গাজায় মুসলমান মরছে বললে সমস্যা কি?

Posted: জুলাই 13, 2014 in আন্তর্জাতিক
ট্যাগসমূহ:, , , ,

লিখেছেন: যিশু মহমমদ

israeli-attack-on-gazaগাজায় মুসলমান মরছে বলার চেয়ে মানুষ মরছে বলাটা অধিক নিরাপদ। কেউ চালাকি করে, কেউ বোকামি ও আবেগি হয়ে এমনটা করছে। আপনারা নিশ্চয় খেয়াল করেছেন, বাংলাদেশে বসে গাজায় হামলার প্রতিবাদের তুলনায় মুসলমান ও মানুষ কোন পরিচয়টাকে উর্ধ্বে তুলে ধরা হবে সেই নিয়ে এক জাতের প্রগতিশীলরা বিস্তর বাক্য আলাপ করছে। তারা ধর্ম বর্ণ ছাপিয়ে মানুষ পরিচয়কে মহীয়ান করতে চাইছে। যেন তারা বাক্য খর্চা না করলে দুনিয়ার মানুষ ভীষণ খাটো হয়ে যাবে।

অথচ সকলেই জানেন হত্যাকারীদের কাছে মুসলমান খ্রিষ্টান ইহুদি হিন্দু এসব উছিলা ছাড়া আর কোন গুরুত্ব বহন করে না। তার যে কোন লাশের বিনিময়ে লালসায় জয়ী হতে চায়। এই সাধারণ বোধগম্যের পরেও আরো যে সত্য থাকে তা লুকোছাপা করা হয় কেন এই দিকটায় নজর ফেলা দরকার। তা না হলে রাজনৈতিক চিন্তাশূন্যতায় প্রতিরোধ প্রতিবাদ ফাঁপা কথার ঝুলিতে পূর্ণ হতে থাকবে।

প্রথমত, যে কোন নাম চিহৃ পরিচয়ের একটা ইতিহাস আছে। মুসলমান বা হিন্দু হোক আর কমিউনিষ্ট কি জাতীয়তাবাদি হোক তার একটা পরিচয়ের আর্থরাজনীতি আছে, ইতিহাস আছে, সংস্কৃতি আছে। আপনি সারাসরি সেই প্রকল্পের মুখোমুখি হন। তার ভুল ধরে দিন, তার ভালোকে সম্মানিত করুন। মানুষমানুষ নাম জপে আলোচনায় তা এড়ানোর চেষ্টা ভুল। এটা যত তাড়াতাড়ি অনুধাবন করবেন মানবজাতীর সমস্যা সুরাহা তত সম্ভবপর হবে।

দ্বিতীয়ত, নির্যাতিত মুসলমানের পক্ষ নিতে আপনাকে মুসলমান হতে হবে এমন কোন দিব্যি কেউ দেয়নি। নির্যাতিত ইহুদি হিন্দু বৌদ্ধ সব ক্ষেত্রে কথাটা সত্য। আদিবাসীর পক্ষ নিলে তেমনি আপনার বাঙাল পরিচয় খাটো হয়ে যাবে না। মার্কিননীতি যখন প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে মুসলমান কচুকাটা করছে তখন মুসলমানের পাশে দাঁড়ালে আপনার খ্রিস্টী, হিন্দুয়ানি পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যায় না।

তৃতীয় কথা, ইহুদি খ্রিস্টান পরিচয়েও আজকের দিনে ফিলিস্তিনের পক্ষে মুসলমানের পক্ষে ইসরায়েলের বিপক্ষে কথা বলছে অনেকে। কিন্তু ইহুদিবাদ, হিন্দুত্ব, ব্রাহ্মণ্য, মৌলবাদের বিপক্ষে দাঁড়লে সেটাকে নিছক ধর্মীয়ক্যাচাল ভাবলে বুদ্ধিবৃত্তিক সমাধান হয় না। ইহুদিবাদ যদি ক্ষতিকর হয় তবে তার বিপক্ষে ইসলামমুসলমানের পাশাপাশি সাধারণ ইহুদিরাও প্রতিরোধ গড়বে এটাই কাম্য। ইসলামের নামে কোন মৌলবাদ যদি ক্ষতিকর হয় তবে তার বিরুদ্ধে মুসলমান সহ প্রত্যেকে প্রতিরোধ গড়বে এটা আশা করা বাতুলতা নয়।

আপাতত এই তিনটি কথা। প্রসঙ্গত আরো একটু কথা বলে নিতে পারলে সমূহ উপকার হতো। দুনিয়াতে মানবতাবাদেরও ভ্রান্তি আছে। মানবতা মানবিকতা ইত্যাদি শব্দ শুনলেই আহা উহু কুহু করে যেন মন গলে না যায়। বরং মাও সেতুঙএর ভাষায় বললে আজ এই কথাটাই ইঙ্গিতময় যে, গণতন্ত্রের একক নিরপেক্ষ কোন সংজ্ঞা নেই। হয় ধনীর গণতন্ত্র না হয় গরীবের গণতন্ত্র। আমরা গরীবের গণতন্ত্রের পক্ষে। তেমনি আমরা যে কোন নির্যাতিতের পক্ষে। নির্যাতিতের পরিচয়কে লুকিয়ে তাকে বাঁচানোর কথা বলা কথার কথা মাত্র।।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s