১০. বিপ্লব

—————————

abstract_rev-5তখনও গোধুলির শেষ রক্তরঙটুকু ছড়ানো আকাশে

তখনও প্রকৃতি নিবিষ্ট দু’জনের আলাপনে

বিহঙ্গরা খোঁটনি ঠোঁটে ঘোর অন্ধকার

কেবল দু’চারটে তারার আকাশ বাগানে পুষ্পরূপ ফোঁটা

সামনের কদুলির ডগাগুলো নড়ছে

পাতাগুলো ঘনকালো

.

আপনি রাষ্ট্র ও বিশ্বাস প্রসংঙ্গে বলেছেন খানিকটা

বিপ্লব প্রসংগে আপনার ভাবনার কিছুটা বলুন:

.

আঁধারেরা ঘন কালো, কৃষ্ণবণর্ দুই প্রহর পরে ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদ

নিজাম আলো দিয়ে গেছে নিভু নিভু সে আলো

আকাশে এখন অনেক তারকা তারাদের হাট

কোথাও গোলহয়ে বসে মাতাল আড্ডায়

.

আপনার সংগে তো গাড়ি আছে; কী লাভ এসব তর্কে

আপনি বিশ্বাসী মানুষ আমিও

পার্থ্ক্যটা দুস্তর; অনতিক্রম্য

কেবল একটা তিক্ততায় ফেরা সেতো প্রিয় নয়..

তবু

আমার নিজস্ব ধ্যানের কথাই বলছিঃ

বিশ্বাস আমাদের ধারণার উদ্ভুত এক উদ্দীপন

প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অভিজ্ঞতার, লোকশ্রুতি,সামাজিক আবদ্ধতা

নিজস্ব ভাললাগা, আবেগ উচ্ছ্বাস প্ররোচনা আবার অসায়ত্ব

সমাজ নিয়ন্ত্রকের কুট চাল, রাজনীতি, সামগ্রিক অসচেতনা

ইত্যাদি যার অনুষঙ্গ

বৈজ্ঞানিক ধারার অনুসন্ধান ব্যতিরেকে বিশ্বাস প্রমাণ সিদ্ধ নয়

ভাবের রাজ্যে ভ্রমণ এবং নতুনরূপ কল্পনার, অন্যে সংক্রামিত

প্রমাণের চাহিদা নিশ্চুপ কারণ অমুক বলেছে

কারণ অমুক শুনেছে, অমুক উপস্থিত ছিল এবং সে বলেছে

এই হলো অন্ধত্ব যা ফুরায় না কেবল দ্বিগুণ তিনগুণ প্রহরে প্রহরে রূপ বদলায়

আর যে কোনো বিশ্বাস শুরুর সীমায় স্থির থাকে না

ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে বহু কিছুর যোগ বিয়োগ

সামাজিক ক্ষমতার মানদণ্ড

অন্যের কাছেও বিশ্বাস বলে প্রচারিত এবং তারপর

নতুন লেজ নতুন পাখনায়

বিশাল আনুষ্ঠানিকতার এক যৌগশরীর নানা আকারের বিচিত্র বাঁক

প্রতিনিয়ত ভাবের বিষ্ফোরণ অপ্রাসঙ্গিকতাও বিশ্বাসের প্রাসঙ্গীক

কিন্তু বিশ্বাস যখন শুরু হয় অনুসন্ধানে

তখন বৈজ্ঞানিক প্রমাণগুলোই তার পরিমাপক

তার পর পীড়কের ব্যবহাওে রূপ বদলায় হয়ে ওঠে রহস্যপূর্ণ

আর সেটাই কাজে দেয় প্রবল শ্রেণীর

তখন সে মানুষের সব কৃতিত্বকে নিজেদের বলে দখল করে নেয়

সে বলে আমি, আমি, আমিই করেছি তারপর দেবত্বের পূজা প্রকৃত নয় স্বার্থের

ইতিহাসের স্রষ্টা বলে কেউ নেই, ইতিহাস দৃশ্যমানও নয়

যেমন ঘাস কি করে বাড়ে কি করে বসন্তের বৃক্ষ ক’দিনেই

ভরা পত্রপল্লব কেউ খেয়াল করে না

সমাজও ক্রিয়াশীল গতি ধীর দৃশ্যমান যেমন আছে তেমন;

