টুকরো ছবির মধ্যে ভারতকে যতটুকু চিনতে পারলাম

লিখেছেন: রক্তিম ঘোষ

তোমরা রয়েছ এদেশের নিঃশ্বাসে

india_movement-1খিদে পেলে আর কি করা যাবে?৩ দিন কিছুই জোটে নি যে। বরং দেবুটা ঠিকই বলেছিল, বাড়িতে হানা দিতে হত। তাহলে এক ধাক্কায় মধুরেণ সমাপয়েৎ হত আর কি। তা আর হল কই?উৎসবের দিন বাড়িতে হানা দেবো না, এমন বিবেক বোধ জাগল আমার!! ! দূর দূর। মাঝখান থেকে তিন দিন না খেয়ে, না ঘুমিয়ে, তাড়া খেয়ে ফিরতে হচ্ছে। উৎসব বলে ছাড় দিলে না উজবুকগুলো!!

যাক গে হাত কামড়ে আর কি হবে?এদিকে সারারাত মশার কামড়ে যান কয়লা হয়ে গেল এক্কেরে। নেহাত উনি বাইরে এসেছিলেন তাই ……। মাস্টারদা বলেন ধর্ম তো বুকের ভিতর সবার এক, বাইরের সাজপোশাক আলাদা। একটু সঙ্কোচ হচ্ছিল বটে, তারপর আর সইল না। এগিয়ে গেলাম। একদম আমার মায়ের মতো মুখটা। সত্যি বলছি বিশ্বাস করুন!

মা …… তিন দিন না খেয়ে আছি। একটু পান্তা ভাত দেবে মা?

অবাক চোখে চেয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। কেমন থমকে গেলেন।

দাঁড়া বাবা…… আনছি। আমাদের ছোঁয়া খাবি তোরা?……… ওই দিকে ঝোপের ধারে লুকা। পুলিশে গ্রাম ঘিরেছে। তোদের না দেখে ফেলে …… ৫ টা হিন্দু ডাকাত নাকি এদিকে এসেছে……। দাঁড়া বাবা আসছি……

বাকি চারটে দেখি আমার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে। বললুম, কি দেখিস!! একটা হিল্লে হোল তো?আজ এদিকেই লুকোতে হবে ……

কথা শেষ না হতেই প্রথম গুলিটা আমার কান ঘেঁষে বেড়িয়ে গেল। এদিকে ঝোপটা বেশি থাকায় পজিশন নিতে সময় লাগলো না। দেবু শালা ফিসফিসিয়ে বলে, ক্যাচকলা খাইয়েছ দলনেতা, এবার গুলি খাই ……। এত ফচকে ছেলেটা …… উফফ

কোত্থেকে দারোগা একটা চোঙ্গা বাগিয়েছে জানি। চিৎকার করে বলে চলেছে, “মনোরঞ্জন…… তোমরা পুরো ঘেরাও হয়ে গেছো। হাতিয়ার ফেলে দাও ……।” দেবুর চোয়ালটা শক্ত হয়ে উঠেছে। লোম্যান এর কুত্তাটাকে জবাব দে তো!!!!

– “Manoranjan does not know how to surrender. I want to be Jatin Mukherjee of Balasore”

গুলিটা চালিয়ে দিলাম ওই যে যেটা বাহাদুরি করে গাছটা পেরিয়ে এগোচ্ছিল, ওটার পেটে। তারপর ১৫ টা বন্দুক গর্জে উঠলো একসাথে। কোথায় পালাবে লোম্যান?এই কর্ণফুলীর তীরেই গোর দেবো ওটাকে। চট্টগ্রাম শহরটাকে পুরো নরক বানিয়ে ছেড়েছে ……

না ওরা কেউই surrender করে নি সেদিন। লোম্যান এরও শোয়া হয় নি, কর্ণফুলীর তীরে। অবশ্য তিন মাসের মধ্যেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে …… সে অন্য গল্প।

বিপ্লবীদের একটা গোলক ধাঁধায় এসে বারবার হাড় মানতে হয়। তা হোল গুলি শেষ হওয়া। এখানেও সেই হাল। পালাবার পথ নেই। তাই বলে surrender!!!!!সে ধম্মে সইবে না। তাই সকলে সকল্কে গুলি করবে ঠিক হোল। ৫ জনই মরবে।

