সংস্কৃতির আগ্রাসী রূপ ও রাজনীতির প্রকাশ

Posted: এপ্রিল 11, 2014 in সাহিত্য-সংস্কৃতি
ট্যাগসমূহ:, , , , ,

লিখেছেন: মতিন বৈরাগী

০১.

বাস্তবের নিত্য অভিঘাতে বাস্তবেরই রং বদলায়। নিত্য পরিবর্তনের এই পথে গড়ে ওঠে মানুষের সংস্কৃতি

culture-1জাতির সুদীর্ঘকাল ধরে ব্যাবহারিক জীবনের ভাবনা, চিন্তা, অভ্যেস, রুচির মধ্যদিয়ে গড়ে ওঠা মানস যা একই সমাজে রাষ্ট্রে বসবাসরত মানুষকে পরষ্পরের সাথে পরষ্পরকে যুক্ত করে এবং জাতির অস্তিত্বের ভিত্তিভূমিকে সুদৃঢ় করে। তাই একটি জাতিকে পদানত করতে হলে তার অহংকে বিনাশ করতে হ এবং তার জন্য তার সংস্কৃতির গঠনে ভেজাল দিতে হয়। সে কাজটি যত নিপুণতার সাথে আধিপত্যবাদী শক্তি করে উঠতে পারে ততোটাই গোটা জাতিকে পদানত করে তাদের সেবাদাসে পরিণত করতে পারে।

সংস্কৃতির তিনটি রূপের কথা গোপাল হালদার উল্লেখ করেছেন। বাস্তব উপকরণ, সমাজবাস্তবতা এবং শিখর বা চূড়া; আমরা বলতে পারি একটি প্রায়োগিক এবং অন্যটি নৈতিক। এই নৈতিকতা প্রয়োগকে সংহতি দেয়। আবার সংস্কৃতির সুদীর্ঘ চর্চার মধ্যদিয়ে নৈতিকতার ভিত্তি তৈরী হয়। তাই বলে সংস্কৃতি রাজনীতির বাইরের কোন বিষয় নয়, বরঞ্চ রাজনীতির কারণেই সংস্কৃতি বিকশিত বা কলুসিত হয়। আধিপত্যবাদী সংস্কৃতির ক্রমাগত আক্রমনের মুখে সংস্কৃতির মৌলিক বিষয়গুলো দূর্বল হয়ে পড়ে এবং বিকৃতসংস্কৃতির রূপ লাভ করে। জাতীয় অহংকে চূর্ণ করে জাতিকে অন্যের সেবাদাসে পরিণত করার মানসিকতা তৈরী করে দেয়। তাই বলে একথা সত্য নয় যে, সংস্কৃতি অনঢ় অচল একটি বিষয় পরিবর্তনীয় নয়, এবং এক জাতির সংস্কৃতির বিষয়আশয় অন্যজাতির মধ্যে প্রতিফলিত হয় না। মানুষ নানা সীমারেখা দ্বারা বিভাজিত হলেও সভ্যতার একটা যোগসূত্র রয়েছে। যে সময়ে ইলিয়ড অডিসি রচিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়, তার মধ্যের মানবিকতা, কুটিলতা, ব্যবহারিক বিষয়াদি, ভাবনা, জীবন বাস্তবতা ও অনুভূতির প্রকাশ যা কিছু, তা প্রায় একইভাবে বিস্তৃত মহাভারত এবং রামায়নে অথচ দুটি অবস্থানের সময়, কাল, দূরত্ব এবং যোগাযোগ প্রমাণ যোগ্যভাবে মিলিয়ে নেয়া দুষ্কর। তবুকথাটি মেনে নেয়া যায় যে, মানব সভ্যতায় কমিউনিকেশনএকটা বড় রকমের বিষয়, যা মৌলিক বিষয়গুলোকে মানুষের ভাবনায় নিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।

০২.

