religion-discourse

অন্তিমের আনন্দধ্বনি’ শীর্ষক কাব্যসংকলনটি এখানে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। আজ প্রকাশিত হলো তার দ্বিতীয় কিস্তি।

.

০৪. রাজনীতি

——————————–

শতবছরের রাজনীতির ফলেনি ফসল এই ভূখণ্ডে

কেবল ভুলের স্তুপ,জঞ্জাল সিদ্ধান্তের

তবে কেন এত বলিদান মানুষের?

শতভাগ শতনামে শত মতের ক্ষুদ্রঅনুকণা

নয় কি ভুল অপরিমেয় ক্ষতির হিসাব?

আর্থহীন মোহান্ধতা,এক উগ্রতার দলিল অযাথা

শ্লোগান সমঅধিকার,

সাম্যসুন্দর ভোঁজবাজির সম্মোহন দোধারী তরবারি

ক্ষমতারলোভ একধারা শ্রেণীর চলমান বৈপরীত্য সর্বহারার,

নয় কি আরেক স্বৈরাচার রূপে?

সমসুখের সচেতনপ্রয়াশে রাষ্ট্রশক্তির দলন পেষণ

নয় কি ধর্মহীনতার স্পষ্ট পরিণাম?

প্রিয় বান্ধব

এমন সরল যোগ বিয়োগ রাজনীতির

চিন্তার এতোটা সরল সমীকরণ অচল যুক্তির। সংগ্রামই

মানুষের ইতিহাস,

তার পতনে ক্রিয়াশীল পরিস্থিতির ভুল মূল্যায়ন,

নিখূঁত প্রজ্ঞাপূর্ণ বিশ্লেষণ উদ্ভাবন

কঠিন সে কঠিন, তেমন ঘটনা হামেশাই দৃশ্যমান

ব্যক্তির পতন কিংবা দুর্ভোগ কিংবা অনুপস্থিতি

গুরুত্বহীন বরং দাবীর প্রজ্ঞাপূর্ণ বিশ্লেষণ সমাজচাহিদার

বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিতসায় দরকার অনুধাবন

ইতিহাসের রায়।

খাপবদ্ধতা দূরীকরণ সিদ্ধান্ত দূরআলোকে গ্রহণ প্রয়োজনীয়,

দরকার বিশ্বপরিস্থিতির নিবিড় ’লোকন,

মোহমুক্তির অনুশীলন আত্মিক শক্তির উত্থান

তেমনটির অভাব প্রকট।

ধর্ম কি অচল বিশ্বাসপরাগায়ন ? পরকাল ভাবনাও কী খুবই ফলদায়ক সমাজে

কিংবা আরও আগে পরে, আছে কি প্রমাণ?

এও এক আরোপ বিবেচনাহীন বসবাস সুখের অলিক স্বপ্ন কামনা

কেবল রক্তচক্ষু বাধ্যবাধকতা

সমাজে নিত্য বিদ্রোহ প্রজ্জ্বলমান সূর্য যেন

প্রতিমুহুর্তে প্রবল শক্তিক্রিয়ায় যদিও অনুষঙ্গ দৃষ্টিতে ধীর,

দরকার দ্রুতগতি রাতারাতি যাকে বলে ‘বিপ্লব’

ধর্ম কি ধারণে পারঙ্গম সেই সব? সহ্য ক্ষমতা কি তার অবারিত, ছাড় কি সম্ভব!

সামান্য পরিবর্তন সে কি মানবে? রাষ্ট্র কী একক বিশ্বাসের ঘর?

কত মত কত ধারা একই ঘরে সমাজ সংসারে

একই ধর্ম কত ভাগে ভাগ কতরকম রীতি ও রেসালা

নয় কি এসব ব্যক্তির কামনার বিলাস?

