মোদি সরকারের ৩ বছর: দেশ বেচা, দাঙ্গাবাজি রুখতে জনগণের লড়াই

Posted: জুলাই 20, 2017 in আন্তর্জাতিক
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , ,

লিখেছেন: অজয় রায়

ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে গত মে মাসে। যা খুব জাঁকজমক করে পালন করা হয়। তবে এ তিন বছরে দেশটির আমজনতার দুর্দশা আরও বেড়েছে। গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারত সরকার নয়াউদারবাদী নীতি ধারণ করে চলেছে। তবে এক্ষেত্রে বিগত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকার থেকেও বেশি জোর কদমে দেশ বেচার এই জনবিরোধী নীতিকে কাজে পরিণত করতে উঠে পড়ে লেগেছে বর্তমান বিজেপি সরকার।

পুরো বিশ্বজুড়ে আর্থিক সংকট চলছে। এটা সাম্রাজ্যবাদের সংকট। সব দেশের অর্থনীতিরই টালমাটাল অবস্থা। সাধারণ মানুষের হাল আরো খারাপ হচ্ছে। একই অবস্থা ভারতেও। জনবিক্ষোভআন্দোলন দমাতে শাসক শ্রেণী ফ্যাসিবাদের পথ ধরছে। উগ্র জাতীয়তাবাদের মুখোশধারী চরম ডানপন্থী শক্তির জোর আরও বাড়ছে। বিজেপি ও সংঘ পরিবার জাতপাতের নামে, ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিচ্ছে। এভাবে তারা খেটে খাওয়া মানুষের ঐক্য ভাঙতে চাইছে। রুটিরুজির আসল সমস্যা থেকে মানুষের নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার ধান্দা করছে তারা

মোদি সরকার উন্নয়নএর নামে দেশিবিদেশি কর্পোরেটদের দেদারসে মুনাফা লোটার পথ পরিষ্কার করে দিচ্ছে। স্পষ্টতই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলো স্বার্থসিদ্ধি করছে বহুজাতিক সংস্থা আন্তর্জাতিক লগ্নি পুঁজির। যারা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ অর্থাৎ জলজঙ্গলজমিখনিনদীআকাশ সব কিছুই জলের দরে কিনে নিতে উঠে পড়ে লেগেছে। মানবসম্পদ শোষণ করতে, সস্তা শ্রমকে কাজে লাগাতে আর বিশাল বাজারটা কব্জা করতে চাইছে।

ব্যাপক বিরোধিতার মুখে মোদি সরকার অবশ্য জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জনবিরোধী অধ্যাদেশের (অর্ডিন্যান্স) প্রশ্নে পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছিল। তবে রাজ্য সরকারগুলো ভূমি আইন বদলাচ্ছে। আর এভাবে জমি দখলে বড় কোম্পানিগুলোকে সুযোগ করে দিচ্ছে। অস্বচ্ছভাবে এমন সব চুক্তি করা হচ্ছে, যার শর্তগুলো আদৌ পরিষ্কার নয়। আর এর আড়ালে চলছে দেদারসে দুর্নীতি। এসব চুক্তি মোতাবেক জমি থেকে সাধারণ মানুষকে জোর করে উৎখাত করার চেষ্টা হচ্ছে। আদিবাসীদের জঙ্গল থেকে উচ্ছেদ করতেও উঠে পড়ে লেগেছে সরকার এবং বড় বড় কোম্পানি। এর বিরুদ্ধে মানুষ অবশ্য রুখে দাঁড়াচ্ছেন দেশের নানা প্রান্তে, বিশেষত মধ্য ও পূর্ব ভারতে। পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনী নামিয়ে অকথ্য অত্যাচার চালাচ্ছে সরকার। তা সত্ত্বেও উচ্ছেদবিরোধী গণআন্দোলনের চাপে বিভিন্ন জায়গায় পিছু হটতে হয়েছে লুটেরা কোম্পানি আর সরকারকে।

এদিকে, মোদি সরকার যোজনা কমিশন ভেঙে দিয়ে তৈরি করেছে নীতি আয়োগ। যাকে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারি সংস্থাগুলোকে জলের দরে বেচে দেওয়ার জন্য। রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের বেসরকারীকরণ ও বিলগ্নিকরণ চলছে। খনি, ব্যাংক, রেল, বেসামরিক বিমান পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, এমনকি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকেও বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারি নিয়ন্ত্রণ, আমদানি শুল্ক ও প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের সীমা তুলে নেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকরা লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যে অধিকার আদায় করেছেন, তা কেড়ে নিতে শ্রম আইনকে অকেজো করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। রেশন ব্যবস্থাও প্রায় লাটে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে বাজারের দর আকাশ ছোঁয়া। সাধারণ মানুষের দুবেলা খাবার জোটানো কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

