়ার খামারও গড়ে উঠেছে। অনেক ছোট খামার বন্ধ হয়ে পড়ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তাদের সুদমুক্ত ঋণ দিতে হবে।

৯। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

১০। শিক্ষা খাতে যে ক্ষতি হচ্ছে, তা হয়তো এখন চোখে দেখা যাবে না; কিন্তু সামনের দিনগুলোতে তা আরও প্রকট হবে। এ অবস্থায় টেলিভিশন, রেডিও, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেটের মতো বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দূরশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

পাঁচ.

জনগণের ক্রান্তিকাল আজ হঠাৎ করেই উপস্থিত হয়েছেএমন নয়। কার্যত ২০১৪ সাল থেকে এখানে আসীন ফ্যাসিবাদের ভাইরাস। যার সংক্রমণে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, শিক্ষা, প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদএক কথায় গোটা দেশ ও জনগণ বিপর্যস্ত। করোনাভাইরাসের কারণে আজ মানুষ ঘরবন্দি; কিন্তু ফ্যাসিবাদের উত্থানের পর আমার দেশের মানুষ কি আদৌ কখনো বন্দিত্ব থেকে মুক্ত ছিল? যেখানে কেউ নিজের মতটুকু প্রকাশ করলেও কারাগারে ছুড়ে ফেলা হয়, সেটাকে নিশ্চয় স্বাধীনতা বলে না! এখন জনগণের সামনে উপস্থিত দুই ঘাতক ভাইরাসকরোনাভাইরাস ও ফ্যাসিবাদের ভাইরাস। তবে করোনাভাইরাস আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে, ফ্যাসিবাদের কথিত ‘উন্নয়নের গণতন্ত্র’, তাদের উন্নয়নের বয়ান কতোটা ফাঁপা। তারা যে মিথ্যাচার জনগণের সঙ্গে গত চার মাস ধরে করে আসছে যে, তাদের সব প্রস্তুতি নেওয়া আছেতা আজ জনগণের সামনে উন্মুক্ত। জিডিপি যে উন্নয়নকে নির্দেশ করে না, আজ তা বুঝতে জনগণকে অর্থনীতিবিদ হওয়ার প্রয়োজন নেই। জনগণ নিজের জীবন থেকেই তা বুঝতে সক্ষম। সাম্রাজ্যবাদী সংস্থা বিশ্ব ব্যাংকও জানিয়েছে, বাংলাদেশের ওই জিডিপি নেমে আসছে ২ শতাংশে।

আজ আমাদের যেমন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংগ্রাম করতে হবে, তেমনি ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস না করে, জনগণকে আরও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এ দুইয়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এক সূত্রে গাঁথা। একটিকে বাদ রেখে আরেকটিকে সংগ্রাম করা সম্ভব নয়। এ সময়ে সামাজিক দূরত্বের ভুয়া তত্ত্ব যারা ফেরি করছে, তারা কার্যত জনগণের বিচ্ছিন্নতাই চেয়েছে জীবনভর। তাই শাসকশ্রেণীর ভাষায় নয়, আমাদের কথাআমাদের ভাষায় জনগণের সামনে উপস্থাপন জরুরি

সামাজিক দূরত্ব নয়, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হোন।

করোনাভাইরাস সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলুন।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সামিল হোন।

জনগণের গণক্ষমতানয়াগণতন্ত্রের মিছিলে ঐক্যবদ্ধ হোন।

মন্তব্য
  1. ভালো। চর্চা অব্যাহত থাকুক। বিপ্লবী অবস্থা ত্বরান্বিত হোক…

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.