যুদ্ধ বা বিপ্লব রাজা ও রাজত্ব ইতিহাসের কেন্ন’

তলেস্তয় এমন ভাবতেন

মূলত ইতিহাস তৈরি করে জনগণ ইতিহাসের তারাই বীর

তাদের সংগ্রাম তাদের অর্জন সবই চলে যায় দখল দর্শনে

তারাই জনগণের রাষ্ট্র রাজ্য এই নামে দাবড়িয়ে ফেরে

ত্যাগই কেবল জনতার সে বিপ্লবে নয়ত স্বর্গসুখের আশায়

বিপ্লবী কর্মীরা অন্ধের মতো

কয়েক ঘন্টা বা কয়েকদিনে যে ব্যবস্থাটি উল্টে ফেলেছিল

দু’দিনেই তারা সব ভুলে যায় সেইসব অথবা ভুলিয়ে দেয়া হয়

নানা তত্ত্বের ঝালতেলে

নানা বিপ্লবরূপী ভেজাল কর্মে শুরুহয় দেবতার পূজা

শুরু হয় বিকৃতি

সমতা নামের, ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নামের নিধন ক্রিয়া

খাঁচায় বন্দি স্বাধীনতা কাঁদে সেখানেও গুম হয় সেখানেও খুন হয়

এবং একদিন

রাষ্ট্রের নৈতিক শক্তির পতন ঘটে, বার্লিন ভেঙে পড়ে

মস্কোর ঘন্টা ককায়

মস্তগোঁফের উপর ভাঙা নাক নিয়ে এককালের পূজণীয় দাঁডিয়ে থাকেন

পতিত নেতাদের পার্কে : বরফ পড়ছে

এঁরা একদিন পূজা পেয়েছিলেন পবিত্রজ্ঞানে কতসব সংকীর্ণতার

মানুষ চেয়ে চেয়ে দেখে তাদের নির্মাণ এখন স্মৃতি সামনের সড়কের বুকে

পায়ে পায়ে হাঁটে সেই নোয়ানো কাঁধ সেই বাঁকানো শরীর

যেরকম একটি জাতি তার স্বাধীনতা হারাণোর কালে দাঁড়িয়ে নির্বাক

অপমানের দৃশ্যই শুধু দেখে

ধর্মকর্মহীন এক প্রত্যয় বিকৃত প্রতারণার হাতিয়ার হয়ে ওঠে

মানুষের অসায়ত্ব এমন এক আবেগের যাত্রী

যেখানে যুক্তি অসাঢ়

ইতিহাস তাও প্রত্যক্ষ করেছে

সমাজ উত্তোরিত সংস্কৃতিতে প্রবেশবঞ্চিত দিকহারাদের

অন্ধগলিতে সাঁতার

আর ভেঙে পড়ে জণগনের নির্মাণ

বিশ্বাসগুলো এক কানা ঘোড়া পরকাল ভীতিরকেবল এক ধমকের সুর

চাবুক চাবুক আগুন ও লৌহগুর্জ্জ পিটান পিটান

ওটা ওদের বেশ কাজে লাগে

কেবল নিজ ক্ষমতা ভোগ আর আরাম ধর্মের নামের অঢেল বিত্তের পাহাড় নজরানার স্তুপ

অসহায় মানুষগুলোর কাঁধে চড়ে হাঁটে, হাঁটায় তাদের

আখেরের দিকে

আকাশে যার বিশ্বাসের ঘর কেবল আঙুলইশারা ওখানে ওখানে

অথচ আকাশ মহাশূন্যের বিস্তার

বিপ্লব অথ্র্ হলো অন্যায় সামাজিক ব্যবস্থার উৎপাটন

বৈজ্ঞানিক সত্যের উপর দাঁড়ান মানবিকতার নবতর মূল্যায়ন

মনোজগতের আলোড়নহীনতা তাকেও বিকৃত করে।

————————————————————————————————————–

.

