মুখে দলিতপ্রেম, আম্বেদকার ভজনা, কাজে দলিতদের ধনেপ্রাণে মারার প্রচেষ্টা – মোদি সরকারের দলিত নীতি

Posted: সেপ্টেম্বর 24, 2016 in আন্তর্জাতিক
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , ,

লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

%e0%a6%a8%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a6%bfমোদিজী নিজেকে দলিতদের সবচেয়ে বড় বন্ধু বলে দাবী করছেন। শুধু তাই নয় মোদিজী ও তার দল বিজেপি থেকে সংঘ পরিবার দিকে দিকে আম্বেদকারের স্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। যদিও ভারতীয় সংবিধান তৈরির শুরুর সময় থেকে সংঘ পরিবার এই সংবিধানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল। তাদের অভিমত ছিল যে, এই সংবিধান মনুস্মৃতিকে মর্যাদা দেয়নি। যা হোক, ন ক্ষমতায় আসার পর তাদের সেই সংবিধান মেনেই দেশ চালাতে হবে। অগত্যা আম্বেদকার নিয়ে আজ তারা মুখে অন্তত তাদের অবস্থানে ইউটার্ন করেছে।

হিন্দুত্ববাদীরা বরাবরই এ ধরণের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড অবস্থান নিয়ে চলছে। যে গৌতম বুদ্ধকে এক সময় তারা বেদবিরোধী নাস্তিক বলে চিহ্নিত করেছিলেন, তিনিই পরে হয়ে গেলেন ভগবান বিষ্ণুর দশমাবতার! ভক্তি আন্দোলনের নেতা শ্রী চৈতণ্যকে হিন্দুত্ববাদীদের একাংশ তীব্র বাধা দিলো (এমনকি অভিযোগ আছে তাকে খুনও করা হয়)। পরে তাকেই বানানো হলো ভগবান বিষ্ণুর খণ্ড অবতার! আগে তাকে আক্রমন করো। খলনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করো, পরে সে কাজে সফল না হলে তাকে অবতার বানিয়ে তার মৌলিক অবদানকে ভুলিয়ে দাও এই হচ্ছে তাদের পলিসি। সম্ভবত আম্বেদকারের ক্ষেত্রেও আজ তারা উক্ত নীতি অনুসরণ করতে চলেছে। তাছাড়া শিয়রে নির্বাচন। কিছু দিনের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও গুজরাটে নির্বাচন, মোদি তাই হঠাৎ দলিতপ্রেমী হয়েছেন। গোরক্ষার নামে যখন দলিতদের উপর হিন্দুত্ববাদীরা আক্রম করছে, মোদি তখন বলছেন, দলিতদের মারবেন না, দরকার হলে আমাকে গুলি করে মারুন।” কিন্তু গোরক্ষা আন্দোলনের নামে দলিত নির্যাতন কিন্তু প্রমাণ করে দিয়েছে বিজেপি এবং সংঘ পরিবার আসলে উচ্চবর্ণীয় হিন্দুদের স্বার্থের প্রতিনিধি। মোদি সরকারের আরো নানা কর্মসূচীও তাদের দলিতবিরোধী অবস্থানকে স্পষ্ট করছে।

