কবি গোলাম কিবরিয়া পিনুর কবিতা :: প্রসংগ সমাজ ভাবনা

Posted: অগাষ্ট 19, 2014 in সাহিত্য-সংস্কৃতি
ট্যাগসমূহ:, , , , , , ,

লিখেছেন: মতিন বৈরাগী

abstract_pain-7কবিতা প্রসংগে ৬০এর এক কবি আমাকে ১০টি প্রশ্ন করেছিলেন, স্বীকার করতে কার্পণ্য নেই তাঁর প্রশ্নগুলোর যুৎসই জবাব আমি দিতে পারছিলাম না। শেষ প্রশ্নটি ছিলো : আমরা যা লিখছি তা কী বাংলা সাহিত্যে কোনো অবদানের সৃষ্টি করছে! আমি গাঁই গুই করছিলাম, কিন্তু পাল্টা প্রশ্ন এলো ‘কী অবদানের সৃষ্টি করেছে বলেন’হ্যাঁ, বলবার যা ছিলো তা যুৎসই মনে হচ্ছিল না। সত্য এই যে, এরকম জিজ্ঞাসা আমার মধ্যেও বিরাজ করছে। কারণও আছে আর তা’ হলো সৃষ্টিতে ক্লিবতা, চারিদিকের নৈরাজ্য, সমাজের বন্ধ্যাত্ব, পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা, শিল্পসাহিত্যসংস্কৃতির প্রশ্নে রাষ্ট্রের অনুল্লেখ্য আগ্রহ।

আমাদের সমাজ এবং রাজনীতি এমন একটা সময়কে পাড়ি দিচ্ছে, যা কোনোভাবে লেখক. কবি, শিল্পী বা সৃজনশীল মানুষের পক্ষে নয়। প্রকৃত অর্থে, সৃজনশীলতাকে পৃষ্ঠপোষকতা দেবারও নয়। যা কিছু আমরা দেখি বা দেখছি তা’ খানিকটা ভণিতা ছাড়া আর কিছু নয়। ফলে সৃজনশীল কাজে যে মুক্ত পরিবেশ দরকার এবং মুক্ত সামাজিক পরিস্থিতি যে সৃজনশীল মানুষ ও তার গুণগ্রাহী সৃষ্টি করে কবি, লেখক, আঁকিয়ে, গাইয়ে, বজিয়েদের উৎসাহিত করে যা সৃষ্টিকে প্রণোদনা দেয়, তার অভাব বিদ্যমান থাকায় নতুন কিছুর সংযোজনায় প্রতিবন্ধকতার প্রাচীর তুলেছে। এরকম বৈরী বর্তমানের মতো ৫০ বা ৬০এর লেখক, কবিরা যে আটকে ছিলেন না তা’ নয়, তবুও একটা স্বপ্ন জেগে উঠছিলো আর তার রূপায়নে খানিকটা ঝুঁকি সমাজের নানা অংশ নিয়েছিল। সমাজ নড়ে চড়ে প্রস্তুত হতে চাইছিলো, সে যতো সামান্যই হোক। তেমনটি আজ আর নেই। এখন লেখক কবিরা নানা খেচর রাজনীতির লেজুর হয়ে পক্ষবিপক্ষ। কী আর অবদান রাখবেন, তারা উচ্ছিষ্ট কুড়াবার প্রয়োজনে বোধবুদ্ধি বন্ধক দিয়ে বসে গেছেন প্রাপ্তির হাটে। যেইটুকু পাওয়া যায় তাই নিতে মশগুল। ফলে নতুন কিছু হবার সম্ভবনা বালির বাঁধের এক সংযোজন প্রয়োজনীয় ভার বইবার শক্তি কই! যদিও মহৎ সাহিত্য সৃষ্টির সম্ভবনা একটি জাতির ক্রান্তিকালেই বেশী লক্ষণযুক্ত হয়, সামাজিক অবস্থাটা তেমনও নয়, খানিকটা জোড়াতালি, খানিকটা লেপপোচ করে চলছে। সামাজিক জীবনযাপন, যেখানে লুট আর লুটে ব্যস্ত হয়ে নি:শেষ হয়ে উঠছে সেখানে নতুন কিছু সংযোজনের উপায় কতটুকু চলমান থাকবে? এটা একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম্যের মধ্যবর্তি অবস্থান। এখন কোনো কিছু মহৎ হয়ে উঠবার সম্ভনা কম। তবুও ছিটেফোঁটা কিছু কাজ যে হচ্ছেনা তেমনতো নয়। এখনো কেউ কেউ কিছু কাজ করবার চেষ্টায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবার সাহস দেখাচ্ছেন সেটুকুই কন্ট্রিবিউশন, সেটুকুই আশাবাদ।