এক পুকুরের কত জলজপ্রাণী জিয়ল চিতল সবারই প্রয়োজন জল,

মানুষের রাষ্ট্র

আসলে তো ধর্মের রাজনীতি এক তামাশার ব্যবহার পরকাল ইশারা

প্রবল সে রূপ বিপরীত মত ঘৃণার তুমুল আয়োজন এমন কী সংহারে

মোহ ক্ষমতার সামাজিক ন্যায়ের অস্বীকার। নিয়মগুলো সবই সব ধর্মের বিবৃতি

ন্যায় ভাববিলাস নয়.. সে কর্ম, সমাজ সমৃদ্ধির কল্যাণের

সমঅধিকারে কর্তব্যের স্থিতি , বিলাস নয় অলিক প্রাপ্তির

কর্মবিমুখতায় ধর্ম নেই সে কেবল প্রতারণা।

হ্যাঁ আপনার আঙুল কমিউনিস্ট এবং কমিউনিজমের দিকে,

তারা আপনার ধারণার বিপরীত তাই কালো তাই নাস্তিক

পরকালহীন নরকবাসী, অপরাধী জাগতিক জীবনের মতো

এও এক রাজনীতি, কেন্দ্র রাজনীতির দিকে,

তার ধ্যান পুরানোয় পিছন দিনের; মধ্যযুগে

যে কাল আজ আর নেই

যা কিছু অর্জন সব মানুষের কর্মে যা কিছু নতুন সবই মানুষের

বার বার অভিজ্ঞতার হয়েছে বিনিময়

রাষ্ট্র আজ আর একক কোন সত্তা নয় ভবিষ্যত নতুন দৃষ্টিতে

প্রবল যখন তখন চলমান ধারণার রূপ

সে আরেক নতুন

মানুষ নতুনে প্রতিদিন, তবু আবদ্ধতার শক্ত বেরী তার পায়

সত্য এই তার জন্য কর্ম, কর্মই ঈশ্বর

১০০ বছর জীবনের ক্ষয় সে অনেক এই বেদনা ভুল

ধর্মের নামেও খুন সে অনেক সে অনেক

ধর্মের নামে নারী নির্যাতন হেরেম বন্দীর জীবন

খলিফা বদল তো আগুন কিয়োর নয়ত বস্তাভর্তি সাগর সমাধি

নতুন খলিফার নতুন সংগ্রহ সে কি? মানুষ তো..বাদশা নবার সকলের হেরেম

আর ধর্মও কি নয় ভোগাকুল

কামনাপূর্তির একই উৎ্সব ?

যেখানেই প্রভু আছে সেখানেই দাস

দাসপ্রবণতা মানুষের মনে এখনও প্রবল আর স্বাধীনতার আকাঙ্খায়

সভ্যতা বিকাশমান, বিজ্ঞান ও ব্যবহার, রীতি ও রুচি, সুচি ও শুচিতা নতুনের,

যার মিল ব্যক্তির ভাবনায় ছেঁড়া লেপ্টানো

গতিশ্লথ এবং ফাঁদের গন্ডিতে রুদ্ধ তার মুক্তির আকাঙ্খা

প্রয়োজন কর্মবিস্তৃতির মনজগতের ‘স্বপ্নপ্রসার’ কর্ম,

কারও বিশ্বাস অপর বিশ্বাসে যদি দমনপ্রিয় সে ন্যায় নয়

রাষ্ট্র অনেক বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

ধর্ম ব্যক্তির, ব্যক্তির পরিপূর্ণতায় রাষ্ট্র শুভের দিকে

ব্যক্তির ইচ্ছে ধর্ম কখনো নয়, আর আজ

দরকার সচেতন প্রতিরোধ

যা নয় তার জন্য আফসোস কমিউনিস্টের না,

পরাজয় এই চিন্তাও, সামগ্রিক সব দায় তার, তাও না

আফসোস; সে ও ভুল

————————————————————————————————————–

.

(এই কাব্যসংকলনের ৫ ও ৬ নম্বর কবিতা দুটি কবি নতুন করে সম্পাদনা করছেন। পরবর্তীতে তা এখানে যুক্ত করে দেওয়া হবে।)

.

————————————————————————————————————–

.

০৭. বিশ্বাস এবং অন্যান্য

————————————————————-

অন্তিমের আনন্দধ্বনি

অন্তিমের আনন্দধ্বনি

আগন্তুক:

বিশ্বাসই যদি দুর্বল তো অবিবিশ্বাসের স্থিতির ভাণ্ড উপচানো

সে হলো শয়তানের আনন্দ

প্রকৃত ধার্মিকের বিবেচনা তার নিয়মে

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যিনি কর্তা, নয় কি তিনি সব কিছুতে অস্তিত্বমান

তার নিয়ম রীতির মঙ্গল প্রতিষ্ঠাউদযোগ একজন বিশ্বাসীর; সে জরুরী

মানুষ কল্যাণের প্রার্থী সে কি তার নিজস্ব উদ্ভাবন কোনো?