হিসাবের গোলমালে দেবু মানে দেবপ্রসাদ বেঁচে গেছিলো। মনোরঞ্জনটা এত ক্যাবলা না!! !! তাই দারোগা সাহেব তাকে ধরে মরার আগে জিজ্ঞেস করার সুযোগ পেলেন – “ কিছু বলবে?লোম্যান সাহেব এখানেই আছেন……”

কে লোম্যান?আমার হাত দুটো জখম না হলে এখুনি ওকে শুইয়ে দিতাম ……

আক্ষেপ নিয়ে চলে গেল দেবপ্রসাদ।

গল্পটা খুব খাজা না?গাঁজাখুরি যত সব কি বলেন??ভাগ্যিস এঁদের আমার আপনার চেনা জগতের বাসিন্দা বলে মনে হয় না। না হলে এরাও ভীষণ সুযোগসন্ধানী হয়ে যেতো যে। এত আক্ষেপ নিয়ে মরত না..

—————————————–

কবেকার স্মৃতিকথা ধোঁয়া রং স্বপ্নের মতো

পাথরের খাঁজে তার দেশভাগ, কাঁটাতার ক্ষত।

যৌবনে ঢেকে যাওয়া ঘাস মাটি বৃষ্টির মাঝে

ঘুমোয় জালালাবাদ, টেগরারা আজো শুয়ে আছে।

স্বপ্নরা ঘুম কাড়ে দুঃস্বপ্নেরা দেয় ডাক………

কাঁটাতার ছিঁড়ে ফেলে, জীবনের গান শোনা যাক।

.

কর্ণফুলীর মতো কাঁসাই এরও ঘুম পায় ভারী

ইজ্জৎ পিষে যায়, ভারী বুট রাইফেলধারী।

এখানেও শালবনে মেটালায় শহীদের স্মৃতি

মর্গে সিদুর লাশ, ইজ্জৎ আজো পরিচিতি।

কাঁসাই এর মিঠা জল লোনা হয় শহীদের খোঁজে

ওপাড়ে কর্ণফুলী কাঁসাই এর যন্ত্রণা বোঝে।

সস্তার খাবার

poverty_indiaবাবামা মারা গেছেন এইডস এ। ৫ শিশুর অপরাধ জন্মানো। তাদের কোন হাত বা ইচ্ছাঅনিচ্ছার খবর কেউ নেয় নি। তাও জন্মানোর দায়ে অভিযুক্ত শিশুদের আশ্রয় মিলেছে কবরখানায়। এইডস এ মৃত মা আর বাবা মাটির নিচে। আর তারা মাটির উপরে সেই কবরখানায়। গ্রামবাসী বা আত্মীয়পরিজনের ফেলে দেওয়া খাবারের উচ্ছিষ্ট সম্বল করে বেঁচে আছে। যেভাবেই হোক জন্মে গেছে আর জীবনকে কে না ভালবাসে?উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড় গ্রাম।

উচ্ছিষ্ট খেয়ে বেঁচে আছে ওরা, টাকার মর্ম এখনও বোঝেনি, অদূর ভবিষ্যতেই জীবন বোঝাবে। না। ওদের তো আর অধিকার নেই ভারতের সংসদ ভবনের ক্যান্টিনে ঢোকার। যেখানে কিনা একজন স্বল্পাহারী মানুষ ৫ টাকায় পেট ভরা খাবার পেতে পারেন। নেতা রাজ বব্বর বলছেন ৫ টাকায় পেট পুরে খাওয়া যায়। ফারুখ আব্দুল্লা তো বললেন, ১ টাকাতেই নাকি পেট ভরা খাবার মেলে এই দেশে। আর পেট ভরবে কিনা তা তো নাকি নির্ভর করে আপনি কতটা খান তার উপর।

দিল্লিতে বা কোলকাতায় ১২১৫ টাকায় একবেলার রুটি সবজি বা ডালভাত পাওয়া এখনও যায়। মুম্বাই বা বেঙ্গালুরুর মতো বাণিজ্য নগরীতে ২৫ এর নিচে কথা হয় না। এদিকে দেশের ৭৭% মানুষের দৈনিক ব্যয়ক্ষমতা ২০ টাকারও কম। সেই রোজগারে উন্নত নগরে বা শহরে একবেলার পেটের খিদেও মিটবে না। আর দেশ জুড়ে আসছে ‘উন্নয়ন’এর স্রোত। উন্নয়ন উন্নয়ন আরও উন্নয়নের বৃষ্টি নামছে। খাবারের দাম উঠছে। মানুষের ভরাপেটের সংজ্ঞাও তাই পাল্টাচ্ছে নিয়ম মেনে।

