মণিপুরের স্বাধীনতার প্রশ্ন

Posted: নভেম্বর 8, 2019 in আন্তর্জাতিক, মতাদর্শ
ট্যাগসমূহ:, , , , ,

লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট মণিপুরের মহারাজা বোধ চন্দ্র আর ইংরেজ সরকারের গভর্নর জেনারেল লুই মাউন্টব্যাটনের মধ্যে এক চুক্তির মধ্য দিয়ে মণিপুর রাজ্যকে ডোমিনিয়ান বা স্বায়ত্বশাসনের মর্যাদা দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট মণিপুর একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষিত হয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা ভারতপাকিস্তানের শাসক শ্রেণীর হাতে ক্ষমতা তুলে দিলেও কোনো কোনো ভূখণ্ড তখনো ভারতপাকিস্তানের সঙ্গে না গিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের একটি মণিপুর। ১৯৪৮ সালে গণভোটের মাধ্যমে মণিপুরের জনগণ রাজাকে সাংবিধানিক প্রধান নির্বাচিত করে, রাজার অধীনে একটি সরকার শপথ গ্রহণও করে।

১৯৪৯ সালের ১৫ অক্টোবর মহারাজা বোধ চন্দ্রের সঙ্গে ভারত সরকারের এক চুক্তির মাধ্যমে মণিপুর ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। এই চুক্তিটি ছিল মণিপুরের পরাধীনতার চুক্তি। এ চুক্তি মতে, মণিপুরের মর্যাদা হয় ভারতের এক প্রান্তিক তৃতীয় শ্রেণীর রাজ্য হিসেবে। এই চুক্তির ক্ষেত্রে মহারাজাকে জোরপূর্বক রাজি করানো হয়েছিল, যা রাজার বিশ্বস্তদের মাধ্যমেই করা হয়। ছলেবলেকৌশলে রাজাকে ভারত সরকারের অনুকূলে এনে মণিপুরের দখলীকরণ ছিল ভারত রাষ্ট্রের সম্প্রসারণবাদী চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ। সেই সাথে শুরু হয় মণিপুরে সম্প্রসারণবাদী ভারতের গণনিপীড়নের ইতিহাস।

১৯৪৯ সালে ভারতের মণিপুর দখলের পর থেকেই মুক্তিকামী জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, যা ১৯৬৪ সালে সশস্ত্র সংগ্রামে রূপ নেয়। মণিপুরে বর্তমানে প্রায় ৩৫টি সংগঠন সশস্ত্র তৎপরতায় জড়িত রয়েছে। যার মধ্যে ইউএনএলএফ, পিআরইপিএকে, পিএলএ, এনএসসিএন (আইএম), এনএসসিএন (কে), রেভলিউশনারি পিপলস্ ফ্রন্ট (আরপিএফ), কাংলাই যাগল কান্না লুপ (কেওয়াইকেএল), কুকি ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (কেএনও), কুকি ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ), কুকি লিবারেশন অর্গানাইজেশন (কেএলও), কুকি লিবারেশন আর্মি (কেএলএ), জাউমি রেভলিউশনারি আর্মি (জেডআরএ), হমার পিপলস্ কনভেনশন/ডেমোক্রেটিক (এইচপিসিডি), কাংলৈপক কমিউনিস্ট পার্টি (কেসিপি), মাওয়িস্ট কমিউনিস্ট পার্টি অফ মণিপুর (এমএলএম) রয়েছে।

ভারত রাষ্ট্রটি একটি ঘোষিত ইউনিয়ন। অথচ জন্মলগ্ন থেকেই এটি সম্প্রসারণবাদী নীতি পরিচালিতকার্যত একটি দখলদার রাষ্ট্র। অন্য অনেক দখলীকৃত অঞ্চলের মতো মণিপুরেও অঘোষিতভাবে সামরিক আইন বলবৎ রয়েছে। এই অঞ্চলে বিদেশিদের প্রবেশাধিকারও সীমিত। যা প্রবেশাধিকার রয়েছে, তাতেও রয়েছে কড়া নজরদারী। মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুদূর পরাহত। ভারতীয় আর্মি ও নিরাপত্তারক্ষীরা মণিপুরে কায়েম করেছে এক সন্ত্রাসের রাজত্ব। বিদ্রোহীদের সমূলে বিনাশের জন্য মণিপুরে পাঠানো হয়েছে সেনাবাহিনী। ওই বাহিনী বিদ্রোহীদের নামে যে কাউকে আটক, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ করে চলেছে দেরারসে।

