দলে দলে তিন দিনব্যাপী ‘গণজাগরণ দিবস’-এ যোগ দিন!!

Posted: ফেব্রুয়ারি 5, 2014 in মন্তব্য প্রতিবেদন
ট্যাগসমূহ:, , , , , ,

লিখেছেন: তৃষা বড়ুয়া

gonojagoron-program-12গণজাগরণ মঞ্চ থেকে প্রচার করা হয়েছে,

বছর ঘুরে আবারও আমাদের সামনে এসে হাজির হচ্ছে সেই ৫ ফেব্রুয়ারি। গত একবছরের এই দীর্ঘ যাত্রায় আমাদের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার হিসাব নিকাশ করা আবারও জরুরি। বর্ষপূর্তির ক্ষণে নিজেদেরকে আবারও উদ্দীপ্ত করার প্রত্যয় আর এযাবৎকালের অর্জনগুলোকে মূল্যায়ণ করাও খুব প্রয়োজন। সুতরাং, গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে বিশ্ব ইতিহাসের এই অভূতপূর্ব গণজাগরণের দিনটিকে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সকল মানুষের এই বিষ্ময়কর ঐক্যবদ্ধ জাগরণকে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা ৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘গণজাগরণ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করছি। আমরা এই বর্ষপূর্তিকে শুধু পালন করব না, আমাদের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম যাতে আগামী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করা যায়, এজন্য এবারের বর্ষপূর্তির আয়োজনে আমরা বিশেষ করে শিশুকিশোরদের অংশগ্রহনের জন্যও বেশ কিছু আয়োজন রেখেছি।”

ভাই ও বোনেরা, সালাম নিবেন। আমি একটু বেকুব কিসিমের, তাই এই ৩ দিনব্যাপী কর্মসূচির অর্থ ঠিক ধরতে পারছি না। “প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার হিসাব নিকাশ করা আবারও জরুরি। বর্ষপূর্তির ক্ষণে নিজেদেরকে আবারও উদ্দীপ্ত করার প্রত্যয় আর এযাবৎকালের অর্জনগুলোকে মূল্যায়ণ করাও খুব প্রয়োজন।” ’৭১এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কি শেষ? ‘প্রাপ্তি’ আর ‘প্রত্যাশা’কি পেয়েছি আর কি আশা করেছিলাম? আর কিইবা এমন অর্জন করেছি যে উদ্দীপনার ঢেকুড় উঠছে বার বার? ‘আগামী প্রজন্মের কাছে’ কি ‘হস্তান্তর’ করবেন? মাতৃভূমির বিকৃত ইতিহাস যা বহমান ’৭১ থেকে পরবর্তী প্রজন্মগুলোতে? আপনাদের ‘মূল্যায়ণ’এ কি থাকবে কেন ‘বিশ্ব ইতিহাসের এই অভূতপূর্ব গণজাগরণের’ সময় রুমী, প্রীতিলতা, ক্ষুদিরামের উত্তরসূরিরা আমরণ অনশন করেছিল জীবনের মায়াকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে?

৭৩এর প্রত্যয় আর গণজাগরণ মঞ্চের ‘প্রত্যয়’এ এত বিশাল ফারাক কেন?

১৯৭৩ সালের ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত বাংলাদেশ সরকারের এক প্রেস রিলিজে বলা হয়, তদন্তের মাধ্যমে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর মধ্য থেকে ১৯৫ জনকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, জেনেভা কনভেনশনের আর্টিকেল তিন এর লংঘন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটের অপরাধে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

১৯৭৩ সালের ১ জুনের এক খবরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে বলা হয়, ‘টোকিও ও নুরেমবার্গ বিচারের সময় যে মূল নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে একটি বিল পেশ করা হবে।’

১৯৭৩ সালের ৮ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব এক সাক্ষাৎকারে জানান, ‘ইতিপূর্বে তালিকাভুক্ত পাক যুদ্ধাপরাধীদের সংখ্যা ১২০০ থেকে কমে ১৯৫ জন হয়েছে। এই ১৯৫ জন পাক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই।’

১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর দালাল আইনে আটক যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীদের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই তাদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণার পর দালাল আইনে আটক ৩৭ হাজারের অধিক ব্যক্তির ভেতর থেকে প্রায় ২৬ হাজার ছাড়া পায়।

সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ৫ নং ধারায় বলা হয়, ‘যারা নিচের বর্ণিত ধারাসমূহে শাস্তিযোগ্য অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত অথবা যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে অথবা যাদের বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত ধারা মোতাবেক কোনটি অথবা সব ক’টি অভিযোগ থাকবে।