মোদি সরকার বেকারদের কাজের জন্য বন্দোবস্ত করে দেবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তারা শুধু মেক ইন ইন্ডিয়া, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া ইত্যাদির নামে ভাঁওতাবাজি করছে। একদিকে বেকারত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে কাজ থেকে ছাঁটাই চলছে। শুধু খেতেখামারে, কলকারখানায় নয়, কম্পিউটার বা তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে জড়িতরাও কাজ হারাচ্ছেন। গ্রামীণ রোজগার নিশ্চিতকরণ যোজনায় (রেগা) বরাদ্দ ছাঁটাই করা চলছে।

গত বছর মোদি সরকার ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মাধ্যমে ব্যাংকে নোট জমা করতে সাধারণ মানুষকে বাধ্য করা হয়। আর ধনীরা যাতে তা লুতরাজ করতে পারে, তার বন্দোবস্ত করা হয়। জনগণের ভোগান্তি বাড়ে। রুজিরোজগার হারান বহু মেহনতি মানুষ। বিশেষত অসংগঠিত ক্ষেত্র বড় রকমের ধাক্কা খায়। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থা (সেন্ট্রাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অর্গানাইজেশন বা সিএসও) ২০১৬১৭ সালের জন্য নতুন জিডিপির (মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন) যে হিসাব প্রকাশ করেছে, তাতেও পরিষ্কার দেখা গেছে, নোট বাতিলের কারণে প্রবৃদ্ধি হার কমেছে। কিন্তু কালো টাকা উদ্ধারের যে কথা বলা হয়েছিল, তা আদৌ হয়নি। বরং যেখান থেকে কালো টাকা আসে সেই জায়গাগুলো আসলে আড়াল করারই চেষ্টা চলেছে।

স্পষ্টতই এতে শুধু ধনীদের, শাসক মহলের স্বার্থ সিদ্ধি হচ্ছে। তাদের প্রচুর মুনাফা হচ্ছে। আর সম্পত্তি বাড়ছে বিপুল পরিমাণে (যাকে বলা হচ্ছে প্রবৃদ্ধি)। দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়ছে বলে ঢাক পেটানো হচ্ছে। কিন্তু আসলে বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের অবস্থা, জীবনমান আরও খারাপ হচ্ছে। কর্মসংস্থান হারানো মানুষের সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। বেসরকারীকরণের ফলে শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ বেশিরভাগ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকার সামাজিক ব্যয় কমাচ্ছে।

দেশে দারিদ্র্য আর ধনীগরিবের আর্থিক বৈষম্য বেড়েই চলেছে। ক্রেডিট সুইসের হিসাব যেমন বলছে, সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশ ভারতীয়ের হাতে দেশের মোট সম্পদের ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ রয়েছে ২০০০ সালে যা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ক্রেডিট সুইস প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, সমাজের নিচের তলার ৭০ শতাংশ ভারতীয় এখন মিলিতভাবে দেশের সম্পদের মাত্র ৭ শতাংশের মালিক। যে হার ২০১০ সালে ছিল ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ।[]

স্পষ্টতই, বিদেশি আধিপত্যকারী সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আর তার দালাল দেশের বড় ব্যবসাদার মুৎসুদ্দি পুঁজিপতি এবং জমিদারজোতদার শাসক শ্রেণী তাদের সীমাহীন লোভ চরিতার্থ করতে সবকিছুই লুটতে চায়। আর তাদের হয়ে কাজ করছে দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক স্তরের সমস্ত দক্ষিণপন্থীমধ্যপন্থী এবং মেকি ‌বামপন্থী দলগুলো। বামপন্থার মুখোশ পরা কিছু দল এবং সংগঠন স্পষ্টত ডানপন্থী সুবিধাবাদের পথে হাঁটছে। ভোট গোছাতে তারাও শোষণমূলক স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য আপস করছে। কার্যত তারা শাসক শ্রেণীর কাছে পোষ মেনে নিয়েছে।

যথারীতি মোদি সরকারও কর্পোরেট সংস্থাগুলোকে ও ধনকুবেরদেরকে ব্যাপক কর ছাড় দিচ্ছে। আর তাদের কোটি কোটি টাকা ঋণ মওকুফ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। অথচ ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে, ঋণের দায়ে কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। ১৯৯৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ভারতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ৩ লাখেরও বেশি কৃষক।[] গত মে মাসে কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত বছরে ১২ হাজারেরও বেশি কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে কৃষিক্ষেত্রে।[] সরকারের গৃহীত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থবাহী সংস্কার কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে কৃষি ক্ষেত্রকেও তুলে দেওয়া হচ্ছে কর্পোরেটদের হাতে। ফলে লাভের গুড় যাচ্ছে কর্পোরেট সংস্থার পকেটেফলে ক্ষুদ্র কৃষকদের পক্ষে চাষাবাদ করা ক্রমেই অসাধ্য হয়ে পড়ছে। কৃষি সংকট আরও ঘনিয়ে আসছে।

