লিখেছেন: ফারুক আহমেদ

ak-khandokar-bookমুক্তিযুদ্ধের উপসর্বাধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল আব্দুল করিম খন্দকারের লেখা বই ১৯৭১ : ভেতরে বাইরেনিয়ে অনেকেই লিখেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের ক্ষমতার কৃপাপ্রার্থীদের লেখার মধ্যে কোন যুক্তি না থাকলেও আওয়াজ অনেক বড়। কিন্তু তর্জনগর্জনের মধ্যে সবকিছু চাপা পড়ে যায় না। প্রশ্নকে উপেক্ষাও করা যায় না, স্থায়ীভাবে দাবিয়েও রাখা যায় না। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াইসংগ্রামে ১৯৭১ সালে মুক্তির জন্য মানুষের লড়াই বিরাট ঘটনা। ঘটনা যত বড় হয় তাকে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে জানার আগ্রহও মানুষের ততই গভীরহয়। জানা এমন এক বিষয় যে, ক্ষমতাবানরা যা জানাবেন তাকেই পূর্ণ জ্ঞান করা যায় না। জানা পূর্ণতা পায় প্রশ্নের মধ্যদিয়ে প্রাপ্ত উত্তর থেকে। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের মানুষের শোষণমুক্তির লড়াইয়ের মাইলফলক। তাই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন মানুষের সামনে বার বার আসতেইথাকবে। মুক্তিযুদ্ধে মানুষের ভুমিকা কি ছিল, পরবর্তীতে যারা ক্ষমতাসীন হয়েছিলতাদের ভুমিকা কি ছিল, নের্তৃত্বের ভুমিকা কি ছিল, যুদ্ধের পরিকল্পনা কি ছিল এরকম অনেক প্রশ্ন মানুষের সামনে আসছে এবং আসবে। সেসব প্রশ্নের উত্তর মানুষ খুঁজতেই থাকবেন। এদেশের মানুষ একটি বুঝ থেকে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। মানুষের সংগ্রামের কেন্দ্রীকতার জন্য, দিক নির্দেশনার জন্য নের্তৃত্বের প্রয়োজন পড়ে। মানুষের বুঝ এবং চাওয়ার সাথে মিলে যাওয়ার শর্তে মানুষ নের্তৃত্বের উপর আস্থা রাখেন। মানুষ যেমন নের্তৃত্বের উপর আস্থা রাখেন তেমনই নের্তৃত্বেরও দায় থাকে। ১৯৭১ সালেরমুক্তি যুদ্ধে মানুষ যেসব নের্তৃত্বের উপর আস্থা রেখেছিলেন সেসব নের্তৃত্ব মানুষেরআস্থার দায় কিভাবে মিটিয়েছিলেন এ প্রশ্ন উঠতেই থাকবে।

ক্ষমতাসীনরা সবসময়ই তাদের পক্ষে ইতিহাস আরোপ করতে থাকে। যেসব ঐতিহাসিক প্রশ্ন তাদের বিপক্ষে যায় বরাবরই সেসব প্রশ্নকেই উচ্ছ্বেদ করতে চায়। কিন্তু তা পারে না। সাময়িকভাবে পারলেও শেস পর্যন্ত সকল বাঁধ ভেঙ্গে যায়। ছোট বড় প্রশ্ন এসে এসে ইতিহাস রূদ্ধ করতে ক্ষমতাসীনদের নির্মিত বাঁধের উপর আছড়ে পড়েসে বাঁধ ভেঙ্গে ফেলে। আর ভেঙ্গে ফেলে বলেই মানুষ ইতিহাস জানতে পারে। মুক্তিযুদ্ধ শুধুই স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ ছিল না, তা ছিল মানুষের সকল প্রকার বঞ্চনা থেকে মুক্তির যুদ্ধ। মানুষের সে মুক্তি এখনও অর্জিত হয়নি। যে শোষণ বঞ্চনা থেকে মুক্তির জন্য মানুষ যুদ্ধ করেছিলেন তা থেকে মানুষ মুক্তিলাভ না করলেও স্বাধীনতার পর যারা ক্ষমতাসীন