যৌনশিক্ষা :: কথিত নৈতিকতা বনাম বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি

Posted: জুলাই 2, 2014 in মতাদর্শ
ট্যাগসমূহ:, , , , ,

লিখেছেন:সৌম্য মণ্ডল

sex-educationঅন্তত ভারতীয় উপমহাদেশে যৌনতা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়, যৌনতা বিষয়ে প্রকাশ্যে স্বাভাবিক স্বরে কথা বলা ‘অসভ্যতা’ সামিল। অথচ এই দেশেই কোনো নতুন সংবাদপত্র বাজারে এলে তাকে সেলিব্রেটিদের কেচ্ছা, কেলেঙ্কারী, যৌনতা সংক্রান্ত রগরগে কিছু পাতা রাখতেই হয়, নতুন বাজার ধরার স্বার্থে। আমের রস থেকে ছেলেদের সেভিং ক্রিম (যার সাথে মেয়েদের কোনো সম্পর্ক নেই!) সবেতেই নারী দেহ, যৌনতার উপস্থিতি। আর গাধার নাকের ডগায় মূলো ঝুলানোর মতো,নাকের ডগায় নারী দেহ ঝুলিয়ে ভোগবাদের ভূবনে ক্রেতাকে ছুটিয়ে বেড়ানোর যে বানিজ্যিক প্রথা, তাকে জনতা মনেহয় খুব স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নিয়েছে। তাই কথিত মূল স্রোতের রাজনৈতিক দলগুলো এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ প্রতিরোধের প্রয়োজন মনে করেনি কখনো। ফেলো করি মাখো তেল। সরষে হোক বা জাপানি। পুঁজিবাদ সব কিছুকে বাজারের কেনাবেচার সামগ্রীতে পরিণত করেজল থেকে যৌনতা, সব কিছু টাকার বিনিময়ে কেনা। লুকিয়ে যৌনতা কেনা। স্বাভাবিক মানবিক সম্পর্ক যখন পন্যের রূপ ধারণ করে, তখন তা আর মানবিক থাকেনা। অমানবিক হয়ে ওঠে, হয়ে ওঠে বিকৃত। প্রকাশ্য বাজার থেকে লুকিয়ে চুরিয়ে বিকৃত যৌনতা কেনা যাবে। কিন্তু যৌনতা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করা মহা পাপ!

সাম্প্রতিককালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনএর বিতর্কিত মন্তব্য, স্কুল স্তরে যৌন শিক্ষা নিয়ে বিতর্ককে আরো একবার উস্কে দিল। গত ২৭ জুন মাননীয় মন্ত্রী মশাই তার নিজস্য ওয়েবসাইটে জানিয়েছেন যে, স্কুল স্তরে যৌনশিক্ষাকে নিষিদ্ধ করা উচিত। বাধ্যতামূলকভাবে যোগ ব্যায়াম চালু করা উচিত, এর ২ দিন আগেই নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি জানিয়েছিলেন যে, কনডম নয় এইডস রুখতে ভারতীয় সংস্কৃতিকে র্ধে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাঁর মতামত অনুযায়ী,যৌন শিক্ষা বা কনডম ভারতীয় নৈতিকতার পরিপন্থী। তাঁর এ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিতর্কের জেরে দিল্লির বিজেপি মুখপাত্র সঞ্জয় কুল জানিয়েছেন যে, এই বিষয়ে তাদের দলে আদৌ কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, শ্রী হর্ষবর্ধনও জানিয়েছেন যে, এই মতামত তার ব্যক্তিগত এবং তিনি যৌন শিক্ষা নিষিদ্ধ করার কথা বলেননি, তিনি শুধুমাত্র বর্তমানে প্রচলিত খারাপ যৌন শিক্ষার বিরোধিতা করেছেন। বাস্তবে এতোদিন পর্যন্ত গুজরাট, ত্তিশগড়, গোয়া, রাজস্থানের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো ঘোষণা করে যে, National AIDS Control Organization (NACO) এবং Ministry of Human Resource Development (MHRD), প্রস্তাবিত স্কুল স্তরে যৌন শিক্ষা প্রকল্প মানার অযোগ্য, কিন্তু এই রাজ্যগুলো বিকল্প কোনো ভালো যৌন শিক্ষার প্রচলন করেনি। উগ্র দক্ষিনপন্থী বিজেপি ছাড়াও ভারতে বামপন্থী দলগুলোর মধ্যে একমাত্র এসইউসিআই (SUCI) ও তার শিক্ষার্থী সংগঠন এআইডিএসও (AIDSO) লাগাতার স্কুল স্তরে যৌন শিক্ষার বিরোধিতা করে এসেছে। সাধারণভাবে দলিলগুলোতে চোখ বুলোলেই বোঝা যাবে যে, যৌন শিক্ষার বিরোধিতায় সাম্প্রদায়িক বিজেপি এবং এসইউসিআই/এআইডিএসওএর যুক্তির কোনো পার্থক্য নেই। আপাত দৃষ্টিতে নেই, গভীরভাবে কাটাছেড়া করলেও নেই। উভয়ের যুক্তি হলো যৌনশিক্ষা ভারতীয় মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, নৈতিকতার পরিপন্থী। এসইউসিআই এর মুখপত্র প্রলেতারিয়ান ইরা (Proletarian Era) পত্রিকার ভলিউম ৪০,২০ সংখ্যা হেড লাইন ছিল Introduction of Sex Education in Schools : Latest Bourgeois Offensive Against Culture, Ethics and Morality’অন্য দিকে, Globalisation and Educational Cultural Problems, 2013পুস্তিকায় এআইডিএসও লিখছে যে, “It is true that in the age of adolescence, curiosity regarding sex creates certain complications among teenagers. But human sex cannot be viewed in separation from human values, tastes, aesthetic sense and moral-ethical concepts i.e., the entire cultural ambit of the society”। কিন্তু এই শাশ্বত, বিশুদ্ধ, ভারতীয় নৈতিকতা, ভারতীয় সংস্কৃতি ব্যাপারটা কি, যার জন্য উগ্র সাম্প্রদায়িক বিজেপি থেকে শুরু করে বামপন্থী এসইউসিআই পর্যন্ত একসুরে মরা কান্না কাঁদতে শুরু করেছে??