১১. জীবন ও কর্ম

——————————————-

জোছনা কেবল পূর্ণ অবয়বে দিয়েছে উড়াল ধরিত্রির দিকে

সামনের উঠোনটা দৃশ্যমান

আলো তার কোমল শরীর নিয়ে দুজনের ফাঁকে বসে গেছে

স্পষ্ট হয়েছে এখন দুজন মানুষ

সবুজ গাছগুলোর পাতাগুলো কালো প্রানবন্ত বৃক্ষরাজি

ফুটেছে আকাশ

মানুষটি ফিরলেন আগন্তুকের দিকে

কোথায় যেনো শালিকের ছানাগুলোর কিচিরমিচির

একটা চামচিকে দিকহীন বৃত্ত করে উড়ছে

দু’একটা ছূঁচো সুঁচালো মুখ আর নাকদিয়ে খুঁজছে খাদ্যের উৎস

বৃদ্ধ একটু হেসে বললেন

দিন আপনার ফলগুলো দু’একটা খেয়ে দেখি

প্রান্তের জীবনে ফলস্বাদ সবল থাকুক।

একটা আঙুর খেতে খেতে বৃদ্ধ বললেন

আপনার আর কি কিছু জিজ্ঞাসার আছে?

.

ছিল প্রিয়জন

কিন্তু আপনার কষ্ট হতে পারে

তার চেয়ে বসে বসে আজ আমরা এক রাত্রিকে দেখি

দেখি প্রকৃতির নব রূপ স্রষ্টার অপরূপ সৃষ্টির বৈচিত্র

আচ্ছা আপনার কি মনে হয় না

স্রষ্টা কারো প্রতি নিষ্ঠুর নয় এমন কী আপনার প্রতিও

নাস্তিক: যে তাকে বিশ্বাস করে না, অথচ তার দান

থেকে সেও বঞ্চিত নয়

এই যে আমরা একটা রাত্রির ভেতর প্রবেশ করছি

যেখানে পরিপার্শ্ব সবই হয়ে উঠেছে শরীরী

যেন এক মহান হাত আলো ও আঁধারের রঙে সাজিয়ে দিচ্ছেন অনুভবের সকল দরোজা

যেন আমাদের কথোপকথন এক দূরস্বরে বিন্নস্ত হচ্ছে ভেঙে পড়ছে মিলিযে যাচ্ছে

একেক রূপের প্রহরে প্রহরে

দেখুন কাঠাল তরু

যেন তরু নয়, যেন বোধময় এক একটি জীবন নিবিষ্ট আলাপ শ্রবনে আর

ছেদগুলো যুক্ত করছে ক্ষুদ্র থেকে বৃহতেসেই সুর মহাকালের

প্রিয় বন্ধু

সত্য অনুসন্ধানে মেলে সে বিজ্ঞান সত্য

কিন্তু এমন কিছু সত্য আছে যা মন মানে নিক্তিতে পরিমাপ নেই

তাকে গভীর ধ্যান ছাড়া আয়ত্ব করা যায় না

সেজন্য একাগ্রতা দরকার

মহৎ আত্মার সাথে মহৎআত্মার লগ্নতা সম্ভব অসংলগ্নতার গন্তব্য নেই

যা বাহ্যিক নয় এবং তর্কেও এর প্রমাণ মিলবে না

এটা ছড়িয়ে থাকে সামগ্রিকতার মধ্যে

একটা শামুক বা ঝিনুকের গতির মধ্যে

এমনকী একটা জলের ফোটার মধ্যে

অনুভবে সে সত্য হয়ে ওঠে

মনপ্রাণ তাই মানতে চায়, মানেসাধনা মানুষের একার একাগ্রতার

আর তেমন মানুষ হলে সামাজিক কল্যাণ তো মেলেই

.