হয়েছিল লুন্ঠনের জন্য তারা অবাধ এবং মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। ৪৩ বছর ধরে নানা নামের লুন্ঠক শাসক শ্রেণীর অবাধ লুন্ঠন চলছে। লাঞ্ছিতবঞ্চিত মানুষ সেখান থেকেই যাত্রা শুরু করেন। ইতিহাস জানতে চান। ১৯৭১ সালে মানুষ ধর্মযুদ্ধ করেনি যে,নের্তৃত্ব নিয়ে, নের্তৃত্বের দায় নিয়ে মানুষ প্রশ্ন তুললে সেটা তার ‘পাপ’ হবে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আব্দুল করিম খন্দকার উপসর্বাধিনায়ক ছিলেন। তিনি অনেক কিছু দেখেছেন এবং জেনেছেন। সেই দেখা এবং জানার একটি দায় থাকে। বহু মানুষেরই সে দায় থাকে। কিন্তু নানা রকমের স্বার্থের খুঁটিতে বাঁধা থাকার কারণে অনেকেই সেই দায় বোধ করেন না। এ কে খন্দকার ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নানা ঘটনাবলী নিয়ে একটি বই লিখেছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার তাঁর উপসর্বাধিনায়কের আসনকে তখন এবং এতদিনও কেউ অস্বীকার করেনি। যেই তিনি “১৯৭১ : ভেতরে বাইরে” লিখলেন তখনই অনেকেই বলতে শুরু করলেন তিনি তো রনাঙ্গনেই যাননি!তাহলে তারাই বা ‘বিশুদ্ধ’ ইতিহাসের কথা কিভাবে বলতে পারেন? এতবড় একটি মিথ্যা তাঁরা চেপে রেখে কিভাবে ইতিহাসের বিশুদ্ধতার কথা বলতে পারেন? এইতো সেদিন পর্যন্তও এ কে খন্দকার তাদেরই লোক ছিলেন! একথা ঠিক যে, এ কে খন্দকার তাঁর বইতে যা লিখেছেন দুই একটি জায়গায় পরিবর্তন করে দিলে আজ যারা তাকে আইএসআইএর চর বলতেও ছাড়ছেন না, তারাই তার গলায় ফুলের মালা পরাতেন।

এরা মুক্তিযুদ্ধকে এমন এক সংকীর্ণ জায়গায় নিয়ে দাঁড় করাতে চায় যেখান থেকে একটু হেলে গেলেইগহীন খাদে নিমজ্জিত হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ এমন কোন সংকীর্ণ অবস্থানের জন্যও নয় এবং সংকীর্ণ কোন জমিনের ওপর দাঁড়িয়েও শুরু হয়নি, শেষও হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের জমিনটা ছিল অনেক বেশি প্রশস্ত। সেই প্রশস্ত জমিনের উপর দাঁড়ানো মানুষকে চীরস্থায়ীভাবে বোকা বানিয়ে রাখা যাবে না। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে ভেজা প্রশস্ত জমিনের ওপর দাঁড়িয়ে মানুষের নিরেট বুঝ থেকে তাকে বিচার করতে দিতে হবে। প্রশ্ন তুলতে দিতে হবে, প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

শেখ মুজিবুর রহমান সে সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন, যার সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পনার উপর অনেক কিছুই নির্ভর করতো ধরে নিয়েই এ কে খন্দকার প্রশ্ন তুলেছেন শেখ মুজিবের কতগুলো সিদ্ধান্ত নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধে নের্তৃত্বদানের দাবিদার সংগঠন এবং তার নের্তৃবৃন্দের পরিকল্পনাহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দেখিয়েছেন মানুষ মার খেয়ে মরতে মরতে প্রতিরোধ শুরু করেছিলেন। নের্তৃত্বের আগে মানুষ ছিলেন, মানুষের আগে কোন নের্তৃত্ব ছিল না। এ কে খন্দকারের বই নিয়ে যারা বিক্ষুব্ধ হচ্ছেন, নানা “নৃতাত্বিক” গবেষণায় তাকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী বানিয়ে দিতে ছাড়ছেন না, এসব গুরুতর বিষয় নিয়ে তাদের কোন আলোচনা বা জবাব নেই।