মার্ক্সবাদী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী,অর্থনীতি হলো ভিত্তি আর রাজনীতি, সংস্কৃতি হলো ওই ভিত্তির উপরে দাঁড়ানো উপরিকাঠামো। দার্শনিক মাও সেতুঙ অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতির মধ্যে সম্পর্ক প্রসঙ্গে বলছেন রাজনীতি হলো অর্থনীতির ঘনীভূত রূপ আর সংস্কৃতি হলো রাজনীতিঅর্থনীতির প্রকাশ, তাই অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক কাঠামো বদলের সাথে নৈতিকতা, সংস্কৃতির বদল হয়। বিশুদ্ধ সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই, এসব ভাববাদীদের আকাঙ্খা হতে পারে মাত্র। আবার প্রতিষ্ঠিত সমাজের প্রতিষ্ঠিত সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দুর্বল কাউন্টার সংস্কৃতির জন্ম হয়, তা পুরনো অর্থনৈতিক রাজনৈতিক ভিত্তিকে ভেঙ্গে ফেলতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই ভারতের সংস্কৃতি হলো ভারতের আধাসামন্ততান্ত্রিক, আধাউপনিবেশিকর্থনৈতিক, রাজনৈতিক কাঠামোরই প্রকাশ।ভারতের সংস্কৃতি হলো – পুরনো সামন্তীয় সংস্কৃতি ও সাম্রাজ্যবাদী সংস্কৃতির এক আজব ককটেল। সাম্রাজ্যবাদ তার স্বার্থেই সামন্ততন্ত্রকে টিকিয়ে রেখেছে ঠিকই,কিন্তু আগের মতো করে টিকিয়ে রাখেনি, সামন্ততন্ত্রকে পুনর্গঠন করে আধা সামন্ততন্ত্র বানিয়েছে। তাতে সামন্ততন্ত্রের উপরের মোড়কটা বদলালেও মোদ্দা বিষয়টা একই রয়ে গেছে, র মোদ্দা বিষয়টা হলো অর্থনীতি বহির্ভূত শোষণ। আর এই শোষণ টিকে থাকে গণতন্ত্র নয়, লেঠেল বাহিনী, বা বর্তমানে মাস্কেট বাহিনী, হার্মাদ বাহিনী, ভৈরব বাহিনী, রণবীর সেনা, এদের পেশী ক্তির জোরে। সংস্কৃতিতে যুক্তি থাকে না, থাকে নৈতিকতা, ধর্মীয় আচার। তুমি নীচু বর্ণ তোমাকে উঁচু বর্ণের জমিতে, বাড়িতে বেগার খাটতে হবেই তুনি নারী, তাই তোমাকে মানতে হবে পতি পরম গুরু, পরমেশ্বর,যাবতীয় গৃহশ্রম তোমাকেই করতে হবে, শত অপমান, অত্যাচার, বিরক্তির পরেও তোমাকেই যে করেই হোক বিয়ে টিকিয়ে রাখতে হবে তুমি বয়সে ছোট, তাই গুরুজনের মুখের পর কথা বলতে নেই, স্কুলে মাস্টার মশাইয়ের পিঠ চুলকে দেওয়া, পা টিপে দেওয়া, তোমার পবিত্র কর্তব্য। এসবের মধ্যে কোনো যুক্তি আছেকী? ছে শুধুই ভারতীয় নৈতিকতা, তথাকথিত ভারতীয় সংস্কৃতি। এখানে শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের সম্পর্কটা কখনোই বন্ধুত্বের নয়, সম্পর্কটা উঁচুনীচুর, আর যাদের মাথায় পঁচাগলা সামন্ততান্ত্রিক সংস্কৃতি গিজগিজ করছে, তাদের পক্ষে ছাত্রছাত্রীদের যৌনতা নিয়ে আলোচনা করা বিরম্বনার বিষয় হতে বাধ্য বৈকি। যেমন এআইডিএসও তার পুস্তিকায় লিখেছে,“Open classroom is not the place for it, nor are the teachers properly equipped for the job.” (Globalisation and Educational Cultural Problems, 2013)