কবি গোলাম কিবরিয়া পিনুর এবারের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ‘উদর পূর্তিতে নদীও মরে যাচ্ছে’ প্রকাশিত কাব্যটি যেনো এতো কিছুর মাঝে একটি সাহসের নাম, একটি ব্যতিক্রম। গতানুগতিকতা নয়, ভিন্নভাবে, নতুনভাবেই বলেছেন তিনি চলমানকে, আর তাতে উঠে এসেছে গতানুগতিকতা ভাঙার চেষ্টা, নতুন বুননে অপসারিত হয়েছে দুর্বোধ্যতার দেয়াল, ভাববিলাসের কার্যাবলী, ক্ষুদ্রের গণ্ডিকে অপসারণ করে উজ্জ্বল আনন্দ হয়ে উঠবার আশাবাদ। এটা পশ্চিমের নগ্ন অনুকরণ নয়, বরং বাংলা সাহিত্যের ধারাহিকতার প্রকাশ। যা আমরা প্রাচীন সাহিত্যগুলোতে দেখি, লোকজ সাহিত্যেও।

লক্ষণীয় যে, কবিতা গ্রন্থের নামকরণএও ভিন্নতা আছে। তিনি নাম করণের ক্ষেত্রে কোনো রাখঢাক করেননি। যেমন এভাবেও তিনি বলতে পারতেন ‘উদর পূর্তিতে নদীও মরে যায়’ সেটা হতো খানিকটা উপর থেকে বলার মতো, উড়ে উড়ে ঘুরে দেখার মতো উপদেশমুলক, না তিনি নদী রূপকের মধ্য দিয়ে চলমান জীবন সত্যকে বলতে চেয়েছেন যে আমাদের নদীগুলো যা আমাদের জীবনযুক্ত হয়ে আবহমান কাল ধরে আমাদের অন্ন, আমিষ আর শ্রুতিস্মৃতি দিয়ে ইতিহাস গড়েছে, তা’ দখলের কবলে পড়ে মরে যাচ্ছে. গেছে। যে ভাবে মরে যাচ্ছে আরো অনেক কিছু। মরে যাচ্ছে শোভন সুন্দর।এখন নদীর যেমন আর স্রোতের কলকল্লোল নেই, দূরগামী পণ্যবাহী নৌকা নেই, শোভাময় দৃশ্যাবলী নেই, অন্তর অনুভব নেই,

.

০২.

আনন্দময় ভ্রমণ নেই, আছে মানুষের নিষ্ঠুরতায় মরে যাবার এক করুণ দৃশ্য। তাকে বিষাক্ত বর্জ্যগিলিয়ে তলপেট বুজিয়ে চলছে দখলের উৎসব, ঠিক তেমনি সমাজ রাষ্ট্র মূল্যবোধ, মানবিকতা, আশা স্বপ্ন স্বাদ সব কিছু লুটে লুটের পরিবেশ তৈরী করে পারষ্পরিক বন্ধন কে ভেঙে একজন থেকে অন্যকে বিভাজিত করে, বিচ্ছিন্ন করে চালাচ্ছে রাজনীতির অপউৎসব। কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু তাকে অবলম্বন করে সমাজের নানা অসংগতি কাব্যে রূপান্তর ঘটিয়ে প্রকারন্তে এমন কিছু বলতে চেয়েছেন যা অনেক কবিই বলেন না, বলছেন না, মহত্বের বিষয়টি এখানে। হার্ডারের মতে ‘কবি শুধূ তার কল্পনার সুবাদে কবি নন, তাঁর বুদ্ধিও কবিসুলভ।’ সত্যকে প্রতিবিম্ব করাই কবির কাজ আর এই সত্যই কবি প্রকাশ করেন তার কবিতায় নানা উপমায়,অলঙ্কারে, রূপ কল্পে, ব্যাঞ্জনায়। টানা গদ্যের কয়েকটি বাক্য আর বাক্যাংশের মোট ৪৪ কবিতা আর ‘পায়রার খোপে খোপে বাজপাখি’ এই শিরোনামে আছে ১১৭ টি ক্ষুদ্র কবিতা এই নিয়ে ‘উদর পূর্তিতে নদীও মরে যাচ্ছে’ কাব্য। প্রত্যেকটি কবিতা হ্রস্ব শরীর নিয়ে ভাবনায় দীর্ঘ দেহী হতে হতে আরো দীর্ঘ হয়ে গেছে। কারণটা হলো, যে বিষয়কে উপজীব্যকরে কবিতাগুলো শরীরি হয়েছে তা নিত্যপ্রবহমান এবং প্রাসংগিক।