ধারাগুলো হলো: ১২১ (বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো অথবা চালানোর চেষ্টা), ১২১ ক (বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ষড়যন্ত্র), ১২৮ ক (রাষ্ট্রদ্রোহিতা), ৩০২ (হত্যা), ৩০৪ (হত্যার চেষ্টা), ৩৬৩ (অপহরণ),৩৬৪ (হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ) ৩৬৫ (আটক রাখার উদ্দেশ্যে অপহরণ),৩৬৮ (অপহৃত ব্যক্তিকে গুম ও আটক রাখা), ৩৭৬ (ধর্ষণ), ৩৯২ (দস্যুবৃত্তি), ৩৯৪ (দস্যুবৃত্তিকালে আঘাত), ৩৯৫ (ডাকাতি), ৩৯৬ (খুনসহ ডাকাতি),৩৯৭ (হত্যা অথবা মারাত্মক আঘাতসহ দস্যুবৃত্তি অথবা ডাকাতি), ৪৩৫ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে ক্ষতিসাধন),৪৩৬ (বাড়িঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার), ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪৩৬ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে কোন জলযানের ক্ষতিসাধন) অথবা এসব কাজে উৎসাহ দান। এসব অপরাধী কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নন।’

সুত্রঃ উইকিপিডিয়া।

gonojagoron-2গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের কাছে প্রশ্ন

> আপনাদের দাবিসমূহে কি উল্লেখিত বিষয় যুক্ত ছিল বা আছে?

> ‘পাক যুদ্ধাপরাধীদের সংখ্যা ১২০০ থেকে কমে ১৯৫ জন হয়েছে’১০০৫ জন মুক্তি পেল কিসের ভিত্তিতে?

> ১৯৫ জন পাক আর্মির ‘বিচার হবেই’ হয়েছে কি? ১টা পাক আর্মির বিচারও তো দেখলাম না!

> ‘৩৭ হাজারের অধিক ব্যক্তির ভেতর থেকে প্রায় ২৬ হাজার ছাড়া পায়।’ ২৬ হাজার অভিযুক্ত ব্যক্তি সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পায়! ক্ষমা তো তারাই পায় যারা কোনো না কোনো অপরাধে যুক্ত। এই ২৬ হাজার অপরাধী তাহলে কি ভিআইপি অপরাধী?

> ‘সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই’ ২৬ হাজারের মধ্যে কেউই ৫ নং ধারায় পড়লো না? আর বাকি ১১ হাজার ননভিআইপি অপরাধীর সাজা হয়েছে কি?

> নাটের গুরু ভিভিআইপি বয়স্ক মুরুব্বীকে ছেড়ে কয়েকজনকে লটকালেই কি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়? ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ জিপিএ গোল্ডেন৫ পেয়ে যায়?

> মুক্তিযুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে এত রাখঢাক কিসের ’৭৩ থেকে আজ পর্যন্ত?

> মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের কাছে জনগনের স্বাভাবিকভাবেই আশা সুবিচার এবার হবেই হবে। তাদের অধিকার আছে জানার, সরকার কি কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিংবা কর্মীরা চাপ প্রয়োগ করেছে কিনা উল্লেখিত বিষয়ে? সাধারণ মানুষ বিস্মিত একটি দেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের বিচারের রায়ের সাথে আস্তিকতাবাদনাস্তিকতাবাদের কি সম্পর্ক? তারা আরো বিস্মিত সরকারের মৌনতা দেখে! মৌনতাতো সম্মতিরই লক্ষণ,তাই না?একজন ব্যক্তিকে এজন্যে খুন করা হলো! খুনের বিচার কি মঞ্চের দাবিনামায় যুক্ত করা হয়েছে? এই খুনকে ‘মূল্যায়ন’ করা হবে না?

gonojagoron-3দৃশ্যত মনে হচ্ছে, উপরোক্ত বাংলাদেশের দালাল আইনের সব কার্যকর হয়ে গেছে। তাই মঞ্চের কর্মীরা নিশ্চিন্তদায়মুক্ত। আইনের শাসন অবশেষে আলোর দেখা পেল আপনাদের ‘ক্লান্তিহীন সংগ্রাম’এর কারণে।

জাগরণ জনগণের হয়েছে সন্দেহ নাই। কিন্তু সরকারমঞ্চ তাদের কি হয়েছে? লাখ লাখ জনগণ সুবিচারের প্রত্যাশায় রাস্তায় নেমেছিল এক বুক আশা নিয়েএইবার ছাড়ন নাই! কিন্তু কি দেখলো তারা? লাখ লাখ মানুষ কি তাই অভিমানেহতাশায় গোলাম আযমের রায়ে আর রাস্তাতেই নামলো না? তারা যদি আজ আপসোস করে বলে, ক্যান যে জাগলাম? ঘুমায় ছিলাম, ভালোই তো ছিলাম! ক্যান মড়ার ঘুমডা ভাঙল আর দৌঁড় দিলাম!!!……… কিছু বলার আছে আপনাদের??

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s