সমাজে ব্যক্তিগত সম্পত্তির উদ্ভব ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিক পুরুষ হওয়ার পর প্রয়োজন হলো সম্পত্তির উত্তরাধিকারের। তাই প্রয়োজন পড়লোপিতা নির্দিষ্টকরণের। তাই প্রয়োজন হলো নারীর গর্ভের বিশুদ্ধতার। দাম বাড়লো কুমারী নারীর। সিল না খোলা পণ্যের মতো। তাই একজন নারীর সাথে একজন পুরুষের বিবাহ নামক যৌনতার চুক্তি হবার পূর্বে যৌনতা হলো অনৈতিক, বিশ্বাস ঘাতকতা। শাস্তি যোগ্য অপরাধ। তাই কিশোরকিশোরীদের মধ্যে বয়ঃসন্ধিকালের স্বাভাবিক যৌন আকর্ষণকে, বিবাহপূর্ব যৌনতাকে তাই অনৈতিক ছাপ মেরে দাওয়া হয়েছে, শাস্তিযোগ্য অপরাধ মনে করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনোদিন কিছু আটকানো গেছে কি? ল্টো অকারণ অপরাধ বোধ মানসিক বিকৃতি এনেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১৫১৯ বছর বয়সী মেয়েদের মধ্যে গর্ভপাত করতে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা সবথেকে বেশি। কৈশোরের যৌন কৌতূহল বিভিন্ন অবৈজ্ঞানিক যৌন জ্ঞানের মাধ্যম খুঁজে বের করে, যা বিভিন্ন সমস্যা, বিকৃতি দেকে আনে। তার থেকে স্কুলে স্বাভাবিক বৈজ্ঞানিক যৌন শিক্ষা অনেক উপকারী নয়কি? উঁহু মাথায় আছে সেই ভারতীয় সংস্কৃতি, ভারতীয় নৈতিকতা, তাই সাম্প্রদায়িকবিজেপি সুরেই এআইডিএসও বলছে যে, “safe sex is a propaganda of bad taste and open encouragement of unethical sexual behaviours!

বর্তমানে কর্পোরেট সাংস্কৃতিক গতিপ্রকৃতি খেয়াল করলে আন্দাজ করা যায় যে, আগামীদিনে ভারতে সেক্স ট্রেড বা যৌন ব্যবসার বড় বাজার ধরার একটা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে চাওয়া হচ্ছে। যেমন, যৌনকর্মীদের শ্রমিক এর মর্যাদা দানের যে দাবি তুলে আনছে কিছু ফান্ডেড এনজিও, যেমন সমসামিক কিছু বাণিজ্যিক হিন্দি চলচ্চিত্রে দেখানো হচ্ছে যে, তরুণ নায়ক ও তার বন্ধুরা কলগার্লদের সাথে আনন্দ করছে এবং এটাই নাকি যুবকদের চলতি আধুনিক সংস্কৃতি। কিন্তু পুঁজিবাদী উত্পাদন ব্যবস্থাকে টিকে থাকতে হলে, শ্রম ও শ্রমিকের যোগান নিয়মিত রাখতে হলে, রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে, টিকিয়ে রাখতে হবে পরিবারকে। তাই শেষ পর্যন্ত নায়ক প্রেমিকার বাধ্য হয়ে বিয়েতে রাজি হয়। যৌন শিক্ষা আদপে এইডসএর অজুহাতে কিশোরকিশোরীদের মধ্যে কনডম এর প্রচলন করে, যৌনতার মতো মানবিক সম্পর্ককে পণ্যেপরিণত করার, ভোগবাদী যৌনতা সর্বস্ব সংস্কৃতির প্রচলনের সুক্ষ্ম প্রচেষ্টা কিনা, যা সেক্স ট্রেডএর বড় বাজার তৈরী করবে, সে বিষয়ে অবশ্যই সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। তবে তার মানে এই নয় যে, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের বিকল্প হবে সামন্ততন্ত্র, তথাকথিত নৈতিকতা, ভারতীয় সংস্কৃতি। দেশটা গোল্লায় গেল।কারণ চারিদিকে একে অপরের সাথে “অবৈধ” সম্পর্কে লিপ্ত। যেন এছাড়া আর কোনো বিষয়েসমস্যা নেই! জনতা আজ অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনধিকার চর্চা করে ভগ্ন হৃদয়ে পুরনো ভারতীয় সংস্কৃতি,, নৈতিকতার জন্য হাহুতাশ করে। সাম্রাজ্যবাদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের সামনে সামন্তীয় যৌন নৈতিকতার হাহাকার আমরা ট্রেনে বাসে, চায়ের দোকানে, সবসময়েশুনে থাকি। এই গণহাহাকারে যোগদান করা নিশ্চয়ই প্রগতিশীলদের কাজ নয়। বিপ্লবীরা সাম্রাজ্যবাদী সংস্কৃতিকে প্রতিরোধ করবে, তথাকথিত বিশুদ্ধ শাশ্বত ভারতীয় নৈতিকতার দ্বারা নয়। বরং প্রতিরোধ করবে শোষণ মুক্তির যুক্তির দ্বারা, বাজারের বন্ধন, পণ্যায়নের বন্ধন, নিপীড়ন থেকে মুক্তির যুক্তির দ্বারা।