সংস্কৃতি সমাজবদ্ধ মানুষের জীবন সংগ্রাম থেকে জন্ম নেয়।সমাজ জীবনে মানুষের টিকে থাকবার লড়াইয়ে তার বেদনা, ক্ষোভ, ক্রোধ, বীরত্ব, জীবন তৃষ্ণা, আনন্দ ও সৃষ্টিশীলতার যে বোধ তার চেতনায় আলোড়িত হয়, তারই নানামুখী প্রকাশ সংস্কৃতি। এর ব্যবহারিক দিক, যা সমাজের মানুষ তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে নিত্যব্যবহারে, অভ্যাসে, অচরণে প্রয়োগ করে, অন্যটি নানা মাধ্যমে চেতনাজগতে যে ভাব বিরাজমান তার প্রকাশ ঘটায় সৃষ্টিশীল কাজে[মহসিন শস্ত্রপাণির প্রবন্ধ] যদিও আমরা শিল্প সাহিত্য কবিতা, গান, চিত্র অংকন, ভাষ্কর্য ইত্যাদিকেই সংস্কতির কর্মকাণ্ড মনে করি, এবং যদিও আমাদের মতো রাষ্ট্র সংস্কৃতির বিশুদ্ধতা যে জাতিগঠনে বিরাট ভূমিকা পালন করে, রাষ্ট্রিয় ঐক্য, সংহতি, সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় মানসকে উচ্চমাত্রা দেয় তেমন গুরুত্ব দেয় না এবং রাজনীতিবিদরাও এসব চর্চায় অগ্রহ দেখায় না, তারা নিজেদের সমৃদ্ধি তৈরীর কাজকেই শ্রেয়তর মনে করে। তারা মনে করে মানুষ সচেতন হলে তাদের চেহারা খোলামেলা হয়ে যাবে এবং ক্ষমতা, লুটপাট ইত্যাদি হাতছাড়া হবে। কিন্তু বাস্তবে সংস্কৃতির মধ্যেই একটি জাতির সকল কর্মকাণ্ড আবর্তিত হয়। একারণে জাতির জীবনে সংস্কৃতি একটা বিরাট বিষয়। মূলত সংস্কৃতির সমৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা, সুন্দর ও নান্দনিকতা নিয়ন্ত্রিত হয় রাজনীতি তথা অর্থনৈতিক সম্পর্ক দ্বারা। একটি রাষ্ট্রের রাজনীতি যদি জনস্বার্থলগ্ন না হয় এবং আধিপত্যবাদী অর্থনীতির ধারকবাহক হয়ে ওঠে স্বাভাবিক যে তার সংস্কৃতির প্রকাশে তা প্রবল হয়ে উঠবে এবং নৈতিকতার দেয়ালে ক্ষয়ের কামড় বসাবে। শিল্পসাহিত্যসংগীত তার দাগরাজিই ধারণ করছে, এটাই স্বাভাবিক। কারণ শিল্পসাহিত্য ও সংস্কৃতির কর্মকাণ্ড এবং অন্যান্য প্রকাশমূলক কর্মকাণ্ড এর সংগে সংস্কৃতির পার্থক্যটা এমন, যে রকম পরিবার ও ব্যক্তি। শিল্প, সংস্কৃতি নামক পরিবারের সদস্য আর অন্যান্য সদস্যরা হলো অভ্যেস, রুচি, আচারআচরণ উপযোগীতা ও গ্রহণযোগ্যতা।

০৩.

