সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে ইউক্রেনে

Posted: মে 4, 2014 in আন্তর্জাতিক
ট্যাগসমূহ:, , , , , ,

লিখেছেন: অজয় রায়

ukraine_map_crimea_sevastopol_simferopolগত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইউক্রেনে উডার, হোমল্যান্ড এবং সভোবোদার মতো চরম দক্ষিণপন্থী বিরোধী দলগুলি সহিংস বিক্ষোভের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে। যিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবর্তে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছিলেন। সেজন্যই ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে অপসারণে মদত জুগিয়েছে। আর ভূরাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে কর্তৃত্ব কায়েম করে রাশিয়াকে চাপে ফেলতে কিয়েভে গড়েছে এমন এক পুতুল সরকার, যা তাদের নির্দেশিত জনবিরোধী নয়াউদারবাদী সংস্কার কর্মসূচী সম্পূর্ণ ভাবে কার্যকর করতে প্রস্তুত।

পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদের মদতপুষ্ট ইউক্রেনের বর্তমান সরকারের শরিক হয়েছে সভোবোদার মতো নব্য ফ্যাসিবাদী দল। আর সরকারি মদতে উগ্র জাতিয়তাবাদী হামলা শুরু হয়েছে সেদেশের পূর্বাঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ রুশ জনজাতির মানুষের উপর। যার পরিণতিতে গত ১৬ই মার্চ রুশ ভাষাভাষী ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্র গণভোটের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে রাশিয়ান ফেডারেশনে। গণভোটে সেখানকার ৯৬.৬ শতাংশ মানুষই রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেওয়ার পক্ষে রায় দেন। [] রাশিয়াও সেনা মোতায়েন রেখেছে এই অঞ্চলে রুশ জনগোষ্ঠীর মানুষকে আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে।

ফলে কিয়েভের সঙ্গে মস্কোর তীব্র টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। এদিকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে আরও এক ডজনের বেশি শহরের উপর রুশপন্থী আন্দোলনকারীরা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। পশ্চিমী মদতপুষ্ট অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি আলেকসান্ডার তুরচিনভের নির্দেশে অবশ্য ঐ অঞ্চলে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। যাতে সম্প্রতি স্লোভিয়ানস্ক শহরে পাঁচ জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে, সম্প্রতি কিয়েভ সফর করেছেন মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ’র প্রধান। আর ইউক্রেনেরর ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আরসেনি ইয়াতসেনিউক ওয়াশিংটনের সাহায্য চেয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিচারিতাও লক্ষণীয়। একদিকে তারা ইউক্রেন অঞ্চলে হিংসায় মদত দিয়ে অস্থিরতা তৈরি করছে। অপরদিকে আভিযোগ তুলছে রাশিয়া জোর করে ক্রিমিয়া দখল করে নিয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে তারা। রাশিয়ার অবশ্য বক্তব্য, সহিংসতার মাধ্যমে কোন নির্বাচিত সরকারকে উতখাত করা অবৈধ। আর ক্রিমিয়ার জনগণের নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার আছে। উত্তেজনা প্রশমনের জন্য কিয়েভকে পূর্বাঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার আর সম্প্রতি রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে ইউক্রেন ও পশ্চিমী শক্তিগুলির জেনেভায় স্বাক্ষরিত চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানানো হয়েছে মস্কোর তরফে।।

তথ্যসূত্র

[] ‘‘West denies Crimea referendum, China calls for de-escalation of Crimea crisis’’, March 17, 2014

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s