আওয়ামীলীগ এবং তাদের ঘরানার বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কোন আলোচনা, প্রশ্ন, প্রশ্নের জবাব না থাকলেও তর্জনগর্জনের অভাব নেই। তর্জনগর্জন উপেক্ষা করে এমন কিছু আলোচনাও হচ্ছে, যা থেকে মানুষের পক্ষে ইতিহাস জানা এবং পর্যালোচনা করা সহজ হবে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর দৈনিক যুগান্তরে বদরুদ্দীন উমরের ‘খন্দকারের বই ১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’ শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশিত হয়। এ কে খন্দকারের বই নিয়ে যখন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এবং তাদের বুদ্ধিজীবী মহলে আষ্ফালন, ভয়ভীতি প্রদর্শনে তোলপাড় চলছে তখন বদরুদ্দীন উমরের এ লেখা সাধারণ মানুষের চিন্তার সহায়ক হয়। বদরুদ্দীন উমরের এ লেখা নতুন নয়, তাঁর দুইখন্ডে রচিত The Emergence of Bangladesh নামক গ্রন্থে পাকিস্তান শাসন আমলের রাজনীতি, মানুষের আন্দোলনসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবং সে সময়ের রাজনীতি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে। সে বইতে মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের এবং আওয়ামী লীগের যে কোন পরিকল্পনা ছিল না, তথ্যপ্রমাণাদিসহ যুক্তিপূর্ণ আলোচনা সেখানে আছে। এর বিপরীতে আওয়ামী মহলে কোন যুক্তিপূর্ণ আলোচনা নেই। যখন কোন যুক্তি খন্ডনের জন্য পাল্টা যুক্তি দেওয়ার মতকিছু থাকে না তখন তা প্রতিরোধের একটি উপায় হলো তর্জনগর্জন এবং অন্য উপায় হলো ধুম্রজাল সৃষ্টি করা।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর দৈনিক যুগান্তরে জনৈক অধ্যাপকের ‘দুই বই বিতর্ক এবং ইতিহাস বোধ নিয়ে শংকা’ শিরোনামে এমনই একটি অন্তঃসারশূন্যএবং ধুম্রজাল সৃষ্টির লেখা চোখে পড়ল। লেখার ভেতরের ধুম্রজালে যাওয়ার আগেই আমরা শিরোনাম দেখে শংকিত না হয়ে পারি না। যখন কোন ‘শিক্ষিত’ জনৈক ‘অধ্যাপক’ মানুষের বোধ নিয়ে শংকায় পড়েন, তখন তিনি হয় মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন অথবা মানুষের উপর ‘বোধ’ আরোপ করতে চান। স্বাধীনতার পর ৪৩ বছর ধরে মানুষের উপর যে ‘বোধ’ আরোপ করা হচ্ছে এ হলো তারই প্রতিধ্বনি। অধ্যাপক সাহেব বদরুদ্দীন উমরের নাম উল্লেখ না করে তাঁর লেখা প্রসঙ্গে কোন যুক্তি হাজির না করে অযথা কতকগুলো আবোলতাবোল বুলি