লুন্ঠক শাসক শ্রেণির বিক্রির মচ্ছ্ববে এবার জাতীয় সংগীত বিক্রির আয়োজন

Posted: মার্চ 19, 2014 in দেশ
ট্যাগসমূহ:, , ,

লিখেছেন: ফারুক আহমেদ

national-flag১৯৭১ সালের ১৬ ডেসেম্বরের আগে এই জনপদের মানুষের লড়াই ছিল বিদেশী লুন্ঠক, শোষকদের বিরূদ্ধে। বিদেশী সাংষ্কৃতিক আধিপত্যের বিরূদ্ধে। লড়াই ছিল নিজস্ব সংষ্কৃতি নির্মাণে নিজস্ব একটি ভুখন্ডের জন্য। ২৪ বছরের লড়াই সংগামের মধ্যদিয়ে ১৯৭১ সালে চূড়ান্ত লড়াইয়ে এই জনপদ থেকে বিদেশীদের শাসনের আবসান ঘটেছিল। মূল্য দিতে হয়েছিল। ত্রিশ লক্ষ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছিল। আড়াই লক্ষ নারীকে পাষন্ডিক নির্যাতনের শিকা্র হতে হয়েছিল। অসংখ্য মানুষকে গৃহহারা, সম্পদ হারা হতে হয়েছিল। সব হারানো মানুষ ভেবেছিলেন, সব হারানোর পর সে একটি ভূখন্ড পেয়েছে। যেখানে সে গড়বে স্বাধীন দেশ, স্বাধীন রাষ্ট্র। যে রাষ্ট্রে তার সংষ্কৃতির উপর, তার শ্রমের উপর কেউ আধিপত্য করবে না। তার শ্রমসম্পদ লুন্ঠন হবে না। একটি পতাকা হবে সেটি তার, একটি জাতীয় সংগীত হবে সেটি তার। এ বাতাস, মাটি, পানি হবে তার। যেখানে সে বুক ভরে শ্বাস নেবে, চোখ ভরে আকাশ দেখবে; দেখবে পুর্ণিমার চাঁদ, ফসলের মাঠ।

হয়নি। ১৯৭২ সালে ক্ষমতা হাতে নিয়েই ক্ষমতাসীনরা জনগণকে অস্বীকার করতে থাকে। দেশীয় শোষক শাসকদের লুন্ঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। থামেনি। ৪২ বছর ধরে জনগণের শ্রমসম্পদ লুন্ঠন চলছে। শুধু লুন্ঠনই নয়। জনগণের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে নির্মল বাতাস, বিলবাওড়, সাগরনদী, মাঠপ্রান্তর, রাতের আকাশের তারা, ভোরের সূর্য সবকিছু। সবকিছুকে দুষিত আর বিষাক্ত করা হয়েছে লুন্ঠন আর মুনাফার বিষে। নদীগুলোকে শুকিয়ে মারা হয়েছে। যা’ প্রবাহিত হয় তা পানি নয়। নদী দিয়ে বয়ে যায় লুন্ঠকদের মুনাফার ক্লেদ। বিষাক্ত সেই ক্লেদে কোন প্রাণী নেই, নেই কোন উদ্ভিদ এমনকি ব্যাকটেরিয়াও।

লুন্ঠনের মচ্ছ্ববে এরা মাটির উপরের, মাটির নীচের সব সম্পদ বিক্রি করে চলেছে ৪২ বছর ধরে। এরা ব্লক করে সমুদ্র বিক্রি করে দিয়ে সমুদ্র জয়ের গল্প শুনিয়েছে। সেখানে আমার দেশের জেলে মাছ ধরতে যেতে পারবে না। নিজের দেশের গ্যাস, তেল, কয়লা বিক্রি করে লুন্ঠকরা নিজের পকেট ভরেছে। লুন্ঠনের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। নিজের পকেট ভরতে বিদেশীদের দ্বারা লুন্ঠনের পথ তৈরী করেছে। প্রাণপ্রকৃতি –পরিবেশ ধ্বংসের সকল আয়োজন করেছে। বন ধ্বংসের আয়োজন করেছে, দেশকে পারমাণবিক চুল্লির উপর বসিয়েছে।