প্রশ্ন তুলতে হবে যৌন শিক্ষা কেন এইডস আতঙ্কের প্রচার আর কনডমএর বিজ্ঞাপন হয়ে থাকবে? যৌন শিক্ষায় কেন জানানো হবে না যে সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা থাকেনা, কেন জানানো হবে না যে, শারীরিক গঠন ছাড়া ছেলে মেয়ের মধ্যে আদপে কোনো পার্থক্য নেই, কিভাবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ শিশু বয়স থেকে প্রত্যেকদিন নির্দিষ্ট কিছু কৃত্রিম বৈশিষ্ট্য চাপিয়ে দিয়ে তার মতো করে একজন মেয়েকে ‘মেয়ে’ হিসেবে, ছেলেকে ‘ছেলে’ হিসেবে গড়ে তোলে, কেন তাদের জানানো হবে না যে, ছেলেমেয়ে ছাড়াও আরো অনেক যৌনতার মানুষ হয়, এবং সেটা স্বাভাবিক। কেন জানানো হবেনা যে, শুধুমাত্র যৌনাঙ্গের ভিন্নতার কারণে ‘হিজরা’ তকমা দিয়ে একজন নিষ্পাশিশুকে পরিবার থেকে নির্বাসনে পাঠানো সামাজিক পাপের কথা? যৌন শিক্ষায় কেন পড়ানো হবেনা যৌনতার ইতিহাস? কিভাবে মানুষের যৌন সম্পর্কের ধর বদলালো, এর সঙ্গে শোষণ কাঠামোর সম্পর্কটা কি রকম

বিজেপি এমন একটা দল, যে সামন্ততন্ত্রের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে সাম্রাজ্যবাদের দালালী করে, সাম্রাজ্যবাদের প্রয়োজন সামন্তকূপমণ্ডুকতা। কূপমণ্ডুক সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করা বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই থাকবে। কিন্তু মুশকিল হলো যেসব বামপন্থীরা সমাজ বদলাবার কথা বলে, তারাও পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না দেখে দেখে বিশুদ্ধ নৈতিকতার জায়গা থেকে। বাস্তবে প্রগতিশীলদের সক্রিয় উদ্যোগে যৌন শিক্ষা সমাজের গণতান্ত্রিকীকরণের হাতিয়ার হতে পারে, যা গায়ের রং, উচ্চতা, বয়স, বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গ,তথাকথিত নৈতিকতা বন্ধন, সম্পত্তি সম্পর্ক, বাজারের বন্ধন থেকে মুক্ত সাম্য, পারস্পরিক সম মর্যাদার উপর ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ার শিক্ষা দেবে। যদিও এআইডিএসওএর বন্ধুদের মতে, যৌন শিক্ষা হলো “nothing but an advocacy for practicing free but safe sex.”তবে আমার মতে, যদি সত্যি সত্যি যৌন শিক্ষার নাম ফ্রি সেক্স হয়,তবে বলবো ফ্রি সেক্সএর বাংলা হলো মুক্ত কাম, আর এর বিপরীতে থাকে বদ্ধ কাম, আর বদ্ধ কাম হলো বিকৃত কাম। এবং আমরা সুস্থতার পক্ষে, বিকৃতির বিপক্ষে।।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s