লিখেছেন: সৌম্য মণ্ডল

bhagat-singh-2সন্ত্রাসবাদ” খুবই খারাপ ব্যাপার, সন্ত্রাসবাদীরা খারাপ মানুষ, সন্ত্রাসবাদীরা বোমা ফাটিয়ে খুন করে বেড়ায় এই তথ্য হলিউডি, বলিউডি অ্যাকশন সিনেমা আর কম্পিউটার গেম এর কল্যাণে শিশুরাও এ কথা জেনে গেছে। সম্প্রতি বর্তমান শিক্ষাবর্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্লাস ৮ এর ইতিহাস বইয়ে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সশস্ত্র বিপ্লবীদের ইতিহাস সংক্রান্ত চ্যাপ্টার এর নাম “বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদ” হওয়ায় চারিদিকে নিন্দার ঝ উঠেছে, গত ১১ অগাস্ট ক্ষুদিরাম বসুর শহীদ দিবসে বিক্ষোভ দেখিয়েছে কেন্দ্রে শাসক দল বিজেপি, প্রতিবাদ জানিয়েছে ডানবাম নির্বিশেষে রাজনৈতিক দল, সাধারণ মানুষ।

চাপে পড়ে সরকার তদন্ত কমিটি বসাতে বাধ্য হয়েছে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারকে এই ইস্যুতে তুলোধুনো করে ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। আমি জানিনা, ভারতের সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে বিমান বসু আদৌ নিজের পার্টি সিপিআই(এম)এর পুস্তিকাগুলো পড়েছেন কিনা। পড়লে দেখতে পেতেন প্রত্যেক জায়গাতেই সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সন্ত্রাসবাদীই বলা হয়েছে। আর এটাও বাস্তব ভারতে কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাসে নকশালপন্থী বা মাওবাদী আন্দোলনই সম্ভবত প্রথম সংগঠিতভাবে ঘোষণা করে যে, “স্বাধীনতার” আগে বা “স্বাধীনতার” পরে সরকারের দ্বারা চিন্হিত সশস্ত্র বিদ্রোহীরা সন্ত্রাসবাদী নয়,, তারা রাজনৈতিক কর্মী, তারা বিপ্লবী এবং রাষ্ট্র হলো আসল সন্ত্রাসবাদী। নকশালপন্থীদের এই নিজেদেরকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে অস্বীকার করা এবং রাষ্ট্রকে সন্ত্রাসবাদী বলাকে বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাব যে, বিষয়বস্তু হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে দেখা হয়েছে ও অস্বীকার করা হয়েছে এবং এর উপর “খারাপ” মুল্য আরোপ করা হয়েছে। বলা যেতে পারে, পাল্টা সন্ত্রাসবাদী বলে রাষ্ট্রকে তার অস্ত্রেই পাল্টা আঘাত ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সন্ত্রাসবাদী বলা যায় কিনা, এ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক আছে।অধ্যাপক অমলেশ ত্রিপাঠি “বৈপ্লবিক কর্মধারা” শব্দদ্বয় ব্যবহার করার পক্ষপাতি। অন্যদিকে, বিপান চন্দ্র ও সুমিত সরকার “বৈপ্লবিক সন্ত্রাসবাদ বা সন্ত্রাসবাদ” শব্দটি ব্যবহারের পক্ষপাতি। সুমিত সরকার তার “আধুনিক ভারত” বইয়ে লিখেছেন, “অত্যাচারী রাজকর্মচারী বা বেইমানদের খতম করা, তহবিল যোগারের জন্যে স্বদেশী ডাকাতি, আর খুব বেশি হলে, ব্রিটেনের বিদেশি শত্রুদের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার আশায় সামরিক চক্রান্ত – ‘বিপ্লবী’ আন্দোলন এইসব রূপ নিয়েছিল। কখনো কখনো কারো কারো সে ইচ্ছে থাকলেও এটি কখনোই নাগরিক গণঅভ্যুত্থান বা গ্রামাঞ্চলে গেরিলা ভিত্তির পর্যায়ে ওঠেনি। ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দটি তাই বেঠিক নয়।”

