রিপোর্ট – ৯/১১ এর ঘটনাবলীর সৌদি সম্পৃক্ততা

Posted: এপ্রিল 13, 2015 in আন্তর্জাতিক
ট্যাগসমূহ:, , , , , , ,

লিখেছেন: মহিউদ্দীন আহমদ

world-trade-center-1২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিমান হামলার পূর্বে সৌদী রাজপরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থের যোগান দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস্ পত্রিকা। গত ৩ ও ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একাধিক রিপোর্টে তারা এই তথ্য প্রকাশ করেছে।,, গত ২৩ জানুয়ারি সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহ্র মৃত্যুর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকায় এই অভিযোগ প্রকাশ করা হলো। নিউইয়র্কে ঐ বিমান হামলার ঘটনার সরাসরি পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে একমাত্র সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি সৌদি নাগরিক জাকারিয়াস মৌছাউই (Zacarias Moussaoui)-এর জবানবন্দীতে এ সম্পর্কিত তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলা চালিয়ে প্রায় তিন হাজার নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে নিহতদের স্বজনদের দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণে দীর্ঘ ১৩ বছর পর যেসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে তা বিশ্ব শান্তি ও স্থিতির প্রশ্নে ভয়ঙ্কর। যে তথ্য এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীনরা ও তাদের প্রচার মাধ্যম সর্বদাই অন্ধকারে লুকিয়ে রেখেছে এবং এখনো সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্যটা হচ্ছে সেদিনের ঘটনায় যোগদানকারী আল কায়েদা হাইজ্যাকারদের আর্থিক সহায়তাকারী খোদ সৌদি আরবের ক্ষমতাসীনরা; যারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের এক বড় মিত্র, মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়া ও আফ্রিকায় সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্রের জঙ্গিবাদ জঙ্গীবাদ খেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

নিউ ইয়র্কের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট জাজ আদালতের এই মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণে নিশ্চিতভাবে এই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে, বর্তমান সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুলআজিজের ভাতুষ্পুত্র যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রদূত প্রিন্স বন্দর বিন সুলতান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলাকারীদের দুষ্কর্মের তহবিলের যোগানদাতা।

মৌছাউই এর সাওয়াল জওয়াবে বেরিয়ে এসেছে যে, ১৯৯০ সালে তিনি যখন আফগানিস্তানে আল কায়েদার হয়ে কাজ করতেন তখন সংগঠনের অর্থের যোগানদাতাদের একটা ডাটাবেজ তৈরী করেছিলেন, যেখানে নাম রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত তৎকালীন সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্স বন্দর বিন সুলতান, দীর্ঘ সময় ধরে সৌদি ইন্টেলিজেন্সের প্রধানের দায়িত্বপালনকারী প্রিন্স তুর্কি আল ফায়সাল, এবং সৌদি ধনকুবের কিংডম হোল্ডিংস কোম্পানীর চেয়ারম্যান প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল এর। মৌছাউই বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রিয়াদের তৎকালীন গভর্নর ও সৌদি আরবের বর্তমান বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও রাজ পরিবারের উচ্চপদস্থ সদস্য এবং আল কায়েদা নেতা বিন লাদেনের মধ্যে বার্তা বাহকের কাজ করতেন।