১৯৮০ সালে মণিপুরের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী দোরোন্দ্রো সিং আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির দোহায় দিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব সেনাবাহিনীর হাতে সমর্পণ করেন। যা ছিল পুরো উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে কাশ্মীরের মতো সামরিকায়নের ভারতীয় সম্প্রসারণবাদী চক্রান্ত। আর এর মাধ্যমে বিদ্রোহ দমনের নামে রাষ্ট্রের সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা প্রদান করা হয়। আর্মড ফোর্সেস (স্পেশ্যাল পাওয়ারস) অ্যাক্ট (আফসপা) হলো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সেই রক্ষাকবচ। সন্ত্রাস বিরোধী আইনের নামে সেখানে বলবৎ রয়েছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে বৈধতা দেওয়া সন্ত্রাসবাদী আইন।

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোআসাম, মণিপুর, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ ও মিজোরামএছাড়াও কাশ্মীর ও মাওবাদীদের সংগ্রামী অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অফিসার ও জওয়ানরা আফসপা নামক এই আইনবলে বিশেষ ক্ষমতা ভোগ করে, অথবা অন্য কথায় বলা যায়এই আইনবলে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

কোনো রাজ্যে বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে উল্লিখিত রাজ্যের রাজ্যপাল বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রশাসক, কিংবা কোনো কেন্দ্র সরকারের প্রতিনিধি যদি মনে করে যে উক্ত রাজ্য বা অঞ্চলের সমগ্র বা কোন অংশকে উপদ্রুত বা বিপজ্জনক ঘোষণা করে স্থানীয় সরকারকে সহায়তার করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে ডাকা আবশ্যক, সেটা তারা ডাকতে পারবে; আর সেক্ষেত্রে রাজ্যপাল, প্রশাসক বা কেন্দ্রীয় সরকার, যেখানে যেমন প্রযুক্ত, সরকারি সমগ্র বা তার এক অংশকে ‘উপদ্রুত অঞ্চল’ ঘোষণা করতে পারবে।

এই আইনবলে কমিশনড, ননকমিশনড, ওয়ারেন্ট অফিসার বা সামরিক বাহিনীর সমপদমর্যাদার কোনো অফিসার তথাকথিত উপদ্রুত অঞ্চলে কোনো দুষ্কৃতিকারীকে দেখতে পেলে বা পাঁচজনের অধিক লোকের কোনো জটলাঅস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বা আঘাত হানার মতো প্রাণান্তকর হাতিয়ার, বিস্ফোরকসহ লোকজনকে দেখে, আপন বিবেচনামতো, বিপজ্জনক মনে করলে যথাযথ হুঁশিয়ারি দিয়ে ওই সন্দেহভাজন দুষ্কৃতিকারীদের লক্ষ্য করে প্রাণহানির সম্ভাবনা সত্ত্বেও নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করতে পারবে।

এই আইনে যে ‘বিশেষ ক্ষমতা’ প্রদত্ত হয়েছে তারই বলে কারও উপর সংঘটিত কোনো অত্যাচারঅবিচারের বিরুদ্ধে কোনো ভুক্তভোগী/আসামি কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে কোনো ন্যায়ালয়ে বা কারও কাছে নালিশ জানাতে পারবে না বা কোনো আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না।

উক্ত আইনের বয়ান থেকে আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারি যে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী পাঁচ বা ততোধিক লোকের জটলা দেখে, নিজ বিবেচনা মতো, তাদের বিপজ্জনক মনে হলে, নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করতে পারবে। কোনো স্থাপনা বা বাড়ীঘর বিদ্রোহীদের সাথে সম্পর্কিত মনে হলে, তা গুড়িয়ে দিতে পারবে। যে কাউকে সন্দেহভাজন মনে হলে, নিজ বিবেচনায় জেলজুলুম করতে পারবে। রাস্তায় যে কারো যে কোনো মালামাল নিজ বিবেচনায় লণ্ডভণ্ড করতে পারবে। আর এই হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, রাহাজানির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী কোনো আদালতে নালিশও করতে পারবেন না। এই হলো বিশ্বের ‘সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক’ রাষ্ট্রের ‘গণতান্ত্রিক’ আইন!

এখানে নারী নির্যাতন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। ২০০৩ সালের ৪ অক্টোবর নান্দৈবম সঞ্জিতার উপর গ্রেনাডিয়ার রাইফেলসের জওয়ানরা নির্যাতন চালায়। ২০০৪ সালের ১১১২ জুলাই মধ্যরাতে থাঙজম মনোরমাকে ১৭নং আসাম রাইফেলসের জওয়ানরা ধর্ষণ করে এবং বীভৎস কায়দায় হত্যা করে। জওয়ানরা মনোরমার বাড়ির দরজা ভেঙে তার মা ও দুই ভাইকে আহত করে, মনোরমাকে বিছানা থেকে টেনে বারান্দায় নিয়ে চোখ বেঁধে তার উপর নিপীড়ন চলতে থাকে কয়েক ঘন্টা যাবৎ। তার সারা শরীরে বেয়োনেট ও ছুরি চালানো হয়, এক সময় তাকে হত্যা করার পর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীরা চলে যায়। তাদের অভিযোগ ছিল মনোরমা বিদ্রোহী গোষ্ঠির সঙ্গে জড়িত!

