মতিন বৈরাগী’র কবিতা – ১২

Posted: জুলাই 19, 2015 in সাহিত্য-সংস্কৃতি
ট্যাগসমূহ:, , , , ,

abstract-art-432

চলো এবার

.

নিঃসঙ্গতার এই সময়ে ঘরকে ছাড় বাইরে চলো

সড়ক দেখ পথকে দেখ মানুষ দেখ

মানুষ খোঁজ নতুন করে নতুন মুখে শব্দ শানাই

ঘুম ভাঙাতে মাতৃভূমির সুরটি যেনো বলছে কথা

উঠলে জেগে গণমানুষ আমিও জাগি তাকাই ফিরে

শত বছর ঘুমের পরে

.

নিঃসঙ্গতার এমন দিনে সব কিছু তো নিঃসঙ্গ নয়

নীরবতার পভীরতলে ঘুমকাতুরে যেইটুকু স্রোত

ধারারধারা চলছে বয়ে চলো এবার তাদের কাছে

শহর ভেঙে পলল কাদা সবুজ করে মাঠের শোভা

চলো এবার তাদের দেখি

.

চলো এবার নায়ের কাছে পানির কাছে পাখির কাছে

সবুজ দেখি দিগন্তে যাই পায়ে চলার পথিক দেখি

হাঁটার পথে মাঠের পথে শ্যামল ছূঁয়ে জীবনমুখী

রাত্রিদিনের সীমার কাছে সিমান্ত হই

হৃদয় মেলে হৃদয় খুলে মানুষ দেখি

আকাশ দেখি চাঁদকে ডাকি

পবন আনুক মেঘ ঘনিয়ে ঘূর্ণি তোড়্

ঈশান কোনে ডঙ্কা বাজুক ডঙ্কা বাজুক ডঙ্কা বাজুক

———————

যন্ত্রণার একতারা বাজে

.

দিনের শেষের গোধুলি রাঙানো আকাশ একটু আলোক

এখনো রয়েছে, মগডালে

এরপর পেচকেরা এরপর বিড়ালেরা সাপ ব্যাঙ উঁই

নির্জনতার এই ঘর দেয়ালের অন্ধকার চুপচাপ আরেক দিনের অপেক্ষা

আরেক গীতির মাঝের সময়টুকু চাটে

গুদামের পচাগম হাঁটে

.

এক হুলো হেঁটে যায় দলপতি বেশে সময়ের খল নায়কের বেশ

বাঘ লেজ দুই পাশে দোলে

কত হুলোদের আকাশ উড়াল চারদিকে স্কেলেটরে বিড়ালিনী হাসে

তারপর ভোঁজসভা হরিণের মাংস হুলোদের হুটোপুটি শ্যাম্পেন ঠোট

চিয়ার্স মিউ চিয়ার্সহুলোদের জয়ধ্বনি: টেন্ডার কয়টা ফাশ! কয়টা লাশ!

তারা গায় উই শ্যাল ওভারকাম

.

যখন ঘুমের কোমল হাতের স্পর্শের শতেক আয়নায় লুকোচুরি

যোজন যোজন পথ পেরিয়ে তুমি আসো হাল্কা বাতাস

আমার কল্পনা বহুরূপী ভগবান

আমি দেখি বৃহষ্পতি পাখা মেলে আমারই জানালায়

দেয়ালগুলোর সব শাদা মুছে গিয়ে ফোটে অলোকের আঙরাখা

আমি রূপান্তরিত হই একটি পোকা ছয়পায়ে হাঁটে

আর তুমি তরল জলের ধারায় হয়ে যাও কুহক রজণী

এই ঘরদোর এই পরিপ্বার্শ কিছুই থাকে না :

থাকি আমি আর তুমি কেবল কল্পনা

তারপর এক খরগোশ দুইচোখে পর্দা ফেলে জাগে

যন্ত্রনার একতারা একটানা বাজে

২০.০৬.১৫

——————

এই খানে বসি যখন

.

এই আলোছায়া এইখানে বসি ঝিরঝিরে হাওয়ায়

ছনের শরীর দোলে

তোমরা পুরানো দিনের গল্প বল ডাঙ্গুলির, উড়ে আসো বসো

হাসো, আজও নদী বয়ে যায় শ্রুতধ্বনি ম্লান রোদে

বাজে রবি ঠাকুরের সেই গান

প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে মোরে আরো আরো আরো দাও প্রাণ’

তোমাদের সেই যেন গোধুলির নানা রঙা নাম;

শরীরের ঝরা নুন, সেই ক্ষণে স্পর্শে জাগে আলোর আঙ্গুল

তোমরা আর নেই

.

একদিন সময়ের ডাকে চলে গেছ রাইফেল হাতে

আমরা রয়েছি যারা পালিয়ে পিছিয়ে বেশ তো বেঁচে আছি

তোমরা হারিয়েছ, পতাকাটা ওড়ে

যারা হেঁটে চলে খেয়ে ঢেলেছিল কামনার জল

তারা আজ হাঁটে গায় খায় উড়িয়ে উড়ায় চেতনার রঙ

বক্তৃতার গাছে

তোমারা তো নিলামের স্মৃতি নগরে বন্দরে

মানুষেরা নুয়ে পড়ে পাষন্ডের ঝড়ে গুম হয় খুন হয়

অথচ আমি শুনি সেই সব ধ্বনি পাঞ্জাবী পশুর দাঁতের ঘষটানি

আমরা তরলে নাচি হাসি গাই

কেবল তোমরা পারনাস্মৃতির মিনার কাঁদে

১৭.০৬.১৫

—————

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s