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র যা আমাদের, যার অভ্যুদয়ের সময়কাল থেকে রাজনৈতিক কারণে সংস্কৃতির মনোভূমিটি বিজ্ঞতার সাথে কর্ষিত না হয়ে আধিপত্যবাদী অর্থনীতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে এবং ধীরে ধীরে তার দুঃখজনক বিস্তার ঘটে চলেছে। যদিও বাংলাদেশের সংস্কৃতির চর্চা কেবল মাত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই শুরু নয়, এদেশের মানুষ সুদীর্ঘ কাল ধরে গোটা বাঙালি জনজীবনের ব্যবহার্য সংস্কৃতির ধারক বাহক উত্তরাধিকার। পরবর্তিতে হিন্দুমুসলিম সম্প্রদায়গত নানা বিষয়আশয়ের দুই সম্প্রদায়ের মধ্যের বিরাজমান অসন্তুষ্টি চলমান শাসক ও ভবিষ্যতের শাসকরা চাড়িয়ে দিলে সংস্কৃতির মৌল অনেক বিষয়ে সম্প্রদায়গত পরিচয়চিহ্ন ফুটতে থাকে। পাকিস্তান আমলে সেটাকে আরো বেশী উসকে দিয়ে হিন্দুমুসলিম দুই সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি তৈরীর চেষ্টা চালানো হয়। স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর চক্রান্ত, অবাধ বিচরণ, রাজনীতি ও অর্থনীতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ, শাসক গোষ্ঠির পীর মাজার, ইসলামী জলসা, মাহফিল, ইত্যাদি সংস্কৃতি যেমন একদিকে সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়াতে থাকে, অন্যদিকে ধর্মীয় উন্মাদনায় ইন্ধন জোগায় এবং একদলের কর্মকাণ্ড অন্যরা হিন্দুয়ানী বা মৌলবাদীতার অস্তিত্ব নিয়ে চিৎকার করতে থাকে, যা প্রকারান্তরে জনগণকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ফলে রাষ্ট্রসমাজমানবিক চিন্তা সব কিছুতে এক অসহনীয় পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে এবং এর মধ্যদিয়ে সংস্কৃতির কর্মকাণ্ডগুলো পরিচালিত হতে গিয়ে ভয়ানক বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে। এখন আমাদের নিজ বলতে যা কিছু তার কংকালগুলো দৃষ্টিযোগ্য থাকলেও নানা ভেজালে, কুমতলবে তাও অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।

যদিও মানব সভ্যতার অগ্রগতি, বিজ্ঞান, দর্শন ইত্যাদির বিকাশ ব্যবহার প্রত্যেক জাতির জাতীয় বৈশিষ্ট্যে নতুন কিছু যোগ করে এবং সংস্কৃতির রূপটির একটা পরিবর্তন লক্ষ্যণীয় করে তোলে, নিয়মানুসারে তাযতোখানি মানবিক, নৈতিক, নান্দনিক হয়ে উঠবার সম্ভবনা তাহচ্ছে না কারণ রাজনীতি দ্বারা পরিচালিত অর্থনীতি, যা মানুষকে মানুষ না ভেবে নব্য দাসত্বে আবদ্ধ করছে, লুটছে তার অতীত, ঐশ্বর্য, বৈভব, অধিকার এবং স্বাধীনতা, মানবতার নামে। ফলে সংস্কৃতিটি হয়ে পড়েছে অস্থির, অসাধু, পদসেবায় নিয়োজিত গনিকার মতো। এর প্রভাব কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতি সেবীদের মধ্যে প্রবলভাবে পড়ছে। লুটেরা শক্তিগুলো ইদানিং মিশ্র সংস্কৃতি, বিশ্বমানের সংস্কৃতির কথা জোরেসোরে প্রচার করছে, এবং ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় সৃষ্ট শিল্পসাহিত্য তার নির্মাণ যে বিষয়াবলীকে উপজীব্য করছে তার অধিকাংশ ক্ষয়ষ্ণু জীবনবোধের। তাতে যে উজ্জীবন তা মধ্যযুগীয় ভাববাদীতার। নতুন সমাজের উপযোগী সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো দেয় না, বা পাবার মতোও কোন সুযোগ সৃষ্টি যাতে না হয়, তার দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখে। ফলে লেখক শিল্পী কবিরা কোন রাজনৈতিক সচেতনতা ধারণ করছেন না, করছেন উপনিবেশ মানসিকতা এবং তারই প্রতিফলন ঘটছে তাদের সৃষ্টি কর্মে, যা সমাজ বা রাষ্ট্রিক জীবনে মানব চেতনাকে প্রগতিমুখর না করে আবদ্ধ করে ফেলছে ধনতান্ত্রিক সমাজের বিকৃতির মধ্যে।

০৪.