সে কেবল মাধ্যম: স্রষ্টার উপস্থিতিছাড়া কোনো কিছুর

উপস্থিতি থাকে কি চারপাশে? সেসব তার ইচ্ছার নীরব নির্দেশ

একজন প্রকৃত বিশ্বাসী উকিলের মতো যার লড়াই বিশ্বাসে

সেই সত্যে পৌঁছানোয় এবং প্রতিষ্ঠায়

প্রিয়জন

.

মসজিদের আযান ধ্বনি; কাছের

সন্ধ্যার প্রশান্তি আশপাশের বনবীথিতে

দু’একটি শালিক তখনও চাষার লাঙলের পিছু পিছু বাড়তি আহারের খোঁজ

অনেকক্ষণ চোখ বুজে বৃদ্ধ মানুষটি, সে বড় ক্লান্ত আজ

যেন পৃথিবীর সব ক্লান্তি সব শ্রান্তি চোখেমুখে প্রকৃতির নানা আওয়াজ

প্রকৃতিতে

কত কথা জীবনের

ব্যক্ত তার কতটুকু অথবা বলার ছিল কত

কি লাভ আজ তাতে, পৃথিবী কি পেত কোনো গতিবেগ

নাকি নীরবই সব হৃদায়াবেগ

.

খোলা চোখ আগন্তুকের দিকে তার চেহারায় সান্ধ্যপ্রার্থনার ছাপ

হাতে চয়ের ফ্ল্যাক্স হাল্কাখাবার, কিছু আঙুর টসটসে

তন্দ্রাক্লিষ্ট তিনি! জাগরণ কেবল একটা শব্দ! দৃশ্যের দুয়ারে দু’কাপ চা

দৃশ্যমান ট্রেতে আর একটু খাবার

নিজামের উপহার

আঠার উনিশের যুবক পরিচয় পর্বে সে বৃদ্ধের সঙ্গী

নিন এগুলো তারপর ওগুলোওবিফল নয় কিছু, প্রগলভ হাসি

হ্যাঁ শোনো রাতের আহারটা হোক দেখ কি আছে

নির্দেশ নিজামের দিকে

এই আতিথিয়েতা কি ‘খৃষ্টের লাস্ট সাফার’?

এই অনুভুতি নিষেধের নয়

শেষ নির্দেশ আর প্রীতির

.

প্রিয় বন্ধু

আজ আমার শেষ উপস্থিতির ক্ষণ, তরুণটি অজ্ঞাত

নিয়মের ব্যাতিক্রম সন্দেহের প্রবল্যাকুল অস্থিরতায়

তার ঘুম তারপর

আমি জাগ্রত, তার জাগরণে আমার ঘুম অনন্ত সময়ের

একজন বর্তমানে অন্যজন অতীতে

কোমর অবধি আমি অচল মৃত্যুর পরশ দ্রুতগামী

আপনার কিছু প্রশ্নের জবাব জরুরী

জানা নেই

সে কি আদৌ প্রয়োজনীয় কিছু?

—————————————————————————

.

০৮. বিশ্বাস

——————————–

ঈশ্বরের জ্ঞানের সীমায়

যেমন প্রত্যেকে তোমরা একাকী দাঁড়িয়ে আছ

তেমনি একাকী হও তোমার নিজনিজ ঈশ্বরজ্ঞানের

পৃথিবীর জ্ঞানের মধ্যেও-’[জিব্রান]

.

ঈশ্বর কি খুব দূর ঈশ্বর কি খুব কাছের!

কতদূর তার অবস্থান কত কাছে তার আত্মগোপন সে কি এক ভাব এক অনুধ্যান?