অনেকক্ষণ চুপচাপ শুনলেন বৃদ্ধ তাঁর অতিথির কথা ও কথন

তারপর হাতের ইশারায় যেন চাঁদ এনে বললেন

আপনার ভাষ্যগুলো চমৎকার সুষমাময় বেশ ভাল লাগছিল টেক্সটগুলো

এবং পরপর সাজালে একটা স্দ্ধিান্তে তো পৌঁছাই যায়

এ বিষয়ের আলাপ এবং আমার মতামত দীঘর্ হয়ে যাবে

সে সময় আমার হাতে কই বন্ধু

.

তোমার যা কিছু ভালো, বন্ধুর জন্যে তুলে রাখো

বন্ধুকে যেমন জানতে দেবে তোমার ভাঁটার ইতিকথা

তেমনি জানতে দিয়ো তোমার জোয়ার’

.

রাত যতো রাতের পূর্ণতায় ধাবমান

ততই এক আনন্দধারায় জেগে উঠছে প্রকৃতি

অপরূপ শ্ভোায় সেজেছে রাতের যৌবন

রবহীন সব তবু মনে হয় এক চঞ্চলতা আকাশের

দিগন্ত থেকে ছড়িয়ে পড়েছে এক সুর

এক দ্যুতিময় প্রভা

প্রকৃতিতে আজ শুধু জোছনাই নয় যেন বিপুল বিস্ময়

ফুটছে নানা অবয়ব নিয়ে

যেন রহস্যের ওপারে আরেক রহস্য গা হয়ে উঠছে

মিলিয়ে যাচ্ছে একটা গতির মধ্যে

এক ভাঙছে বহুতে বহুর আলোড়ন আবার এক তন্ময়তায় লীন হচ্ছে

যেন স্মৃতি; যেনো বিদায় পূর্বের শেষ অভিবাদন

শেষ দৃশ্য অতীতকে মুছে দিতে চলমান মনস্ক্রিয়ায়

যেন কেউ কোথাও নেই ছিলনা কখনও

এক অতল থেকে

একটা সিঁড়ির পারাপার এক শিশুর লম্বা হাত অভয় হয়ে আছে

একটা পথরেখা মিশেগেছে কোনো এক প্রান্তরে

একটা ছায়ার রাজ্য একটা নদীর উচ্ছ্বাস

.

একটা দীর্ঘ্শ্বাস পাঁজরফুঁড়ে বেরিয়ে এলে উদ্বিগ্ন হলেন অতিথি

তিনি ঝুকে বৃদ্ধের দিকে বললেনঃ প্রিয়জন

আর আলাপের দরকার নেই

আপনি শান্ত হোন, বিশ্রাম নিন সকালে আমরা হাসপাতালে যাব

হাসলেন বৃদ্ধ

তারপর একটু নমিত স্বরে শুরু করলেন আবার

প্রিয় বন্ধু

আপনার উত্থাপিত বক্তব্যের হুবহু উত্তর দিতে পারব না আমি

কারণ আপনি জানেন

তবু আপনার এই জিজ্ঞাসা এবং উপস্থিতি আমার অন্তিমসময়ের

সে বড় মূল্যবান

আমার অবসানের পর আর কোনো স্থির মূল্য নেই

কারণ আমি বলে আর কেউ নেই

পরের স্মৃতি আপনার

যা কিছু সত্য আর যা অনুসন্ধান মানুষের সবই এই জগৎ অবধি

পারাপারে এক শূন্যতা

কল্পনাই কেবল মানুষের আর তার ভেতর আমির নির্মাণ

সে বড় নিষ্ঠুর সে বড় কঠিন

অস্তিত্বহীনতা স্বীকারে তার কার্পন্য

মৃত্যুকে কেউ গ্রহণ করতে চায় না কোনো প্রাণীও নয়

তবু মৃত্যু আসে

আর মৃত্যু হলো রূপান্তর অন্যতে এক বাতিল বহুতে

.