এক দৃশ্য থেকে আরেক দৃশ্যে কার নৃত্য, কার নৃত্যের

মুদ্রা। জীবনের সবচেয়ে তিক্ত ও সবচেয়ে কালো

দু:বেদনার ভেতর নৃত্যতালের সুর বুঝতে হচ্ছে! আমাকে

পুড়িয়ে মারার সকল আয়োজন কারা সেরে ফেলে? যে

আনন্দদ্বীপ সমুদ্রের মধ্যে জেগে উঠবার কথা, তা মধ্যাহ্নবেলায়

এসে গুপ্ত হয়ে গেল! বসন্তের সূর্যবেলা খানিকটা উঁকি দিয়ে

উদিত হলো না! আমি আমার উত্তরসুরিদের জন্য কী রেখে যাবো?’

মধ্যাহ্নবেলায়’

.

নানা নৃত্যের মাঝে প্রতিনিয়ত মানুষের প্রভাত। এই নৃত্য সামাজিক অস্থিরতার যা রাজনৈতিক কাদ্বারা প্রভাবান্বিত। ফলে দৃশ্য সৃষ্টি আর তার মধ্যদিয়ে গমনে অনুধাবন করা মুশকিল যে কার আগে কে নেচে গেলো অর্থাৎ মুহূর্তে দৃশ্যে বাকবদল ঘটে কিন্তু মানুষের অনুভবের মাত্রায় রেখে যায় কালো তিক্ত তিতা এক কুৎসিত তৎপরতা যেখানে মানবিকতা নেই, মানুষের ভালো লাগা বা ভালো উপলব্ধির কোন তোয়াক্কা নেই বরঞ্চ থেকে যাচ্ছে বেদনার সুরালাপ যা তাকে দেয় এক উৎকট স্বাদ এবং আশা ও স্বপ্নকে করে খণ্ডিত, চূর্ণ। আর এসব নৃত্যে শহর জ্বলে যায়, বাসট্রাকরেলগাড়ি পোড়ে, মানুষ খুন হয়, তবু নিস্তার নেই নৃত্যকারদের হাত থেকে, অনুভব নেই তাদের, কি করছে তারা। তারপর ‘যে আনন্দদ্বীপ’ প্রতিটি মানুষের মধ্যে জেগে উঠবার কথা, জনসমুদ্রে যা হবে সুস্থ্য সুন্দর আনন্দময় তা’ এক দানবীয় নৃত্যে ‘জীবনের মধ্যাহ্নবেলায়’ গুপ্ত হয়ে যায়। এরকম পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অগ্রজের কোন দিকচিহ্ন থাকে কী! কবিতাটিতে দুটি প্রশ্নবোধক আর দুটি বিস্ময়সূচক চিহ্ন দিয়ে ঘটনার অর্থাৎ এই সব নৃত্যের অতীত বর্তমানকে সংযোজন করা হয়েছে পাঠে, পাঠকের কাছে, বোধের কাছে। প্রকাশ এখানে স্তব্ধতার আশ্রয় নিয়ে শব্দময় হয়ে গেছে দূর বিস্তৃতে। যে খানে রয়েছে রাজনীতির ঘায়ের দূর্গন্ধ সামগ্রিক ভাবে প্রতিকার প্রশ্ন হয়ে ধ্বনিত হয় চৈতণ্যে।

এরকম সকল কবিতাগুলো পাঠে আমরা একটা উপলব্ধিতে পৌঁছাতে পারি যে কবি চলমান সমাজ থেকে যে অভিজ্ঞতা পেয়েছেন পাচ্ছেন তা তাকেই ব্যাথিত করে তা নয় ব্যাথিত করে প্রতিনিয়ত সকল মানুষ, কিন্তু প্রকাশ নেই, প্রতিকারের

তৎপরতা নেই। চৈতণ্যের ঘরে দীর্ঘ সময় ধরে যে পিড়াদায়ক রাজনীতি আগল তুলে রেখেছে এবং অনুভব যেখানে সীমিত কোনঠাসা, শ্বাসপ্রশ্বাসহীন,আকারপ্রকারহীন তা থেকে মুক্তির একটা উপায়বিষয়কে মানুষের চেতনার দার গোড়ায় পৌঁছে দেয়া এবং জাগ্রত করা,সংহতি দেয়া, সংগবব্ধ করা স্বাধীনতাকে আরো বেশী স্বাধীনতার জন্য। তাই এই আয়োজন যা আবার নতুন সংযোজনও বাংলা কবিতায়। এখানে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই, কাউকে বুক আর কাউকে পিঠ দেখাবার অবস্থান নেই। তাইতো তিনিই বলতে পেরেছেন

.

