লিখেছেন: মতিন বৈরাগী

.

abstract-art-floral-tree-landscape-painting-fresh-blossoms-by-madart-megan-duncansonসত্যের কথা আর বলোনা চারিদিকে জোয়ার বইছে

কেনা বলছে সত্যযা তোষামুদি আর সার্থপরতার ভাষা!

কে আর বাকি থাকছে মাঠ বা কেন্দ্রে!

সত্যের এই বিস্তার অসুখের মতো এক সংক্রমণ

ছড়িয়ে যাচ্ছে জলস্রোত

মিথ্যেকে সত্যের মতো করে বলো সে সত্য হবে

কারণ ‘পৃথিবীতে সত্যবলে কিছু নেই আছে অনুসন্ধান’

আর বলো যুক্তি দেখিয়ে আর বলো সার্থের হিসেবটা কষে

যা অনেকেরই অংশ হয়ে ওঠে

সে এক দারুণ প্রতিভা যা তারা ভাবছে

সত্যের কথা মনেও এনোনা কারণ চারিদিকে যা ঘটছে

সমান তালের চিন্তা এখন বানিজ্যে প্রবল

এখন তুমি আমি চুপ হয়ে গেলে হিসেবটার খানিক মিলবে না,তখন

তুমি বলতে পারবে তোমার সত্য তোমার মতো

যদি তুমি তা’ বলতে প্রস্তুত থাকো আর অপেক্ষা করো ধৈর্য্যে

সত্য একটা সামাজিক ক্রিয়া

যা বেগবান হয় সকল বিকৃতির ভেতরে আর যা বিস্তার পায়

মিথ্যের ইতিহাস মুছে দিয়ে।

————————————-

.

রাত্রি ছিলো রাত্রির মতো আর দিন যা রাত্রিকে চিড়ে বড় হয়

প্রভাতের দিকে ছুটায় সূর্য

রথের ঘর্ঘর কাঁপায় আকাশটাকে পাতালে ফেরায় অন্ধকার

রাত্রি শেষে গির্জার স্ফটিক চূড়ায় শত সূর্য ভাসে

কে জানে কে গড়িয়ে পড়বে গাড়ির দরোজা দিয়ে অথবা বন্দুক যুদ্ধে!

সেই নিয়ে জমে গেছে মানবতার তর্ক

রাষ্ট্রের নিয়মগুলো গড়ে যায় কিছু লোক আর

কালচে পানসে ইটের ঘর শীতাতপে যবুথবু

মাঠঘাট_প্রান্তর, লোহাদস্তাতামার তৈজষ একাকার

এখন তুমি এসব বলো না, দেখ আর ভাবো

অরণ্যের এই সব উপাদান নিয়ে কি করবে মানুষ

সব্ইাতো ইতিহাসের কথা বলে ইতিহাস কি যার যার তার তার

ভোটের শ্লোগানের মতো নাকি একটি শিশুর মতো নির্বোধ

হাসে খেলে ফিডার চোষে আর গড়াগড়ি যায়!

একটা রাত্রি আরো একটা দিনের বিপরীত

মিথ্যের ভেতরে যেমন সত্য খুঁজে নিতে পারো

যেমন সে আছে সর্বদা।

——————————-

.

যাদের পাখনা ছিলো তাদের ভাবনা ছিলোনা, ছিলো মানুষের

মানুষের পাখনা ছিলোনা উড়বার আকাঙ্খা ছিলো

কিন্তু পাখনাও যে বিপদের কারণ হতে পারে

সেতো বুঝেছিলো আইকেরাস

আর একটা সত্যের বিপরীতে ডেডেলাস পেয়েছিলো কান্না

সকল আনন্দের ভেতরে বেদনার অধিষ্ঠান

বেদনার ভেতরে আরেক সত্য যার সংঘর্ষ আছে আবার বিকাশও

সমাজতো আর স্থবির অচল কানা খোঁড়া কেউ না

সে হলো সচল এক প্রকৃয়া সর্বদাই সাংঘর্ষিক.

তুমি বললে:

আর আমি দূরে কোথাও লুকাচ্ছি আমার বেদনা যার সাথে ইতিহাসের

একটা সম্পর্কতো থাকতে পারে

এরকম কী ভেবেছিলেন তলেস্তয়!

————————————–

.

যখন নির্জণতা নামে যখন আমি একাকী

তখন কেউ আমার পাশে এসে বসে, বলে না কিছুই

আমার সামনে নাচে অথৈ জলের ঢেউ

আর বসন্ত হাওয়া জমে শিশির হয়ে যায়

যে গাছগুলো আমার চারপাশে দু:খী মানুষের মতো…… কাঁদে,

তারপর পাখিরা সব উড়ে গেলে আরেক নির্জণতায়

এই ঘর প্রান্তর হয়ে যায়

অনেক পায়ের শব্দ বিবর্ণবিষণ্ন মুখ হেঁটে হেঁটে আসে

হাওয়ায় মিলায়

আর তারা চকচকে মুখ টেকো মাথা কেবল সত্য বলে

আর তার পিছু আরো কতোক দাঁড়িয়ে ফুঁ দেয়া বেলুন দোলায়

এইসব দেখে যে বসেছিল পাশে উঠে চলে যায়

আমি তার দীর্ঘশ্বাস শুনি

মিলিয়ে যাওয়া অস্তিত্বকে অনুভব করি করস্পর্শে

তখন সকল দৃশ্যগুলো ঘুরপাক খেয়ে একটা গাঙচিল হয়ে

উড়ে গেলে পর থেকে যায় তার চিৎকার

উদোম হতে থাকে সত্য দগদগে ঘায়ের মতো

তাই দেখে আল্লার পয়গম্বরগণ স্তম্ভিত

থমকে যাওয়া হাওয়ার মাঝে ক্ষীন হয়ে

ডুবে যেতে থাকেন অপার বিস্ময়।

———————————————

.

তার সাথে অনেক দিন পরে দেখা

আমি তাকে মনে রাখিনি

একদিন যার সাথে চোখে চোখে কথা বলেছি

সে ভোলেনি অথচ আমি ভুলে গেছি

সে হাঁটছিল ফুটপাত দিয়ে বিপরীত দিক থেকে

যে রকম বিপরীতে আমি তার মুখোমুখি

সেই হাসি, সেই চপলতা

ক্ষণিক মুচড়ে যাওয়া স্মুতি প্রিয় সব গীতি বেজে যায়

তারপর সে বলল: ইদানিং সত্যনিয়ে কী সব বলছো!

আমিতো অবাক

আমার মনে হলো যাকে আমি ফেলে এসেছিলাম এক রাতে

এবং ভুলে গেছি

সে কী আমার ভেতরে সারাদিন জেগে থাকে!

সে কী হাসে কখনো নির্জনে

সে কী আসে যায় কথা বলে চোখের ভাষায়!

কিছুই বলিনি

সে বললো আবার

সত্য চিরকাল বিকৃত হয়েছে ক্ষমতায়

অক্ষমতাও দিয়েছে তার বিস্তার

সাহসে দাঁড়ালে সে আবার ফুটবে রোদের মতো

কাপুরুষ পালায়

—————————————-

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s