আমাজনের অরণ্যে দাবানলের দংশন :: জ্বলছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’

Posted: অক্টোবর 2, 2019 in আন্তর্জাতিক, প্রকৃতি-পরিবেশ
ট্যাগসমূহ:, , , , , ,

লিখেছেন: অজয় রায়

দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অরণ্য পুড়ছে। বিশেষত, ব্রাজিলে এই দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ বছরের প্রথম আট মাসে আমাজনে ৭২ হাজার বারেরও বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যা গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ৮৪ শতাংশ বেশি। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাইনপে এই তথ্য জানিয়েছে।[] আগুনের ঘটনা ঘটেছে ভেনেজুয়েলা এবং বলিভিয়ায়ও। এর মধ্যেই জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত মাসের শেষ সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি জাইর বলসোনারো বলেন, আমাজন অরণ্যাঞ্চলকে পৃথিবীর ফুসফুস দাবি করা ভুল ধারণা। কিন্তু এই বক্তব্যের পক্ষে তিনি কোনো যুক্তি দেননি। এদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলার প্রশ্নে ‘বিশ্ব নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা এবং সেই সঙ্গে বলসোনারোর মার্কিন সফরের প্রতিবাদে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বিক্ষোভ করেছেন শুধু নিউইয়র্ক শহরেই।[] বিশ্বের নানা প্রান্তে লাখ লাখ মানুষ এ নিয়ে পথে নেমেছেন।

ব্রাজিলের নব্যফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রপতি বলসোনারোর সরকার গণবিরোধী নয়াউদারবাদী নীতি নিয়ে চলেছে। ঢালাও বেসরকারিকরণ করছে। যাতে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। বৃষ্টিচ্ছায় অরণ্য আমাজনে কৃষিকাজ, পশুচারণ ও খনিজ শিল্পে জোর দেওয়া হচ্ছে। আর জঙ্গল কেটে সাফ করা হচ্ছে। ফলে দাবানলের ঘটনা বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক সমীক্ষায় প্রকাশ, প্রতি মিনিটে একটি ফুটবল মাঠের মাপের অরণ্য কেটে ফেলা হচ্ছে আমাজনে। এই বছরে আমাজনে দাবানল সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করার জন্য ইনপের পরিচালককে বরখাস্ত করেছেন বলসোনারো। আমাজন অরণ্যাঞ্চলে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, হাইওয়ে এবং সেতু নির্মাণের তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটির সরকার। উন্নয়নের অছিলায় পরিবেশবিধি শিথিল করছে। এদিকে, নদীর জলও দূষিত হচ্ছে।

তবে এর বিরুদ্ধে দেশেবিদেশে বিক্ষোভ হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলেরও চাপ রয়েছে। ব্রাজিল সরকার গোড়া থেকেই গড়িমসি করছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য জঙ্গলের আগুন নেভাতে সেনা পাঠাতে বাধ্য হয়েছে। তবে বাগে আসেনি সেখানকার দাবানল। বরং বলিভিয়ায় অরণ্যের অগ্নি নির্বাপনের ক্ষেত্রে সাফল্য মিলেছে। সেখানে দাবানলের হাত থেকে রক্ষা করতে পশুপাখিদের জন্য অভয়ারণ্য তৈরি করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিশ্বের বৃহত্তম অরণ্য আমাজন। যেখানে বিশ্বের বায়ুমণ্ডলের ২০ শতাংশ অক্সিজেন উৎপন্ন হয়। বিশাল পরিমাণে কার্বন শোষণ করে এই বন। যা ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত। আর বিশ্বের উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণ করে। সেখানে ৩০ লাখ প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ রয়েছে। সেই সঙ্গে বসবাস করেন ১০ লক্ষাধিক আদিবাসী মানুষ। যাদের উচ্ছেদ করতে তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার। এর মধ্যেও অবশ্য প্রতিবাদআন্দোলন চলছে।[]

ব্রাজিল, কলম্বিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, সুরিনাম, গায়ানা, ফরাসি গায়ানা এবং ভেনেজুয়েলায় ছড়িয়ে রয়েছে আমাজন জঙ্গল। তবে এই চিরহরিৎ অরণ্যের ৬০ শতাংশই ব্রাজিলে অবস্থিত।[] প্রতিবছরই দাবানলের ঘটনা ঘটে আমাজনে। তবে চলতি বছরে সেখানে রেকর্ড সংখ্যক অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। আর ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাজনের ধোঁয়া ঢেকে দিয়েছে বহু অঞ্চল।

আমাজনের জঙ্গল ধ্বংস হলে শুধু দক্ষিণ আমেরিকারই নয়, বিশ্বের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। অসাধারণ সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র ধ্বংস হবে। তাই অবিলম্বে দাবানল নেভানো দরকার। ধ্বংস হয়ে যাওয়া বনাঞ্চল আবার গড়ে তোলার বিষয়টির ওপরেও জোর দিচ্ছেন পরিবেশবিদরা।

তথ্যসূত্র

[] 2,000 New Fires in Amazon Despite Brazil’s Burning Ban”, September 3, 2019, Telesur

[] Carla Bleiker, “In New York, global climate protesters plead for action”, September 23, 2019, Deutsche Welle

[] Amazon wildfires spark global concern over climate change, biodiversity”, August 23, 2019, Xinhua

[] Ibid

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.