বিপ্লবী ভাগত সিং সন্ত্রাসবাদ সম্বন্ধে “হিংসা ও অহিংসার প্রশ্নে” প্রবন্ধে লিখছেন, “সন্ত্রাসবাদ পূর্ণ বিপ্লব নয়, কিন্তু সন্ত্রাসবাদ ব্যতীত বিপ্লব পূর্ণতা লাভ করতে পারে না। সন্ত্রাসবাদ বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় অনিবার্য একটি অঙ্গ। পৃথিবীর ইতিহাসে যে কোন একটি বিপ্লবকে বিশ্লেষণ করলে এই সিদ্ধান্তের সমর্থন পাওয়া যাবে। সন্ত্রাসবাদ শত্রুর মনে ভীতির সঞ্চার করার মধ্যে দিয়ে নিপীড়িত মানুষের ভিতরে প্রতিরোধের আকাঙ্ক্ষা জাগায়, তাকে শক্তি দেয়। দোদুল্যমান চিত্ত ব্যক্তিরা এরই ভিত্তিতে সাহসে বুক বাঁধে, তার মধ্যে সৃষ্টি হয় আত্মবিশ্বাসের।” অন্য জায়গায় “তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি” প্রবন্ধে ভগ সিং লিখছেন, “সর্বশক্তি সংহত করে বলতে চাই, আমি সন্ত্রাসবাদী নই। বিপ্লবের পথে যেদিন পা বাড়িয়েছিলাম সেই ঊষালগ্নটুকু ছাড়া কোনদিনই আমি সন্ত্রাসবাদী ছিলাম না। সন্ত্রাসবাদের পথে আমরা কিছুই করতে পারবো না এ আমার সুদৃঢ় প্রত্যয়। আমাদের হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান এ্যাসোসিয়েশনের ইতিহাস থেকেই আমার কথার প্রমাণ পাওয়া যাবে। মহান মুক্তি আন্দোলনের সামরিক বিভাগের একজন হিসাবে এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হবার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা আমাদের কর্মকাণ্ডকে প্রবাহিত করেছি। আমাদের যদি ভুল বুঝে থাকেন তবে সেই ভ্রান্ত ধারণার অবসান হোক। বোমা পিস্তলের কোনই কার্যকারিতা নেই একথা বলা আমার উদ্দেশ্য নয়, বরং আমার বক্তব্য তার বিপরীত। কিন্তু আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, নিছক বোমা ছোঁড়া শুধু অকার্যকারীই নয়, কখনও তা যথেষ্ট ক্ষতিকারকও বটে। দলের সামরিক বিভাগ জরুরী প্রয়জনের দিকে লক্ষ্য রেখে যথাসম্ভব অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করে সদা প্রস্তুত থাকবে। এই সামরিক বিভাগ দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাবার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সাহায্য দেবে, কিন্তু এই সামরিক বিভাগ রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করবে না…”

এটা স্পষ্ট যে, ঐতিহাসিক সুমিত সরকার, বিপ্লবী ভগৎ সিং বা সম্ভবত সব কমিউনিস্ট ঐতিহাসিক বা তাত্ত্বিকরা, যারা সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামীদের “সন্ত্রাসবাদী” বলেছেন, তারা কেউই সন্ত্রাসবাদের উপর “ভালো” বা “খারাপ” কোনো মূল্য আরোপ করেনি, তারা সন্ত্রাসবাদকে দেখেছেন একটা ফর্ম হিসেবে, কার্যপন্থা হিসেবে। এই কার্যপন্থা বা ফর্মএর কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে ঠিকই তবে “সন্ত্রাসবাদ” শব্দটা এই অর্থে ব্যবহার করা হয়নি, যে অর্থে ব্রিটিশ সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিরুদ্ধে, বা ১৯৪৭এর পর ভারত রাষ্ট্র কমিউনিস্ট বা অন্যান্য নিপীড়িত অংশের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে, বা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তার কতৃত্ব অস্বীকারকারীদের অপমান করার জন্য ব্যবহার করে।