বাড়ছে অতি প্রয়োজনীয় চাহিদা কমিয়ে যাওয়ার প্রবণতা। আর উন্নয়নের উচ্ছিষ্ট হয়ে গ্রাম ভারতে, ওরা ৫ জন কবর খানার মৃতদেহের ভীরে জীবনের সন্ধান করছে। সংস্কার আর উন্নয়নমশাল জ্বালিয়ে Indiaএগোচ্ছে……… ভারতবর্ষ সস্তার খাবার আর জীবনের সন্ধানে মৃত্যুপুরীতে…….

চা বাগান

India Tea and Tourismঅন্তঃসত্বা ও রক্তাল্পতায় ভোগা মেয়েটির নাম ফুলমনি বেদিয়া। রাজ্য সাধারন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ডাক্তারদের নিষেধ সত্বেও গত রবিবার কাউকে না জানিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন। সোমবার ভোরেই বাড়িতে জন্ম দিলেন সন্তানের। আর —-আর তারপর সন্তান সহ মারা গেলেন। নতুন শিশুর বাসযোগ্য করবেন কি! পৃথিবীটা তার নিজেরই বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে নি।

ঢেকলাপাড়া চা বাগানে গত সপ্তাহে ৩, শেষ ৬ মাসে ৯। কি বলুন তো?চা শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা। এবং দাঁড়ান দাঁড়ান অনাহার টনাহার বলার আগে একবার শুনে নিন জেলাশাসকের বক্তব্য (জলপাইগুড়ি)

কেউ যদি চিকিৎসা না করিয়েই ফিরে আসেন, সেই দায়টা কি প্রশাসনের?আমি খুব ভালো করে জানি, আবার অনাহারে মৃত্যুর জিগির তুলে রাজ্য জুড়ে হইচই শুরু হবে। কিন্তু আমি দায়িত্ব নিয়েই বলছি, গত ছমাসে ঢেকলাপাড়ায় যে শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে, তার একটির পিছনেও অনাহার দায়ী নয়।

কিন্তু শুধু ফুলমনি নন, বিশু তাঁতিও যে হাসপাতালের চিকিৎসা ফেলে বাড়ি গিয়ে মারা গেলেন! কেন?অপমানে?না কি মরে প্রশাসনকে বিপদে ফেলবেন বলে?

১৩ বছর চা বাগান বন্ধ। সরকার বন্ধ বাগানের শ্রমিকদের সামান্য ভাতা দিত। তাও এপ্রিল থেকে বন্ধ। এবং এত কিছু বন্ধের মধ্যে অনাহারে গন্ধ না শুঁকে, লোকদেখানো চিল্লিমিল্লি না করে নীরবে সরকারী হাসপাতাল থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়ে (নাকি উপেক্ষা করে! ) চিকিৎসাহীন মারা যাচ্ছেন শ্রমিকরা?

জেলাশাসক বলছেন, ‘অনুদান বন্ধ থাকার কথা শ্রমিকরা সরাসরি আমাকে জানাতে পারতেন।’

শ্রমিকরা জানান নি। হয়তো দয়ার বা ভিক্ষার দান আর নেবেন না মনস্থির করেছেন। বাগান শ্রমিক স্বপন মজুমদার বলছেন, ‘ —— কেন আমাদের সব সময় সবকিছু চেয়ে নিতে হবে। এসব কি দয়ার দান নাকি? —-’

—-এবং অধিকার সচেতন শ্রমিকদের মৃত্যুও প্রশাসনের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। ধামাচাপার তোড়জোড় শুরু। সোমবারের মধ্যেই নাকি জেলাশাসক টাকার সংস্থান করবেন….

[তথ্যসূত্রএই সময় ৩০//১৩]

গণতান্ত্রিক ফুটো

india_politics-1কেশপুর সিপিএমএর শেষ পুর’ গোছের স্লোগানের সাথে বছর ১০১২ আগে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত ছিলেন বাংলার মানুষ। সেই কেশপুরেই ধরা পড়লো কিনা গণতন্ত্রের ফুটো!! !! তাও আবার চিত্র সাংবাদিকের ক্যামেরায়!! !!!

