আজ একটা কবিতা শোনাবে কমরেড!

———————————————————————————————

abstract_rev-3সূর্যের কবিতা সমুদ্রের কবিতা

নিউক্লিয়ার রিয়াক্টরের কবিতা, স্যাটেলাইটের কবিতা

মনুষত্বের মহানতম কবি!

তুমি কেন স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকারে কেন্নোর মতো গুটিয়ে আছো

কমরেড! তুমি তো একা ন, তুমি লক্ষ লক্ষ কমরেড!

ছোটোবেলায় একটা লাল পিঁপড়েকে বন্দি করে ছিলাম

কাঁচের বোতলে,

এখন ওর কবরের পাশে গিয়ে বসি ক্রীতদাসের নির্জন কবরে।

কবিতা শোনাবে না কমরেড, ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির কবিতা!

জন্ম জন্মান্তর থেকে চেতনা হস্তান্তরের কবিতা!

উপজীবের মতো কৃমিকীটের টুকরো টুকরো জীবনের কবিতা!

নারীর সাথে রাষ্ট্রের নিবিড় নিষ্ক্রমণের কবিতা!

ভারহীন আয়ুর অভিকর্ষের কবিতা!

চড়কের পাকে বাঁধা ভীতু সব কবিতা!

লো কমরেড, তোমাকে শোনাবো এক মৃত্যুর কবিতা।

যে মৃত্যু থেকে সেতু বাঁধা হয়েছে দূর কে নিকট করার,

গড়ে তোলা হয়ছে অঙ্গীকার, আমিও হেঁটে যাচ্ছিলাম

রুক্ষ্ণ কঠিন সেতুটায় প্রাগৈতিহাসিক দ্যোতনায়,

তুমি এখন কি গুটিয়ে আছো কমরেড, এই দ্যোতনায়!

To be, or not to be, that is the question!

——————————————————————————————————–

.

পৃথিবীর সব মদ শেষ হয়ে গেলে

———————————————————————————–

আমি ভালোবাসি ঘুড়ি ড়াতে,

মায়ের সেলাই মেশিন থেকে সুতো চুরি করে চলে যাই

গোধূলির ছাদে।

পড়ন্ত বিকেলের অল্প আলোতে মধ্য আকাশে থাকে রামধনুময়

আমার ঘুড়ি;

হঠাৎ করে হুঙ্কার নিয়ে চলে আরো অনেক ঘুড়ি মানুষের মতো করে।

ওরা কেটে দেয় আমার ঘুড়িটাকে দারু ব্যাথা নিয়ে

আমি আর আমার ঘুড়ি

ছুটে যাই মায়ের আঁচলে মা, আমি তো কাটতে চাইনি, শুধু

ওড়াতে চেয়েছিলাম

আকাশের পরে আকাশ, মৃদু বাতাস ছুঁয়ে শুধু উড়তে থাকবে আমার ঘুড়ি।

শোন বাবু, ঘুড়ি ওড়াতে গেলে মাঞ্জা দিতে হয়, নয় তো সবাই

কেটে দেবে তোর ঘুড়ি,

এটাই মানুষের চিরাচরিত স্বভাব, নরম মাটিতে আঁচড়াতে

ভালো জানে মানুষ।

কিন্তু মা আমি তো চাইনি কোনো প্রতিযোগিতা,

শুধু ওড়াবো আমার কল্পনার রঙ;

আমার ঘুড়ি কাঁটাতার পেরিয়ে এ দেশ ছুঁয়ে সে দেশ ছোঁবে

আকাশে বেড়া কোথায়!

মানুষ ওসব বোঝে না, সবসময় মেতে আছে যুদ্ধে

আপন রক্ত লিপ্সায়,

ঘুড়ি ওড়াবে, যখন অন্ধকারে থাকবেনা মানুষের স্পর্শ

জোনাকির স্বপ্নের পরে।

সে দিন থেকে ওড়াই ঘুড়ি রাতের আকাশে মেখে নিয়ে

জোৎস্না ঘুড়ির রঙ।

—————————————————————————–

.

হৃদয়ে তোমার শীতলতা

——————————————————–

তারা কি নীল, ধূসর না সবুজ?

রহস্যময়ী চোখগুলো

আসলে তুমি তাকিয়ে আছো কুয়াশার মধ্যদিয়ে,

পরিবর্তনশীল সহানুভূতি সম্পন্ন স্বপ্নীল নিষ্ঠুরতায়,

মিশে যেতে আকাশের অপরিবর্তনীয় পাণ্ডুরতায়।

সেই জন্যই তোমার পছন্দ আন্তরিক সাদা বিকেল বেলা,

যা দ্রবীভূত করে হৃদয়ের উচ্ছ্বলতাকে কান্নায়!

ব্যাখ্যাতীত অবসন্ন নিষ্ঠুরতা আমার ও তোমার ভীতু হৃদয়ের,

সব সময় নয়, তবু কোনো কোনো সময়

তুমি দিগন্তের মতো যখন সূর্য আগুন লাগায়

আমাদের মেঘাচ্ছন্ন শরৎকালে তুমি তবু কি উজ্জ্বল!

লোকারণ্য গ্রামাঞ্চল হঠাৎ করে যদি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়,

পরিবর্তনশীল গরম বতাস শুষে নেয় সমস্ত জলীয়তা,

বিপজ্জনক নারী চরিত্রহীন দিনগুলোর

আমি কতটা ভালোবাসবো তোমার খুনী শীতলতাকে!

আর এই শান্ত শীতকালে পাতা ঝরার ঋতু যখন আসে

আমি আবিষ্কার করি সুখানুভব

বরফ আর ইস্পাতের থেকেও তীক্ষ্ণ।।

—————————————————————————–

.

আঁধার আর না শোনা গল্প

————————————————————-

লো নেভানোর পর তোমার অ্যাকোয়েরিয়ামে

রাখা মার বীজ থেকে নির্গত হয় অন্ধকার,

তুমি সমাহিত হবে আমাআঁধার আর না শোনা গল্পে,

জ্যোৎস্নার জন্য তোমার খোলা জানলায় নিশাচরের ছায়া,

অর্ধেক মানুষ অর্ধেক বাদুর ডানা ঝাপটায় নীল অন্ধকারে।

তুমি শরণাপন্ন হবে তোমার ঈশ্বরের তোমার বিছানায় রোজ,

শৈশবে মার মাকেও দেখেছি ঈশ্বরের সাথে সহবাসে!

বহু যুগের অতৃপ্ততায় ওরা জন্ম দিয়েছে মার ক্ষিদে,

সাবধান মার ক্ষিদে পিতৃ পরিচয়হীন ক্রোধ থেকে!

মার ক্ষিদের আগুনে গিলে নেবো তোমার রমনীয়তা,

দাউ দাউ করে পুড়বে শরীর, ঘাম, রুটির স্বাদ, যন্ত্রণার বাষ্প,

আমি তোমার খোলা জানলায় বাস করি, মি তোমার আত্মহত্যা।।

——————————————————————————————————–

ছবি: কুর্দি শিল্পী দেলোয়ার ওমর

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s