আবার এটাও খেয়াল করার বিয় যে, সুমিত সরকার বা ভাগত সিং সন্ত্রাসবাদী হওয়া বা না হওয়ার জন্য যে মাপকাঠি দিয়েছেন, যেমন নাগরিক গণঅভ্যুত্থান”, “গ্রামাঞ্চলে গেরিলা ভিত্তি”, বা “লের সামরিক বিভাগ জরুরী প্রয়জনের দিকে লক্ষ্য রেখে যথাসম্ভব অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করে সদা প্রস্তুত থাকবে। এই সামরিক বিভাগ দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাবার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সাহায্য দেবে, কিন্তু এই সামরিক বিভাগ রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করবে নাএইসব মাপকাঠি, রাষ্ট্র বা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যখন কাউকে সন্ত্রাসবাদী বলে ছাপ মারে, তখন এগুলো আদৌ মানা হয়না। যেমন সিপিআই (এমএল) বা সিপিআই (মাওবাদী), দের ভারতীয় সমাজের সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের উপর ভিত্তিকরে দার্শনিক, রাজনৈতিক কার্যকলাপ, গণসংগ্রাম ও গেরিলা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল ও ভারতের সমাজ ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকলেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে এবং ভারত রাষ্ট্রের কাছে তারা সন্ত্রাসবাদী। হামাস/হিজবুল্লা ভোট লড়ে বিপুল ভোটে জিতলেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে আপোষহীনতার কারণে তারা সন্ত্রাসবাদী। মার্কিনিরা ভগ সিংএর দেওয়া মাপকাঠি দিয়া সন্ত্রাসবাদ বিচার করবে, এমন “অন্যায়” আবদার আমার নেই। যা বলতে চাই, তা হলো সন্ত্রাসবাদকে দেখার ২ টি দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য। সাম্রাজ্যবাদ বা রাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদ” শব্দটা তার আগ্রাসী রাজনৈতিক চেতনাসিদ্ধ উপায়েই ব্যবহার করে। যে রাজনীতি তাদের নিপীড়িতের উপর শোষণের অধিকার দেয়।

সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত আলোচনাগুলো থেকে মূলত দুইটা বিয় নোট করা যেতে পারে ) স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ছিলেন বিপ্লবী, আর এখন ভারতে যারা সস্ত্র প্রতিরোধ করছে তারা হলো সন্ত্রাসবাদী, কারণ ১৯৪৭ এর আগে বিদেশি শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছে, এখন হচ্ছে কথিত “স্বাধীন” রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। ২) বিপ্লবীরা ব্রিটিশ তাড়াবার জন্য অস্ত্র ধরেছিল, তারা স্বাধারণ মানুষ মারত না, তাই মাওবাদী বা ইসলামিকদের সাথে তুলনা করা উচিত নয়।

কিন্তু যেসব সস্ত্র সংগ্রামীরা মনে করে যে, ব্রিটিশরা তার “দালাল”দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে গেছে মাত্র, দেশের বনজ, খনিজ সম্পদ, দেশের অর্থনীতি ১৯৪৭ এর আগের মতোই বা তার থেকে জোরালোভাবে বিদেশি পুঁজির কব্জায় রয়েছে, আর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা সম্ভব নয়, যারা মনে করে দেশের সরকার বিদেশি পুঁজির স্বার্থ রক্ষা করে চলে, তাই বিদেশি কোম্পানির স্বার্থে এ দেশের পুলিশ উচ্ছেদ করে গরিব মানুষকে, কৃষকের পর গুলি চালায়, শ্রমিকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসায়, অথবা ভগ সিংএরতো যারা মনে করে যে, ব্রিটিশ তারালেই সমস্যা সমাধান হবেনা, যতদিন না শ্রমিকের পর মালিকের শোষণ চলবে, শ্রেণী বৈষম্যের সমাজ টিকে থাকবে, ততদিন আন্দোলন চলবে, বা যারা যুগ যুগ ধরে চলে আসা ব্রাহ্মণ্যবাদী শোষণ, অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইছে, যারা মনে করছে স্বাধীনতা অসমাপ্ত আর পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য বিদেশি পুঁজির দালাল সরকারের বিরুদ্ধে, মালিক শ্রেণীর জুলুমের বিরুদ্ধে, জল জঙ্গল জমি রক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয় খুনে বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চলবে তাদের “সন্ত্রাসবাদী” বলা হবে কোন যুক্তিতে??