কেশপুরের মহিষদার ১৪৬ নং বুথে, যেখানে ভোটার ভোট দেবেন, তার পিছনে গণতন্ত্রের জানলা হাঁট করে খোলা। তাতে নজর রেখে বসে আছেন শাসক দলের পোলিং এজেন্টরা। সঠিক চিহ্নে ভোট দান অথবা সুখশান্তিজীবন দান।

অতীত থেকে বর্তমান, বর্তমান থেকে ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের ফুটোর অধিকার কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে সংঘর্ষ চলবেই। ফুটোর না হোক গণতন্ত্রের মানে বোঝাতে, প্রথম দফা ভোটের দিন পুরুলিয়ায় সাঁতুড়ি গ্রামে ভোটারদের ঝোলা থেকে মদ বিতরণ করতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন সিপিএম প্রার্থী চন্দ্রমোহন বাস্কে। পড়লেন পুলিশের জালে।

এদিকে গতান্ত্রিক অধিকারের প্রয়োগে ‘মানবিক’ ভাবে এগিয়ে এসে কেচ্ছায় ফাঁসলেন কাশড়ার তৃণমূল প্রার্থী জওহরলাল বাগদী। অন্যের ভোট নিজে দিতে গিয়ে তার মুখেই শোনা যাক – “আমি যখন ভোট দিচ্ছিলাম, তখন আমার পিছনে ছিলেন সীতারাম পাতর নামে এক ভোটার। বুঝতে পারছিলাম, নেশার ঘোরে তিনি ঠিক বুঝতে পারছেন না কি করণীয় তাঁর। তিনিই আমাকে ওঁর হয়ে ভোট দিতে বলেছিলেন।”

আজ্ঞে না। তাঁকে পুলিস ধরতে চায়ও নি। গণতন্ত্রের ফুটো বর্তমানে তাঁদেরই হাতে সুতরাং ………

যাই হোক। প্রবল শান্তিতে পঞ্চায়েত ভোটে জঙ্গলমহল সাড়া দিল। গণতন্ত্র সাগরে ডুবে জঙ্গলের রুখাসুখা জমি উর্বরা হয়ে উঠুক; সকল শুভবুদ্ধির মানুষ এই কামনাই করবেন।

পুরুলিয়ার ধানচাটানি গ্রামের পিছনে জঙ্গল থেকে একদা মিলেছিল গোয়েন্দা পার্থ বিশ্বাস ও শিক্ষক সৌম্যজিৎ বসুর দেহ। মাওবাদীরা এঁদের খুন করে এখানে পুঁতে গেছিলেন বলে জানা যায় সরকারী প্রচারে। যাই হোক। সেই মাওবাদীরা এখন ভ্যানিশ। হাসিমুখে গণতান্ত্রিক পঞ্চায়েত যুদ্ধ চলছে। সেখানকার বাসিন্দা সনাতন পাহাড়িয়া, দুগাই পাহাড়িয়া, রবিদাস পাহাড়িয়া বলছেন – “খুব ভালো। বনপার্টির লোক তো এখন আর আসে না। এখন নেতারা এসে যে ছবিতে ভোট দিতে বলেন, সেখানেই দিই। ভোটের সময় পাঁচ কিলো করে চাল পাই। ভোট দিতে গেলেই চা আর চপ মুড়ি ছোলা। খুব ভালো ভোট পরব হচ্ছে।”

পঞ্চায়েত রাজ = গ্রামীণ জনতার ক্ষমতায়ন

এদিকে গণতান্ত্রিক ফুটোর ওপার থেকে কে যেন চোখ মেরে পালালো মাইরি।

গাড়ির নিচে কুকুর

modi_gujratশোনা যায়, মমতাজ বেগমের মকবারা যারা বানিয়েছেন তাঁরা পঙ্গু হয়ে গেছিলেন। হয়ত বা সম্রাটের খেয়ালে …… কিম্বা শাহজাদা অউরংজেবের ঘোড়ায় চাপা পড়ে; গাড়ির তলায় কুকুর ছানা চাপা পড়ে গেলে যেমন হয়। শুধু একজন ছাড়া। তাঁর কথা ইতিহাসে লেখা নেই। শুধু তাই নয়সব প্রমান মুছে গেছে যমুনার স্রোতে। তেজস্বিনী যমুনার তীরে কুঁড়ে ঘরতাঁর প্রিয়তমা কয়েক শতক আগের উনুনের আঁচ; কাঠ কয়লার ধোঁয়ায় ভেসে সম্রাটের হারেমে পৌঁছলে নূরজাহার আলো মলিন হয়ে যেতো। কার হারেমে ঠাঁই হল, কেই বা খোঁজ রাখে, বিনিময়ে আঙ্গুল বাঁচল মরদের। তারপর সেই একলা কারিগরকে দেখা যেতো যমুনার তীরে আঁকিবুঁকি কাটতে। প্রিয়তমার স্মৃতিতে কাদায় তৈরি মকবারা গুলো যমুনায় ধুয়ে গেছে। টিকে আছে একা তাজমহল।

