লিখেছেন: অনুপ কুণ্ডু

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমএর লেখার প্রতিক্রিয়া

mujahidul-islam-selim-cpbআগষ্ট২০১৪ এর শুরু দিকে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় “জনতার মৃত্যু নেই, তাই মৃত্যু নেই বঙ্গবন্ধুরও” এবং “দেশকালজনতা ও বঙ্গবন্ধু” দুটি লেখা প্রকাশিত হয়। লেখক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি ও স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের প্রখ্যাত ছাত্রনেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। লেখা দুটি পড়ে আমার মনে কিছু প্রশ্ন জেগেছে। কমিউনিস্ট আন্দোলনের একজন নগন্য কর্মী হিসেবে প্রশ্নসমূহ উত্থাপন ও তার ব্যাখ্যা জানা জরুরী হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রথমেই আমার জিজ্ঞাসা একজন কমিউনিস্ট পার্টির নেতা কিভাবে ‘জাতির জনক’ অভিধার প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন? তাও আবার “বঙ্গবন্ধু” আর এই বঙ্গবন্ধু” উপাধি ঘোষণা করেছিলেন কারা? নিশ্চয়ই সেলিম ভাই তা জানেন। ছাত্রলীগের একটি সমাবেশ থেকে তারা তাদের নেতাকে যে কোন ভূষণে ভূষিত করতে পারে। কোন মাপকাঠিতে এই অভীধা সমগ্র জনগোষ্ঠীর অলঙ্কার হিসেবে সম্পৃক্ত হয়?

জাতির জনক’ উপাধিকে সাংবিধানিক করা হয়েছে। তো কারা এই উপাধি দিয়েছিলেন। সমগ্র জনগোষ্ঠীর তাতে সায় ছিল কি? সম্পূর্ণ সংকীর্ণ দলীয় দৃষ্টিকো থেকে আওয়ামী লীগ এই উপাধি সংবিধানে সংযোজিত করেছে। যা নিয়ে তখন খোদ আওয়ামী লীগ এবং তাদের সমমনাদের মধ্যে আপত্তি ছিল। সে ভিন্ন কথা। “জাতির পিতা” উপাধি একটি ভাবমূর্তি তৈরি করে কখনো তা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার পর্যায়ে পড়ে না পৃথিবীর গণতান্ত্রিক কোন দেশে এর নজির নেই। ভারতের “জাতির জনক” হিসেবে মহাত্মা গান্ধী এক স্কুল ছাত্রর দ্বারা চ্যালেঞ্জের শিকার হলে কোন নথিপত্রে তার স্বীকৃতি খুঁজে পায়নি ভারত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু বলতে হলে, বাংলাভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন, তৎকালীন পূর্ব বাংলার কৃষক, শ্রমিকসহ শোষিত জনগোষ্ঠীর আপোষহীন নেতা মাওলানা ভাসানী, কিংবা মনি সিংহকে কেন বঙ্গবন্ধু বলা যাবে না?

একটি কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত শ্রেণী সংগ্রাম। বুর্জোয়া শ্রেণীর শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করে শ্রমিক শ্রেণীর রাষ্ট্র কায়েম করা কমিউনিস্ট পার্টির দায়িত্ব। আর সেই কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান নেতা কিভাবে বুর্জোয়া আদর্শের একটি দলের একদা প্রধান নেতাকে ‘জাতির জনক’ কিংবা ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে মেনে নেন? বুঝতে কষ্ট হয়।

যদিও এই মেনে নেয়াটা সমস্যা হতো না, যদি এটা অন্য জাতীয়তাবাদী ঘরানার কোন দল করত। তারা তা করতেই পারে। কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টির নামে কোন পার্টি কি তা আদৌ করতে পারে? কমিউনিস্ট পার্টির নীতিমালা কি তার অনুমোদন দেয়? যদি না দেয়, তাহলে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব কি সচেতনভাবে তার নেতাকর্মীসমর্থকদের এবং কমিউনিস্ট আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করছেন না? প্রকারান্তরে তা কি আওয়ামী লীগের রাজনীতিকেই ধারন করে সাংস্কৃতিকভাবে শক্ত ভিত তৈরি করে দিচ্ছে না?

