ব্রেক্সিট ইস্যু :: নয়া-উদারবাদী ইইউ বিরোধী লড়াই চলছে

Posted: নভেম্বর 8, 2019 in আন্তর্জাতিক
ট্যাগসমূহ:, , , ,

লিখেছেন : অজয় রায়

ব্রেক্সিট (ব্রিটেন এক্সিট), অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ার জন্য সময় বেড়েছে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি অবধি।[] ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭ সদস‌্য রাষ্ট্র তাতে রাজি হয়েছে। ইইউ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ডোনাল্ড টাস্ক সম্প্রতি জানান, যুক্তরাজ্যকে ‘ফ্লেক্সিবল এক্সটেনশন’এর সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদন হয়ে গেলে যুক্তরাজ্য এই সময়সীমার আগেও ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। এদিকে, গত ২৯ অক্টোবর ব্রিটেনের পার্লামেন্ট আগামী ১২ ডিসেম্বর আগাম সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে ভোট দিয়েছে।[]

লক্ষণীয় যে, ব্রেক্সিট সংক্রান্ত গণভোটের প্রায় সাড়ে তিন বছর পরও এ ব্যাপারে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এর জন্য পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ৩১ অক্টোবর ইইউ ত্যাগ করার কথা ছিল ব্রিটেনের। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও প্রস্তাব পাশ করিয়ে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেন পার্লামেন্ট সদস্যরা। ফলে গত সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ সংসদে পাস হওয়া ‘বেন অ্যাক্ট’ অনুসারে, ইইউর কাছে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের মেয়াদ পেছানোর অনুরোধ করে চিঠি লিখতে বাধ্য হন কনজারভেটিভ দলের প্রধানমন্ত্রী জনসন। তৃতীয়বার ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়ানোর এই অনুরোধে সম্মতি দিয়েছে ইইউ। তবে সেই সঙ্গে তারা কিছু শর্ত জুড়েছে। যেমন তিন মাসের মেয়াদে ব্রেক্সিট চুক্তি সম্পর্কে কোনো আলোচনা হবে না।

প্রসঙ্গত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে ব্রিটেনেও বেকারত্ব এবং বৈষম্য বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ইইউর নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংকটের বোঝা চাপানো হয় জনসাধারণের ঘাড়ে। সরকারি ব্যয় সংকোচনের নীতি বাস্তবায়ন করা চলতে থাকে। যার বিরুদ্ধে মেহনতি মানুষের প্রতিবাদের আগুন প্রতিফলিত হয় ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট সংক্রান্ত গণভোটের ফলাফলে।

আন্তর্জাতিক লগ্নি পুঁজির আধিপত্য কায়েম করার মাধ্যম ইইউ নামক এই সাম্রাজ্যবাদী প্রতিষ্ঠানটি শাসকশ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করে, গণবিরোধী নয়াউদারবাদী নীতি চাপিয়ে দেয়। আর জাতিরাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাত নামিয়ে আনে।

ফলে জনঅসন্তোষ বেড়ে চলেছে। আর তার সুযোগ নিতে চাইছে প্রতিক্রিয়াশীল ডানপন্থী অংশ। তারা জাতিবিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতায় উসকানি দিচ্ছে। অভিবাসী ও সংখ্যালঘুদের নিশানা করছে। মানুষের নজর ঘুরিয়ে দিয়ে এভাবে প্রভাব বাড়াতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে চরম ডানপন্থী ও নব্যফ্যাসিবাদী শক্তি।

এদিকে, বরিস জনসন সরকারের ব্রেক্সিট পরিকল্পনা ইইউর দাবিদাওয়া মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণের থেকে কম কিছু না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। এর ফলে ব্রিটেনে মেহনতি মানুষের অধিকার ও পরিবেশ রক্ষা সংক্রান্ত বিধিব্যবস্থাকে আরও শিথিল করা হবে। অপরদিকে, ব্রিটেনের বিরোধী দলনেতা, লেবার পার্টির জেরেমি করবিন ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্তরাজ্যের থাকার পক্ষে সওয়াল করছেন। যখন দ্বিতীয় গণভোটের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকেসোস্যাল ডেমোক্র্যাট এবং বামপন্থীদের একাংশ ব্রেক্সিট বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। সেদেশের বামপন্থীদের একাংশ ও কমিউনিস্টরা সমাজতান্ত্রিক আন্তর্জাতিকতাবাদী অবস্থান থেকেই ইইউর বিরোধিতা করছেন। তারা জনগণের ব্রেক্সিট চান। ইইউ এমন একটি আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, যা সংস্কারযোগ্য নয়। ইইউর বিধিনিষেধের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হলে তবেই জনমুখী বিকল্প কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা। যখন সামাজিক খাতে সরকারি ব্যয়বৃদ্ধি এবং সেই সঙ্গে শিল্পায়ন আর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাবে। রাষ্ট্রায়ত্তকরণের পথও তৈরি হবে। বর্তমানে ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনে শাসকশ্রেণীর মধ্যেও বিভাজন রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চলমান শ্রেণী সংগ্রাম ও গণসংগ্রামকে শক্তিশালী করতে চাইছেন সেদেশের মার্ক্সবাদী বিপ্লবীরা।।

তথ্যসূত্র

[] ‘‘British lawmakers vote for Dec. 12 election after parliament vote’’, October 30, 2019, Xinhua

[] Ibid

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.