/১১এর ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যেই তৎকালীন বুশ প্রশাসন ও তার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পৃথিবীর বহু মানুষের যুক্তি বুদ্ধি ও নানা সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযুক্ত হয়। এমনকি এই অভিযোগ খোদ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তসাপেক্ষে তোলা হয়। কিন্তু সকল যুক্তি, সাক্ষ্যপ্রমাণ, বিচার পাওয়ার আকুতি সব কিছুই চাপা পড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কর্পোরেশনগুলোর বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদী বাণিজ্যের নির্মম থাবার তলে। আজ ১৩ বছর পর স্বজনহারাদের দায়ের করা মামলার সাক্ষ্য প্রমাণে বাধ্য হয়ে যখন থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ছে তখন নিউইয়র্ক টাইম্সর মত পত্রিকায় প্রধান শিরোনামে ফলাও করে প্রকাশ করার ব্যাপারটা আশ্চর্যজনক মনে হতে পারে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা এতদিন পর নিউইয়র্ক টাইম্‌সএর এই কৌশলী আচরণে মোটেও অবাক নন। তাঁরা জানেন এবং বোঝেন কেন নিউইয়র্ক টাইম্স ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সৌদি রাজপরিবারের জড়িত থাকার ব্যাপারে অন্য সব সাক্ষ্য প্রমাণ, যুক্তি ও প্রশ্নকে এড়িয়ে শুধুমাত্র মৌছাউই এর জবানবন্দীকেই প্রচারে জোর দিচ্ছে। এর পিছনে স্পষ্ট কারণ হচ্ছে ক্ষমতাসীনরা যাতে খুব সহজেই এটাকে খারিজ করে দিতে পারে। ইতিমধ্যেই সৌদি রাজ পরিবার ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীনদের সাথে তাল মিলিয়ে মৌছাউই এর আইনজীবীও তাকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন প্রমাণ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু মৌছাউইর জবানবন্দী ছাড়াও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সৌদি আরবের জড়িত থাকার ব্যাপারে প্রথম থেকেই সোচ্চার খোদ ওয়াশিংটনেরই একজন উচ্চ পদাধিকারী বলেছেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সৌদি সরকার ও ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলাকারীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ছিল।”

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের প্রাক্তন সিনেটর রবার্ট গ্রাহাম ২০০২ সালে সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি প্রথম থেকেই এই বর্বর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ট মিত্র সৌদি আরবের শক্তিশালী ভূমিকা থাকার ব্যাপারে সোচ্চার। সেই ঘটনায় তিন হাজার স্বদেশবাসীর পাশাপাশি তিনি নিজ সন্তানকেও হারিয়েছেন। ২০০২ সালে সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান থাকাকালে এই ঘটনার উপরে তিনি এক দীর্ঘ রিপোর্ট সরকারের নিকট জমা দিয়েছিলেন, যেখানে এই দুষ্কর্মে সৌদি আরবের জড়িত থাকার ব্যাপারে ২৮ পৃষ্ঠার একটি অংশ রয়েছে। কিন্তু সঙ্গত কারণেই বুশ প্রশাসন রিপোর্টের ২৮ পৃষ্ঠার সেই অংশ ধামাচাপা দিয়ে রাখে। পরবর্তীকালে ওবামা প্রশাসন একই কাজ করে। গ্রাহাম লিখেছেন, “২৮ পাতার ওই অংশে প্রাথমিকভাবে দেখানো হয়েছে, কারা ৯/১১’র ঘটনায় অর্থ সাহায্য দিয়েছে। এবং সবাই একবাক্যে অত্যন্ত শক্তভাবে আঙুল তুলেছে সৌদি আরবের দিকে।”

বর্তমান বিশ্বের সকল মানুষের জীবনে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ৯/১১’র ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে সৌদি আরবের জড়িত থাকার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত কর্তৃক সাক্ষ্য প্রমাণ দ্বারা নিশ্চিত হওয়াটা এটাই নির্দেশ করছে যে, তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে বিগত ১৩ বছর যাবত সারা বিশ্বকে চরম অস্থিতিশীল ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে নিক্ষেপ করা পৃথিবীর ইতিহাসের এক ভয়ঙ্করতম প্রতারণাপূর্ণ ব্যাপার।

সাক্ষ্য প্রমাণে বেরিয়ে এসেছে, /১১’র টুইন টাওয়ার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ১৯ জন হাইজ্যাকারের মধ্যে ১৫ জনই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাথে সম্পর্কিত ছিল! অর্থাৎ, আল কায়দার সদস্যরা বুশ প্রশাসন ও সিআইএর আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও অন্য সকল সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেরই নাগরিকদেরকে হত্যা করে। আর এটাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র তাদেরই সৃষ্ট আল কায়দার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আফগানিস্তান আক্রমণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা আক্রমণ করে ইরাক, যার সাথে সম্পর্ক না আছে ৯/১১’র, না আছে বিন লাদেন বা আল কায়দার!

গত শতকের চল্লিশের দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের প্রশাসন সে দেশের বাণিজ্যিক কর্পোরেশনগুলোর স্বার্থে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে মরিয়া হয়ে উঠে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ইউরোপের যুদ্ধে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করছিলেন। কোনোভাবেই জনগণের সমর্থন না পেয়ে, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন প্রায় বছরব্যাপী পরিকল্পনার মাধ্যমে জাপানের বিরুদ্ধে নানা উস্কানীমূলক তৎপরতা চালিয়ে জাপানকে যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল হারবার নৌ ঘাঁটি আক্রমণে উস্কে দেয়। ১৯৪১ সালে ৭ ডিসেম্বর হাওয়াই দ্বীপের পার্ল হারবার নৌ ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়ে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪০০ নৌসেনাকে হত্যা করে এবং সমস্ত নৌ ঘাঁটি এক ভয়াবহ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। এই ঘটনার পর দিনই প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ময়দানে নেতৃস্থানীয় জায়গায় প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্ব বাণিজ্যে আজ যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেশনগুলোর যে দাপট চলছে তার গোড়াপত্তন হয়েছিল মূলতঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বলে বিশ্লেষকরা বলে থাকেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি যোগ দেয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সামরিক শক্তির কী বিকাশ সাধিত হয়েছিল ও অন্য আর কোন বিষয়ে কী অর্জিত হয়েছে সেই আলোচনা দীর্ঘ ও এখানে অপ্রাসঙ্গিক। যেটা প্রাসঙ্গিক সেটা হচ্ছে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নিজের দেশের জনগণ, সৈন্যবাহিনী ও সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের জীবন ও সম্পদ ধ্বংসের অন্যায় কৌশলের মাধ্যমে আর একটা বৃহত্তর অন্যায়ের পক্ষে জনসমর্থন সৃষ্টি করার প্রতারণাপূর্ণ কর্মপদ্ধতি। আজকের ৯/১১’র ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার সকল চেষ্টার মতই ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর পার্ল হারবার আক্রমণের ুসেই ঘটনার উপর বহু তদন্ত রিপোর্ট ও তৎকালের যুক্তিবুদ্ধি ও সাক্ষ্য প্রমাণ ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়। ২০১১ সালে সেই ঘটনার ৭ দশক পর যুক্তরাষ্ট্রের একজন লেখক ক্রেইগ শার্লি লিখিত December 1941: 31 Days that Changed America and Saved the World নামক গ্রন্থে ডিক্লাসিফাইডকৃত গোপন দলিলের বরাতে বলা হয় জাপান পার্ল হারবারে হামলার তিন দিন আগে প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছিলেন। এমনকি এই ঘটনা সাজাতে জাপানের প্রতি উস্কানীমূলক তৎপরতার অংশ হিসাবে বিশেষ কাজে সহায়তা না পেয়ে তৎকালীন নৌবাহিনী প্রধানের সাথে এক লাঞ্চে প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন ও পরে তাকে তিনি অপসারণ করেন। এ সম্পর্কিত বেশ কিছু দলিল নিউইয়র্কের ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট প্রেসিডেন্টশিয়াল লাইব্রেরী ও যাদুঘরে অপ্রকাশিতভাবে পড়ে রয়েছে। যদি বলা হয় যে, পার্ল হারবার ঘটনার অজুহাতের উপর ভর করে পরবর্তী পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র সারা দুনিয়ার উপর যে সাম্রাজ্যবাদী সামরিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছে তবে সেটাকে ভুল বলা হবে না।

১৯৪১ সালের পার্ল হারবার ঘটনার রিপোর্টগুলির মতই একই পদ্ধতিতে ২০০১ সালের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আজ পর্যন্ত প্রত্যেকটা সরকারী তদন্ত প্রতিবেদন থেকে এই বর্বরোচিত নির্মম হত্যাকাণ্ডে সৌদি ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ হয় মুছে ফেলা হয়েছে অথবা সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির রিপোর্টের মত ধামাচাপা দিয়ে অন্ধকারে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সৌদি রাজতন্ত্র প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্রের বশবর্তী হয়ে এই কাজ করেছে, এটা আড়াল করার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের তরফ থেকে এই কাজ করা হচ্ছে বলে কেউ মনে করে না, বরং সৌদি আরবকে দিয়ে নিজেরা এই দুষ্কর্ম করিয়ে নিয়ে দুনিয়াব্যাপী নিজেদের কল্পিত শত্রু ‘ইসলামী জঙ্গীবাদ’ তত্ত্বের নাটের গুরু হিসাবে ফেঁসে যাওয়া ঠেকাতেই এই ধরনের অনৈতিক হস্তক্ষেপ বুশ প্রশাসন সব সময় করেছে এবং এখনো ওবামা প্রশাসন সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। এই বিষয়ে খুব সচেতনভাবে নিউইয়র্ক টাইম্‌সএর প্রতিবেদনগুলি নিরব!