ভাবনার গভীর তলথেকে নানা আকার কখনও উর্ধ কখনও পাতাল

সমভুমির দৃশ্যাবলী দৃষ্টির গোচরে? না সেখানে নাই

হয় সে উপরে হয় সে বহুতল শেষে ব্যক্তির অনুমান

ভাবনার গতিবেগ অসীম কল্পনার লাগাম ধরা এবং

তারপর এক সিদ্ধান্ত ওখানেই , কিম্বা

নয়, তার প্রমাণ তার নিজের সিদ্ধান্ত অথবা আগের কত কত বছরের পর

এভাবেই ব্যক্তির ভাবনা সমাজে, সমাজের ভাবনা রাষ্ট্রে স্থিতি চায়

আর যুক্তির ধারাগুলো নানামূখী কখনও কেন্দ্রের কখনও বিপরীত প্রবল আকার প্রকার

ঈশ্বরের দিকে নিজ বিশ্বাস প্রথিতের ইচ্ছা

কল্পনায় ঈশ্বর গড়ে প্রতিদিন প্রতিক্ষণে

গুণাবলী মানবিক, অভিজ্ঞতার অনেক অংশের ক্ষয়ে লয়ে

বাড়তি কিছুর যুক্ততা

প্রতিবার ব্যক্তির বিশ্বাস থেকে চলমান বিশ্বাসের বিবর্তিত রূপ নতুন কিছু যুক্তি

নানা পথ ও মতের নানা ধারা বেগ

তাই আমাদের শুরুর বিশ্বাসের নানা রূপায়ন বিভক্ত মানুষ

একই আদর্শের ঘরে আরও কতকের হানা সে কেবল ধর্ম ভিত্তির নয়

সকল বিশ্বাসে

আদর্শের ক্রাইসিস সমাজের সৃষ্টি

নইলে যে স্বার্থের দরজা লুট ফুরিয়ে যায় আমির বিলাস

পতন ঘটে স্বৈরাচারের

কর্মের সকল বিশ্বাস যুক্তির ধারায় প্রবল পরগাছাগুলোর বিলোপ

.

চেতনার বাতিগুলোর ঔজ্জ্বল্য বিশ্বাসীর স্নিগ্ধ প্রকাশ

অন্যথায় মোহান্ধতার ওড়াউড়ি।

সীমার মাঝে অসীম’, সে মানুষ, মানুষের সুর তার আপন তার মানবতা

যার গীত সে গায়, আর মানুষের মধ্যেই

অসীমের প্রকাশ কামনা বাসনার মুক্তি

কর্মের পেন্ডুলাম

কর্র্মবিহীন জগত নেই জগত কর্মে সচল

————————————————————————————————————–

.

০৯. বিশ্বাস ও রাষ্ট্র

————————————————

বিশ্বাসীর জমিন যদি ঈশ্বরের : নানা তার রূপ, নানা দর্শন

কতরূপ বিশ্বাসের একই ভূমায় খাদ্যে অভ্যেসে বাঁচার প্রবল্য

ঈশ্বরের রূপ নানারূপে রূপময় একেক জনের কাছে

এক এক স্বপ্ন জগত কিন্তু দৃশ্যগুলো ভিন্ন প্রতীকের

বিশ্বরূপী রাষ্ট্রের অপূর্ব প্রকাশ

তিক্ততা স্বার্থের, মিল আর অমিলে এক ছদ্মবেশমুখোশের

দুঃখীরা ভাবলেশহীন, ক্ষমতা দখলকারীরা আর তার উমেদার কড়ির দিকের

আর আমজনতার স্বর্গসুখউল্লাস আশা জাদুর মন্তর ছিড়তে গেলে

পাপী,কাফের,বদনসীব, সমাজচ্যুতির হুমকি উলঙ্গকরণ খুন চাপাতি

হাতিয়ার বহুরূপী

কেন নয় ঈশ্বরের বাগানের ফোটা শতফুল শতবর্ণের শতআহ্লাদের

সতত ধারার মিলন তীর্থভূমি

রাষ্ট্র স্রষ্টার রাজ্যের স্বভাবকে স্বীকৃতি দেয়

বিপরীতে বিশ্বাস জগদ্দল এক পাথর অনঢ় কঠিন চাবুক

বিশ্বাসীর কামনা রাষ্ট্র এবং বাসনা দখল তার ভোগ

মানুষের ঐক্য খন্ডিত রক্তলাল ভূমি

অস্বীকার ঈশ্বরের রূপবৈচিত্রময়তার দিকে

ঈশ্বর রুদ্ধ তার দাসের আজ্ঞায়

নইলে সে মৃত বাসনার খাঁচায় রূপবৈচিত্রহীন বন্দি

বিশ্বাস ভয়ংকর তার কাজ অন্যের বিশ্বাসের অঙ্কুরউৎপাটন

সে প্রগতিশীলতা অথবা ঈশ্বরের

[কারণ সবটাতেই ব্যক্তি/গোষ্ঠীর আরোপ রয়েছে ]

কেবল ক্ষমতা নিরবিচ্ছিন্ন ক্ষমতা আজ ঈশ্বর ’কাঙ্খার রূপ

কর্ম কে ডাকতে হবে বন্ধু আয়োজন হোক তার।

————————————————————————————————————–

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s