অন্যদিকে আসছে নির্বিচার হিংসার প্রশ্ন, সাধারণ মানুষ হত্যার প্রশ্ন, আমরা কি কেউ ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহকে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন বলব? আমরা ক’জন বলব যে, সিপাহী বিদ্রোহ বা মহাবিদ্রোহ ঠিক হয়নি? সেরকম লোক আজকের দিনে দূবীন দিয়ে খুঁজতে হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে তত্কালীন বঙ্গীয় মধ্যবিত্ত সমাজ এই বিদ্রোহের বিপক্ষেই দাঁড়িয়েছিলশুধু তাই নয়, রবর্তীকালে ২০ তকের প্রথমের দিক থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীছাত্রযুবদের মধ্য থেকে যে সন্ত্র বিপ্লবী ধারার জন্ম হয়, তাদের জন্যও শ্রেণী হিসেবে মধ্যবিত্ত অংশের সমর্থন ছিলনা। “পলাশী থেকে পার্টিশান বইযে শেখর বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “ব্রিটিশ শাসন যেমন ‘সতর্কভাবে হিংসার একাধিপত্য গড়ে তোলে’ তেমনি এদেশিরাও সেই হিংসার সমুচিত জবাব পাল্টা হিংসার মধ্য দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিল। ব্রিটিশরা যদি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে দমনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিদ্রোহীদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দিত, কামান দিয়ে উড়িয়ে দিত, অথবা গ্রামের পর গ্রাম নির্বিচারে পুড়িয়ে দিত, তবে বিদ্রহিরাও নির্দয়ভাবে স্ত্রী ও শিশু সহ সাদা চামড়ার অসামরিক মানুষদের ধংস করে দিত যেটি উপনিবেশকারীদের হিংসার একাধিপত্যকে ভেঙ্গে দেয় ” ৯/১১এর ঘটনা কি মার্কিনিদের বিমান হামলার একাধিপত্যকে ভেঙ্গে দেয়নি?

Kishenji2দেখা যাক, সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি তত্কালীন সরকারের অভিযোগ কি ছিল ১৯২৪ সালে ব্রিটিশ সরকার স্বরাজ্য দলকে লক্ষ্য করে অর্ডিন্যান্স এনে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বেঙ্গল ক্রিমিনাল ল এম্যান্ডমেন্ট করে, চিত্ত রঞ্জন দাস ও সুভাষ চন্দ্র বসুরা ছিলেন এই দলে নেতা। (এই আইনেই ১৯২৪ সালে সুভাষ বসু বিনা বিচারে আটক হন) এই অর্ডিন্যান্সের বিয়ে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলিতে তর্ক হয়, আর সেই বিতর্কে সরকার পক্ষের বক্তা স্যার আলেকজান্ডার মুডিম্যান সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ওই আইনের যারা বিরোধী বক্তা (ডি. আয়েঙ্গার, বিপিন চন্দ্র পাল, টি রঙ্গচারিয়া, মহম্মদ আলী জিন্না প্রমুখ) তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমার মনে হয় যে মাননীয় সদস্য টা অস্বীকার করতে পারেননি যে, ১৯০৮ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত বাংলা প্রদেশে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী ঘটনা ঘটেছে। এই সন্ত্রাসবাদী ঘটনার শুরু মজফ্ফরপুরের হত্যাকাণ্ড, সেখানে দুজন নিরাপরাধ মহিলাকে বোমায় উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।১৯২৩ সালে নির্দিষ্ট ভাবে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল কলকাতা পুলিশ কমিশনার চার্লস টেগার্টকে হত্যার। এর পরেই ওই একই বছরে ডাকাতি করা হলো এবং একই সঙ্গে দুজনকে হত্যা করা হলো হাওড়ার কাছাকাছি। কলকাতা থেকে ১০ মাইল দুরের “কোনো” নামক এক এলাকায়। এখানে পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছিল। নিহত মানুষগুলো প্রতিরোধের কোনো সুযোগই পায়নি। তাদের কুকুরের মতো হত্যা করা হয়েছিল এবং কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সম্পত্তি। এরপর লুট করা হলো উল্টো ডাঙার পোস্ট অফিস। এই ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছিল একটি রিভলবার। ওই বছরেই ৩০ জুলাই কলকাতার গরপার রোডে ঘটল এক ডাকাতির সঙ্গে হত্যার ঘটনাও। তারপরেই দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুর ঘটনা, শাখারিতলা পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টারের। এই ঘটনায় একজনকে ধরা হয়েছিল জানুয়ারী ১৯২৪, মিস্টার দে নামক কলকাতার একজন সাধারণ নিরাপরাধ নাগরিক যার সঙ্গে কোনো রকম রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিলনা, তাকে হত্যা করা হয় কলকাতার রাজপথে, তাকে শুধু গুলি করেই অপরাধীরা ক্ষান্ত হয়নি, তার দেহ যখন মাটিতে পরেছিল ততক্ষণ তাকে অনবরত বুলেট বিদ্ধ করা হচ্ছিল