অনস্বীকার্য যে সামন্ততান্ত্রিক সংস্কৃতির ভয়াবহ রূপ থেকে ধনতান্ত্রিক বিধিবিধানের মধ্যদিয়ে গড়ে ওঠা সংস্কৃতি অনেক খানি প্রগতিমুখি। কিন্তু প্রগতির ধারাটি তখনই স্বচ্ছ, স্পষ্ট, নৈতিক মানের হয়ে উঠতে পারে যখন তার ভিতর থেকে নতুন শক্তির উদ্ভব সম্ভব হয়। বাস্তবে সমাজ পরিবর্তনের মূল সুরটি ধনতান্ত্রিক সমাজে বেজে না উঠলে বুর্জোয়া শক্তির ভোগবিলাসলালসালোভযৌনতা ইত্যাদির ইত্যকার আকাঙ্খাগুলো ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিকৃতির মধ্যদিয়ে এগুতে থাকে ফলে দেশে দেশে যুদ্ধ, বিগ্রহ, নিগ্রহনির্যাতন বেড়ে যায় এবং আধিপত্যবাদী নিয়ন্ত্রনের কূকৌশল পুঁজির অনিবার্য ভূমিকা হয়ে দাঁড়ায়। এমন কী নিজ দেশে নিজ জাতিকেও তারা স্বাধীনতার নামে, ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে, কল্যাণের নামে পদানত করে রাখে। এক বজ্র আঁটুনির ভেতর তাদের নাগরিকরা কতোগুলো ভূঁয়া মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয় এবং নানা রূপ বিকৃতিকেই তারা মূল্যবোধ হিসেবে মেনে নেয়। আর ঐসব দেশের লেখক বুদ্ধিজীবি শিল্পী সাহিত্যিকরা তাদের সৃষ্ট কর্মে আধুনিকতা, উত্তরআধুনিকতা, পরাআধুনিকতা ইত্যাদির নানা রূপের সৃষ্টি করে যা প্রকারন্তরে হতাশারই নামান্তর। তবে একথা ঠিক যে বিজ্ঞানের অগ্রগতি, জ্ঞানের বিপুল সমারোহ, চিন্তার নানা দিক আবিস্কার তাদের সৃষ্টি কর্মে নতুন শিল্প চাতুর্যের সৃষ্টি করেছে এবং মানবতা, নবমানবতাবাদ তাতে সংযুক্ত হয়েছে আর তাঐসব সমাজে কুহকের কাজ করছে আর পিছিয়ে পড়া বিশ্বের অন্যান্য জাতি, সমাজ তার দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে নিজ নিজ সংস্কৃতিতে ভেজাল দিয়ে ফেলছে। এবং ব্যবসায়িক পুঁজির নিয়ন্ত্রনে সামাজিক আচারঅনুষ্ঠানে জাঁকজমকের প্রাধান্য তৈরী হচ্ছে বিকৃতিতে ভরে থাকছে। জনমানুষ বিভ্রমে পড়ছে।

.