মানুষ কেবল প্রাণী নয় তার রয়েছে আবেগ

আবেগ কল্পনায় বিস্তার পায় এবং বুদ্ধিতে জারিত হয়

যাত্রাপথে সে প্রকৃতির বাধাগুলো শুধু অতিক্রম করেনি

সন্ধান করেছে সমাধান খুঁজেছে অস্তিত্বের সার্থকতা

এটাই হচ্ছে মানব ইতিহাসের মূল্যবান দিক

মানুষ বস্তুজগতের নিরপেক্ষ দর্শ্ক নয়; সে উদ্দেশ্যানুযায়ী

বস্তুর রূপান্তরে সক্ষম

এসব মানুষকে প্রাণীজগত থেকে আলাদা করে দিয়েছে

আপনার বিশ্বাস কেবল আপনার নয় নতুনও কিছু নয়

সেই কাল থেকে এইকাল চলমান গতিময়

আর এই ভাবনার কেন্দ্র হচ্ছে রাজনীতি যার অধীন

উৎপাদন ব্যবস্থা, অর্থনীতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কর্

আর সে সব বদলে গেলে চিন্তার দুনিয়া বদলে যাবে

নয় এমন যে তারপরও ব্যক্তির স্বাতন্ত্র্যতা থাকবে না

থেকে যাবে বহুকাল

বিশ্ব বস্তুময়, সকল চিন্তা বস্তু লগ্ন ভিন্ন কোনো কল্পনা নেই

আর সকল চিন্তাই হলো অনুসন্ধান

যার মধ্যদিয়ে গড়ে উঠেছে মানুষের সত্য

বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তাকে সিদ্ধ করে শুদ্ধি দেয়।

————————————————————————————————————–

.

১২. জীবন ও মৃত্যু

————————————————

জীবন ও মৃত্যু সম্পর্কে কিছু বলুন:

.

জীবন কী আর মৃত্যুইবা কি

জীবনকে জানতে পারলে মৃত্যুর প্রসঙ্গে

সিদ্ধান্তে আসতে পারি

জীবনের অভিজ্ঞতা আছে অস্তিত্ব অনুধাবনে

কিন্তু মৃত্যুর অভিজ্ঞতা গোপন সে মৃত্যুর অবলোকনে

যার অনুভূতির প্রকাশ নেই খুঁজে নিতে হয়

মৃতের অভিজ্ঞতা কেউ জানতে পারি না

কেবল এক স্থবিরতার মাঝে ডুবে যাওয়া একটা শরীর

যেন গভীর ঘুমে অচেতন

যেন মনে হয় একটা সময় ওখানে থমকে আছে পাথর স্বভাবে

কিন্তু আমরা কল্পনায় মৃত্যুকে নানা রঙে রাঙাতে পারি গতিময় করে তুলতে

এমন দৃশ্যাবলীও তৈরি করতে পারি

মৃত যাত্রা শুরু করেছে স্বর্গের দিকে ঈশ্বর দাঁড়িয়ে আছেন দেবতারাও নির্দেশাপেক্ষায়

কিম্বা তাকে শাস্তি দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে ঈশ্বরাদেশ পরিপালন কারীরা