সুতরাং সরকারি তরফে বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে নির্বিচার হিংসার অভিযোগ এখনো যেমন আছে, আগেও তেমনি ছিল আর যুদ্ধের সাথে সম্পর্কহীন বেসামরিক মানুষ হত্যা ১৮৫৭তেও ভুল ছিল এখনও ভুল, তাই বলে সংগ্রাম প্রতিরোধেন্যায্যতা কোথাও কমে যায়না। যদিও কমিউনিস্ট বিপ্লবীরা বেসামরিক মানুষেপর কোনোভাবেই হামলা না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে,, তবুও বহুবার “অনিচ্ছাকৃত” ভুলবত সাধারণ মানুষ মারা পড়ার জন্য তারা বেশিরভাগ সময়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। অন্যদিকে, সাম্রাজবাদের বিরুদ্ধে যে স্বাধীনতাকামী মানুষরা ইসলামের পতাকা তলে সমবেত হয়েছে, তাদের ধর্মীয় অবৈজ্ঞানিক মতাদর্শ ও সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি না থাকার কারণে তারা শত্রুমিত্র চিনতে ভুল করেছে বারবার, তারা ইসলাম জনতাকে ত্রু বানিয়েছে, তারা শাসকশ্রেণী আর জনতার মধ্যে পার্থক্য বোঝেনি, তাদের পিছিয়ে থাকা ধর্মবাদী মতাদর্শের কারণে সঠিক ত্রুকে আঘাত করতে আর বন্ধুদের কাছে টানতে পারেনি শুধু তাই নয়, শিয়াসুন্নি সহ ইসলামের আরো অনেক ধারার মাঝেও অহেতুক কোন্দল লক্ষ্য করা যায়। খুনোখুনিতে নিজেদের ক্তি ক্ষয় করে পরোক্ষে সাম্রাজ্যবাদীদেরই সাহায্য করছে তারা। সাম্রাজ্যবাদ আর উপনিবেশেসাথে দ্বান্দ্বিক সম্পর্ককে অনুধাবন করতে তাদের অনেক দুর্বলতা রয়েছেকিন্তু তাই বলে তাদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ছোট হয়ে যায় না, যেমন ছোটো হয়ে যায় না ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী হিন্দু বিদ্রোহীরা তারা আদর্শ হিন্দু রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন শুরুর দিকে, তাই বলে কি তারা বিপ্লবী নয়?