সাম্প্রতিক কয়েক বছরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এই স্বঘোষিত গোরক্ষকদের আক্রম শুধুমাত্র মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং দলিতদের উপর তা আরো ভয়াবহ আকারে নেমেছে। ২০০২ সালের ১৫ অক্টোবর, হরিয়ানায় পাঁচজন দলিত চর্মব্যবসায়ী দায়াচাঁদ, রাজু, তোতারাম, বীরেন্দ্র এবং কৈলাসকে হিন্দুত্ববাদীরা ডিএসপি, বিডিও এবং থানার কর্মকর্তাদের সামনেই থানা লকআপ থেকে বের করে পিটিয়ে মারে। তাদের অপরাধ ছিল তারা গোহত্যাকারী। এই হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সভাপতি গিরিরাজ কিশোর ঘোষণা করেন, গরুর জীবন মানুষের জীবনের থেকেও মূল্যবান।” এনডিএ আমলে হরিয়ানার বাদশাপুরে মৃত গরুর চামড়া ছাড়ানোর অপরাধে পাঁচজন দলিতকে পিটিয়ে মারে এই নৃশংস গোরক্ষকরা। কিছুদিন আগে উত্তর প্রদেশের দাদরিতে মুহাম্মদ আলাককে শ’পাঁচেক হিন্দুত্ববাদী গোরক্ষক পিটিয়ে মারে। তার কিছুদিন পর হিমাচল প্রদেশে ট্র্যাকে করে গরু নিয়ে যাওয়ার অপরাধে কয়েকজন দলিতকে মারধর করে হিন্দুত্ববাদী গোরক্ষকরা। বিগত দু’বছরে এরকম আটন’টা গোরক্ষকদের আক্রমনের সাক্ষী থাকল দেশ। কর্ণাটকের চিকমাগালুরেও কিছুদিন আগে গরুর চামড়া ব্যবসায়ীদের উপর আক্রম করেছিল বজরঙ দল। একই রকম আক্রম সংগঠিত হলো লক্ষ্ণৌতে। সেখানে আক্রান্ত হলেন দু’জন দলিত। মধ্যপ্রদেশে মোষের মাংস রাখার অপরাধে দুজন দলিত মহিলাকে বেধরক পিটিয়েছে স্বঘোষিত গোরক্ষকরা। অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরি জেলায় গোরক্ষকদের হাতে নিগৃহিত হয়েছেন দুজন দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ। মোষ চোর অপবাদ দিয়ে উত্তর প্রদেশের আলিগড়ে চারজনকে মারধর করে বজরং দল। তবে শুধু আক্রমণই চিত্রের একটা দিক নয়, বিপরীতে আছে প্রতিবাদ প্রতিরোধের দিকটাও। সাম্প্রতিককালে গোরক্ষকদের দলিতদের উপর আক্রম নিয়ে সবচেয়ে বেশি শোরগোল হচ্ছে মোদি ঠাকুরের আপন দেশ গুজরাটে। সেখানে উনায় দলিত চর্মকারদের উপর গরুর চামড়া ছাড়ানোর কারণে চারজন দলিত সম্প্রদায়ের মানুষকে প্রকাশ্যে নগ্ন করে বেধরক পেটানো হয়েছে। হিন্দুত্ববাদীদের এ হেন আক্রমণের প্রতিবাদে দেশের দলিত, সংখ্যালঘু অংশের মানুষসহ ব্যাপক গণতান্ত্রিক মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন, যা সামগ্রিকভাবে আশার আলো দেখাচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দলিত সংগঠনগুলো মিলিত হয়ে দশদিন ধরে পদযাত্রা করেছে সামগ্রিকভাবে দলিতদের আক্রমণের নিন্দা করে। বিশেষত গুজরাটে উনায় দলিত পীড়নের অভিঘাতেই এই বিক্ষোভ সংগঠিত হয়েছিল। এই পদযাত্রায় স্লোগান উঠেছে “তুমহারা মা হ্যায়, তুম করো অন্তিম সংস্কার।”

গোহত্যা বন্ধের নামে এ দেশের গরী, দলিত মানুষদের ধনেপ্রাণে মারতে এরা বদ্ধপরিকর। কারণ প্রথমত, গোমাংস এদেশের একটা বড় অংশের গরীব মানুষের জন্য সস্তায় পুষ্টিকর খাদ্য। এনএসএসওর রিপোর্ট বলছে অন্তত ৫.২ শতাংশ মানুষ এদেশে গরুর মাংস খায়। যারা অধিকাংশই দলিত, আদিবাসী ও মুসলিম এবং শ্রেণীগতভাবে দরিদ্র। দ্বিতীয়ত, গোমাংস রপ্তানিতেও ভারত বিশ্বে এক নম্বর। দ্বিতীয় ব্রাজিল।

২০০০ সালের আরেকটি পরিসংখ্যান বলছে মাংসের জন্য এদেশে দুই কোটি ৪৩ লাখ গবাদি পশু হত্যা করা হয়, যার মধ্যে ৪০ শতাংশ গরু, মোষ। ফলত, এই ব্যবসা বন্ধ হলে তার প্রভাব পড়বে অবশ্যই গভীর এবং ব্যাপক, যার জন্য ভুক্তভোগী হতে হবে গরীবদেরই বেশি। শুধু গোমাংসের ব্যবসাই ন, তার চেয়েও ধাক্কা খাবে চর্মব্যবসা। কারণ, চার হাজার ট্যানারি ও ছোট বড় চামড়াজাত শিল্পে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়। এই চামড়ার অর্ধেকই আসে গরু ও মোষের থেকে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট (১৭ নভেম্বর ২০১৫) একটি বাস্তবকে সামনে এনেছে, তারা দেখাচ্ছে, যদি গরু হত্যা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে অন্তত ১৬ লাখ দলিত চর্মশ্রমিক এর ফলে সরাসরি কর্মহারা হবে। যে সব গরু বা বলদ চাষের কাজে অনুপোযোগী কৃষকরা তাদের বিক্রি করতে পারবে না, ল্টো তাদের ভরপোষ করতে হবে। যা একজন কৃষকের কাছে প্রায় অসহনীয়!