এদিকে, নয়াউদারবাদভিত্তিক তথাকথিত উন্নয়ন মডেল রূপায়ণ করার ফলে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। আর তাই সরকারও পরিবেশ সংক্রান্ত আইন বদলাতে মরিয়া। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ রয়েছে ভারতের সামনে। এর মধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল খরার কবলে পড়েছে। কিন্তু সরকার ত্রাণ দেওয়ার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কৃষকরা অবশ্য ফসলের ন্যায্য দামের আর ঋণ মওকুফের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। জুনের শেষের দিকে বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকরা ধর্মঘট করেন। মধ্যপ্রদেশের মান্দসৌরে বিক্ষোভকারী কৃষকদের উপর গুলি চালায় পুলিশ। যাতে মারা যান ৮ কৃষক[] তবে সরকার দমনপীড়ন চালালেও কৃষক বিক্ষোভ চলে ৯টি রাজ্যের ১৬২টি জেলায়।[]

শ্রমিকরাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে লড়াই আন্দোলনে সামিল হচ্ছেন। মালিকপক্ষ ও সরকার আন্দোলনকারীদের উপর বেপরোয়া দমনপীড়ন চালাচ্ছে। চলতি বছরেই যেমন হরিয়ানায় মারুতিসুজুকির মানেসর কারখানায় ন্যায্য অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করা শ্রমিকদের মধ্যে ১৩ জনকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়। তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে।[]

এদিকে, বিজেপি ও সংঘ পরিবার সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ঘটাচ্ছে। হিন্দু ফ্যাসিবাদী আধাসামরিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) রাজনৈতিক ফ্রন্ট হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আর মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ভারতে হিন্দু রাষ্ট্রবাদএর নামে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইছে। যখন মুসলমানসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু, দলিত ও আদিবাসীরা মারাত্মক হামলার শিকার হচ্ছেন। খোদ সরকার যেখানে দাঙ্গাবাজদের মদদদাতা

মানুষের চেয়ে গরু নিয়েই বেশি মাথাব্যথা মোদি সরকারের। গরু রক্ষার নামে গোরক্ষকরা (পড়ুন গোগুন্ডারা) খুনোখুনিমারদাঙ্গা করেও ছাড় পেয়ে যা। আর জবাইয়ের জন্য গরু কেনাবেচার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাখে কেন্দ্রীয় সরকার। আদালত অবশ্য এনিয়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। প্রসঙ্গত, গরু মারা একেবারে বন্ধ হলে মাংস ও চামড়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ কাজ হারাবেন। আর মাংসের মূল্য শৃঙ্খল, বা জোগানের ব্যবস্থার উপরে কর্পোরেটের দখলদারি কায়েমের রাস্তা তৈরি হবে।

এর মধ্যেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে নীতি পুলিগিরি উৎপাত করছে কথিত অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াডের মতো গেরুয়াবাহিনী। ঘর বাপসির নামে জোর করে ধর্মান্তরণ করা চলছে। ভারত মাতা কি জয় বলা বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা হচ্ছে। যেন এতেই দেশপ্রেম ঝরে পড়ে! আরএসএস সমর্থিত গর্ভসংস্কারে মদত দিচ্ছে বিজেপিশাসিত রাজ্য সরকারগুলো। শিক্ষাক্ষেত্রেও সাম্প্রদায়িক রং লাগানো হচ্ছে। ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে। জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কব্জায় আনতে তাদের মাথায় আরএসএসের লোকজনকে বসিয়ে দেওয়া চলছে। সেই সঙ্গে সামন্তবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তা ছড়ানো হচ্ছে। যুক্তিবাদী চিন্তাকে ধ্বংস করতে প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ মানুষদেরকে নিশানা করা হচ্ছে। স্পষ্টতই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বহুমুখী চেষ্টা চলছে। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ও বহুত্ববাদের ঐতিহ্য নষ্ট করতে চাইছে গেরুয়া বাহিনী।