আসলে বিপ্লবী কারা? বিপ্লবী তারা, যারা সমাজের বর্তমান অবস্থার বিপরীতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনতে চায় শ্রেণী বিভক্ত সমাজ উচ্ছেদ করে শ্রেণীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এক ধরনের মৌলিক পরিবর্তন, আবার দেশ যখন সাম্রাজ্যবাদের কাছে উপনিবেশ হয়ে আচ্ছে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, তখন সাম্রাজ্যবাদের উচ্ছেদ হলো এক স্তরের মৌলিক পরিবর্ত, আর এই পরিবর্তন করার কাজে যারা হাত লাগায়, যারা সত্যি সত্যি শাসকের সাথে সংঘাতে যায় জীবনের বাজি রেখে, তারাই বিপ্লবী বিপ্লবীদের মধ্যে মত পথের পার্থক্য থাকতে পারে আবার এটাও ঠিক যে, মার্কসবাদী সমাজ বিজ্ঞান মতাদর্শ হিসেবে ধারণ না করলে সমাজকে সঠিকরূপে বুঝে ওঠা বা তার মৌলিক পরিবর্তন সাধন করা এ যুগে অসম্ভবের কাছাকাছি। তাই শেষ বিচারে প্রকৃত বিপ্লবী তারাই, যারা আদর্শে আর কাজে মার্কসবাদকে ধারণ করে, যারা রাষ্ট্র ক্ষমতাকে উচ্ছেদের জন্য লড়াই চালাচ্ছে। আর ত্রুকে হারাতে গেলে নিপীড়িত সমস্ত অংশের খামতিযুক্ত” বিপ্লবীদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে প্রধান শত্রু সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বাস্তবে সরকারি ইসলাম, ভারতের হিন্দুত্বের মতোই অনেক ক্ষেত্রে শাসকশ্রেণীর হাতিয়ার, আবার সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যুত্তর হিসেবে দাঁড়িয়েছে প্রতিরোধী ইসলাম। অন্তর্বস্তুতে যা সাম্রাজ্যবাদ বনাম তার উপনিবেশ, অথবা নয়া-উপনিবেশ। সাম্রাজ্যবাদের নিপীড়ন না থাকলে ইসলামিক সাম্রাজ্যের অলিক স্বপ্ন অক্সিজেন হারাবে। মনমোহন সিংহ বা নরেন্দ্র মোদির মেরুদন্ড নেই গাদ্দাফি বা সাদ্দাম হুসাইনেরতো, এদেশের সরকার সেচ্ছায় দেশের সম্পদ বিদেশি পুঁজির হাতে তুলে দেয়, এদেশের হিন্দুত্ববাদীরা সাম্রাজ্যবাদের দালাল না হলে হয়তো ১৯৪৭ এর পরেও “ইসলামি সন্ত্রাসবাদ”র মতো “হিন্দু সন্ত্রাসবাদ” সাম্রাজ্যবাদের মাথা ব্যথার কারণ হতো। বিতর্ক আছে যে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যেসব ইসলামিক সংগঠনগুলো লড়াই করছে, যাদের বিরুদ্ধে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আগ্রাসন চালাচ্ছে তারা আদতে মার্কিন মদত পুষ্ট, আর ব্যাপারটা গ্রুপগেম কিনা! কিন্তু আমার মনে হয় যে, আদতে এই ইসলামিক গ্রুপগুলো সুযোগ বুঝে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে ব্যবহার করেছে, যেমন সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদকে ঠেকাতে মার্কিনিরা যাদের সাহায্য করেছিল তারাই সোভিয়েত চলে যাওয়ার পর মার্কিন সাহায্যে পাওয়া অস্ত্রগুলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দিকে তাঁক করেছে। সিরিয়াতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আসাদকে হটাবার জন্য আসাদ “অপশাসন”এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের মার্কিনিরা অস্ত্র দিয়েছে,, আজকে তাদের একটা অংশ সেই অস্ত্র মার্কিনিদের বিরুদ্ধে ঘুরিয়ে ধরেছে। ভারতেও সন্ত্রাসবাদ বা সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম জার্মান ও জাপানি গুপ্তচরদের সাহায্যে গড়ে ওঠে, তারা যুবকদের নৈরাজ্যবাদী দর্শনের বই, অস্ত্র সরবরাহ করত, ১৯১৪ সালে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পর সশস্ত্র বিপ্লব আন্তর্জাতিক ব্রিটিশ বিরোধী চক্রান্তের অঙ্গ হয়ে ওঠে। জার্মান থেকে অস্ত্র বোঝাই জাহাজ বহুবার ব্রিটিশরা আটক করেছে। অবশ্যস্থানকালভেদে আন্দোলনের ধরণের, পরিস্থিতির অনেক ফারাক, আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে।