মুক্তিযুদ্ধের আদর্শধারা ও তার ভিত্তিতে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের যে সব ঐতিহাসিক অর্জন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন তার প্রতীক ও কেন্দ্রবিন্দু। এ বিষয়ে বিতর্ক করাটা একটি অনৈতিহাসিক পণ্ডশ্রম মাত্র।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেলিম ভাই কী বাংলাদেশের ইতিহাসের চলমান গতিকে রুদ্ধ করতে চাইছেন? বা এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কি এমন আলাদা বার্তা দিলেন, যা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব বা ঐ ঘরানার বুদ্ধিজীবীরা বলেন না? বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বটে, মুক্তি ঘটেনি যাবতীয় শোষণ, বৈষম্য বঞ্চনা থেকে মুক্ত হয়নি এদেশ। শাসক পরিবর্তিত হয়েছে শুধু। সে ক্ষেত্রে ’৭১এরতিহাসিক যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ নয়, স্বাধীনতা যুদ্ধ। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন এবং ’৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ ঐ যুদ্ধের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাংলাদেশের জনগণের মুক্তিযুদ্ধ চলমান। স্বাধীনতা যুদ্ধ পূর্ববর্তী মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার লক্ষ্যে মাঠেময়দানে কাজ করেছে কারা, নেতৃত্ব দিয়েছে কারা? নিকট অতীতের ইতিহাস মোটামুটি নির্মোহভাবে পর্যবেক্ষণ করলে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। কোনভাবে শেখ মুজিবুর রহমান বা আওয়ামী লীগের কোন নেতা মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেন নি। বলেনও নি তাদের বক্তব্যবিবৃতিতে। আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থাকলেও নেতৃত্ব চেয়েছিল স্বাধীকার, অভিন্ন পাকিস্তানে পূর্ববাংলার শাসন ক্ষমতা। সার্বিক মুক্তি চেয়ে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রসহ সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে কাজ করেছেন, আন্দোলনে সক্রিয় থেকে জীবন দিয়েছেন কমিউনিস্ট পার্টি সমূহের নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। ৬২এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯এর গণঅভুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলনে জীবনদান করা নেতাকর্মীদের দিকে খেয়াল করলে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঐ সময়ের আন্দোলনসংগ্রামে অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই এখনও জীবিত আছেন। তাদের সবার স্মৃতিতে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যায়নি এখনও। সেক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের সকল কর্মকান্ড এবং আদর্শ এবং ঐতিহাসিক অর্জনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কমিউনিস্ট নেতৃবৃন্দ। মনি সিং, খোকা রায়, সুখেন্দু দস্তিদার, আব্দুল হক, তোয়াহা,…… প্রমুখ এবং অবশ্যই মাওলানা ভাসানী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক বা কেন্দ্রবিন্দু। ’৭০এর নির্বাচন পরবর্তী ঘটনাবলী ও স্বাধীনতা যুদ্ধ তার যেসব অর্জন, তাতে শেখ মুজিবুর রহমানের তর্কাতীত ভূমিকা রয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ এক বিষয় নয়। সেক্ষেত্রে সেলিম ভাইএর উদ্ধৃত উপরোক্ত বক্তব্য অবশ্যই বিতর্কিত এটা ঐতিহাসিক বিতর্ক, তা চলতেই থাকবে। পণ্ডশ্রম নয় বাংলাদেশের শ্রমিককৃষকসহ নিপীড়িত সাধারণ জনগণের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্য এই বিতর্কের যৌক্তিক অবসান হওয়া দরকার। শ্রেণী সংগ্রামের রাজনীতিকে জনমনে শক্ত ভিত দিতেও এই বিতর্ক জরুরী।