ঝেড়েছেন। তিনি লিখেছেন, “সম্প্র্রতিএকটি জাতীয় দৈনিকেএকজন বামপন্থী প্রাজ্ঞ লেখকের দীর্ঘ নিবন্ধ পড়লাম। বরাবর তার লেখায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের প্রতি বিদ্বেষের গোলা নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। তাই সঙ্গত কারণেই তিনি এ কে খন্দকারের বইয়ের বক্তব্যের ঘোরতর সমর্থক হয়ে গেলেন। ব্যক্তিগত বিবেচনায় তিনি তেমনটি হতেই পারেন। সাক্ষ্য দিলেন ৭ মার্চের ভাষণ তিনি নিজ কর্ণে শুনেছেন। সেখানে বঙ্গবন্ধু জয় পাকিস্তান বলেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি একথা বলতেও ছাড়লেন না যে, এ কে খন্দকারের বইটিকে ভবিষ্যৎ ইতিহাস গবেষকরা একটি আঁকর গ্রন্থ হিসেবে ব্যবহার করবেন।” তার লেখা থেকে যতদুর বুঝলাম তিনি ইতিহাসের অধ্যাপক। বদরুদ্দীন উমর যদি ৭ মার্চের ভাষন নিজ কর্ণে শুনে থাকেন তবে কি তিনি তার উপর “বোধ” আরোপে আক্রান্ত হয়ে অথবা অন্যকোন সুবিধাপ্রাপ্তির জন্য মিথ্যা বলবেন? এই অধ্যাপকেরা ভুলেই যান যে সবাই তাদের “বোধ” আরোপ দ্বারা আক্রান্ত হন না। তারা ভুলেই যান যে, সবাই তাদের মত করে সুবিধাপ্রাপ্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়ে সত্য বিসর্জন দেন না।

এ কে খন্দকারের বই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বদরুদ্দীন উমর লিখেছিলেন, “বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব ও তাদের ঘানিটানা বুদ্ধিবীজীরা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। এমনকি জাতীয় সংসদেও এ নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা ও তার ওপর গালাগালি বর্ষণসহ বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবিও তোলা হয়েছে। ‘ফেলো কড়ি মাখো তেল’ নীতির দ্বারা তাড়িত কোনো কোনো সুপরিচিত লেখকও বসে নেই। খন্দকার সাহেব তার বইটি লিখে এধরনের সত্য হত্যাকারীর জন্য টিনের তলোয়ার ঘোরানোর এক সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। তিনি দৈনিক পত্রিকার পাতায় যথারীতি তার এই তলোয়ারের খেলা দেখিয়েছেন। এসব সত্ত্বেও ১৯৭১ সালের যুদ্ধের ইতিহাসের একটি আকর গ্রন্থ হিসেবে বইটির গুরুত্ব কানাকড়িও খর্ব হয়নি।” বদরুদ্দীন উমর “ইতিহাসের একটি আকর গ্রন্থ হিসেবে বইটির গুরুত্ব কানাকড়িও খর্ব হয়নি” বলাতে এই অধ্যাপক সাহেব তার বদ হজম হয়ে যাওয়া সংজ্ঞা নিয়ে হাজির হলেন। তিনি বলছেন, “আমরা জানি, ইতিহাসের আঁকর সূত্র মানে প্রাথমিক সূত্র অথবা প্রত্নতাত্ত্বিক সূত্র (original, primary or Archaeological sources)। সমকালীন মানুষের সৃষ্ট ব্যবহৃত বস্তু সংস্কৃতি অথবা লিখিত প্রমাণ্য লিপিমালা। আর এসব সূত্র ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে লেখা গ্রন্থগুলো দ্বিতীয় পর্যায়ের সূত্র (secondary