/১১ এর অজুহাতে সারাদুনিয়া জুড়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার চামচা দেশগুলো “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের” নামে যে আক্রমন গণতন্ত্রের উপর শুরু করেছে, তা নজিরবিহীন। ভারতে আরো কড়া ধরনের একটা সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন পাস হয়ে গেল ইউএপিএ (UAPA) নামে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে ইরাক, আফগান দুটো যুদ্ধ হয়ে গেল, কিন্তু যারা এই আইন বানালো বা যুদ্ধ করে মানুষ মারলো, তারা কেউ সন্ত্রাসবাদ এর সংজ্ঞা দিল না। তারা নির্দিষ্টভাবে বলল না যে, সন্ত্রাসবাদ কাকে বলে, কি কাজ করলে তাকে সন্ত্রাসবাদ বলা হবে? কোন যুক্তিতে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানে ন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ডাক্তার বিনায়ক সেনকে গ্রেফতার করা হয়? আধাসামরিক বাহিনী ভেঙ্গে দেয় গান্ধীবাদী সমাজকর্মী হিমাংশু কুমারের আশ্রম? কেন ঘন ঘন মাওবাদী জুজু দেখিয়ে মানবধিকার কর্মীদের গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়? কেন বিভিন্ন সময় সংবাদপত্রে পুলিশ বিভিন্ন গণসংগঠনের সাথে মাওবাদী যোগের অভিযোগ তোলে? কোন যুক্তিতে বিজপুরে কৃষকদের সভায় গুলি চালিয়ে নির্বিচারে হত্যা করার পরেও, বড় হলে নকশাল হবে আর নকশাল হলে বন্দুক ধরবে বলে শিশুর আঙ্গুল কেটে দেওয়ার পরেও, বাড়ির পোষা গরু, ছাগল, কুকুরের গলা কেটে ঝুলিয়ে দিয়ে, বুড়িকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে খাটিয়াতে রক্তাক্ত করে হত্যা করার পরেও রাষ্ট্রীয় বাহিনী সন্ত্রাসবাদী নয়? কেন সংসদীয় দলগুলো প্রকাশ্যে বন্দুক হাতে ঘুরে বেড়ালেও, ব্যক্তি স্বার্থে মানুষ খুন করে বেড়ালেও তারা সন্ত্রাসবাদী নয়? কেন শুধুমাত্র ফেসবুকে কমেন্ট করার অপরাধে বা ক্রিকেট খেলা নিয়ে ঝামেলার জন্য একজন সংখ্যালঘুকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় জেলে পুরে যারা সেইসব পুলিশ বা জমিতে খাটতে না যাওয়ার জন্য একজন দলিতকে গু খাইয়ে দিল যে মাতব্বর বা প্রেম করার অপরাধে যে মেয়েটিকে উলঙ্গ করে সারা গ্রাম ঘোরানো হলো, তারা সন্ত্রাসবাদী নয়? কেন সাদ্দামের ইরাক সন্ত্রাসবাদী ছিল, কিন্তু ইজরায়েল সন্ত্রাসবাদী নয়?