গরু হত্যা বন্ধ হলে বছরে এক কোটি গরু বাঁচবে, যদি ধরে নিই সেগুলো ৫ বছর অবধি বাঁচবে, পাশাপাশি নতুন গরু জন্মাবেও, অর্থাৎ সংখ্যাটা ৫ বছরে বেড়ে দাঁড়াবে অন্তত ৫ কোটি। সেই গরুকে প্রয়োজনীয় খাদ্য জোগান দেবার মতো সংস্থান এ দেশের নেই। কারণ, প্রথমত ইন্ডিয়ান ভেটেরেনারি কাউন্সিলের হিসেব অনুযায়ী এদেশে ৬০ ভাগ গবাদি পশুকে খাওয়ানোর মতো সঙ্গতি আছে, বাকিরা নির্মমভাবে পরিত্যক্ত হয় (আউটলুক ১০ মার্চ ২০০৩)। দ্বিতীয়ত, গরুর খাবারে জন্য প্রয়োজনীয় চারণভূমি এদেশে নেই। ঝাঁসির ইনস্টিটিউট অফ গ্রাসল্যান্ডের হিসেব অনুযায়ী, এ দেশে প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ৪৫ শতাংশ চারণভূমি আছে। পশুখাদ্যের অভাব আছে ২৫ শতাংশ। এদেশে গবাদি পশু আছে ৫০ কোটি, এর মধ্যে আরো ৫ কোটি গরু বাড়লে অবস্থাটা কতোটা খারাপ হবে! এমনিতেই গোপ্রেমী রাজস্থান সরকারের গোশালায় সরকারি অবহেলার কারণে কিছুদিন আগেই ৫০০ গরু মারা গেছে। বুন্দেলখণ্ডের ১৩টি জেলায় ৩ লাখ গবাদি পশু মারা গেছে জলের অভাবে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই গরু। এই নিয়ে গোমাতার সন্তানরা নীরব! আসলে গোরক্ষা এদের লক্ষ্য নয়। যদি তাই লক্ষ্য হতো, তাহলে গরুদের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে কিংবা তাদের চারণভুমির বিকাশে সরকার উদ্যোগী হতো। কিন্তু গরুসহ কোনো ধরণের গবাদী পশু রক্ষায় সরকারের কোনও হেলদোল নেই, তাদের মনপ্রাণ তারা সপে দিয়েছে বহুজাতিক কর্পোরেটদের সেবায়। গোপ্রেমের নামে তারা আসলে ধর্মের ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে এদেশের দলিত এবং সংখ্যালঘু মানুষদের আক্রম করে অবদমিত রাখার হীন চেষ্টা চালাচ্ছে।

মোদি এবং তার সংঘ পরিবার আজ হঠাৎ আম্বেদকর বন্দনা শুরু করলেও এটা তাদের একটা ভোট কুড়োনোর সস্তা নাটক ছাড়া কিছুই নয় কারণ, আম্বেদকার তাঁর সারা জীবনটা দলিত ও নিম্নবর্ণের মানুষদের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো এবং ইজ্জত নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে উৎসর্গ করেছিলেন। এমনকি একজন সংবিধান প্রণেতা হিসেবে ব্রাহ্মণ্যবাদী ঘেরাটোপের মধ্যে থেকেও তিনি দলিত এবং নিম্নবর্গের মানুষদের নানা সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে গেছেন। আজ মোদি মুখে আম্বেদকারের প্রতি ভক্তি দেখালেও কার্যত আজো তিনি আম্বেদকারের ভাবনার উল্টো পথেই হাঁটছেন। তাই তো আমরা দেখি মোদি শাসনের দুবছরে সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘিত হয়েছে সংবিধানের নির্দেশমূলক নীতিগুলো (ডাইরেক্টিভ প্রিন্সিপলস)। দিকে দিকে দলিত ছাত্রছাত্রীদের উপর আক্রমণের ঘটনা বেড়ে চলেছে। রোহিত ভেমুলার ঘটনা আজ আমরা সবাই জানি। যে ঘটনা বিজেপি দলিতদের প্রতি মনোভাবকে আরো স্পষ্ট করেছে। অঙ্কিত আম্ভোরে, রোহিত ভেমুলা, ডেল্টা মেঘাওয়ালের পর অতি সম্প্রতি আরো একজন দলিত ছাত্রীর প্রাতিষ্ঠানিক খুনের ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল মহান ভারত। সম্প্রতি কেরালার এমাকুলাম জেলায় ঘটনাটি ঘটেছে। ২৮ বছরের আইনের ছাত্রী জিশা আত্মপরিচয়ে একজন দলিত। তাকে গণধর্ষ করে হত্যা করা হয়েছে। পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে, হত্যার আগে তার সাথে যা নৃশংস আচরণ করা হয়েছে, তাকে বর্বরতা বললে কম বলা হবে। তার যৌনাঙ্গে লোহার রড ঢুকিয়েই শুধু খুনীরা খান্ত থাকে নি, উপরোন্তু তার স্তনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চিরে দেওয়া হয়েছে এবং মাথায় কঠিন ধাতু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে একাধিকাবার। বিজেপির আমলে বস্তুত দলিত জনগণ যে আর কোথাও নিরাপদে নেই এ ঘটনা আরেকবার তা প্রমা করলো। বস্তুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন দলিত ছাত্র সংগঠনকে দেশ বিরোধী ছাপ্পা দিয়ে মোদি সরকার কার্যত তাদের নিষিদ্ধ করতে চাইছে।

