লিখেছেন: অজয় রায়

কমরেড মোহন বৈদ্য "কিরণ"গত ১৯শে নভেম্বর নেপালের পার্লামেন্ট তথা সাংবিধানিক গণপরিষদের ভোট হয়েছে। তাতে মোট ৬০১টি আসনের মধ্যে ১৯৬টি জিতে প্রথম স্থানে রয়েছে নেপালি কংগ্রেস। নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (সংযুক্ত মার্কসবাদীলেনিনবাদী) [সিপিএন (ইউএমএল)] পেয়েছে ১৭৫টি আসন। আর মাত্র ৮০টি আসন নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইউনিফায়েড কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (মাওবাদী) [ইউসিপিএন(এম)]। এদিকে ২৪টি আসন মিলেছে রাজতন্ত্রের সমর্থক রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টিনেপাল।[]

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে নেপালে এক দশকের গৃহযুদ্ধ শেষ হয় এবং হিন্দু রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। আর ২০০৮ সালে সাংবিধানিক গণপরিষদের নির্বাচন হয়, যাতে সর্বাধিক ১২০টি আসন জিতেছিলেন মাওবাদীরা। ঐ বছরেই নির্বাচিত গণপরিষদ দেশটিকে ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করে; যে রূপান্তর প্রক্রিয়ায় রাডিক্যাল বামপন্থী গণআন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তার পরবর্তীকালে অবশ্য পাঁচটি সরকার গঠিত হয়েছে সেদেশে। যার মধ্যে দুবার সরকার গঠিত হয়েছে মাওবাদীদের নেতৃত্বে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে অনৈক্যের কারণে গণপরিষদের পক্ষে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা সাম্প্রতিক গণপরিষদ নির্বাচনে ইউসিপিএন(এম)’র শোচনীয় পরাজয় হয়েছে, কারণ তাদের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাহত হয়েছেন সেদেশের মানুষ। ঐ পার্টির কিছু নেতার বিরুদ্ধে দলের অন্দরেই দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে। তাছাড়া মোহন বৈদ্য (কিরণ) ও অন্যান্যরা পুষ্পকমল দাহাল বাবুরাম ভট্টরাইয়ের মতো নেতাদের বিরুদ্ধে মতাদর্শগত বিচ্যুতির অভিযোগ এনে গত বছরে ইউসিপিএন(এম) ছেড়ে স্বতন্ত্র দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালমাওবাদী (সিপিএনএম) গঠন করেন। আর ভোট বয়কটের আহ্বান জানায় সিপিএনএম’র নেতৃত্বাধীন ৩৩ দলের জোট। লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয়। যার পক্ষে তৃণমূল স্তরে জনসমর্থন মিলেছে বলেও দাবি করেছেন তারা।

এদিকে সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, নেপালে জোট সরকার গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে নেপালি কংগ্রেস এবং সিপিএন(ইউএমএল)। তারা সংবিধান রচনার প্রক্রিয়ায় ইউসিপিএন(এম) এবং সিপিএনএম’কে সামিল করারও পথ খুঁজছে বলে শোনা যাচ্ছে। ইউসিপিএন(এম) অবশ্য গণপরিষদের ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে তার অনুসন্ধান করার জন্য একটি তদন্ত প্যানেল গঠন করার দাবি করেছে। এদিকে সিপিএনএম জানিয়েছে, গণপরিষদে যোগ দেবেন না তারা। প্রতিবাদ আন্দোলনে পথে নামবেন। আর গণবিদ্রোহের প্রস্তুতি নেবেন।[]

রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে গণপরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে গোল টেবিল বৈঠকের মাধ্যমে জনমুখী একটি নতুন সংবিধান রচনা করার জন্যেও আহ্বান জানিয়েছে সিপিএনএম। সম্প্রতি তাদের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের শেষে পার্টির সম্পাদক দেব গুরুং সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “আমরা নতুন সাংবিধানিক গণপরিষদ ভেঙ্গে দেওয়ার পক্ষে, কারণ তা নয়া সংবিধান রচনার পরিবর্তে রাজনীতির মেরুকরণ ঘটাবে।”[]

সিপিএনএম’র তরফে সেই সঙ্গে আরও জানানো হয়েছে যে, তাঁদের গণপরিষদের নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পার্টিকে দেশের একটি ‘সমান্তরাল ও বিকল্প’ শক্তিতে পরিণত করেছে।।

তথ্যসূত্র

[] Victor Mallet, “Maoists defeated in Nepal election”, 4.12.2013

[] 12-pt accord, CPA obsolete: CPN-M”, 17.12.2013

[] Nepal’s Maoist party demands roundtable conference”, 16.12.2013

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s