আদতে ভারত শাসন হয় উপনিবেশিক আইনে, ব্রিটিশরা উপনিবেশকে শাসন করার জন্য যে আইন, নিয়ম তৈরী করেছিল, খোদ ব্রিটেনের আইনের সাথে ছিল তার বিস্তর ফারাক পূর্বে উল্লিখিত সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অর্ডিন্যান্সের বিরোধিতা করতে গিয়ে ডি. আয়েঙ্গার দেখান যে ইংল্যান্ডের রাজার যে ক্ষমতা নেই কিভাবে উপনিবেশেপর ভাইসরয় সেই অগতান্ত্রিক ক্ষমতা ভোগ করছেন, তিনি বলেন,১৫৪৬ সালেই রাজার এই ক্ষমতাকে রদ করা হয়। আর তারপর থেকে ব্রিটেনেই এমন কোনো ব্যবস্থা চালু নেই যে, রাজা সাধারণ আইন মুলতুবি রেখে অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে কোনো কিছু করতে পারবেন। সুতরাং যে ক্ষমতা ব্রিটেনের রাজার হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তা কি করে ভাইসরয়কে দেওয়া সম্ভব হল।” ওই বিতর্কে মহম্মদ আলী জিন্নাসরকারকে তুলোধুনো করে বলেন, “এইতো কয়েকদিন আগে একটা ব্রিটিশ জাহাজ উড়িয়ে দেওয়ার চক্রান্ত ফাঁস হয়ে পড়লো। আপনারা কি করলেন? এর জন্য কি প্রধানমন্ত্রী দৌড়ে পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন অবশ্য তিনি টা করতেও পারেন না গিয়ে কি তিনি বলেছিলেন, “আমি একটা অর্ডিন্যান্স চাই”, স্যার, আমি আপনাকে বলছি তিনি যদি টা করতেন, তবে তার প্রধান মন্ত্রিত্বের আয়ু ২৪ ঘন্টার বেশি থাকতো কিনা সন্দেহ।” আজ ভাইসরয় নেই, কিন্তু অর্ডিন্যান্স জারি করে যে কোনো রকম অগণতান্ত্রিক কাজ করার ক্ষমতা উত্তরাধিকার সূত্রে অর্জন করেছে সোনিয়ামোদীমমতারা। আমরা জানি যে, ভারতে হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় জেলেছে, কিন্তু ইংল্যান্ডসহ বহু “সভ্য” গণতান্ত্রিক দেশে রাষ্ট্রদ্রোহিতার আইনটাই নেই, আধুনিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা গণতন্ত্রের পরিপন্থী রাজনৈতিক মতামতে বিশ্বাস করার জন্য, রাজনৈতিক সংগঠনে যুক্ত থাকার জন্য কেউ গ্রেপ্তার হচ্ছে, এসব কোন সভ্য গণতান্ত্রিক সমাজে চলতে পারেনা। ভারতের শাসকেরা যেমনি উত্তরাধিকার সূত্রে উপনিবেশিক শাসন কাঠামো পেয়েছে, তেমনি এখনকার বিপ্লবীরা পেয়েছে মামলাগুলো, যেহেতু আইনগুলো মোটামুটি এক আছে, তাই ভগ সিং, সূর্য সেন, চারু মজুমদার, কিষানজি আজ প্রত্যেকে ১২৪ ধারার কেস পার্টনার।

সন্ত্রাসবাদী” শব্দটাকে যদি নেগেটিভে মূল্য আরোপ করে, সন্ত্রস্ত করা বুঝি তাহলে দেখা যাবে রাষ্ট্র, সাম্রাজ্যবাদ যে পরিমান মানুষকে সন্ত্রস্ত করে, শুধুমাত্র ২ দিনে নাগাসাকি হিরোসিমাতে পরমাণু বোমা ফেলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে “ধর্মযোদ্ধারা” যে পরিমা বেসামরিক নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, আগামী প্রজন্মকে পঙ্গু হয়ে জন্মাতে বাধ্য করেছে, তা সর্বকালে সমস্ত “সন্ত্রাসবাদীরা” এত দিনে সমবেতভাবে এই পরিমাণ প্রাণহানি করতে পেরেছে কিনা সন্দেহ আর একটা স্বাধীনতা দিবস পালন হবে, কিন্তু বিদেশি পুঁজির হাতে আমার দেশ বাধাই থাকবে, আর যতদিন সাম্রাজ্যবাদী শোষণ টিকে থাকবে, টিকে থাকবে শ্রেণীশোষ, ততদিন বেঁচে থাকবে ভগ সিংরা, বেঁচে থাকবে তাদের তৎপরতা, তাকে “বিপ্লব” বলো, বা “সন্ত্রাসবাদ”, অথবা অন্যকিছু।

* উল্লিখিত বইগুলো ছাড়াও যে বইটি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তা হলো অর্জুন গোস্বামী সম্পাদিত “সন্ত্রাসবাদ বনাম আইনী সন্ত্রাসবাদ বিতর্ক” সংকলনটি

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.