শুধু তাই নয় সিডিউল কাস্ট সাব প্ল্যান এবং ট্রাইবাল সাব প্ল্যানএর ক্ষেত্রে মোদি সরকার কার্যত তাদের বাজেট বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে! সংবিধানে ১৯৭৪৭৫ সালে, পঞ্চম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময় দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আর্থিক পার্থক্য ঘোচানোর জন্য ট্রাইবাল সাব প্ল্যান তৈরি করা হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৭৯৮০তে ষষ্ট পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময় সিডিউল কাস্ট সাব প্ল্যান তৈরি করা হয়। প্রতিটি বাজেটেই কিছু নাম কা ওয়াস্তে বাজেট বরাদ্দ থাকে এই সাব কমিটিগুলোর জন্য। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই বাজেট বরাদ্দও তলানিতে নেমেছে। পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে জনসংখ্যার অনুপাতে যেখানে এই বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা তা উল্টো কমে গেছে! গত দুবছরে মোদি সরকার দলিতদের এক কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ১২৭ কোটি টাকা এবং আদিবাসীদের ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪০ কোটি প্রাপ্য টাকা থেকে বঞ্চিত করেছে। সাফাই কর্মচারী ও মেথরদের ক্ষেত্রেও যদি দেখি, তাহলে দেখা যাবে দলিতদের মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত এই অংশটা, যারা দলিত জনসংখ্যার প্রায় দশ শতাংশ, তাদের স্বনির্ভর প্রকল্প ও পুনর্বাসন প্রকল্পের আর্থিক অনুদান মোদি সরকার কমিয়ে দিয়েছে। ২০১৩১৪ সালে যা ছিলো ৫৫৭ কোটি, ২০১৪১৫ সালে তা কমে হয়েছে ৪৩৯.০৪ কোটি এবং ২০১৫১৬ সালের বাজেটে তার বরাদ্দ সামান্য বেড়ে হয়েছে ৪৭০.১৯ কোটি, যা অবশ্যই পূর্বতন সরকারের তুলনায় এখনো যথেষ্ট কম!

সাফাই কর্মীদের মধ্যে যাদের সন্তানরা সাফাই কাজের বাইরে অন্য পেশার সাথে যুক্ত হতে চায়, তাদের উৎসাহদানের ক্ষেত্রে ভারত সরকার এমনিতেই উদাসীন, তবু লোক দেখানো একটা প্রিম্যাট্রিক স্কলারশিপ ব্যবস্থা চালু ছিল। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার পিছনে বরাদ্দ সামান্য বৃদ্ধি করেছিল। পূর্বতন সরকার যেখানে বরাদ্দ করেছিল ২০১৩১৪ সালে ৯.৫ কোটি টাকা, মোদি সরকার সেখানে বরাদ্দ করেছিল ২০১৪১৫ সালে ১০ কোটি টাকা, অর্থাৎ বৃদ্ধি পেয়েছিল ৫০ লাখ টাকা, মজার বিষয় হলো ২০১৫১৬ সালের বাজেট বরাদ্দে তা কমিয়ে নামিয়ে আনা হলো দুই কোটি টাকায়! এই হলো মোদি সরকারের দলিত প্রেমের নমুনা! আসলে এ হলো দলিতদের প্রতি এক ছলনা। একদিকে আম্বেদকারের মূর্তি গড়া, অন্যদিকে আম্বেদকারের চিন্তাধারাকে ভুলিয়ে দেওয়ার হীন কৌশল মাত্র।।

//২০১৬

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s