একজন না আরও অনেক?সাক্ষী নেই ইতিহাসে। বিচারও হয় না। যেমন গাড়িতে কুকুর ছানা চাপা পড়ে মরলে, শোক প্রকাশেই সব শেষ? তক্ত ই শাহেনশাহ কে বিচার কেই বা করতে পারে?একমাত্র কুকুরের দাঁত ওনারা ভয় পান বলে ইতিহাস সাক্ষী দেয়। তাও দল বেঁধে তেড়ে গেলে……

(গুজরা গণহত্যাকে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গাড়ির নিচে কুকুর চাপা পড়ার সাথে তুলনা করেন)

কোল ব্লক কেলেঙ্কারী

coal-mining-indiaCBI কোল ব্লক কেলেঙ্কারিতে আইন মন্ত্রীকে রিপোর্ট দেখানোয় খেপে বোম সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্ট বলছে, – পুরো ব্যবস্থা ধাক্কা খেয়েছে

CBIবলছে, –CBIকোনদিন স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা ছিল না। তারা সরকারেরই অংশ।

সরকারে থাকা কংগ্রেস বলছে,-no comments

বিরোধী bjpবলছে,-একটা দুর্নীতি অন্য দুর্নীতির রেকর্ড ভাঙ্গছে

রাজ্যের শাসক tmcবলছে,- দ্বিতীয় UPA সরকারের একটাই আস্থাভাজন শরিক আছে >CBI

রাজ্যের বিরোধী cpm বলছে,-এর পরেও আমরা চিট ফান্ড কান্ডে CBIতদন্ত চাইব

সূত্রধর এর সুত্র ধরলে যা দাড়ায়

কোল ব্লক থেকে চিট ফান্ড কমন ফ্যাক্টর একটাই >CBI

ব্যবস্থাটা ধাক্কা খেয়ে রয়েছে শীর্ষ আদালত আজ বুঝলো

উর্দিধারী আর উর্দিহীন পুলিশ খোচরেরা শাসক দলের ক্যাডার বই কিসু নয় এটার স্বীকারোক্তি এতদিনে মিলল (শাসনে যেই থাকুক না কেন)

মৌনতা সম্মতির লক্ষণ

দুর্নীতির রেকর্ড ভাঙ্গার খেলায় BJPভালো করেparticipateকরতে পারছে না

রাজ্যে প্রধান শরিক টা কে?সারাধা না CID?

তদন্তের result নিয়ে থোরাই কেয়ার?

conclusion-

কয়লা থেকে জনতার পকেট ফাঁক করব সবাই মিলে। জনতা বাওয়াল দেখে মেতে যাক জেল এ পুরবো ভোট না দিলে।

জনতা আমরা এখনও স্বভাবে নাচছি গুরু। তবে তোমাদের যেখানে শেষ আমাদের সেখান থেকে হবে শুরু।

আফজাল গুরু

afzal-guru-1স্থান কাল পাত্র খুব গুরুত্বপূর্ণ ….. অনেক general law drawকরবার সময় এই ৩ টে বিষয়কে অনেকে মাথায় রাখতে সক্ষম হন না

আফজাল গুরুর ফাঁসি হয়েছে এটা থেকে কি সাধারণ সূত্রে পৌছানো সম্ভব?

যারা ফাঁসি দিয়েছেন, সেই বিচার বিভাগ প্রশাসনিক বিভাগ এবং রাজনৈতিক শাসক দল এমনকি বিরোধীরাও বলছেন, ফাঁসি হয়েছে একজন terroristএর। তা নিয়ে এত মাথা ব্যথার কি আছে ……

যে জাতির সন্তান আফজাল, সেই কাশ্মিরীরা তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে আফজালকে হীদ হতে দেখেছেন আর তারা প্রতিবাদে রাস্তাতেও নেমেছেন

অকাশ্মিরী বিপ্লবী ও গণতান্ত্রিক অংশের মানুষরা মূলত ফাঁসির আদেশ ঘোষণার অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন …..তার সাথে বলছেন, শাসক সরকারি দল বর্তমান সংকটের থেকে মুক্তি পেতে বলির বখরা করেছেন আফজালকে …. নন ইসু কে ইসু বানাতে

এমন নয় বিষয়টা যে ভারতের বেশির ভাগ শ্রমজীবী মানুষ তৃতীয় মতের সাথে সহমত। বরং প্রথম মতটাই তাদের কাছে বহুল প্রচারিত এবং পরিচিত ….