নিজেদের অর্জনকে, ত্যাগতিতিক্ষাকে অন্যের নামে ক্যাশ করার এই আত্মঘাতী পথ থেকে বেরিয়ে আসার আহবান জানাই সেলিম ভাইকে। নিজেদের অর্জন, গৌরব, ত্যাগকে অন্যের নামে উৎসর্গ করলে কোন মহত্ব তৈরি হয় না বরং অস্তিত্ব সংকটে পড়তে হয় নিজেদের। ভবিষ্যতে চলার পথে কোন দিশারী থাকে না, চলার পথ ধোয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের জন্ম, “মুক্তিযুদ্ধের” এসব ঐতিহাসিক অর্জন জনগণের অমোঘ শক্তির ফলে সম্ভব হয়েছেউল্লেখ করে শেরে বাংলা, ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী, মণি সিংহ প্রমুখ ঐতিহাসিক ব্যক্তিবর্গের ত্যাগতিতিক্ষাঅবদানের কথাও স্মরণ করেছেন সেলিম ভাই। কিন্তু তিনি এও বলেছেন, “ঠিক ক্রান্তিকালীন সময়টিতে জনগণের সংগ্রাম, আশাআকাঙ্ক্ষা, স্বপ্নসাধনা, মনের কথাকে সবচেয়ে উপযুক্ত ও বলিষ্ঠভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।” কিন্তু উল্লেখ করেননি যে, ঐ প্রতিনিধিত্বমূলত পাকিস্তানী শাসকদের পাতা ফাঁদে পা দেয়া। নতুবা বলা যায় পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার নীলনকশা বাস্তবায়নের প্রতিনিধিত্বের কথা। কারণ জনগণের সংগ্রাম, আকাঙ্ক্ষা কোনভাবেই ৭০এর মতো একটি নির্বাচন ছিল না। কিন্তু ঐ নির্বাচন দিয়ে পাকিস্তানীরা পূর্ব বাংলার আন্দোলনকে প্রশমিত করার একটা উদ্যোগ নিয়েছিল ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি সমূহ জনগণের সংগ্রামের প্রধান প্রতিনিধি হওয়ায় তারা ঐ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে। সুযোগ লুফে নেয় আওয়ামী লীগ। বাস্তবায়িত হয় পাকিস্তানী চক্রান্ত। নির্বাচনে স্বভাবত নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেও ক্ষমতা না পেয়ে মোহভঙ্গ ঘটে আওয়ামী লীগের বা শেখ সাহেবের। শুরু হয় দেনদরবার, হুমকিধামকি। শেষ পর্যন্ত অকস্মাৎ পাকিস্তানী ভয়ঙ্কর আক্রমন। শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ তারপর সংগঠিত যুদ্ধ। যাতে শেখ মুজিবুর রহমানের কোন ধরনের আহবান ছিল না নেতৃত্ব ছিল না। ষাটের দশকের বিভিন্ন আন্দোলন থেকে প্রস্তুতি নেয়া আপামর জনগণ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। নেতৃত্ব দেন তাজউদ্দীন আহমেদ। যদিও কৌশলগত, অবস্থানগত কারনে তাজউদ্দীন আহমেদ শেখ মুজিবর রহমানকেই অস্থায়ী সরকারের প্রধান নেতা বা রাষ্ট্রপতি রাখতে বাধ্য হন। কিন্তু তাতে তিনি কোনভাবেই স্বাধীনতা যুদ্ধের স্থপতি হয়ে যান না। তাকে স্থপতি বানানো বাংলাদেশের ইতিহাসের সুদূরতম লক্ষ্যাভিসারী সূক্ষ্ম বিকৃতি বা বিভ্রান্তি। যা ভারতের স্বার্থে আওয়ামী লীগ করেছে। সেলিম ভাইয়েরা বা সিপিবি তা অযাচিতভাবে অনুসরণ করে চলছে। ইতিহাস নির্মাণের ক্ষেত্রে যা ভয়ানক ক্ষতিকর। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের স্থপতি জনগণ। জনগণই ইতিহাসের স্রষ্টা। ইতিহাসে ব্যক্তির ভূমিকা অপরিহার্য্য, এটা অস্বীকার বা অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই। কিন্তু মুখ্য ভূমিকা অবশ্য কোন ব্যক্তির হতে পারে না। ইতিহাস ঐতিহাসিক ব্যক্তির জন্ম দেয় বটে। তবে ঐতিহাসিক ব্যক্তি শুধু ইতিহাস রচনা করে না। সমগ্র জনগোষ্ঠীর স্বপ্নআকাঙ্ক্ষা, অসংখ্য ত্যাগতিতিক্ষা, লক্ষ্যাভিমূখী পৌছানোর অদম্য স্পৃহার সম্মিলিত যোগফলে ইতিহাস নির্মিত হয়