০৩.

প্রতীক্ষা করতে পারি এখনো! সহজসরল প্রতীক্ষা বারবার

বাদুড়ের খপ্পরে পড়ে যায়সব ফল আধা খাওয়া বা পুরোটা। রাতের

পাহারা কাজে লাগল না আম বাগানের যত্ন নিতে গিয়ে

নিজে নি:স্ব হয়ে উঠলাম। সেই বাগানের বেদনাগুলো তীব্র হয়ে

ওঠে। মধু খাাওয়া লোকরা কীভাবে যেন বিপদগ্রস্ত করে

ডবচ্ছিন্ন কওে ফেলেআমাকে গৃহে পর্যন্ত শেষমেষ যেতে দেয়

না! শেষে কি ভিক্ষুকের প্রবৃত্তি নিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলবো?

নাকি লাঠিখানা নিয়ে দাঁড়িয়ে যাবো নিজের জমিনে

ভিক্ষুকের প্রবৃত্তি’

.

কবি সরাসরি রাজনৈতির কর্মী হতে পারেন, নাও হতে পারেন কিন্তু রাজনীতির বাইরে কোনো ভাবনা মানুষ ভাবতে পারেন না, সে যেমনই হোক সেটাই বাস্তব। কবি বা লেখকরা তার প্রকাশের সকল উপাদান সংগ্রহ করেন সমাজ থেকে,সমাজ তার চেতনার নির্ধারক যা তাকে ইতিহাসের সংগে যুক্ত করে। নির্মাণ করে আরেক ইতিহাসের উপাদান, ভবিষ্যতের এক ভাবনাবাহি ল্যান্ডস্কেপ যা পাঠকের উপলব্ধিতে আবার রূপ ভেঙে নতুন রূপে সাজে। নতুন কিছু ভাবায় – ‘প্রতীক্ষা করতে পারি এখনো!’ যদি এমন হতো যে বিস্ময় চিহ্নটি আর নেই তা’হলে পঙক্তিটি এমন হতো ‘প্রতীক্ষা করতে পারি এখনো’ একটি মাত্র বিরাম চিহ্ন বক্তব্যকে বদলে দিয়েছে, যদি প্রশ্নবোধক হতো তা’হলে নিশ্চয়ই এমন হতো ‘প্রতীক্ষা করতে পারি এখনো?’ কী হয়? নিশ্চয়ই উপরের কোনো পঙক্তির প্রকাশমান ভাবনা থেকে ভিন্ন হয়ে যায়।

.

সহজসরল প্রতীক্ষা বারবার বাদুড়ের খপ্পরে

পড়ে যায়সব ফল আধা খাওয়া বা পুরোটা।

রাতের পাহারা কাজে লাগল নাআম বাগানের যত্ন নিতে গিয়ে

নিজে নি:স্ব হয়ে উঠলাম’।

.

মূল টেক্সট ‘প্রতীক্ষা করতে পারি এখনো’! তার পর সচেতন ভাবে এসেছে সাবটেক্সটগুলো যা বিবৃত করছে দৃশ্যের অভ্যন্তর ভাগ‘ প্রতীক্ষা বারবার বাদুড়ের খপ্পড়ে পড়ে যায়’ এখন প্রতীক্ষা করতে পারি ‘এখনো’ কে বোধে তেমন করে নিয়ে নেয়া যায় যেমন কবি বলতে চেয়েছেন। তার পরে আরো ‘রাতের পাহারা কাজে লাগল না’ এখানে যা কিছু অর্জন তাকে পাহারা দেবার পরও যে অরক্ষিত থেকে গেলো এবং তার পথ ধরে আরেকটি সাবটেক্সট ‘সব ফল আধা খাওয়া বা পুরোটা’ পাঠককে নিয়ে গেলো তার সিদ্ধান্তে, যা কবিও বলতে পারলেন ‘নিজে নি:স্ব হয়ে উঠলাম।’ এমনি গদ্যের ছন্দময় চালে স্বল্পদেহী কবিতাগুলো শিল্পচাতূর্যকে গায়ে মেখে দাঁড়িয়ে গেছে নান্দনিকতার আনন্দে। নেই মেদ, তামাশা বা অন্ধঅনুকরণ। ভাবের অকারণ বাড়াবাড়িও নেই অথবা দুরূহতার কাঠখড় পোড়ানোর কেরদানি, আছে ভাবনা ও করণীয়তার ঈঙিত।

