বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলার সংগ্রাম

Posted: মার্চ 30, 2020 in আন্তর্জাতিক
ট্যাগসমূহ:, , ,

লিখেছেন : অজয় রায়

কোভিড১৯ বিশ্বব্যাপী মহামারির আকার নিয়েছে। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে নভেল করোনাভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে এখন পর্যন্ত তা ২০৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।[] এই সংক্রমণে ২৯ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৭ লাখ ১৪ হাজার ৯৫০ জন। মারা গিয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৩৩ জন যার মধ্যে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দুই দেশ হলো ইতালি এবং স্পেন। চীন ও ইউরোপের পর এখন এই রোগের নতুন ভরকেন্দ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রএদিকে, ইরানে এই সংক্রমণ দ্রুত হারে বেড়ে চলেছেকিন্তু সেদেশের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। একইরকম চাপের মুখে রয়েছে ভেনেজুয়েলা।

বিশ্বব্যাপী কোভিড১৯ মহামারি বিশ্ববাসীকে কিছু শিক্ষা দিচ্ছে। যেমনবর্তমানে বিশ্বায়িত দুনিয়ায় আমরা জীবনে এতটাই পরস্পরের উপর নির্ভরশীল যে, কারো পক্ষেই বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো বাস করা সম্ভব নয়ফলে সমষ্টিগত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি কিন্তু পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় দেশে দেশে ধনিক শ্রেণীর সরকারগুলোর উদাসীনতা লক্ষণীয়। তারা সময় থাকতে প্রস্তুতি নেয়নি। তা ছাড়া দশকের পর দশক ধরে চলতে থাকা বেসরকারিকরণ ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের ফলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। নয়াউদারবাদী নীতিতে স্বাস্থ্য খাতেও কর্পোরেটদের মুনাফা লোটার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে যা বর্তমানে ব্যাপক স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যেই ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেপুঁজিবাদ মানবিক, সুস্থ সমাজ গড়তে সক্ষম নয়।

নয়াউদারবাদী পুঁজিবাদে কর্পোরেট কৃষি ও পশুপালন ব্যবসার আরও বিস্তার ঘটছে; আর সেই সঙ্গে অরণ্যের পণ্যায়ন, অরণ্য ধ্বংস ও নগরায়ন হচ্ছে দ্রুত হারে। যার থেকে ইবোলা, জিকা, সোয়াইন ফ্লু, কোভিড১৯ ইত্যাদি মারাত্মক সংক্রামক রোগের জীবাণুর আবির্ভাব হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ফলে এসব রোগের কাঠামোগত কারণফুলোকে মোকাবেলা করা জরুরিতা না হলে এরকম রোগের প্রকোপ চলার সম্ভাবনা রয়েছে।

লক্ষণীয় যে, নভেল করোনাভাইরাস ফুসফুসে আক্রমণ করে। এই রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট। এই জীবাণু প্রতিরোধে মাস্ক পরা, ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলা উচিত। কোভিড১৯ এর কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। এই রোগ প্রতিরোধের জন্য গৃহবন্দি থাকা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করায় জোর দেওয়া হচ্ছেতবে সেই সঙ্গে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত দরকারএ ক্ষেত্রে ঘাটতি পূরণ করতে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সম্প্রসারণ করাও জরুরিস্পেনের সরকার যেমন সব বেসরকারি হাসপাতালকে অধিগ্রহণ করেছে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য

এদিকে, কোভিড১৯ মহামারির জের ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিমধ্যেই মন্দা দেখা দিয়েছে। শ্রমজীবী জনসাধারণের ওপর ভয়ঙ্কর আক্রমণ নেমে আসছে। কর্মঘন্টা কমছে। আয় কমে যাচ্ছেকর্মী ছাঁটাই চলছে। বেকারত্ব ও দারিদ্র বাড়ছে। মহামারি মোকাবেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলছে কার্যত লকডাউন ১০ দিনের অঘোষিত লকডাউন যেমন বাংলাদেশে। আর ভারতে ২১ দিনের লকডাউন চলছে। এর মধ্যেই মজুতদারি ও কালোবাজারি হচ্ছে। চলছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি।

লকডাউন বা অবরুদ্ধ পরিস্থিতি চলায় অনেক জায়গাতেই জীবিকার সংকটের সঙ্গে খাদ্য সংকটও তীব্র হচ্ছে। সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মেহনতি জনসাধারণের স্বার্থে ভর্তুকি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের জোগান এবং শ্রমিককর্মচারীদের সবেতন ছুটি দেওয়া জরুরি। এ সংক্রান্ত দাবিতে বিশ্বের নানা প্রান্তে শ্রমজীবী জনগণ সোচ্চার হচ্ছেন। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা আর সেই সঙ্গে জনসাধারণ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার দাবিও উঠছে।।

৩০/০৩/২০২০

তথ্যসূত্র

[] COVID-19 CORONAVIRUS PANDEMIC; Last updated: March 29, 2020, 19:51 GMT

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.