প্রবাসে বইমেলা, শেকড়ের সন্ধান

Posted: ফেব্রুয়ারি 28, 2018 in সাহিত্য-সংস্কৃতি
ট্যাগসমূহ:, , , , ,

লিখেছেন: স্বপন মাঝি

প্রবাসে যারা থাকেন, তারা দেশকে কিছুটা হলেও সঙ্গে করে বয়ে নিয়ে যান। এই বয়ে নিয়ে চলা কেবল পরনেচলনেবলনে নয়, আহারেও নয় কেবল, তারও অধিক, অন্যকিছু। বলা চলে বিদেশের মাটিতে স্বদেশের বীজ বপন। ফলন কেমন হবে, এ নিয়ে তাদের ভাবনা তেমন নেই। ভেতর থেকে উঠে একটা অনুভব, তারিয়ে তারিয়ে নিয়ে যায় ফেলে আসা নিজ বাসভূমিতে। প্রবাসে থেকেও সুযোগ পেলেই, তাই লাউ, শিম, শাক, কী নেই তালিকায়, চাষ করে, বাড়ীর পেছনে; অথবা টবে।

এখানেই কী তার শেষ? কর্ম্ম ব্যস্ততার মাঝেও চলে তাই শেকড়ের সন্ধান। যদিও শেকড় সন্ধানের নামে বলিউডিটালিউডিঢালিউডি নর্তন কুর্দনের আর আকাশ ফাটানো গানের সাথে চলছে রঙবেরঙের আলোর নাচন। অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য্য বলে আর কিছু নেই। ভাব আসবে কোথা থেকে? অথচ ভাবের ঘোরেই ছিল বাঙালীর জীবন। যে নিত্য অনিশ্চয়তা, তাকে ভাবুক করে তুলেছিল, প্রবাসে এসে সেই ভাবের ঘোর থেকে বেরিয়ে এসেছে বাঙালী, সন্দেহ নেই। তবুও কেউ কেউ, অতীতের সাথে আত্মবিচ্ছেদটাকে মেনে নিতে পারেন না। এর মানে এই নয়, আবার অতীতে ফিরে চলা। অতীতের সাথে আত্মার যোগ রেখেই, বর্ত্তমানের বৃত্ত ভেঙে, ভবিষ্যৎ নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখা যেতে পারে। অনেক অনুষ্ঠানের ভীড়ে, এই প্রথম সাউথ ফ্লোরিডায়, এই কাজটাই করে বসেছে ঢাকা ক্লাব।

মানবিক গুণের বিকাশের স্বার্থেই দরকার মননের চর্চ্চা। এই চর্চ্চার পথে, বই পড়া খুব দরকারী ব্রহ্মাস্ত্র। এই অস্ত্রের যথাযথ প্রয়োগ আমাদের বাঙালী জীবনে কতটা আবশ্যক, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এবারের একুশ উদযাপন করতে গিয়ে তাই গত ২৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়, বয়নটন বিচে ঢাকা ক্লাব আয়োজন করল বইমেলার। বইকেনার পাশাপাশি ছিল খাবারের দোকান। রসেবশে থাকা বাঙালীর জন্য ছিল বাড়তি আয়োজনগান এবং নাটিকা।

কর্তৃপক্ষ এই সুবাদে, প্রবাসে, যারা লেখালেখির চেষ্টা করে যাচ্ছেন, তাদের সাথে পাঠকদর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করলেন না।

প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত গান, ‘আমি বাংলায় গান গাই’পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আমরা অনুষ্ঠানের আয়োজকদের আকাঙ্খার পরিচয় পরিচয় পেয়ে যাই। তারা আরও কিছু গান নির্ব্বাচনের মধ্য দিয়েই জানিয়ে দিয়েছিল, তাদের অভিপ্রায়কেবল বিনোদন নয়, শেকড়ের সন্ধান।

সেই শেকড়ের কথা বলতে গিয়ে, সালমা মিনু, তার নাটিকায়, ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’গানটিকে স্থান দিয়ে, একটা বার্তা শ্রোতা দর্শকদের কাছে দিতে চেয়েছেন, সন্দেহ নেই।

কেয়া রোজারী, তার উপস্থাপনায় স্থানীয় লেখক, যারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন লেখালেখি করার, পরিচয় করিয়ে দিলেন তাদের বইগুলোর সাথে। এক একজনের কর্ম্ম নিয়ে আলোকপাত করলেন। পাঠকগণ কতটা আলোকিত হলো, জানা না গেলেও, অনুমান করা যায়, প্রভাব তো পড়বেই। বীজ বপন করা হলে, তার ফল আজ হোক, আর কাল, কিছুটা হলেও ফলে।

মিনাঞ্জলীর স্টলে কিছুটা দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল আমাকে। বই বিক্রি হবে না, আগাম রায় ঘোষণা করে দিয়ে ফজলু ভাই, মিনু এবং রুমানার সাথে আমি ঠাট্টায় মেতে উঠেছিলাম। কিন্তু বই বিক্রি হল, তাই দেখে, আমি অবাট্যাঁ। আরও মজার ব্যাপার অধিকাংশই ছিল প্রবন্ধের বই।

নানা সীমাবদ্ধতা থাকার পরও যারা, এখনও লেখার জগতটাকে ষ্পর্শ করতে চাচ্ছেন, আমি বলব নালেখক, বলব, কিছু একটা বলার ব্রত নিয়েই পথে নেমে আসা। খ্যাতির কাঙ্গাল নয়, লেখা হয়ে উঠুক, এই আকাঙ্খা বুকে ধারণ করে পথ চলা, কচু কাটতে কাটতে ডাকাত, লিখতে লিখতে লেখক হয়ে উঠার পথেসুলতান সালাউদ্দীন, কেয়া রোজারীও, জাহানারা খান বীণা, জুনায়েদ আকতার, সালমা মিনু, জাকিয়া সীমু, সামিরা আব্বাসী, রোকসানা এনি, সোহেলী সুলতান্‌, মাসুদ ডি হায়দার, রুমানা আলী টুসী ও স্বপন মাঝিআপনারা থেমে যাবেন না। প্রবাসে এত এত ব্যস্ততার মাঝেও আপনারা থেমে যাননি, অভিনন্দন জানাচ্ছি আপনাদের। আর এ রকম একটি ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের জন্য অবশ্যই ঢাকা ক্লাবের কুলাচারী কর্ম্মীদের অভিনন্দন।।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.