আমরা কী এরকম পরিস্থিতির শিকার? প্রশ্ন উঠছে এবং উত্তর হচ্ছে অবশ্যই, কারণ আমাদের রাজনীতির শরীরে যে অসুখ ছড়িয়ে পড়েছে তাপ্রকারান্তরে সমাজ দেহের সর্বত্র ঘিনঘিন করছে। সমাজদেহ হয়ে উঠেছে সংক্রামক ব্যাধির ভাণ্ড, যা থেকে প্রতিনিয়ত ছড়াচ্ছে অসুখ। আর তা নিয়ন্ত্রন সম্প্রসারণ করছে রাজনীতি। রাজনীতিবিদরা নীতি কথা বলছেন, অথচ তারা নিজেরাই নীতিহীন পোশাকের নিচে দগদগে ঘা। সেই ঘা থেকে রক্তপুঁজ ঝরছে আর আক্রান্ত হচ্ছে সমাজ ও মানুষ। ফলে সুস্থতা, সুন্দর মিলিয়ে যাচ্ছে এবং কাল যা তারা করেছিলো আজ তাভুলে গিয়ে জনগণকে বোঝাতে চাইছে দোষটা কালকের নয় আজকের। এ প্রসংগে আমার এক লেখক বন্ধু বলছিলেন, ‘আমাদের মতো দেশে ভুলে যাবার একটি মন্ত্রনালয় খোলা উচিৎ, তারা এবিষয়গুলোর ভালোভাবে দেখভাল করতে পারতেন’। এরকম পরিস্থিতির মধ্যে লেখক, কবি, শিল্পীরাও দলবাজির ভেতর আটকা পড়ে গেছেন। তাদের চেতনা চেতনাহীন পাথারে নিমজ্জিত হতে হতে বোধহীন বিবেচনাহীন, অর্থহীন সৃষ্টিকর্মদ্বারা সমাজকে রাষ্ট্রকে মানবিক গুণাবলির সম্পূরক করার প্রয়াশ থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। তারা সমাজে অস্থিরতা প্রশমনে নতুন কোন দিশার সৃষ্টিতে নিবেদিত না হয়ে বরঞ্চ অস্থিরতাকেই উসকে দিচ্ছেন। আধিপত্যবাদী চিন্তাচেতনাকে সৃষ্টির অনুষঙ্গ করছেন এবং দায়িত্বহীনভাবে এমন সব বিষয় পরিষ্ফুট করছেন, যাতে তরুণরা আরো বিভ্রান্ত হয়, জীবন বিমূখ হয়, কানাগলির বাসিন্দা হয়। তারা দেশ গড়ার ক্ষেত্রে তরুণদের জন্য কোন শিক্ষা, গ্রহণীয় আদর্শ, মানুষ হিসেবে বাঁচবার দৃঢ়তায় সমৃদ্ধ চরিত্র তৈরী করতে পারছেন না, তারা হিমু তৈরী করছেন, পাকসার জমিন সাদবাদের মতো অশ্লীলতা সৃষ্টি করছেন এবং তাকেই যুদ্ধ, নতুন যুদ্ধ মানব চেতনার দাড় বলে চালিয়ে দিচ্ছেন এবং দায় দায়িত্বহীনতার ভিতর দিয়ে প্রকারান্তে আধিপত্য বিধিব্যবস্থার পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। রবীন্দ্রনাথ খুব চমৎকার ভাবেই বলতে পেরেছিলেন

– – হিংসার উৎসবে আজি বাজে

অস্ত্রে অস্ত্রে মরণের উন্মাদ রাগিনী

তুলেছে কুটিল ফণা চক্ষের নিমেষে

গুপ্ত বিষদন্ত তার ভরিতীব্র বিষে।

.

স্বার্থে স্বার্থে বেঁধেছে সংঘাত, – – লোভে লোভে

ঘটেছে সংগ্রাম; – – প্রলয়মন্থনক্ষোভে

ভদ্রবেশী বর্বরতা উঠিয়াছে জাগি,

পঙ্কশয্যা হতে। লজ্জা শরম তেয়াগি

জাতিপ্রেম নাম ধরি প্রচণ্ড অন্যায়

ধর্মেরে ভাসাতে চাহে বলের বন্যায়

কবিদল চিৎকারিছে জাগাইয়া ভীতি

শ্মশানকুক্করদের কাড়াকাড়িগীতি

[শতাব্দীর সূর্যাস্ত]

তাই আজ লেখক কবি, সাহিত্যিক সংস্কৃতি কর্মীদের নতুন করে ভাবতে হবে তাঁরা কী আগামীর বীর হবেন, নাকি সামাজিক দায় দায়িত্ব অস্বীকার করে শিল্প শিল্প বলে অকারণ চিৎকার করে জনগণের অশেষ ক্ষতিতে সামিল হবেন সেটা তাঁদের ভাবতে হবে বই কি।।

১৬..১৩

——————

মতিন বৈরাগী :: কবি

(লেখাটি মঙ্গলধ্বনি‘র ৩য় প্রিন্ট সংখ্যায় [অক্টোবর ২০১৩ সংখ্যা] প্রকাশিত হয়েছে।)

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s