জাতপাতের নামেও বজ্জাতি চালাচ্ছে গেরুয়া সন্ত্রাসীরা। বিজেপি দলিতদের প্রতি দরদ দেখানোর অভিনয় করছে। তারা মুখে আম্বেদকারের মতো সমাজ সংস্কারকের ভজন করছে। কিন্তু কাজের বেলায় হাঁটছে ঠিক তার উল্টো পথে। উচ্চবর্ণীয়দের স্বার্থে জাতিবর্ণ বিভেদকে উসকে দিচ্ছে। তফসিলি জাতি এবং জনজাতিদের জন্য সরকারি বরাদ্দও কমানো হচ্ছে। আর তাদের উপর আক্রমণের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমনটাই ঘটছে। উত্তরপ্রদেশে যেমন যোগী আদিত্যনাথ বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এ ধরনের হামলা বেড়েছে। ঐ রাজ্যের সাহারনপুরে উচ্চবর্ণের রাজপুতরা দলিতদের উপর হামলা চালাচ্ছে। রুখে দাঁড়িয়েছেন দলিতরাও। যাদের বিরুদ্ধে এখন পুলিশ লেলিয়ে দিচ্ছে সরকার।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জাতিসত্তার আন্দোলনের উপরেও সরকার যথারীতি দমনপীড়ন বাড়িয়ে চলেছে। কাশ্মীরে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগিয়ে গায়ের জোরে সামরিক সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। আর সেনাবাহিনীর অত্যাচার সেখানে বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে চলেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। সম্প্রতি যেমন সেনাবাহিনীর জিপে এক কাশ্মীরি যুবককে বেঁধে মানব ঢাল করে ঘোরানোর ঘটনাকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন ভারতের সেনাপ্রধান। এর বিরুদ্ধে অবশ্য প্রতিবাদে সরব হয়েছে প্রগতিশীল মহল। যারা কাশ্মীর সমস্যার গণতান্ত্রিক সমাধানের দাবি করছেন।

আরও যেটা লক্ষণীয়, মোদি সরকার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের লেজুড়বৃত্তি করে চলেছে। আর প্রতিবেশী দেশগুলোর উপর সম্প্রসারণবাদী খবরদারি চালানোর চেষ্টা করছে। ভারতপাকিস্তান সম্পর্কে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যাতে শুধু যে ভারতের শাসকশ্রেণীসহ সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু উভয় সাম্প্রদায়িক শক্তির সুবিধা হচ্ছে তাই নয়, পাকিস্তানের শাসকশ্রেণীসহ ধর্মীয় উগ্রবাদীদেরও ফায়দা হচ্ছে। এসব ধর্ম ব্যবসায়ীরা দুদেশেই সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে স্বার্থসিদ্ধি করতে মরিয়া। ফলে তারা একেঅপরকে কার্যত উৎসাহ যোগাচ্ছে।

রাষ্ট্র তার নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নেমে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় মদদে চলছে গেরুয়া সন্ত্রাস চলছেজনগণের রুটিরুজি কেড়ে, ভিটেমাটি ছাড়া করে, ধনেমানেপ্রাণে মারতে তারা মরিয়া। এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মানুষও রুখে দাঁড়াচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গণসংগ্রাম চলছে। শ্রেণীগত লড়াই হচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষ, বিশেষত তাদের র‍্যাডিক্যাল অংশ জনক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জনকেন্দ্রিক উন্নয়নের বিকল্প পথের সন্ধান করছেন। যাতে শুধু খাতাকলমে আনুষ্ঠানিক গণতন্ত্র নয়, জনসাধারণের কার্যকর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নতুন ধরনের গণতন্ত্রের মডেল তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় যারা দেশকে এবং দেশের মানুষকে প্রকৃত অর্থে ভালোবাসেন, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা চান আর প্রগতির পক্ষে রয়েছেন, তাদের সবার একাট্টা হওয়াটা ভীষণ জরুরি বলেই অনুভূত হচ্ছে।।

২৫/০৬/২০১৭

তথ্যসূত্র:

[] Manas Chakravarty, ‘‘Wealth in India: The poor do not count’’, April 07, 2017

[] Maninder Dabas, ‘‘3 Lakh Dead In 20 Years. Here’s How World’s Largest Democracy Failed Its Farmers!’’, April 12, 2016

[] Dhananjay Mahapatra, “Over 12,000 farmer suicides per year, Centre tells Supreme Court”, May 03, 2017

[] ‘‘Protesting Farmers Claim Police Killed 8 As Fresh Violence Erupts In MP’s Mandsaur’’, June 07, 2017

[] Prabhash K Dutta, ‘‘Maharashtra, Madhya Pradesh farmers are demanding what Narendra Modi had promised in 2014’’

[] Ipsita Pati, “Maruti union holds protest in Gurgaon demanding release of convicted workers”, April 04, 2017

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s