Ad (BoiMela)-01আমার স্মৃতিকথা

আমার স্মৃতিকথা” নামে বইটি লিখেছেন ভারতের অন্যতম মাওবাদী পার্টি ‘মাওবাদী কমিউনিস্ট কেন্দ্র’ (এমসিসি)-এর সম্পাদক প্রয়াত সুশীল রায় সোম। সুশীল রায় যিনি বিশেষত ভারতে মাওবাদী কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পরিসরে “সোম” নামেই বেশি পরিচিত। এই বইয়ে তিনি এমসিসি’র সংগ্রামের ইতিহাস ও তার বিকাশ এবং ঐক্যবদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী) পার্টি গঠনকে তুলে ধরেছেন। এই স্মৃতিচারণ থেকে আজকে নতুন প্রজন্মের বিপ্লবীরা বুঝতে সক্ষম হবে কিভাবে একজন ছাত্র বুদ্ধিজীবী শ্রমিক কৃষকের সাথে একাত্ম হয়ে মাওবাদী কমিউনিস্ট হিসেবে বিকশিত হয়েছেন।

এটা তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণামূলক বই হলেও যেহেতু তিনি ভারতে মাওবাদী আন্দোলনের সূচনাকাল; ৬০এর দশক থেকেই যুক্ত ছিলেন সেহেতু এতে রয়েছে এমসিসি’র নেতৃত্বে ধারাবাহিক সংগ্রামের অনেক না জানা কথা।

এমসিসি’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন কানাই চট্টোপাধ্যায়। তিনি ১৯৮২ সালের ১৮ জুলাই কিডনী বিফল হয়ে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করলে সোম সম্পাদক হন। সেই থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় তাঁর চোখের গুরুতর সমস্যায় অন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কারণে তিনি সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি নেন।

২০০৪ সালে এমসিসি এবং সিপিআই (এমএল) (পিপলসওয়ার) ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিপিআই (মাওবাদী) পার্টি গঠনে সোম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি নবগঠিত পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য এবং আন্তর্জঅতিক বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৫ সালে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার করে এবং একটানা ৮ বছর কারাগারে আটকে রাখার পর শাসক শ্রেণী যখন নিশ্চিত হয় তিনি নিকটবর্তী সময় মারা যাবেন, তখন ২০১৩ সালে মুক্তি দেয়। মুক্তির পর গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় তিনি এই স্মৃতিকথা লিখেন। ২০১৪ সালের ১৬ জুন ৭৭ বছর বয়সে তিনি দিল্লীতে মৃত্যুবরণ করেন।

এই বইটায় উঠে এসেছে ষাটের দশকে রুশচীন মহাবিতর্ক এবং মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রভাবে ভারতে মাওবাদী আন্দোলন কি প্রক্রিয়ায় বিকশিত হয়েছে বিশেষত সংশোধনবাদী সিপিআই (এম)-এর সাথে সংগ্রামের জীবন্ত কাহিনী। আরো আছে মাও মৃত্যু পরবর্তীতে চীনে বিশ্বাসঘাতক পুঁজিবাদের পথগামী নব্য বুর্জোয়া তেং শিয়াং পিঙের ক্ষমতা দখলের পর চীনা সংশোধনবাদীদের সাথে সোমের সরাসরি সংগ্রামের প্রক্রিয়ায় সঠিক লাইন গ্রহণ,‘৯০এর দশকে এমসিসি এবং পিউব্লিউ এর বিরোধসংঘর্ষ, পরবর্তীতে ঐক্য প্রক্রিয়া এবং সর্বশেষ ঐক্যবদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী) পার্টি গঠনের অনেক বিবরণ।

আজীবন মাওবাদী বিপ্লবীর এই স্মৃতিকথায় সোমের মাথার উপরে মাও সেতুঙএর ছবি এবং তার সাথে মাও অনুসারী চারু মজুমদার ডানে কানাই চট্টোপাধ্যায়এর ছবিসহ চমৎকার প্রচ্ছদ করেছেন রাশেদুল আলম। ১৩৫ পৃষ্ঠার বইয়ের মূল্য ২০০ টাকা।

———————————–

মাওবাদী অর্থশাস্ত্র

এবং কমিউনিজমে পৌঁছার বিপ্লবী পথ

দ্যা সাংহাই টেক্সট বুক

আমাদের দেশে সমাজতন্ত্রের জন্য যারা সংগ্রাম করছেন এবং যারা তার হিতাকাঙ্খী তাদের জন্য এই বইটি হচ্ছে মহামূল্যবান একটি তাত্ত্বিক গ্রন্থ। মাওসেতুঙ বহু দিক থেকে মার্কসবাদলেনিনবাদকে বিকশিত করেছেন। এর মধ্যে সমাজতান্ত্রিক সমাজে শ্রেণী ও শ্রেণী সংগ্রাম সংক্রান্ত তত্ত্ব হলো তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান। এসব অবদানের মধ্য দিয়ে তিনি সর্বহারা শ্রেণীর মতবাদকে নতুনতর স্তরে অর্থাৎ মার্কসবাদলেনিনবাদমাওবাদের স্তরে উন্নীত করেন। অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রের মতো সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণের নীতি নির্ধারণ ও যেসব নীতির মূর্ত নির্দিষ্ট প্রয়োগে মাওয়ের এসব অবদান প্রতিফলিত হয়েছে সে সম্পর্কে পাঠকগণ এই গ্রন্থ থেকে যথাযথ ধারণা অর্জন করতে পারবেন।

