আমাদের প্রয়োজন আমাদেরকেই মেটাতে হবে

Posted: ডিসেম্বর 4, 2013 in দেশ
ট্যাগসমূহ:, , ,

লিখেছেন: জুয়েল থিওটোনিয়াস

democracy-1-1চলছে দুঃসময়। তবে প্রলয় নয়। তাতে কী? দুঃসময় তো দুঃসময়ই। এতে আমরা উদ্বিগ্ন, তাই তো? এতে করে কী সমাধান হলো? হলো না। শুধু উদ্বিগ্ন হয়ে সমাধান আজ পর্যন্ত হয়নি, যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই উদ্বেগ কার্যকরী কোন ফল আনতে পেরেছে, অন্তত প্রচেষ্টাগত উদযোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান দুঃসময় একদু’দিনের ফল নয়। তাছাড়া নির্বাচনের আগ দিয়ে এমনটা হয়ই, যা আমাদের কুচর্চার প্রতিফলন। কিন্তু তাই বলে গণমানুষ তার বলি হবে কেন? তারা তো কোন রাজনৈতিক দলের হয়ে আত্মাহুতির পথ বেছে নেয়নি, যেসব রাজনৈতিক দল বর্তমানে চলমান অপসংস্কৃতির জন্য দায়ী। বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধী জোট, কেউই সুস্থ রাজনীতি চর্চার মধ্যে নেই। এরা প্রত্যেকেই গণমানুষকে জিম্মি করে অর্থলিপ্সাপদলিপ্সাক্ষমতালিপ্সায় মত্ত, বিদেশী প্রভুদের হুকুম পালনে ব্যস্ত। মানলাম এরা সবাই বুর্জোয়া, প্রগতিবিরোধী, ধর্মব্যবসায়ী। এরা নিজেরা গণতান্ত্রিক দল দাবি করলেও এদের নিজেদের দলেই গণতন্ত্র নেই। কিন্তু যারা প্রগতিশীল রাজনীতির চর্চা করেন, যারা গণমানুষের রাজনীতি করেন, অন্তত যারা তা দাবি করেন, সেসব বামপন্থী দলগুলোও তো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। আর নাগরিক সমাজ বা সুশীল সমাজ নামধারী কতিপয় ব্যক্তিগোষ্ঠীগুলো তো বুলি আওড়ানোতেই তৎপর, তারা পারেই শুধু নিজেদের বুদ্ধি বিক্রি করে জিলাপীর প্যাঁচ লাগিয়ে দেশীবিদেশী মাধ্যমে ঝোলা ভারি করতে। সেই সুযোগে আন্তর্জাতিক মহল আমাদের ওপর ছড়ি ঘোরায়।

গণমানুষ তাদের দুঃখবেদনারাগঅভিমানহতাশাগ্লানিনিপীড়নের কথা প্রতিনিয়ত উচ্চারণ করলেও তা বিক্ষিপ্ত। তা সুনির্দিষ্ট, বলিষ্ঠ এবং জোটবদ্ধ নয়। কেননা, তারা সৎবিশ্বস্তচৌকসদূরদর্শী নেতৃত্বের অপেক্ষা করছে। কিন্ত কে নিবে সেই উদযোগ? আমাদের তরুণছাত্র সমাজ সে ধরণের ভূমিকা রাখতে সক্ষম এবং বারবার তা প্রমাণিত। এবছরও, গণজাগরণ মঞ্চ তারই জ্বলন্ত সাক্ষী। বর্তমানের চলমান সংকটেও কি তরুণছাত্র সমাজ সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে? দেখা যাক।

অনেক তরুণই আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষ্যে ব্যস্ত নির্বাচনী হাওয়ায়, কিছু তরুণ ব্যস্ত চলমান সহিংসতায় নিজেদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে দিতে, কিছু তরুণ ব্যস্ত উদ্বেগের প্রেক্ষিতে ন্যায্য দাবি ও প্রতিবাদে, আর একশ্রেণীর তরুণ আছে, যারা ব্যস্ত রাজনীতির প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করতে। এই রাজনীতিবিদ্বেষী তরুণরা কেন রাজনীতিকে ঘৃণা করেন, তার কারণ ও ব্যাখ্যা বিশদ, যেখানে প্রবেশ করার ইচ্ছা আপাতত আমার নেই।

যাই হোক, নির্বাচন আসছে, নির্বাচন হবে। যতোই সময়সাপেক্ষ হোক, তা হতে হবে যথার্থ এবং সার্বিক প্রস্তুতির ভিত্তিতে, তথাকথিত গণতন্ত্রের ভিত্তিতে নয়। আর ভোটের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে চলমান সহিংসতাও কাম্য নয়। ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধেী জোট যে একে অপরকে দুষছে, তারা কিন্তু নিজেদের ভেতর সংঘাতে জড়াচ্ছে না। বরং “রোম যখন পোড়ে, নিরো তখন বাঁশি বাজায়” অবস্থা তাদের। ব্যক্তিগতভাবে আমিও অহিংস নই, কিন্তু সেই সহিংসতা হতে হবে গণমানুষকে নিয়ে, গণমানুষের স্বার্থে, একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে, প্রগতিবিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। কিন্তু মেনেই নিচ্ছি, তার জন্য প্রস্তুতি খুবই অপ্রতুল, তবে প্রতিশ্রুতি মুছে ফেলছি না। তবে আপাতত সময়ের প্রয়োজনে গণমানুষের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে জোটবদ্ধ আন্দোলন জরুরী যাতে করে নিপীড়কেরা বাধ্য হয় সেই অভিন্ন স্বার্থের কথা শুনতে। শুধু দোয়াপ্রার্থনায় কাজ হবে না, সকল ক্ষমতার মালিক যে জনগণ, তার বাস্তব প্রমাণ দিতে হবে।

আমি লিখছি বলে দায় এড়াচ্ছি না এক্ষেত্রে। শুধু লেখা দিয়েই তো আর দায়মুক্তি হয় না। তাই আবারও বলছি, মানবতাকে ভুলুণ্ঠিত হতে দেওয়ার আগে, আসুন, ন্যায্য দাবিতে সম্মিলিতভাবে উচ্চকিত করি আমাদের কণ্ঠস্বর। আমাদের প্রয়োজন আমাদেরকেই মেটাতে হবে। ঠেকা তো আমাদেরই, অর্থাৎ জনগণেরই, তাই না?

জুয়েল থিওটোনিয়াস, শিক্ষার্থী

Advertisements
মন্তব্য
  1. kazihaan বলেছেন:

    ভাই কিছু করার নাই । সবি কপাল

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s