এমন নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনগণের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়, প্রতিবাদ উঠে সর্বত্র। কাংলা দুর্গের সিংহদ্বারে ১২ জন ‘মৈরা পাইবি’ আন্দোলনকারী নারী বিবস্ত্র হয়ে প্রতিবাদ জানান। সাদা ব্যানারে তারা নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেনযাতে লেখা ছিল– ‘ইন্ডিয়ান আর্মি, কাম এন্ড রেইপ আস’ (এসো ভারতীয় সেনাবাহিনী, আমাদের ধর্ষণ করো!)। প্রতিবাদী নারীরা চিৎকার করে বলেছেন– “ইন্ডিয়ান আর্মি, রেইপ মি! উই আর অল মনোরমা’স মাদারস।” (ইন্ডিয়ান আর্মি, আমাকে ধর্ষণ কর। আমরা সবাই মনোরমার মা)। এখানেই শেষ নয়। ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত মণিপুরে কয়েক হাজার নারী রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এর বেশিরভাগই রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের চাপে থেকে গেছে অপ্রকাশিত।

দুই.

এমন একটি দখলীকৃত অঞ্চলে হিন্দুত্ব ফ্যাসিস্টরা ক্ষমতায় এসেই তাদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা ধ্বংসের চেষ্টা চালাতে থাকে। মন্দির নির্মাণ চলতে থাকে। চলতে থাকে হিন্দিহিন্দুহিন্দুস্তানের নামে সব কেন্দ্রের অধীনে নেওয়ার পায়তারা। আর এমন দখলদারিত্বের মাঝে ওই অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতার অধিকারের প্রশ্নটি নিশ্চিতভাবেই সামনে আসবে। আর এটা মার্ক্সবাদীদের সামনে নীতিগত প্রশ্ন। যেখানে ভারতের দখলদারিত্ব থেকে জাতিসত্তাসমূহের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়াটা মৌলিক অবস্থান।

সম্প্রতি মণিপুরের দুই নেতা লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা প্রবাসী সরকার গঠনের দাবিও করেছেন। লন্ডনের প্রবাসী সরকারের নাম দেওয়া হয়েছে মনিপুর স্টেট কাউন্সিল। তারা জানান, কাউন্সিলের প্রধান করা হয়েছে ইয়ামবিন বিরেনকে। আর পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন নরেংবাম সমরজিত। এই দুই নেতাই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনার পর থেকেই আগ্রহীরা বিভিন্নভাবে মতামত উপস্থাপন করছেন। ভারতের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ ও ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ করার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত ক্ষমতাসীন ভারতপন্থীরা ছাড়া মণিপুরের অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নরেংবাম সমরজিত সম্পর্কে যেটুকু জানা যায়, তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মণিপুর ও ভারতের পার্লামেন্ট নির্বাচনেও তার রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। বিভিন্ন সামাজিক কাজেও যুক্ত ছিলেন। তবে তার সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো মূল্যায়ন এখনো পাওয়া যায়নি। স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এটা কারা করেছে, এটাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই স্বাধীনতা জনগণই অর্জন করতে পারে। ব্যাপক নিপীড়িত জনগণই এর ভিত্তি।

তাহলে এমন পরিস্থিতিতে পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে এখানকার মার্ক্সবাদীদের অবস্থান কী হতে পারে?

অবশ্যই এ বিষয়টির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও তাত্ত্বিক মতাদর্শের ভিত্তিতে বিশ্লেষণের মাধ্যমে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ সম্ভব। বিচ্ছিন্নতার অধিকারসহ আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রশ্নটি মাথায় রেখেই সেই বিশ্লেষণ করতে হবে। আর সেক্ষেত্রে ভণ্ডামোর ভিত্তিতে গঠিত সম্প্রসারণবাদী ভারতীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াতথা ব্যাপক নিপীড়িত জনগণ ও নিপীড়িত জাতিসত্তার পক্ষে অবস্থান নেওয়াটা মার্ক্সবাদীদের নীতিগত কর্তব্য। এ অবস্থান থেকেই আমরা কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে, মণিপুরের স্বাধীনতার পক্ষে, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, গোর্খাল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে।

দুনিয়ার মজদুর, নিপীড়িত জাতিজনগণ এক হও!

সাম্রাজ্যবাদসম্প্রসারণবাদফ্যাসিবাদ নিপাত যাক!

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.