বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দাবানলের বিশ্লেষণ (খসড়া)

Posted: ডিসেম্বর 1, 2013 in মতাদর্শ
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , ,

dabanol-1দেশ এক অন্তহীন সংকটে প্রবাহমান। বাংলাদেশ নামক এই মৃত্যু উপত্যকায় কৃষকশ্রমিক ও শ্রমজীবি মানুষের রক্ত ঝরছে অবিরাম। লুটপাটকারি শাসকগোষ্ঠীর সর্বগ্রাসি ক্ষুধায় ধ্বংস হচ্ছে আমাদের জীবন, সংস্কৃতি প্রকৃতি ও সম্পদ। লুটের বিশাল সম্পদের বেশির ভাগটাকে ভোগের জন্য শাসকগোষ্ঠীর ভেতরে হিংস্রতার কামড়াকামড়ি বিদ্যমান। এই কামড়ে লুটেরেরা যতোটা না পরস্পর পরস্পরকে রক্তাক্ত করছে তার চেয়েও অনেক বেশি রক্তাক্ত হচেছ একটি সুন্দর স্বপ্ন নির্মাণের সংগ্রামে জড়িত কৃষকশ্রমিক ও শ্রমজীবি সাধারণ মানুষেরা।

 

স্বপ্ন লুটের ইতিহাস

হাজার বছর ধরে এ ভূখন্ডের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের সুন্দর সমাজ নির্মাণের জন্য সামন্তবাদ ও উপনিবেশিকতাবাদেও বিরুদ্ধে ধারাবাহিক লড়াই সংগ্রামের এক দীর্ঘ রক্তাক্ত ইতিহাস বিদ্যমান। সন্যাসফকির বিদ্রোহ, তীতুমীরের নেতৃত্বে ওয়াহাবি অভ’থ্যান, সাঁওতাল মহা বিদ্রোহ, সিপাহী বিদ্রোহ, পাবনার কৃষক বিদ্রোহ, ঢাকানারায়ণগঞ্জ সুতাকল শ্রমিকদের বিদ্রোহ, চট্রগ্রামের যুব বিদ্রোহ, নানকার বিদ্রোহ, কিশোরগঞ্জের কৃষক বিদ্রোহ, টংক আন্দোলন, তেভাগা কৃষক সংগ্রাম, ময়মনসিংহের হাজং বিদ্রোহ এ সমস্ত সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এ ভূখন্ডের পলিমাটি সিক্ত হয়েছে সংগ্রামী খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের রক্তে। খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের বিদ্রোহকে নৃশংসভাবে দমন করার লক্ষ্যে বৃটিশরাজ ও এদেশীয় বিলুপ্তপ্রায় সামন্তীয় জমিদার, নব্য বুর্জোয়া ও মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালিয়েছে নিরন্তর। কিন্তু এ প্রচেষ্টাকে বারংবার দুমড়ে মোচড়ে দিয়েছে খেটে খওয়া মানুষের তীব্র প্রতিবাদ প্রতিরোধ। উপায় অন্ত না দেখে বৃটিশ রাজ ও বিলুপ্তপ্রায় সামন্তীয় জমিদার, নব্য বুর্জোয়া ও মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কূটচাল হিসেবে গড়ে উঠে দুটি রাজনৈতিক দল। তাদের একটি হল কংগ্রেস অপরটি মুসলিমলীগ। বৃটিশ রাজের প্ররোচনায় বিলুপ্তপ্রায় সামন্তীয় জমিদার, নব্য বুর্জোয়া ও মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের লিপ্সায় বিকৃত দর্শনের উপর দাঁড়িয়ে ধর্মের ভিত্তিতে দ্বিখন্ডিত হয় ভারত ভূখন্ড। বাস্তুহারা হয়, লুন্ঠিত হয়, খুন হয়, রক্তাক্ত হয় খেটে খাওয়া শ্রমজীবি ও সাধারণ মানুষেরা। প্রশোমিত হয় কৃষক শ্রমিক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের নিজেদের সমাজ নির্মানের আন্দোলন। একদিকে ফিরে আসার প্রত্যয় নিয়ে হাসি মুখে বিদায় হয় বৃটিশ রাজ। অপরদিকে নিজেদেও ভেতর ভাগ করে নেওয়া ভূখন্ডকে গোগ্রাসে গিলে খাওয়ার জন্য অট্টহাসি দেয় বিলুপ্তপ্রায় সামন্তীয় জমিদার, নব্য বুর্জোয়া ও মধ্যস্বত্ত্বভোগী শ্রেণীর প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল কংগ্রেস ও মুসলিমলীগ। ভাগ্যের পরিহাস হিসাবে মেনে নিয়ে কৃষকশ্রমিক ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ আবারো নির্মাণ করতে থাকে তার নতুন ঘর। তার জন্য নির্ধারিত নতুন সীমানার ভিতরে আবার নতুন সমাজের নির্মাণের স্বপ্ন জাকিয়ে বসে। অপরদিকে নতুনভাবে সংগঠিত হতে থাকে এ ভূখন্ডের জন্য নতুন করে নির্ধারিত তথাকতিথ ত্রাতারা। এই ত্রাতাদের এক অংশে ছিল নতুন ভূখন্ডের নিরোঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী এবং অপর অংশে ছিল তাদের নির্দেশ পালনকারী বিলুপ্তপ্রায় সামন্তীয় জমিদারদের উত্তরাধিকারী, জোতদার,মহাজন ও মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা। ধর্মের ভিত্তিতে গড়ে উঠা নতুন রাষ্ট্রের গণমানুষকে শোষনের লক্ষ্যে ধর্মের যথেচ্ছো ব্যবহার অব্যাহত রাখে। পশ্চিম পাকিস্তানের এই কৌশলকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় গড়ে উঠে বিলুপ্তপ্রায় সামন্তীয় জমিদারদের উত্তরাধিকারী ও জোতদার,মহাজন, মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের একটি অংশ। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী তাদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করার নামে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের সূচনা করে। শোষনকে নিরুঙ্কুশ করার লক্ষ্যে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের উপর চাপিয়ে দেয় সামরিক শাসনের তীব্র নির্যাতন। কৃষকশ্রমিক ও শ্রমজীবি মানুষের নেতৃত্বে সাম্যের সমাজ নিমার্ণের লক্ষ্যে নতুন নতুন মুক্তাঞ্চল ঘটন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। বিপ্লবীর রক্ত স্নাত এ মুক্তাঞ্চল পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী ও তার এদেশীয় শোষকগোষ্ঠীর ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ আন্দোলনকে দমন করার ও নিয়ন্ত্রণ কারার লক্ষ্যে এ দেশীয় শাসকগোষ্ঠী তার ভোল পাল্টাতে থাকে। তারা মুসলিমলীগ থেকে আওয়ামী মুসলিমলীগ ও আওয়ামী মুসলিমলীগ থেকে আওয়ামীলীগে রূপান্তরিত হয়। তাদের নতুন মানবিক মুখোশ কৃষকশ্রমিক ও শ্রমজীবি মানুষকে আকৃষ্ট করতে থাকে। দলটি শক্তিশালী হতে থাকে। ফলে এ ভূখন্ডকে নিজেরাই ভোগ করার স্বপ্ন ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে থাকে। এক দিকে মুক্তাঞ্চল গঠনের ভয় অপরদিকে তার বিশস্ত মিত্র বাহিনীর পিঠ দেখানোর ফলে বিপর্যস্ত পশ্চিম পাকিস্তানি গোষ্ঠী এ ভূখন্ডের মানুষের উপর একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়। জীবন রক্ষা ও অর্থনৈতিক মুক্তির তাগিদে কৃষক শ্রমিক শ্রমজীবি মানুষ এ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। মুখোশ বদলের প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে রাজনৈতিক ছলাকলায় পারঙ্গম আওয়ামীলীগ এ যুদ্ধের নেতৃত্বকে কুক্ষিগত করে। নয় মাস অবিরাম রক্ত ক্ষরণে নির্মাণ হয় নতুন দেশ। নতুন দেশে সিংহাসনে বসে আওয়ামীলীগ। অধিকার পায় একচ্ছত্র শোষনের। কৃষক শ্রমিক শ্রমজীবি সাধারণ মানুষকে ঠেলে দেওয়া হয় শোষনের নব নির্মিত নকশার ভেতরে। লুটপাটের নতুন নতুন এজেন্ট নিয়োগ করতে থাকে আওয়ামীলীগ। কল করখানা প্রকৃতি ও সম্পদের ইজারা দেওয়া হয় আওয়ামীলীগ অনুগত ব্যাক্তিবর্গদের। সাম্যের সমাজ নির্মানের জন্য কৃষক শ্রমিক ও শ্রমজীবি মানুষের গণবিস্ফোরণকে দমন করার জন্য গঠন করা হয় সামরিক বাহিনী ও পুলিশ বাহিনী। একাত্তর পরবর্তী লাগামহীন লুন্ঠন ও শোষন ব্যাপক জন রোষের সূচনা করে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সদ্য গড়ে উঠা সশস্ত্র সামরিক বাহিনী আওয়ামীলীগের কান্ডারী ও তৎকালিন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে। সূচিত হয় সামরিকীকরণের এক নতুন ইতিহাস। সামরিক বাহিনী তার শাসনকে গণরূপ দেওয়ার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে দুটি রাজনৈতিক দলের জন্ম দেয়। এর একটি হল বিএনপি অপরটি জাতীয় পার্টি। নব্বইয়ে এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক বিশাল গণ আনেদালন সংগঠিত হয়। সম্ভবনা তৈরি হয় এই শোষন ব্যবস্থাকে ছুড়ে ফেলে নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার। কিন্তু এ অন্দোলনের নেতৃত্ব চলে যায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপি নামক লুটেরা গোষ্টীর হাতে। ফলে সামরিকতন্ত্রের উচ্ছেদের বদলে এ লুটেরা গোষ্ঠী তাদের সাথে আপোষ কওর শুধু ব্যাক্তি এরশাদকে অপসারণ করে। এ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে সামরিকতন্ত্র আমলাতন্ত্র ও লুটপাটতন্ত্র নতুন ভাবে শক্তিশালী ভিত্তি রচনা করে। ফলে পরবর্তীতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য নির্ধারক হয়ে উঠে সামরিক বাহিনী, লুটপাটের মধ্যে গড়ে উঠা নতুন ধনীক শ্রেণী ও রাষ্ট্রের ভেতর গড়ে উঠা নতুন আমলাযন্ত্র এবং এদের প্রতিনিধিত্বকারি শসকশ্রেণীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