অথবা ঈশ্বর এতোই নিরাসক্ত যে সে আর কিছুই দেখছে না

সে মৃত মানুষের রাজ্য থেকে কিম্বা দেখছে সব বলতে চাইছে না কিছু

অথবা পৃথিবীর বন্ধন ছিন্ন করে একা থাকতে চাইছে আজ

চিনতে পারছে না মৃতকে কিন্তু

এখন একমাত্র ঈশ্বরই তার বিধান তার নির্ভরতা

যদি এমন একটা সিদ্ধান্ত আপনি গ্রহণ করেন, বা

তৈরি করেন আরেক দৃশ্য যে ঈশ্বর গ্রহণ করছে তাকে সাদওে, তো একটা সমীকরণ হল

আর যদি প্রমাণ চান

তাহলে হিসেবটা মিলাতে হবে জীবন থেকে

জীবন কী

যেমন ধরুণ একটা যন্ত্র লোহালক্কর ও অন্যান্য উপাদানে তৈরি

সে চলছে

কি ভাবে সে চলছে? সেও এক কার্যকরণ

অর্থাৎ যন্ত্রটি তৈরি হয়েছে চলবার মত পরিকল্পনা নিয়ে

যখন আর চলল না তখন সে স্তব্ধ মৃত

অর্থাত সচলতার জন্য কোন শক্তি উৎপাদন করলনা

মনুষ্য দেহ শুধু নয় সকল প্রাণিদেহ তার নিয়মে শক্তি উৎপাদন ক্রিয়ার

এবং চলমান

চলবার উপযুক্ত কার্যকরণ ব্যহত হলে সে স্তব্ধ

এবং মেশিনের মতো অকেজ পড়ে থাকা বস্তুর রূপান্তর

জন্মের বিষয়টি যদি প্রাকৃতিক ভাবেন সেটাই বৈজ্ঞানিক

যদি ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে ভাবেন সেটা সমাজের

চলমান ধারণা এবং ব্যক্তিরও

সেটা প্রমাণিত নয় প্রচলিত একটা বিশ্বাস যার প্রমাণ ব্যক্তির বিশ্বাসে

আর প্রাকৃতিক ভাবনা বৈজ্ঞানিক প্রমাণে যা এখনও অসম্পূর্ণর্

জন্মের পরে একজন মানুষ সামাজিক সম্পর্কের সাথে যুক্ত হয়

সে তার অস্তিত্ব চিনতে পারে ন্যুনতম তার মাকে দেখে

পরিচিত হয় জগতের সাথে,চিনতে পারে নিকটতম

এবং ধীরে ধীরে পরিপার্শ্ব

সে প্রবেশ করে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভেতর

শুরু হয় পথ চলা

নানা কর্মভোগ আয়োজন শেষ করে একদিন তার বিদায় নিশ্চিত হয়

সে মরে যায়

মানে তার সমাপ্তির এক ঘুম

সক্রেটিশ যাকে বলেছিলেন নিরুদ্বিগ্ন ঘুম

একটা উপমা

কারণ ঘুমের পরে জাগরণ আছে মৃত্যু থেকে ফেরে না কেউ

————————————————————————————————————–

.

১৩. ছেদ পর্ব

——————————–

রাত তিন প্রহর অতিক্রম করছে

ঝুলে আছে চাঁদ

জোছনারা গুটিয়ে নিচ্ছে আলোর চাঁদর

নতুন রূপ প্রকৃতির

সমস্ত চরাচরে বিমলিন অস্পষ্ট আলোর ছায়া

দৃশ্যের ভেতরে দৃশ্যের উঁকি ঃ দৃশ্যের মুখ

কতকটা অন্ধকার নোনাগাছটার পাতায় পাতায় ঘন হয়ে আছে

ও পাশের কচুগাছগুলো এখনও গভীর ঘুমের

নতুন এক সংগীতসুর থেমে থেমে মিশে যাচ্ছে হাওয়ায়

নতুন আশাবাদ নিয়ে দাঁড়িয়ে এক ভোর

দাবদাহ স্তিমিত

বইছে শীতল হাওয়া

আকুল করছে দুটি মানব হৃদয়

এক রহস্যময় অবলোকন ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে

দুজন মানুষ নিশ্চুপ

যেন দুদিকে চলে গেছে দুজনের পথ

যেন ভাবনাগুলোর নানা ছবি হয়ে জাগছে

হাসছে খেলছে চলে যাচ্ছে

যেন দুজনে একই মাঠে দুই পক্ষের খেলোয়ার

যে স্মৃতির আবেগ তাড়িয়ে এনেছিল দুজনকে এতদূর

তারা আবার একমুখো একদিকে

হঠাৎ বৃদ্ধের শ্বাস দীঘ্র্ হলো

অস্থির হয়ে উঠলেন আগন্তুক

বৃদ্ধ কি হাসলেন! এক মলিন মুখরেখার কুঞ্চন

মাথাটা আস্তে আস্তে ঘুরিয়ে বললেন ঃ প্রিয় বন্ধু

আমি এখনও বেঁচে আছি

দিন আপনার আঙুরগুলো, বাড়ানো হাত

থেমে থাকলো থেমে যাওয়া ঘড়ির কাঁটার মতো

একটি জবাব আমি দিতে চাই

আমার সময় খুবই কম, সামান্য

কোনো কিছুর জবাব বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ ছাড়া হয় না