এটা বিশ্বাস করার প্রতিটা কারণই অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত যে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলা করে যে তিন হাজার নিরাপরাধ সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয় তার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জড়িত। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে নিহতদের স্বজনদের দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ ও অন্য ঘটনা প্রবাহে এটা স্পষ্ট হচ্ছে যে, সেদিন টুইন টাওয়ারে আক্রমণকারী বিমান হাইজ্যাকারদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, সিআইএ এবং এফবিআই এর সার্বক্ষণিক নজরদারীর মধ্যে থেকেই তাদের সকল কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন করা সত্বেও তারা কোন প্রকার বাধার সৃষ্টি করেনি।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ১ সপ্তাহের মধ্যেই বিভিন্ন পক্ষ থেকে যে সকল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তা আজও পর্যন্ত উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে:

. কেন গোয়েন্দাদের কঠোর নজরদারীতে থাকা মোহাম্মেদ আত্তা’র মত আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে মুক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সুযোগ করে দেয়া হয়েছিল?

. কেন সিআইএ আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট দু’জন ব্যক্তি, যারা ছিল ১৯ জন হাইজ্যাকারের মধ্যে অন্যতম, তাদের ২০০১ সালের গোড়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের তথ্য এফবিআইকে জানায় নি? এই দু’জন সান দিয়েগোতে একজন এফবিআই ইনফর্মারের আশ্রয়ে থেকে বিমান চালনা প্রশিক্ষণ এবং ওয়াশিংটনে সৌদি স্পন্সরের অর্থ সহায়তা নিয়েছিলো।

. কেন মৌছাউইসহ অন্য ভবিষ্যৎ হাইজ্যাকারদেরকে বিমান প্রশিক্ষণের অনুমতি দেয়া হয়েছিল? কে তাদেরকে বিমানের ওঠানো নামানো বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আকাশে চালানোটাই শেখাতে বলেছিল?

. কেন বার বার রাশিয়া, ইসরাইল ও জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এ ব্যাপারে সতর্ক করা সত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেগুলির দিকে নজর দেয়া হয়নি?

/১১’র ঘটনায় প্রায় তিন হাজার মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনাকে অজুহাত হিসাবে দাঁড় করিয়ে আজ পর্যন্ত ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া ও ডজনের উপর অন্যান্য দেশে লক্ষ লক্ষ বেসামরিক নারী পুরুষ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এবং ৯/১১কে অজুহাত হিসাবে সামনে এনে ২০০১ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলিতে পাইকারী হারে জনগণের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এসব দেশ আষ্টেপৃষ্ঠে আপাদমস্তক এক একটা পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। যুক্তি হিসাবে সেসব দেশগুলিতে পুনরায় কল্পিত সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানোর কথা বলা হচ্ছে।

আজ বিশ্ববাসীর পক্ষ থেকে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের হত্যাকাণ্ডে সৌদি সংশ্লিষ্টতাকে লুকানোর দায়েই শুধু মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা সমালোচনার যোগ্য তাই নয়, এর সমালোচনা ও প্রতিরোধ এই কারণে দরকার যে এখনো ওবামা প্রশাসন বুশ প্রশাসনের সৃষ্ট নাটকের উপর প্রতিষ্ঠিত নীতি ও কৌশলের উপর ভর করেই সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে হত্যাকাণ্ড ধ্বংসযজ্ঞ লুটপাট ও অস্ত্র ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বলাই বাহুল্য এখনো য্ক্তুরাষ্ট্রের ওবামা প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্যে লুটপাট, অস্ত্র ব্যবসা ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের একনিষ্ট ও বিশ্বস্ত সঙ্গী সৌদি রাজতন্ত্র।

