লাল সবুজ পতাকার গল্প

.

bird-of-freedom-liquid-abstract-art-fluid-painting-3সকল বাঁধার দেয়াল ডিঙিয়ে একটা স্বপ্ন বেড়ে উঠবার খবর যখন চাউর

তখন মগজ ফুটছিল কংসের

আর জন্তুগুলো নাচতে নাচতে ধেয়ে এলো ইস্পাত নলের আগুন ঝরিয়ে

আর অরক্ষিত গোলায় আগুন

আর জানোয়ারগুলো হয়ে উঠল জানোয়ার জানোয়ার

তারা পুড়িয়ে গুড়িয়ে হত্যায় ধংসে যখন মত্ত

ঠিক তখন নতুন স্বপ্ন ভুমিষ্ট হলো স্বাধীনতার চিৎকারে

.

তখন আকাশ মাটি আর দাঁড়িয়ে দেখছিল না কিছু

তখন তারা অভয় হলো মাটি মা হলো সময় হলো প্রচণ্ড ঘূর্ণির

বৃক্ষরা আড়াল হলো প্রান্তর হলো মহাকাল জানোয়ারের পা দিল আঁটকে

আর মানুষের প্রতিকার হলো উদ্যাম নদীর গতিবেগ

কণ্ঠ হলো তীর্ব তীক্ষ্ণ জাগরণী সংগীত

কংসের কারাগার ভেঙে উড়ল বিজয়ের পতাকা

সেই থেকে আমরা স্বাধীন লালসবুজ আমাদের পতাকা

———————–

অস্থিরতার দিনগুলো

.

প্রান্তরের বৃক্ষগুলো এখন আর বৃক্ষ নয় আসলের নকল

যে রকম চিনা কারখানায় ডিমের কুসুম

লাফিয়ে লাফিয়ে যে চলে সে ব্যাঙ কথা বলে

আদিকালের কোনো দেবতা বুঝি তার মুখে কবিতার ছন্দ

ভাষাগুলো বদলে গেলে পর

মানুষও বৃক্ষ হয়ে যায় অস্তিত্বের নিঃসঙ্গ ভ্রমণ

তারপর হাঁটাহাঁটি বৃক্ষদের তেপান্তরে পেশি ও মগজ বিক্রির লাইন

তামুক পুড়ছে গাঁজা উড়ছে আর বহুজাতিকের ঘরে ছটফট করছে স্বর্ণমুদ্রা

.

সেই ভেবে একালে ঋষী না কি সর্বগ্রাসী বিজ্ঞানের গতি মুখ

প্লাবনের মতো বৃত্ত ভাঙে

খালাশ করে শ্রেণীগুলো দুই দিকে

আর উড়াল পাথরগুলো গুড়ো করে পুরাতন সমাজ

ওপাশের ঘরে লেসবিয়ান শিৎকার, লণ্ঠন নড়ে

.

কিন্তু সেতো জানে না

সময়ের হাওয়া পেলে গুড়োগুলো দলা হয়ে যাবে

তারপর অখণ্ড পাথর

তারপর সব বৃক্ষ নগরমুখি

ভাঙচুর দলামোচা সভ্যতার খোলস ছেড়া আদীম উল্লাস

.

তারপর

বিজ্ঞান সোজা হাঁটে প্যাদিনীর চোটে।।

————————

০২.

.

….আর কুকুর কুকুরি! চোখের যৌনতা লোমকুপে কামনার ঘাম

হাঁপরের টানে ফুসফুস নামে ওঠে আরো হাওয়া চাই

কয়টা লাল বাদাম পাতা ঘূর্ণি হাওয়ায় দুলে ঝাপটা মারে

খসখসে আওয়াজে কেটে যায় কুকুরির ঘোর

জানালায় যার মুখ ছিল

.

সরে গেল একটা লাল পাতা সাপটে ধরে কাচের শাটার

মুখ মুছে হাওয়া, হাওয়ায় ধুলো ওড়ে যাবতীয় স্মৃতি সহসা আগুন ধরা এক অনুভব

ঝুপঝুপ বৃষ্টি, নদীর ঢেউ ডোবায় প্রান্তহীন মানুষের পলিথিন ঘর

ছিটকে যে পড়ে অফিসগামী লিপস্টিক ঠোঁট কাদার অর্বুদ চশমাটা ভাসে

আর নির্জন ঘরে কাজের মেয়ের কোমর ঝাপটে ধরে জানোয়ার

শান্তির চুক্তির সই সাবুদ শেষ এখন তো ভাগাভাগি

.

স্বামীজির খাড়া শিশ্ন মোদির মাথায় আশির্বাদ ঢালে

এ ভাগ কার হবে! কার মধ্যদিয়ে কারা কারা পাবে

এসবও নির্ধারণ হবে আগামীর কোনো দিনে

রুশ বিমানের ধোঁয়া দেখে এক নতুন উত্তেজনায় কুকুর কুকুরি মাতে

হোয়াইট হাউজের বারান্দায় যিশু তার হাতে শান্তি নামের রক্ত পতাকা নাড়ে

ঝাপসা হয়ে আসে সব বৃষ্টির প্রলাপে।।

০৫.১২.১৫

————————

০৩.

.

ভুমধ্যসাগর ঢেউ ফিরিয়ে দেয় ফুটফুটে শিশুটির লাশ

ক্যামেরাগুলো ঝলকায় বিরামহীন আর রিপোর্টার বিবরণ কাঁপায় ইথার

নপুংশক পৃথিবীর যাবতীয় যোগ্য সন্তান ফিনে ফিনে বিছানায় পরখ করে

কতটা যোগ্য হাতিয়ার প্রাচীন থেকে আজিকার অবিরাম ঘর্ষণে গর্জায়

শিশুটি এখন ধরিত্রিমাতার শুয়ে আছে কোলে জল ছুঁয়ে গেলে নড়ে যেন হাত পা ছোড়ে

.

ফুটফুটে শিশুবলে ক্যামেরার কাঁরুকাজ আরো ঘনো হয়ে বসে মুখে ঊর্দ্ধমুখি পায়

আর শাদা চামড়ার দেশ চেয়ে দেখে ও কালো নয় শাদায় শাদায় ছাতা মেলে

কত পড়ে থাকে আফ্রিকায়, কতো এশিয়ায় সাগরের জলে দোলে

খাঁচার ভেতর গঞ্জালোর চোখ জ্বলে উলঙ্গ অধ্যাপক মাপে

পশু আর মানুয়ের দূরত্ব ঠিক কতোটুকু?

.

নেশার বড়ি নামে নকল বিদ্রোহী মেশিনের পেটে

দিনরাত সমান সমান

চালাও, হত হও বিলুপ্ত হও নিজের ধনুকে তীরবিদ্ধ হও

চালাক শিয়াল হাসে

.

মানবতা নিরবে কাঁদে

সে দেখে এক আয়োজন সর্বগ্রাসী যুদ্ধের সুদীর্ঘ পরিকল্পনার একটা বয়ান

চলছে সব কিছু দখলের উৎসব

ড্রাম বাজাও

—————————

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s