খুনীকে জানা যাবে ধরা যাবে না

Posted: জুলাই 13, 2015 in দেশ
ট্যাগসমূহ:, , , , , , ,

লিখেছেন: জাহেদ সরওয়ার

rajan-murder-2015রাজন নামের শিশুটিকে খুচিয়ে খুচিয়ে মারা হলো সেটা আবার ভিডিও করা হলো ভিডিওটি আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হল। এই পুরা কর্মপ্রক্রিয়ার পেছনে যাদের কারো না কারো বুদ্ধি শ্রম পরিকল্পনা কাজ করেছে। তিনি একটা ঘটনা নির্মাণ করে চলেছেন, তিনি নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন। এই সব ঘটনা পরম্পরায় পরিকল্পনাবিদের পরিকল্পনা দ্রুত কাজ করে চলেছে। সাম্প্রতিক অপরাধ বিজ্ঞানের ভাষায় অপরাধ ঘটানোর ক্ষেত্রে নবীন অপরাধী তার নিকটতম প্রবীন অপরাধকে ফলো করে ভেবে দেখে তার স্থান কোথায়। যখন হরহামেশা একই ধরণের অপরাধ ঘটতে থাকে। তখন নবীন অপরাধী নিজেকে আর একা ভাবেনা সে বৃহৎ এক অপরাধী সমাজের সভ্য বলে মনে করে তখন নিজেকে।

rajan-murder-2নিকট একবছরের বাংলাদেশে অপরাধ পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে বাসের ভেতর গাড়ীর ভেতর পেট্রোলবোমায় কয়লা হয়ে গেছে মানুষ। এমনকি একই পরিবারের সব মানুষ পুড়ে পরিবারের বিলুপ্তি ঘটেছে। কিন্তু বলা হয়েছে এরা অদৃশ্য শত্রু এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যায় না। ফলে সরকার যেমন দুষেছে বিরোধীদলকে তেমনি বিরোধীদল দুষেছে সরকারকে। উভয়েই এই মানুষ পোড়ানো থেকে ফায়দা তুলতে চেয়েছে। কিন্তু মানুষকে পুড়তে দিয়েছে। আদেশ দিয়েছে। তাদের নিরাপত্তা বিধান করে নাই। এই নৈরাজ্যের কথা না হয় বাদই দিলাম। সারাদেশে সামাজিক ন্যায়বিচার ক্ষমতার হাতে ন্যস্ত হয়েছে। ক্ষমতাসীনরা আলাদা সত্য নির্মাণ করেছে। সেই সত্যের নির্দিষ্ঠ কিছু ফেনোমেনা আছে। যাকে দিয়ে সমস্ত দখল অন্যায় মাদকব্যবসায় মানবপাচার ক্রসফায়ার ইত্যাদি জায়েজ করে ফেলা যায়। এটা তখন আর অন্যায় থাকে না এটাকে ন্যায়ের মোড়কে পরিবেশন করা হয়। ফলে এটা ক্ষমতা কর্তৃক সুষ্ট সত্যের সৈনিক হিসাবে কাজ করে। কিন্তু ভিকটিমের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হতে থাকে তাদের বাস্তবতা আলাদা। তারা ভাষাহীন হতে থাকে ক্ষমতার কাছে কিন্তু এই প্রতিরোধহীন ভাষাহীনতা তাদের অভ্যন্তরেও নৈরাজ্যের জন্ম দেয়। এইরকম খানিকটা অপরাধ তারা নিজেরাও করতে পারলে কিছুটা হালকা বোধ করে নিজেকে। এতে তাদের আচরণ বদলে যায় পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা কমে যায়। সমাজে রুড়তা তৈরি হয়। পরস্পরের প্রতি মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। কারণ ক্ষমতার প্রতি রুষ্ট হওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়া হয়।