বেশিরভাগ মানুষ এমনকি শ্রমজীবীরাও ভুল জিনিস এ বিশ্বাস করতে পারেন ….. করে থাকেন ….. তার নানাবিধ কারণ আছে …… স্থান কাল পাত্র এর গুরুত্ব যেখানে অপরিসীম …….

ক্ষুদিরাম বোস এর ফাঁসির ক্ষেত্রেও শ্রমজীবী মানুষ সেভাবে reactকরেন নি …..কিন্তু আজাদ হিন্দ ফৌজ এর বিচারের ক্ষেত্রে রিঅ্যাকশন ছিল তীব্র ……স্থান কাল পাত্র হিসাব করলে ……………… মনে হয় ৪৫ ৪৬ এ ভারতীয় জনতা অনেক বেশি political maturityএর উপর দাড়িয়ে ছিলেন ……. তার কারণগুলি কি কি …… আমাদের ভেবে দেখা দরকার …..

revolutionary communistশক্তির বা nationalist (bjpজাতীয় নয়, যারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রী) শক্তির উপস্থিতি আর সক্রিয় উপস্থিতির মধ্যে কোথাও একটা পার্থক্য আছে ….. জনগনকে politicise করার প্রশ্নে দাড়িয়ে (অন্তত সত্য কে মানুষের অনুভুতিতে পৌছে দেওয়ার) তাদের সাফল্য বা ব্যর্থতাই সক্রিয় উপস্থিতির মাপকাঠি হতে পারে বলে মনে হয়……

ফুটপাথ বদল হয় মধ্যরাতে

()

india-rape-protest-1অনেকটা lock and keyখেলার মতন। মিনিট ১৫ ধরে হাতটা ক্রমাগত অবনত মস্তক লোকটার মাথায় উঠছে আর নামছে। হাতে শাখা লোহা আর চুড়ির আভাস। মাঝে মাঝে লোকটা মাথা তুলছে। মুখটা কেমন ঝাপসা বিকৃত আর……। অবশ্য অঝোর ধারা বৃষ্টির জন্যেও এমন লাগতে পারে। এটাকে শুনেছি স্বান্তনা দেওয়া বলে।

জানলা থেকে ঠিক ১০০ গজ দূরে বাঁশঝাড়ের মাঝখানে …… আমার চেতনা ফিরে এলো। এখন সবটা বুঝতে পারছি। এরপর স্নান খাওয়া; মহিলার একটু ঝিমুনি এলেই লোকটা এদিকে আসবে। আমার কাছে। গন্ধটা তীব্র হচ্ছে। ঝিঁঝিঁর ডাক বেড়ে গেল। দড়িটা খুঁজে পেয়েছে এবার। উত্তেজনায় মাটির ভিজে স্বাদকে ক্রমেই আঁকড়ে ধরছি। পরপর শিকার আসছে। সুদীপ্ত সেন গ্রেফতার হওয়ার পর এই ১২ নম্বর।

()

আমার জন্ম হয়েছিল কবে জানেন?কি বলছেন জানেন?যাঃ শালা। আমিই এখনও জানলুম না।

তবে প্রথমবারেরটা মনে আছে। যাকে কিনা আপনাদের কিছু বইতে লেখা থাকে আদিম পাপ।

সেই যে প্রথম যে মেয়েটা মা হতে চাইলো। কোথায় বলুন তো?আরে আপনারা ঠাকুর দেবতা বলে যাদের পূজা করেন, তারা যেখানে থাকে। স্বর্গ না কি যেন বলে?আরে যেখানে কেউ বুড়ো হয় না, সবাই জোয়ান আর …… আদিঅন্তহীন যৌনতা। আপেল পেড়ে যে লোকটা প্রথম স্বাদ আনতে গেল রগরগে যৌনতার, তার হল চরম বিপদ। মেয়ে তো কিছুতেই শুনবে না …… মা সে হবেই। যেভাবেই হোক। একটার পর একটা লোক protectionনিয়ে আর নয়তো pill গিলিয়েছে তাকে। এ মানুষটা যেন তাকে শুধু শরীর বলে দেখে না। কত যত্ন নেয় তার।

