যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি হামলায় রাজনৈতিক বন্দী মুক্তকরণ কমিটি (সিআরপিপি)-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Posted: সেপ্টেম্বর 25, 2014 in আন্তর্জাতিক
ট্যাগসমূহ:, , , , , , ,

রাজনৈতিক বন্দী মুক্তকরণ কমিটি (পশ্চিমবঙ্গ শাখা)

১৮ সূর্য্যসেন স্ট্রিট

কোলকাতা ৭০০০০৯

.

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

hok-kolorobগতরাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচী পালনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর পুলিশি হামলার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। ২৮ অক্টোবর, উৎসব চলাকালে ক্যাম্পাসের ভেতরে একজন ছাত্রীর যৌন নিগ্রহের অভিযোগের বিষয়টিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেভাবে সামাল দিচ্ছে তার বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে গত কয়েকদিন ধরে। ঘটনার তদন্তে নিয়োজিত “অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি”র একজন নারী সদস্যের বিরুদ্ধে ঘটনার শিকার ছাত্রীকে আপত্তিকর প্রশ্ন করার অভিযোগ ওঠলে, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা তার নিন্দা জানায়। তারা তদন্তকারী দল থেকে দুইজন নারী সদস্যেকে অপসারণের এবং সেইসাথে একজন আইনজীবী ও একজন মনোবিদকে বহিরাগত জুরি হিসেবে তদন্তদলে অন্তর্ভূক্ত করার দাবী জানায়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য জনাব অভিজিৎ চক্রবর্তী তাদের দাবী প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু এর পরিবর্তে কতৃপক্ষ একটি আচরণবিধি প্রকাশ করে এবং ক্যাম্পাসের ভেতরে নজরদারীর জন্য একটি নতুন দল গঠনের ঘোষণা দেয়। এই পদক্ষেপটি ছাত্রছাত্রীদের আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে এবং অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচীটি ঘেরাও কর্মসূচীতে রূপ নেয় এবং মিটিং চলাকালে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের তারা ঘেরাও করে।

জানা যায় যে, নির্বাহী পরিষদের কিছু সদস্যের পুলিশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা সত্ত্বেও বিক্ষোভ দমন ও ঘেরাও মুক্ত করতে উপাচার্য পুলিশি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায়, ছাত্র ও কতৃপক্ষের মধ্যে মধ্যস্ততাকারী শিক্ষকদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে পুলিশ তলব করতে উপাচার্যকে নিষেধ করেছিলেন। যাই হোক, উপাচার্য তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। ফলশ্রুতিতে, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪, উপাচার্যের নির্দেশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। শান্তিপূর্ণ অবস্থান আন্দোলন কর্মসূচীকে ছত্রভঙ্গ করতে, কিছু অচিহ্নিত সাদা পোশাকের পুলিশ ও নিয়মিত পুলিশ অগণিত ছাত্রছাত্রীদের লাঠিপেটা করে। এতে ত্রিশ জনের অধিক ছাত্রছাত্রী আহত হয়। পুরুষ পুলিশই ছাত্রীদের টানাহেঁচড়া করে। টিমটিতে কোন মহিলা পুলিশ ছিল না। একজন ছাত্রীসহ প্রায় পঁয়ত্রিশ জন ছাত্রকে তারা গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনাটি ২০০৫ সালে বুদ্ধদেবের আমলে অনশন ধর্মঘটে চালানো পুলিশি হামলার কথা আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয়।

পুরো ঘটনাটি কেবলমাত্র ছাত্র সমাজ থেকে কতৃপক্ষের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতাকেই তুলে ধরে না, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের সাথে বোঝাপড়ায় প্রশাশনের সম্পূর্ণ অদক্ষতাকেও ফুটিয়ে তোলে। কয়েক বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছিলেন। বিবৃতিতে তারা বলেন যে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় একটি পুলিশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে। কারণ, ক্যাম্পাসে অসংখ্য সাদা পোশাকের পুলিশের উপস্থিতি আছে। পরিস্থিতি কতোটা ভয়াবহ হয়েছে, কিভাবে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার পদদলিত হচ্ছে এবং কিভাবে বাকস্বাধীনতা ও চলাচলের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে, তা ফুটে উঠেছে নজরদারীর জন্য পৃথক দল গঠনের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে। আমরা ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। গ্রেফতারকৃত ছাত্রছাত্রীর অনতিবিলম্ব মুক্তি ও ক্যাম্পাস থেকে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও সকল পুলিশের তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার দাবী করছি।।

.

অমিত ভট্টাচার্য

সাধারণ সম্পাদক, রাজনৈতিক বন্দী মুক্তকরণ কমিটি (সিআরপিপি)

.

সুজাতো ভদ্র

সহসভাপতি, সিআরপিপি

.

সুখেন্দু ভট্টাচার্য

সহসভাপতি, সিআরপিপি

.

অরুণ চক্রবর্তী

আহবায়ক, সিআরপিপি(পশ্চিমবঙ্গ শাখা)

—————————————-

অনুবাদ: সুলতান মাহমুদ

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s