এই না হলে গণতন্ত্র? তবে ধিক এই গণতন্ত্রে!

Posted: জানুয়ারি 30, 2014 in দেশ
ট্যাগসমূহ:, , , ,

লিখেছেন: মুগ্ধ মঞ্জুর

democracy-1এমন বাংলাদেশ দেখেনি কেউ, মুহুর্তে…………। এই কবিতাটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময়তায় পূর্ণ কবির অনুভব। কিন্ত এখন যদি কবিতাটি কেউ আওড়ায় নির্ঘাত বলা হতে পারে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের রক্ষা করার অপচেষ্টা। জানিনা ঠিক বললাম কিনা? হয়তো ঠিক, নয়তো ঠিক নয় তবে ক্ষমতাসীনদের অবস্থা এমনই। তারা চোখে দেখেন না, কানে শোনেন না কেবল তৈলমর্দনকারিরা যা বলেন, সেটাই আওড়ান। নিজের বলারবোঝার বা শোনার যেন কোন ক্ষমতাই নেই।

অধিকতর শিক্ষা নিতে গিয়ে জেনেছি সরকার নাকি জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের সরকার। আমার দেশের সরকার দেখে কখনোই অবশ্য সেটা মনে হয়নি, অন্তত এখন পর্যন্ত। সেটা অবশ্য সবাই বলবেন, কিন্ত সংবিধান আসলে কার জন্য? সরকার না মানুষের জন্য। মানুষের চেয়ে যখন সংবিধান বড় হয়ে যায় বোধকরি সেই সংবিধান না মেনে আদিম যুগে চলে যাওয়াই ঢের ভালো। যে সংবিধানের দোহাই শত শত মানুষের প্রান কেড়ে নেয় সেটি অন্তত আদিম যুগে ছিলো বলে মনে হয়না। আমাদের রাষ্ট্রপরিচালকরা সব সময় শাসক হয়ে ওঠেন আর ক্ষমতায় থাকা আর যেতে চাওয়ার ঠেলাঠেলিতে গলা টিপে টিপে মারেন আমাদের অর্থাৎ আম জনতাকে। আজ কালকের ফেইসবুক প্রজন্ম যাকে বলে মেঙ্গো পিপল। যাদের রক্ত কেবল চুষে চুষে খেয়ে হাড়গুলো ফেলে দেয়া যায় ডাস্টবিনে। ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করারও হ্যাপা আছে।

গণতান্ত্রিক দেশের স্বৈরাচারি মনোভাবাপন্ন রাষ্ট্রনায়করা আবার সমালোচনা সইতে পারেন না। রাজাবাদশাদের যুগে সমালোচনাকারিদের রাষ্ট্রদ্রোহী স্বাব্যস্ত করে মুন্ডু কেটে নেয়া হতো। এখন ঠিক রাষ্ট্রদ্রোহী বলা না হলেও অপদস্থ করতে ভোলেন না সরকার প্রধানরা। ইদানিং তো টিভি টক শো‘র আলোচনকরা রীতিমতো চক্ষু শুল সরকারপক্ষের। আমি খুব মজা করে খেয়াল করি, আজকাল যারা টক শোতে কথা বলেন তারা অনেকেই সরকার পক্ষের, কেউ কেউ বিরোধী পক্ষের। বিরোধীরা তো বিরোধীতা করবেই কিন্ত সরকার পক্ষের একটু স্বাধীন চেতা মানুষগুলোও যখন সমালোচনা করেন তারা সবাই মিলে হয়ে যান ‘তথাকথিত বুদ্ধিজীবী’। রাত জেগে টক শোতে আলোচনা করায় চোরের সঙ্গেও তুলনা করতে ভোলেন না রাষ্ট্রপ্রধান পর্যন্ত। হায় ঈশ্বর, এ কোন যুগে বাস করি আমরা। এই চোরেরা যে তাদের ভোটার তা কি এরা বোঝেন? অবশ্য ভোটার শব্দটি ব্যবহার করে নিজের মনে নিজেই হেসে উঠলাম।

পাঁচ বছর পর পর আমাদের হাতে যে ক্ষমতাটি ছিলো তাও কেড়ে নেয়ার নির্লজ্জ এক বেহায়াপনা দেখলো গোটা বিশ্ব। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে দলের লোকেরা বলেন গণতন্ত্রের মানষকন্যা। এই যদি হয় মানষকন্যার কাজ তবে এবার কি উপাধি দেয়া যেতে পারে আমার জানা নেই। বিরোধীতাকারী দল নির্বাচনে আসেনি, না আসতেই পারে এটা তাদের অধিকার। কিন্ত যে সংবিধানের দোহাই দিয়ে একটি নির্বাচন করে অর্থ আর প্রানের আহুতি দেয়া হলো সেই নির্বাচনে মানুষের অংশগ্রহন কোথায়। সরকার পক্ষ বরাবরই বলছে বিরোধী দলের আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহন নেই, ধরলাম নেই কিন্ত প্রশ্ন হলো আপনাদের গণতন্ত্র রক্ষার নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহন কই? যদি জনগণই সকল কিছুর উর্ধে থাকে তবে জনগণের কথা কি আপনাদের কর্ণকুহরে পৌঁছে? একটি টেলিভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান হয় জনগণের কথা নিয়ে। এটি নিয়েও শুনেছি সরকারের সে কি রণমূর্তি। বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে মালিকপক্ষ থেকে শুরু করে সাংবাদিকদের পর্যন্ত নানাভাবে হুমকি দেয়া হয়। যতটুকু জানি করা হয়েছে তদন্তও। কিন্ত কোন মেকি বা বানানো কিছু পায়নি কেউ। অবশ্য একটা ব্যাপার এখানে মোটামোটি পরিস্কার জনগণের কথা জনগণের মনের মধ্যে পুরে রেখে পুড়ে পুড়ে মরতে হবে। কাউকে বলা যাবেনা। বললেই মহা বিপদ। কিন্তু এমন বাংলাদেশ কি আমরা দেখতে চেয়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, শুনেছি মাত্র।

যে আশার ভরসায় যুদ্ধে বিজয়ী জাতি স্বপ্ন দেখেছিলো সে আশার যে কি হবে জানিনা। তবে এটুকু ঠিক দেশ যতটুকু এগিয়েছে তার দায়ভার যেমন রাজনীতিবিদদের যতটুকু পেছাচ্ছে তার দায়ভারও নিশ্চয়ই রাজনীতিবিদদের। মাঝে জনতার পিষ্ট হোক তাতে কি? ক্ষমতায় যে থাকতেই হবে বা যেতেই হবে তা যেকোন মুল্যেই হোক। দেশের জন্য মানুষ না মানুষের জন্য দেশ সে প্রশ্নটি যখন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে আরেকটি প্রশ্ন খুব ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষের জন্য রাজনীতি না ক্ষমতার লোভে রাজনীতি? টানা রাজনৈতিক অচলাবস্থা, মানুষের ঘরে খাবার নেইব্যবসায়ী সমাজ লোকসান গুণতে গুণতে দেয়ালে ঠেকে যাচ্ছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা পর্যুদস্ত। আর রাষ্ট্রক্ষমতা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে বলছে, সব ঠিক আছে! তবে কেমন ঠিক আছে তা তারা না বুঝলেও জনগণ ঠিকই বোঝে। ভাবার কোন কারণ নেই জনগণ এভাবে বসে থাকবে। নিঃশ্বাস যখন আটকে যাবে তখন বাঁচার চেষ্টা মানুষ করবেই। তাই সাবধান জনগণকে উত্তেজিত না করলেই বোধকরি ভালো হয়।।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s