সিদ্ধান্তও নয়

শুধু মতামত হতে পারে

প্রতিটি যুদ্ধে অনেক প্রতিশ্রুতি থাকে, থাকে আশাবাদ

হয়ে যায় স্মৃতি,কারণ

যুদ্ধের মধ্যদিয়ে যে অর্জন তা আর তাদের থাকে না

দখল করে নেয় সেই শক্তি যারা তাদের ব্যবহার করেছিল

এক মুখোশ চেহারা নিয়ে

তারা ভেবেছিল যুদ্ধ বদলে দেবে পুরনো রীতিনীতি

তারপর যুদ্ধটা যারা কাঁধে নিয়ে লড়ে

জীবন দেয়

অবর্ণনীয় দুঃখকষ্ট ভোগ করে পঙ্গুর জীবন বয়

ফিরে দেখে শূন্য ভিটা বসতবাড়িটুকুও আর নেই

সব গিলেছে যুদ্ধ অথবা দখল করেছে তারা

যারা কেউ ছিল না যুদ্ধের

তারাই হয়ে গেল বিজয়ের দেবতা পতাকাটা তাদের হাতের

দখলে নিয়েছে ক্ষমতা

তারপর লুট,প্রতারণা,পাচার, ভোগউৎসব আর তাদের

উচ্ছিষ্ট চাটে সেই যোদ্ধারা যারা একদিন জীবন নিবেদিত করেছিল

সব যুদ্ধেই এরকম ঘটে

সবহারাদের যুদ্ধে ও প্রতিশ্রুতির ঢল নামে

তারপর তারা হয়ে যায় আদর্শ নামক খাঁচার বন্দি

সর্বহারা নামে আরেক স্বৈরাচার বাতাস রুদ্ধ করে

আর প্রগতির মানুষদের হত্যা করে এই বলে

তারা চক্রান্তকারী

এই ভাবে সকল অসচেতন যুদ্ধই মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে

কারণ

যুদ্ধের পর মানুষের অন্ধঅনুকরণ এবং নেতা ভক্তি

তাদের জন্য ডেকে আনে সর্বনাশ

সেই কবির ভাষায় বলতে পারি

যদি পরাধীন হও তা হলে

স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ কর

যদি স্বাধীন হও, তা হলে

আরো বেশী স্বাধীনতার

জন্য যুদ্ধ কর’

মানব ইতিহাসে লড়াইয়ে শেষ বলে কিছু নেই

ক্রমাগত লড়াই হচ্ছে সত্য; সভ্যতায় পৌঁছার বাহন

দেবতা ভক্তি নয় প্রয়োজন চেতনার লাগাতার উজ্জীবন

.

হঠাত বৃদ্ধের কন্ঠ একেবারে ক্ষীণ হয়ে এলো

একটা অস্পষ্ট স্বরধ্বনি

পক্ষী ও পক্ষনী থামিয়েছে আলাপ

নির্বাক প্রকৃতি

অতিথি তার মুখের কাছে ঝুঁকে বললেন

আপনার কি আর কিছু বলবার নেই শ্রদ্ধাভাজন

কোনো অনুতাপ?

.

বৃদ্ধ শুধু একবার ক্ষীণ কন্ঠে বললেনঃ

সত্য হোক মানব মুক্তি,মুক্ত হোক মানুষ আপন বন্দিত্ব থেকে

মুক্ত হোক পৃথিবী

.

চাঁদ ডুবে গেছে

পৃথিবী অপেক্ষা করছে প্রভাত আলোয় জেগে উঠবার।

——————————————————————————————————————————–

ছবি: কুর্দি শিল্পী দেলোয়ার ওমর

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s