এই আব্দারতা ফেলতে পারলে না। বাচ্চার মুখ প্রথম দেখে তার মুখটা কেমন আলোয় ভরে উঠলো। তারপর …… বাকিটা বইতে পড়ে নেবেন।

তো এই পুংদেব আর স্ত্রীদেবীর মানুষ হয়ে ওঠার মুহূর্তে প্রথম আমার চেতনা আসে। প্রথম শিকারের সন্ধান পাই। দুটো নধর শরীর আর তারপর …… কচিনরম শিশু দুটোকে।

()

…… সেই হিসেবে দেখলে আমি আপনাদের ভাষায় পেশাদার খুনি। অবশ্য একে কি খুন বলা যায়?যদি বলেনও ক্ষতি নেই। আমি আপনাদের আইন আদালত ন্যায় নীতির তোয়াক্কা করি না। খিদে পেলে শিকার ধরতে হয়, এটাই আমার চেতনা। এর জন্ম মৃত্যু নিয়ে পাণ্ডিত্য ফলাতেই পারেন। আমি তো আর পড়তে যাচ্ছি না।

যাক সে কথা। আজ আপনাদের আমার একটা শিকারের গল্প বলবো। একটা উত্তর চাই আমার। মানেটা উদ্ধার করতে পারি নি। আপনাদের তৈরি ভাষাতে, আপনারাই বলেছেন। যিনি বলেছেন তিনি নাকি আপনাদের রাজপুত্র। আগেও একটা এমন কথা শুনেছিলাম বটে ফরাসী দেশে,তার মানেটাও একটু বুঝিয়ে দেবেন please .

দিন দুই আগে (আপনাদের হিসাবে) হঠাৎ আমার চেতনা ফিরে পেলাম। জোয়ান তাগড়া মানুষের গন্ধ। শীত পাহাড়ের কোলে একপাল শিকার। জিভটা আনচান করে উঠলো। হাতে অত্যধুনিক হাতিয়ার সহ হেঁটে যাচ্ছে। হাতে একটা শব্দ যন্ত্র আলফাবিটা বলে ফিসফিস করছে।

ভয়ংকর ধ্বংসের শব্দ পেলাম হঠাৎ। প্রবল শব্দে পৃথিবীটা যেন কেঁপে উঠলো। বারুদের গন্ধের ফাঁকেও টের পেলাম রক্তের মাংসের তীব্র ঘ্রাণ। এদিক ওদিক চোখ পড়েছিল ঠিকই।

যখন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর চোখ দিয়ে দেখলাম, কতগুলো পাকিস্তানী বাহিনীর পোশাক পড়া জঙ্গি পালাচ্ছিল। যখন গুজরাটের রাম রাজা মুখ্যমন্ত্রীর চোখ দিয়ে দেখলাম, পাকসেনারাই পালাচ্ছিল। আর যখন সাধারণ মানুষের চোখ দিয়ে দেখলাম, একদল সশস্ত্র মানুষ, আর একদল সশস্ত্র মানুষকে শিকার করে পালাচ্ছিল। তারা ভারতীয় না কাশ্মিরী না পাকিস্তানী বোঝার চোখ আমার নেই।

কিন্তু শিকারের কাছে পৌঁছে একটা কাগজের টুকরো চোখে পড়লো। লেখা – “poverty is just a state of mind” .

শিকার অব্দি পৌঁছতে পারি নি বিশ্বাস করুন। আচ্ছা আমি কি গরীব??আপনাদের বিচার বোধ কি বলে?আপনাদের দেশের বিদর্ভে পাহাড়ের চা বাগানগুলোয় অনেক শিকার পেয়েছি। রোজ এ দেশের শিকার করেই আমার চেতনা আজ বাক্যের রূপ নিয়ে বেড়িয়ে এলো। খেয়ে পরে বেঁচে আছি যাদের করুণায় ……

আচ্ছা এ দেশটায় ৯০ শতাংশ মানুষ নিজেকে মানসিকভাবে এতটা অসুস্থ কেন বলুন তো!! আপনাদের রাজপুত্রের মতো খেয়ে সুন্দর পোশাক করে রাজমহলে ঠাণ্ডা ঘরে থাকলেই তো পারে!! উত্তরটা দেবেন তো?