সমাজতান্ত্রিক সমাজ একটা শ্রেণী বিভক্ত সমাজ। এ সমাজে রয়েছেন শাসক শ্রেণীরূপে সর্বহারা, কৃষক ও ব্যাপক মেহনতী জনগণ, রয়েছে পরাজিত বুর্জোয়া ও পার্টির ভেতরকার পুঁজিবাদের পথগামী কর্তৃস্থানীয় ব্যক্তি এবং বিকাশমান বুর্জোয়া উপাদান। সুতরাং সমাজতান্ত্রিক সমাজের উৎপাদন সম্পর্কিত এসব শ্রেণীর মধ্যকার শ্রেণী সম্পর্ক। প্রতিটা শ্রেণী উৎপাদনের প্রতিটা বিষয়কে স্বস্ব শ্রেণীগত অবস্থান ও স্বার্থ থেকে দেখবে এবং সেসবকে সেভাবে রূপ দেয়ার মরিয়া প্রচেষ্টা চালাবে। সাংহাই টেক্সট বুক এসবের বিবরণ, সারসংকলন ও তত্ত্বায়নকে ধারণ করে। মার্কসবাদী রাজনৈতিক অর্থনীতির মূলনীতিসমূহ এই বইয়ে তত্ত্ব ও প্রয়োগের সমন্বিত রূপে এসেছে।

লেনিনস্টালিনের নেতৃত্বে ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় সর্বপ্রথম শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পর পুঁজিবাদী অর্থনীতি উচ্ছেদ করে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি তথা সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই সময়ে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নে সাধারণ ধারণা ছিল ব্যক্তি মালিকানাধিন ব্যবস্থার মৌলিক রূপান্তরের পর সমাজতান্ত্রিক সমাজে অভ্যন্তরীন ক্ষেত্রে শ্রমিককৃষকের দ্বন্দ্ব বিদ্যমান থাকলেও বৈরী কোন শ্রেণী নেই। সুতরাং শ্রেণী সংগ্রামও নেই। সেজন্য যোশেফ স্ট্যালিন ১৯৩৬ সালে ঘোষণা করেছিলেন রাশিয়ায় আর কোন বৈরী শ্রেণী নেই। চীনেও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর একই ধারণা বিরাজ করছিল। যে কারণে ১৯৫৬ সালে চীনা পর্টি অষ্টম কংগ্রেস রিপোর্টে বলেছিল চীনে বুর্জোয়া শ্রেণীর সাথে শ্রমিক শ্রেণীর দ্বন্দ্বটি আর প্রধান দ্বন্দ্ব নয়। পরবর্তীতে এই ধারণামূল্যায়ন ভুল প্রমাণিত হয়েছে। রাশিয়াচীনে পার্টির মধ্যকার পুঁজিবাদের পথগামীরা ক্ষমতা দখল করেছিল এবং সমাজতান্ত্রিক রাশিয়াচীনকে পুনরায় পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল।

কিভাবে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিকে পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে রূপান্তর ঘটেছেসমাজতন্ত্র পরাজিত হয়েছে তার মূর্ত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ করেছে সাংহাইয়ের একদল মাওবাদী অর্থনীতির অনুসারী লেখক গ্রুপ। আগামীতে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে কমিউনিজম পৌছানোর জন্য আজকে মাওবাদী কমিউনিষ্টদের এই গ্রন্থ থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং তা আত্মস্থ করতে হবে। শুধুমাত্র কমিউনিস্ট বিপ্লবী নয় অর্থনীতি শাস্ত্রের শিক্ষার্থীগবেষকদেরও এই গ্রন্থটি অপরিহার্য।

এই গ্রন্থটি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত মাওবাদী অর্থনীতিবিদ রেমন্ড লোট্টার সম্পাদিত ইংরেজী সংস্করণ থেকে অনুদিত। এটি ভাষান্তর করেছেন সরকার নজরুল ইসলাম। প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিশির মল্লিক। পৃষ্ঠা২৬৮, মূল্য৫০০ টাকা।

————————

উৎস পাবলিশার্স

৩৩, কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স

কাটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা

অমর একুশে বইমেলা, স্টল নং৩৪৪

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s