৪২ বছর ধরে এরা দেশের মানুষের দারিদ্র্য বিক্রি করে চলেছে। দারিদ্র্যকে পুঁজি করে বিদেশীদের সাথে নিয়ে মানুষের শ্রমসম্পদ চুরি করতে, কেড়ে নিতে দারিদ্র্য বাণিজ্য সাজিয়েছে। এই লুন্ঠকেরা কৃষকের বীজতলা বিক্রি করে দিয়েছে। বীজের স্বাধীনতাকে বিক্রি করে দিয়েছে বহুজাতিক কোম্পানির কাছে। বীজের জন্য বাংলাদেশের কৃষক এখন বহুজাতিক কোম্পানির দাস।

বিক্রি করতে করতে এখন তাদের দৃষ্টি গিয়ে পড়েছে জাতীয় পতাকার উপর, জাতীয় সংগীতের উপর। আমার মায়ের নামে আমি ভজনসাধন করব, আমার মায়ের সংগীত আমি গাইব। গাইব মাঠে, ঘাটে, পথে, প্রান্তরে, নদীর কূলেকূলে। তুই আমার মাঠ, প্রান্তর, বটের মূল, নদীর ঘাটকূল সবই বেচে দিয়েছিস ! এবার বেচতে এসেছিস আমার সংগীতের রেকর্ড, জাতীয় পতাকার রেকর্ড !তুই দেখাতে চাচ্ছিস এবং ক্ষমতার জোরে দেখিয়ে দিচ্ছিস মায়ের সন্তানেরা রেকর্ডের জন্য মায়ের জপ করে !তুই মায়ের সন্তানের জপকে ভন্ডামিতে ঠেলে দিচ্ছিস। মায়ের সন্তানের জপকে তুই তামাশা বানিয়ে ছাড়লি।

বিক্রির মচ্ছ্বব চলছে। জাতীয় সংগীত বিক্রির মহা আয়োজন চলছে। কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর চোখ চক চক করে উঠছে। তাদের কাছে এ পণ্য খুব দামি পণ্য। এর মধ্যে আছে দেশের মানুষের মানমর্যাদা, প্রতিবাদ, প্রতিরোধের বোধ। একবার একে রেকর্ড গড়ার পণ্যে পরিণত করতে পারলে ফাঁকা এবং ফাঁপা দেশ প্রেমের সুড়সুড়ির আবেশে অসাড় করে রাখা যাবে শিক্ষিত যুবক, তরুণ সকলকে। ইতোমধ্যে অসাড় শিক্ষিত যুবক, তরুণদের সামনে লুন্ঠন চলছে। লুটেরাদের আইআলোর ফাঁদে নন্দনফ্যান্টাসিতে নেচেকুঁদে শিক্ষিত যুবকেরা অর্ধেক অসাড়। বাকিটুকু অসাড় করতে তাদের সামনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে দেশ প্রেমের ফাঁকাফাঁপা বুলি। অর্ধেক অসাড় এসব যুবকেরা, তরুণেরা বুঝতে অক্ষম মায়ের সংগীত গেয়ে রেকর্ড করা মায়ের সাথে তামাশা। এই রেকর্ডের বিচারক কে?তাদের নিজেদের কি দেশ নেই?তাহলে তারা আমার রেকর্ড গণনা করতে আসছে কেন?অসাড় যুবকদের বোধে এ প্রশ্ন ধরা দেয় না। আরো বহু প্রশ্ন তাদের বোধে ধরা দেয় না।

ক্ষমতাবান লুন্ঠকরা এর আয়োজক। স্কুলকলেজগুলোকে বাধ্য করা হচ্ছে সেখানে যোগ দিতে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। জনগণের কষ্টার্জিত সম্পদ লুন্ঠন করে জনশত্রুদের মাধ্যমে এই আয়োজনে বিপুল টাকা ঢালা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধী নিয়ে একদিকে জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। জনগণ কোন অধিকারের প্রশ্ন তুললে, প্রতিবাদ করলে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার আয়োজন বলে তার উপর নেমে আসছে দমনপীড়ন। অপরদিকে তাদেরই প্রতিষ্ঠানের হাত দিয়ে টাকা নিয়ে জাতীয় সংগীত বিক্রির এ আয়োজন করা হচ্ছে।

সারা দেশের মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে আসছেন। রেকর্ড গড়ার নামে জাতীয় সংগীত বিক্রির জন্য মানুষ এ আয়োজন করে না। আজ শাসক শ্রেণির ক্ষমতাসীনেরা সব কিছু বিক্রির পর জাতীয় সংগীত বিক্রির আয়োজন করছে। জাতীয় সংগীত বিক্রির এ আয়োজনের বিরূদ্ধে মায়ের সন্তানদের সোচ্চার হতে হবে।।

১৮//১৪

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s