আর একটি বিষয় যুদ্ধের ময়দানে অনুপস্থিত থেকে, শত্রুশিবিরে বন্দী যুদ্ধপরবর্তীতে অক্ষত অবস্থায় মুক্ত হওয়া এমন কোন নেতৃত্ব পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল, যিনি আবার ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রধান নেতার মর্যাদা পেয়েছেন। লেনিন, মাও সেতুঙ, হো চি মিন, ফিদেল ক্যাষ্ট্রো, চে গুয়েভারা, কিংবা এমনকি প্রাচীন বিশ্বের কোথাও কোন যুদ্ধে ময়দানে অনুপস্থিত বা সামনে থেকে নেতৃত্ব না দেয়া কোন নেতৃত্ব এমন মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার নজির পাওয়া যায় না। এমনকি মিথের অবতার কৃষ্ণ বা অর্জুনেরও এমন সৌভাগ্য হয়নি। তাদেরকেও যুদ্ধের ময়দানে থেকে ভূমিকা পালন করার কথাই মহাভারতে বর্ণিত রয়েছে। দেখা যাচ্ছে শেখ মুজিবুর রহমানকে ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে অবতারদের অবতার বানানো হয়েছে। ইতিহাসের নির্মোহ পর্যালোচনায় হয়তো একদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আওয়ামী লীগের এবং শেখ মুজিবের অবদান জগৎশ্রেষ্ঠ মিথের মর্যাদা পাবে। বাস্তবতা যা থেকে পুরোই ভিন্ন।

রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রত্যয়দীপ্ত জনগণকে বিভ্রান্ত না করে সেলিম ভাইয়ের উচি নিজেদের কর্মকাণ্ডের যতটুকু উজ্জ্বল দিক, নিজেদের নেতাদের কৃতিত্ব গুরুত্বসহ প্রচার করা। শ্রেণী সংগ্রাম এতে বাধাগ্রস্ত হবে না, বরং সামান্য হলেও উজ্জীবিত হবে।

ব্যক্তিগত কুৎসা রটিয়ে বা কারো প্রশংসায় সত্যঅসত্যের মিশ্রণে গোঁজামিলে প্রচারণা চালিয়ে ইতিহাসে যার যতটুকু পাওনা তা থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যায় না। সেই চেষ্টা করাটাইণ্ডশ্রম। ব্যক্তি শেখ মুজিবুর রহমান এখানে আলোচ্য বিষয় নয়। নেতৃত্ব বা প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি চরম অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন, ভুল করেছেন। যে ভুলে ধারাবাহিক খেসারত বাংলাদেশের জনগণ দিচ্ছে আজও। আরো বেশ কিছুদিন দিতে হবে হয়তো

সোনার বাংলা গড়ার আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে শেখ সাহেব যেভাবে স্বাধীনতার পরে মৃত্যু অবধি দলীয় লোকদের অবাধ লুণ্ঠন, বিরোধীদের নির্বিচার হত্যা, যথেচ্ছাচার কোন গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরি হতে না দেয়াকে চোখ বুজে সয়েছেন, সমর্থন দিয়েছেন, এমনকি নির্দেশও দিয়েছেন; সাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠান তৈরি ও সাম্প্রদায়িক ভ্রুণ বপন করে রাখাসহ অগণতান্ত্রিক স্বাধীন দেশের ভিত্তি ধ্বংস করার উপযুক্ত কাজ করেছেন। তাতে তার সোনার বাংলা গড়া অসমাপ্ত রয়ে গেছে। শেখ সাহেব অসামান্য নিরবতায়, স্নেহময় পিতার দৃষ্টিতে দুষ্টু পুত্রের “সামান্য দোষণীয় কর্মকাণ্ড” হিসেবে এগুলোকে দেখে গেছেন বিচার করেন নি, বাধাও দেন নি বরং সমর্থন দিয়েছেন

সেই সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের আকাঙ্ক্ষা এখন সেলিম ভাই তার কর্মীদের দিয়ে পূরণ করতে চাইছেন। সেলিম ভাইয়ের প্রতি আহবান আপনি এই কাজ করুন শুধু অনুগ্রহপূর্বক পার্টির নামের কমিউনিস্ট অংশটা পরিবর্তন করে নিয়ে তা করুন, কোন সমস্যা নেই। নতুবা আগামী দিনের সমাজ পরিবর্তনের নেতাকর্মীদের কাঠগড়ায় আপনাকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s