sorces) হবে। হিসেব মতো এ কে খন্দকারের গ্রন্থটি তো দ্বিতীয় পর্যায়ের সূত্র বিবেচনায় দুর্বল গ্রন্থ হতে পারে। দুর্বল এজন্য যে, এখানে তথ্যসূত্র আর টিকাটিপ্পনি নেই। ফর্মুলা অনুযায়ী, ইতিহাসের উপাদান হিসেবে এ গ্রন্থটি ব্যবহারে ঝুঁকি রয়েছে”। তো মহাশয় আপনার সংজ্ঞাই তো বলছে এটিএকটি আকর গ্রন্থ হওয়ার দাবি রাখে। এ কে খন্দকার কি মুক্তিযুদ্ধের সমকালীন মানুষ নন? তিনি যদি কোন অভিপ্রায়ী হয়ে কিছু লিখে থাকেন তা উপস্থাপন করুন, যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করুন। এই অধ্যাপকের এ বইয়ের আলোচনা এবং বদরুদ্দীন উমরের লেখার বিপক্ষে কোন যুক্তি নেই। তার একমাত্র সমস্যা হলো সংজ্ঞা রক্ষা! কিন্তু সংজ্ঞাটি যে তাঁর নিজেরই বদহজম হয়েছে সেদিকে তার কোন খেয়াল নেই। খেয়াল না থাকারই কথা, কারণ কোন বিশেষ “বোধ” দ্বারা তাড়িত হলে অনেক কিছুই খেয়াল থাকে না এবং অনেককিছুই চোখেও পড়েনা। তখন তাঁরা এভাবেই কথা বলেন, “আমার ছাত্রের এ একাডেমিক ব্যাখ্যা অনেকটাই অকাট্য। তাই আমি রহস্যময় হাসি দিয়েই প্রসঙ্গ পাল্টাতে চাইলাম”। এসব অধ্যাপকদের হাসি যে আর কোন রহস্যের মধ্যে নেই বিশেষ “বোধে” তাড়িত হয়ে এরা তাও বুঝতে অক্ষম। অক্ষম এ কারণে যে কোনরকমের যুক্তির ধারে কাছে না গিয়ে তাঁর ইতিহাস বোধ কিভাবে উগরে দিচ্ছেন দেখুন, “কিন্তু প্রাজ্ঞ বামপন্থী লেখক ইতিহাস গবেষণা পদ্ধতি জানবেন না, তা মানা যায় না। তাহলে এমন একটি তথ্যসূত্রবিহীন স্মৃতিকথা ধরনের বইকে ইতিহাসের আঁকর গ্রন্থ বলতে পারলেন কীভাবে! এর পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে। একটি জ্ঞানপাপজনিত। এ ক্ষেত্রে লেখকবিশ্লেষক আসল সূত্রটি জানেন। কিন্তু অমন ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারলে বিপক্ষ মতের দলকে বিব্রত করা যাবে। তবে এভাবে মতামত চাপিয়ে দিলে বিশ্বাস করতে হবে এ ধরনের লেখকগবেষকরা সব পাঠককে ইতিহাসমূর্খ ভাবেন। মনে করেন, তিনি যা চাপিয়ে দেবেন তাই হজম হয়ে যাবে। দ্বিতীয়টি হতে পারে ইতিহাস গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণার অস্পষ্টতা”। যারা আরোপিত বিশেষ “বোধ” দ্বারা সর্বদাই চালিত হচ্ছেন তাঁদের জ্ঞান চর্চা বলেকিছু আছে বলে নিজেরাই বোধ করেন না তবে ক্ষণে ক্ষেত্রে “পাপ” বোধ করেন নিশ্চয়। এ থেকেই বুঝি তাঁদের আবিস্কার “জ্ঞানপাপ” শব্দটি। বদরুদ্দীন উমরের লেখার সাথে যারা পরিচিত তাঁরা একবাক্যে বলবেন তিনি কারো আরোপিত “বোধে” তাড়িত হয়ে কিছু লেখেন না।

আওয়ামী লীগ এবং তাদের ঘরানার বুদ্ধিজীবীদের সংকট হলো মানুষের ওপর জোর করে ‘ইতিহাস বোধ’ আরোপের সংকট। এ কে খন্দকারের বই নিয়ে তাদের তর্জনগর্জনএবং তোলপাড়ের মধ্য দিয়ে তারা জানান দিলেন তাদের এ সংকট কতটা গভীর।।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s