এটা আজ দিনের আলোর মত পরিষ্কার যে, সৌদি আরব দীর্ঘকাল যাবত সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্রের নিবিড় সহায়তায় মধ্যপ্রাচ্যে আল কায়েদা ও অন্য ইসলামি সন্ত্রাসী গ্রুপ তৈরী করে তার দেখভাল ও হেফাজত করে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে পরিকল্পিতভাবে এই বর্বর খুনি বাহিনীকে সর্বপ্রথম তৈরী করা হয় ১৯৮০’র দশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কার্টার ও পরবর্তীতে রিগ্যান প্রশাসনের সময় আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের মদদপুষ্ট নজিবুল্লাহ সরকারকে ক্ষমতাচ্যূত করে সেখানে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে। সৌদি সরকারের অর্থে সিআইএ অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বে মুজাহিদ বাহিনী গঠন করে, যারা আফগানিস্তান থেকে নজিবুল্লাহ সরকারকে উৎখাতের মাধ্যমে সোভিয়েত ক্ষমতা খর্ব করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেরকে জায়গা করে দেয়। কিছুদিন আগে তারা একইভাবে লিবিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অবাধ্য মুয়াম্মার আল গাদ্দাফী’র সরকারকে হত্যার মাধ্যমে উৎখাত করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য লুটপাটের এক স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। এবং বর্তমানে তারা সিরিয়াতে বাশার আল আসাদের সরকারকে উৎখাতের সকল রকমের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে আল কায়েদার গর্ভজাত একই চরিত্রের আর এক সন্ত্রাসী গ্রুপ আইএসকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, যা তৈরী হয়েছে একই সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রত্যক্ষ মদদে নিজেদের লুটপাট অস্ত্র ব্যবসা ও অন্য কায়েমী স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখার জোর তাগিদে। ২০০৩ সালে ইরাক দখলের পূর্বে সেখানে আল কায়েদা ছিল না। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সৃষ্ট আল কায়েদাই ইরাকে আইএস নাম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের আর্থিক, সামরিক, প্রশিক্ষণ ও অন্য সকল সহায়তার মাধ্যমে শক্তিশালীভাবে সিরিয়ার বাশার সরকারের পতন ঘটাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে শুধু যখন তারা ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল সরকারের উপর আক্রমণ করার নাটক সাজাচ্ছে বা পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববাসীর সামনে নিজেদেরকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রতিপক্ষ বানানোর নাটক করছে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সেখানে বোমা ফেলছে। এক্ষেত্রে প্রপাগান্ডাটাই তাদের মূখ্য উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে যাতে বলা হয়েছে যে, আইএস এর অবস্থানের উপর বোমা ফেলার পরিবর্তে সেখানে অস্ত্র গোলাবারুদ ও যুদ্ধের জন্য অন্য সরঞ্জাম যোগান দেয়া হচ্ছে।

ইরাকী পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক কমিটির প্রধান হাকেম আলজামেলি দাবি করেন যে, তাদের কাছে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্রিটিশ বিমানের ছবি রয়েছে এবং ইরাকী পার্লামেন্ট লন্ডনের কাছে এর ব্যাখ্যা চেয়েছে। এর আগে গত জানুয়ারিতে আলজামেলি জানিয়েছিলেন যে, আইএসবিরোধী জোট আইএস নিয়ন্ত্রিত সালাহউদ্দীন, আলআনবার ও দিয়ালা প্রদেশে বিমান থেকে অস্ত্র ও খাদ্য নিক্ষেপ করেছে। ইরাকী নিউজ ওয়েবসাইট আলআহাদ রিপোর্ট করেছে যে, আলআনবার প্রাদেশিক কাউন্সিলের প্রধান খালাফ তারমুজ বলেছেন, “আইএস নিয়ন্ত্রিত আলবাকদাদি অঞ্চলকে দখল মুক্ত করার পর আমরা সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ইসরাইলের তৈরী অস্ত্রশস্ত্র পেয়েছি।” গত ডিসেম্বরে ইরাকী পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক কমিটির সদস্য মজিদ আলঘারাবি অভিযোগ করেন যে, মার্কিন বিমান থেকে সালাহউদ্দীন প্রদেশে আইএসকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করা হেয়েছে। তিনি বলেন, “ইরাক সরকার থেকে মসুল ও আনবার প্রদেশে ঘাঁটি স্থাপনের নিশ্চয়তা আদায় করেেত যুক্তরাষ্ট্র আইএস বিরোধী যুদ্ধকে প্রলম্বিত করার চেষ্টা করছে।”