শেষ কথা অচেনা দেশ

adivasi-women-bengalদেশটা যেন কেমন অচেনা ঠেকে। এ যুগের আতশ কাঁচে সব কিছু দেখবার চেনবার অভ্যেস হয়ে গেছে কিনা। এক একটা জলজ্যান্ত মিথ। আমাদের ভাবনায় গেঁড়ে বসে আছে। সবটাই কেমন আগে আগে ভেবে ফেলি। এটা ঠিক ওটা ভুল। এক লাইন এর উত্তর। ব্যাস!! ! সব ঠিক ভুলের ঠ্যাকা নিয়ে বসে আছে কতগুলো মিথ। সত্যের অনুসন্ধান করার মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছে সবাই। নিজের দেশকে দেশের মানুষকে মিথ দিয়ে চেনা সম্ভব আদৌ!! ! চলমান বর্তমানকে!! আজ্ঞে না …… মিথ মানে পুরানের গপ্পকথা মাত্র নয়। মিথের শ্রেনিভাগ রয়েছে। এ যুগে মার্ক্সবাদী মিথ, নক্সাল মিথ, হিন্দুত্ব মিথ, ইসলামী মিথ, জাতীয়তা মিথ, দেশপ্রেম মিথ, নৈরাজ্য মিথ ইত্যাদি নানা মিথ দেখা যায়। যার সাথে বাস্তবে সেগুলো যা তার কোন সম্পর্ক নেই। আজকের বাস্তবতার সাথে সেই সব মূল্যবোধেরও বাস্তব সম্পর্ক স্থাপনের কোন চেষ্টা নেই। এক এক জন এক বা একাধিক দল এক একটি মিথের মালিকানা নিয়ে বসে আছে। প্রত্যেকেই প্রত্যেকের মতো ভেবে নিয়েছে। বেশির ভাগই সুবিধাবাদী কারণে, কম সংখ্যক না বুঝে অভ্যাসে। না চেনে যা ধরে এগোতে চায় তাকে। না চেনে মানুষ কি চায় তাকে। না চেনে বর্তমান সময় কে। না চেনে এ দেশটাকে। দেশের মানুষের ঐতিহ্যসংস্কৃতি চেতনা ইতিহাসকে।

ফলে তীর ছোটে ভুল স্রোতে। যদিও স্রোতটা চেনা। যারা রাজা হয়ে বসতে চায়, তাঁদের জন্য ঠিকই আছে। কিন্তু যারা আত্মত্যাগে পিছপা নন। মানুষের মুক্তি আর প্রকৃত স্বাধীনতার সন্ধানে ছুটছেন যুগ যুগ ধরে নানা দেশে মানুষের মাঝে। নানা নামে নানা পন্থায়। নানা পরিচয়ে??? তাঁরাও যে আটকে যাচ্ছেন প্রভুত সততা আর আন্তরিকতা নিয়েও সঙ্কীর্ণ মিথ গণ্ডির মাঝে। ভাঙতে কেই বা চায়?? না ভেঙে গতানুগতিক অনুশীলনটাই সহজ বোধহয়।

ব্যতিক্রম কর্ণের মতো লোকেরাই। জয়ী হোক রাজা হোক পাণ্ডব সন্তান কামনা করে, পথে নামেন পথের সন্ধানে। ঘোষণা করে যান মানুষের মর্যাদা মূল্যবোধ। যাকে ভাঙিয়ে ব্যবসা হয়, তাকেই আঁকড়ে শেষ যুদ্ধের দিকে এগিয়ে চলেন। ভাতৃঘাতী তীর ছুটে আসুক, রথের চাকা তাকে তুলতেই হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য। বেঁচে থাক মানুষের প্রকৃত সুখ আর স্বাধীনতা সন্ধানীদের আপোষহীন পথ খুঁজে চলা মনের জানলা খোলা রেখে …… বাজুক আত্মসম্মানের সুর ফল্গুধারার মতো

সূত পুত্র আমি, রাধা মোর মাতা

এর চেয়ে নাহি মোর অধিক গৌরব

—————————–

রক্তিম ঘোষ :: লেখক, রাজনৈতিক কর্মী (পশ্চিমবঙ্গ)

(লেখাটি মঙ্গলধ্বনি‘র ৩য় প্রিন্ট সংখ্যায় [অক্টোবর ২০১৩ সংখ্যা] প্রকাশিত হয়েছে।)

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s