পায়রার খোপে খোপে বাজপাখি’ শান্তির প্রতীক পায়রা স্নিগ্ধ নীল রঙের মতো প্রশান্ত। বাস্তব ব্যবহারে তার উপস্থিতি আমরা হরহামেশা দেখতে পাই। আমাদের নেতা নেতৃবর্গ এই বর্তমানে কিংবা অতীতে পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধন করেন উদ্বিষ্ট সভা, বলবার আয়োজনে পায়রা হয় অনুষংগ সে ওড়ে ভাবনা হয়ে, শান্তির প্রতীক হয়ে, সে সমৃদ্ধি, সে চেতনা আর তার খোপে খোপে দাঁড়িয়ে গেছে পক্ষীকুলের মধ্যে হিংস্রতার প্রতীক বাজপাখি।

.

০৪.

এই শিরোনামে আছে তিন পঙক্তি বিশিষ্ট ক্ষুদ্র কবিতা যাকে পাশ্চাত্য ঢংয়ে অনেকেই বলেন‘ ন্যানো’। এই কবিতার বৈশিষ্ট হলো অল্পকথ্য়া অনেক কিছু বলা বা ভাববার অবকাশ তৈরী করা যা পাঠককে এগিয়ে নিয়ে যায় নানা রংয়ের ভেতরে। এতে শিল্পঘনরূপটি পরিপাটি করে সাজিয়ে দেয়া হয় ঠেসে বারুদের মতো যা স্বল্প কিন্তু বিষ্ফারণে তার পারঙ্গমতা আছে পাঠক উপলব্ধি করেন নিজের মতো। কবি গোলাম কিবরিয়া পিনুর এই কবিতাগুলোর বাকবিন্যাস ভাষা প্রায় বিবৃতি মুলক কিন্তু কাব্যময়।

.

০১.

কুকুরে খাওয়া ভাত, সাপে খাওয়া

ফল আর পোকা খাওয়া বই দিয়ে আমার চলবে না

জোরা তালি পোশাক আর কতোকাল? কিংবা

.

০২.

অল্প পানিতে খালি পায়ে হাঁটা যাবে

কিন্তু এখন গভীর পানির

উসকানো স্পর্ধা

কীভাবে মোকাবেলা করবো? বা

.

০৩.

এরকম ষড়যন্ত্রের মধ্যে যাদু থাকে

তা না হলে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে মানুষ কেনো ভুল করে?

ফাঁদে পা দেয় কেন’?

.

এটা প্রায় জানা কথা সমাজ জীবনের দূর্যোগ রাজনীতির সৃষ্ট, আর এরকম অবস্থায় শিল্পীরা অনেক সময় খেলনা তৈরী করে সময় কাটায়, আর প্রকৃত শিল্পী এরূপ অবস্থানের মধ্যেও সৃষ্টি করেন অপরূপ সৃষ্টি মানুষকে নিয়ে, মানুষের জন্যে।

.

হ্যাঁ এবারে বোধহয় শুরুর প্রশ্নের উত্তর হতে পারে এভাবে যে আজকের কবিতা যা দাবী করে, যা প্রয়োজনীয় তার উপাদান নিয়ে যদি কবিতার শরীর গঠিত হতে পারে এবং যদি এমন না হয় ‘যে কবিতা হলো একটি বৃক্ষের মতো মানুষ তার নীচে বসবে, বিশ্রাম করবে, পাতা ছিঁড়বে, কুড়াবে, চলে যাবে’ যদি এমন হয় যে সে অন্তিমে মানুষের আশা হয়ে ভাষা হয়ে তার চেতনাকে বাস্তবে নিয়ে আসবে, তার জাগৃতির জন্য, তার ভবেিষ্যর জন্য তা হলেতো ‘কন্ট্রিবিউশন’ হলোই আবার নতুন করে সম্ভবত আমরা কবি গোলাম কিবরিয়া পিনুর এই কবিতাগুলোয় তার একটা ‘দিকচিহ্ন’ পেয়ে যাই।

.

কবি পিনুর কবিতাগুলোয় রয়েছে সমাজ, মানুষ, তার রষ্ট্রিক জীবনের নয়া উপলব্ধি বোধ যা আরো নুতন হবে পাঠক প্রিয়তার মধ্যদিয়ে বিলাসিতায় নয়, প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় হয়ে থাকবে কাক্সিক্ষত কবিতা প্রেমীদের মনে।।

২২.০৪.১৪

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s