উল্লেখ করা দরকার যে, গত বছরের ২ অক্টোবর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফ বাইডেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় স্বীকার করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাই ইসলামিক স্টেট (আইএস) নামক সন্ত্রাসী সংগঠনটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ, অস্ত্র ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে সৃষ্টি করেছে। সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও তুরস্কের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তারা আসাদকে অপসারণ করতে এবং মূলতঃ একটি শিয়াসুন্নী প্রক্সি যুদ্ধের জন্য এতটাই ব্যগ্র ছিল যে, তারা কী করলো? আসাদের বিরুদ্ধে যারাই লড়তে রাজি তাদের পেছনেই তারা শত শত কোটি ডলার এবং হাজার হাজার টন অস্ত্র ঢেলেছে – আর এসব পেয়েছে আল নুসরা ও আল কায়দা আর বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা চরমপন্থী জিহাদীরা।”

বাইডেনের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া সে সময় তুরস্ক ও আরব আমিরাত জানিয়েছিল। পরবর্তীতে বাইডেন নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এসব থেকে এটা পরিষ্কার যে আইএসকে তৈরীর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্ররা জড়িত। তবে তারা নিজেদের উদ্যোগে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে না জানিয়ে এটা করেছে এমন নয়। প্রকৃতপক্ষে সিআইএ নিজেই সৌদি আরব, আরব আমিরাত, তুরস্কসহ অন্যান্য আরব দেশের মাধ্যমে সিরিয়ায় আসাদ বিরোধী গ্রুপগুলোকে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে। তারা ভালো করেই জানতো সিরিয়ার এসব গ্রুপগুলোর মধ্যে আল কায়দা সংশ্লিষ্ট ইসলামিক জঙ্গীরা রয়েছে। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পর থেকে আলকায়দা সংশ্লিষ্ট এই যোদ্ধারা সেখানে সংগঠিত হয়। ২০১১ সালে লিবিয়ায় গাদ্দাফীকে উৎখাতের লড়াইয়ে সিআইএ এদেরকে নিয়োগ করেছিল। গাদ্দাফীকে উৎখাতের পরে তাদেরকে সিরিয়ায় পাঠানো হয়। ২০১৩ সালেই কেবল তারা ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক এন্ড সিরিয়া (আইএসআইএস) নামধারণ করে, যা এখন শুধুই ইসলামিক স্টেট (আইএস) নামে পরিচিত।

সাম্প্রতিক এসব ঘটনাবলী থেকে বিশ্ববাসীর কাছে এটা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ঘোষিত বিশ্বজোড়া ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ এক মহা ঐতিহাসিক মিথ্যা। তারা এখনো বলছে মাত্র ১৯ জন হাইজ্যাকার যুক্তরাষ্ট্রের মত এতবড় বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের নজর এড়িয়ে নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিতে হামলা করেছিল। কিন্তু ৯/১১এর নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রহস্যের চাদর সরানোর জন্য নিহতদের স্বজনরা আদালতের মাধ্যমে যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারই ফলেই সেই ঘটনার সাথে সৌদি সরকারের সম্পর্ক ক্রমেই উন্মোচিত হচ্ছে। নিশ্চয় যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা পৃথিবীর মানুষ একদিন সকল সত্যের মুখোমুখি হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবসহ এই ঘটনায় জড়িত সকল ক্ষমতাসীনের ক্ষমতা চূর্ণ করে তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।।

[মাসিক সংস্কৃতি পত্রিকার এপ্রিল ২০১৫ সংখ্যায় প্রকাশিত]

১। Scott Shane, Moussaoui Calls Saudi Princes Patrons of Al Qaeda, The New York Times, 3 February 2015

২। Ben Hubbard and Scott Shane, Pre-9/11 Ties Haunt Saudis as New Accusations Surface, The New York Times, 4 February 2015

৩। Carl Hulse, Claims Against Saudis Cast New Light on Secret Pages of 9/11 Report, The New York Times, 4 February 2015

৪। Iraqi Army Downs 2 UK Planes Carrying Weapons for ISIL, FARS News Agency, 23 Feb. 2015

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s