সবচাইতে মারাত্মক হচ্ছে ক্ষমতা যেই আলাদা সত্য তৈরি করে সেটা যখন সমাজে রিফর্ম করে তখন সমাজের যেই অবস্থা সৃষ্টি হয় অথবা যেই বাস্তবতার তৈরি হয় এটাকেই বলে ফ্যাসিবাদী সমাজ। দেশের যে বিশাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কাজ কি আর তাদের দিয়ে কি করানো হয় সেটা এক প্রশ্ন বটে কিন্তু এর কোনো উত্তর নাই এবং উত্তর খোঁজাও যাবে না। গত এক বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের যেই পরিমাণ অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। সামাজিক অপরাধতো বটেই মাদক পাচার বা মানবপাচারের সঙ্গেই জড়িয়ে গেছে অনেকে। কিন্তু এগুলোর প্রমাণ কারো কাছেই নাই কেউ এগুলো নিয়ে কথা বলতে পারবে না। কারণ এই রিপোর্টও তৈরি করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সদস্যরা। আমরা দেখেছি কলেজ পড়–য়া কিশোর লিমনকে যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অ্যালিট ফোর্সরা হাটুতে গুলি করেছিল সেই মামলায় তাদের অপরাধ প্রমাণ করতে লিমনের পরিবারকে কয়েকবার মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে।

বলতে গেলে আমাদের সমাজের সবচাইতে বড় ক্ষতটি হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং বছরের পর বছর ধরে তাদের দলীয়ভাবে ব্যবহার করার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খুনী কে বা কারা এটা ভিকটিম মিডিয়াসহ সবাই জানলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এমন ক্ষমতা আছে যে তারা চাইলেই খুনী নির্দোষ হয়ে যায় আর নির্দোষকে খুনী ও ধর্ষক হিসাবে কারাগারে চালান করে দেয়া যায়। এ এমন এক সমাজ যে সমাজে ক্ষমতাসীন দলের এমপিপুত্র মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মারছে। ফলে ক্ষমতার যেই আলাদা সত্য নির্মাণ সেটা সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে। খুব ভেতর থেকে তা মানুষকে অপরাধের দিতে ঠেলে দেয়। কোনো না কোনো ভাবে যারা ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থাকে তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করে। কিন্তু একটা রাষ্ট্রে যা কিছুই ঘটুক যে কোনো সামাজিক পরিবর্তনের জন্যই রাষ্ট্র দায়ী এই ক্ষমতা একমাত্র রাষ্ট্রেরই আছে।

কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতায় যারা থাকে তারা সবসময় শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চায়। দায়িত্ব এড়াতে চায় বিভিন্ন ছলে। তখনই বুঝা যায় ক্ষমতা আসলে মার্চ করে নেগেটিভ যা কিছু তার সঙ্গে কারণ এর পেছনে আছে অঢেল সম্পদ বানানোর বা উপরি কামাইয়ের খেলা। তো সরকার যেখানে মুনাফা বানায় ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মামলার দিক পরিবর্তন করে তার মুনাফা লুটে নেয়। ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে মাদক পাচার করে মনুফা বাগিয়ে নেয়, মানবপাচারের সুবিধা করে দিয়ে মুনাফা বাগিয়ে নেয়। তো এই সংস্কৃতি দ্রুত অন্যলোকজনকেও উৎসাহিত করে তোলে। সামাজিক মানুষ খুব দ্রুত এদিকে চলে আসে তারা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় অপরাধ করতেই পছন্দ করে। এভাবে প্রত্যক্ষ রাষ্ট্রীয় মদদে অপরাধ ও দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে রন্দ্রে রন্দ্রে। অন্যদিকে তৈরি হয় অবকাঠামো, বিরাট বিরাট দালান, বিদেশ থেকে আসে সহযোগিতা এগুলোকে বলা হয় উন্নয়ন। বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক অনাচার কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌচেছে তার প্রমাণ শিশু রাজনের হত্যা।।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s