 

বর্গীরা সব দেয় যে হানা

নিত্য হাহাকার প্রাচীনকাল থেকে এ ভূখন্ড বারবার বহিরাগত শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে লুন্ঠিত হয়েছে এরই ধরাবাহিকতায় বৃটিশরা বাণ্যিজের নামে এ ভূখন্ডে প্রবেশ করে পরবর্তীতে পরিকল্পিত চতুরতার সহিত এ ভূখন্ডের শাসকের ভূমিকায় অবর্তীণ হয়। নির্মম নির্যাতনে জরজরিত গণমানুষের লড়াই সংগ্রাম ও বিশ্বব্যাপী বৃটিশের ক্ষমতা হ্রাস এ ভূখন্ড থেকে প্রস্থান করতে বাধ্য করে। তবে তার প্রস্থানকালীন সময়ে দ্বিখন্ডিত ভুখন্ডে রেখে যায় তার একান্ত অনুগত এক গোষ্ঠীকে। এই গোষ্ঠীর মধ্যে ছিল বিলুপ্তপ্রায় সামন্তীয় জমিদারদের উত্তরাধিকারী ও জোতদার,মহাজন, মধ্যস্বত্ত্বভোগী। এই সম সাময়িক সময়ে বিশ্ব রাজনীতিতে অবর্তীণ হয় দুটি শক্তি। এর একটি হল সাম্রাজ্যবাদি আমেরিকা আর অপরটি সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন। ’৪৭ পরবর্তী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সাথে আমেরিকা এক নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলে। ’৭১ এর যুদ্ধকালীন সময়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠা ভারত আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে আবির্ভূত হয়। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠেীর সাথে ভারতীয় শাসকগোষ্ঠীর যে দ্বন্দ্ব তা নতুন রূপে প্রকাশ পায়। ভারতীয় শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধকে তার আধিপত্য বিস্তারের মূখ্যম সুযোগ হিসাবে ব্যবহার করে। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভারতের সামনে দুটি শঙ্কা বিদ্যমান ছিল। এর একটি হল কৃষক শ্রমিকের নেতৃত্বে জনগনতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা। আর একটি হল তার দেশের অভ্যন্তরে গড়ে উঠা সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের পরিপূর্ণ বিকশিত হয়ে উঠা। ফলে পূর্ব পাকিস্তানের বাস্তুহারা জনগণের সামনে যে মহানুভব ইন্দিরা সরকার অবির্ভূত হয় তাকে আবার রাতের অন্ধকারে তার দেশের মুক্তিকামী জনগণকে গুলি করে হত্যা করতে দেখা যায়। ফলে পূর্ব পাকিস্তানে সংগঠিত যুদ্ধকে ভারত সুপরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। ভারত ও চীনের পুরাতন দ্বন্দ্ব চীনকে পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বনে উৎসাহিত করে। আর চীন সোভিয়েতের দ্বন্দ্ব সোভিয়েতকে পূর্ব পাকিস্তানের পক্ষালম্বনে উৎসাহিত করে। এই সময় আমেরিকা সমগ্র বিষয়কে গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এ অঞ্চলে দীর্ঘ মেয়াদী আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনা প্রণয়নে মনোনিবেশ করে। এই যুদ্ধকে সুচারুভাবে নিয়ন্ত্রণের ফসল হিসাবে যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পরবর্তী ঘটনা প্রবাহগুলোতে ভারতের প্রভাব অটুট থাকে। সোভিয়েত ভাঙ্গন আমেরিকাকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পরাশক্তিতে রূপান্তরিত করে। ফলে এ অঞ্চলে তার আধিপত্য নিরোঙ্কুশ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বচেষ্ট হয়। এবং এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কৌশলগত সঙ্গী হিসাবে ভারতকে সঙ্গে নেয়। ’৭১ সময়কালীন চীনের অবস্থান বাংলাদেশের শাসষগোষ্ঠীর সাথে দূরত্ব তৈরি হয়। কিন্তু ’৭৫ পরবর্তী সময়ে এ দূরত্ব রাশ পেতে থাকে। বর্তমানে চীন তার বাণ্যিজ ও আধিপত্য বিস্তারের স্বাথে বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠীর সাথে নিবিড় সম্পর্ক নির্মাণে মনোযোগী হয়েছে। ভারত বাংলাদেশ বিষয়ক সিধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় বিবেচনায় রাখে। একটি হল বাংলাদেশের বিশাল বাজার দখল ও অফুরন্ত সম্পদের লুন্ঠন অবারিত করা। দ্বিতীয়টি হল বাংলাদেশে কৃষক শ্রমিকের নেতৃত্বে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লব সংগঠত হওয়াকে রহিত করা। যা তার নিজের দেশের ভেতরে গড়ে উঠা বিপ্লবেকে তীব্রতা দিতে পারে। একইভাবে বাংলাদেশের যে কোন অগ্রসর পদক্ষেপ পাকিস্তানের অভ্যন্তরে শাসকগোষ্ঠীর সাথে জনগণের লড়াইকে উৎসাহিত করতে পারে। সুতরাং বাংলাদেশের বিকাশকে রহিত করার ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তান সর্বদা সচেষ্ট থাকে।

 

আত্মপরিচয়ের সন্ধানে

হাজার বছর ধরে এ ভূখন্ডের মানুষ বহিশক্তি দ্বরা আক্রান্ত হয়েছে। বহু জাতি এ ভূখন্ডে এসেছে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি দ্বারা এ ভূখন্ডের মানুষের জীবন ও মননে উপর আধিপত্য বি¯তার করেছে। কিন্তু এ ভূখন্ডের নদীগুলোর মতনই পলি মাটি রেখে গেছে সংস্কৃতির এক স্তর। ফলে এ ভূখন্ডের মানুষ হয়ে উঠেছে বহুমাত্রিক। ধর্ম হিসেবে সে কখনো হিন্দু হয়েছে কখনো বোদ্ধ বা কখনো জৈন। সপ্তদশ শতকে ধর্ম হিসেবে ইসলামের অর্বিভাব। তাদেও ভেতরে স্থায়ী ধর্ম পরিচয় তৈরি করে। এ কারণ ছিলো হিন্দু বর্ণবাদ। উচ্চবর্ণের হিন্দুদের দ্বারা নির্যাতিত নি¤œবর্ণের হিন্দুদের কাছে ইসলাম মুক্তির পথ হিসেবে আর্বিভূত হয়। নিম্নবর্ণের হিন্দুরা ইসলাম গহণ করে পায় নিজের অস্তিত্বের স্বাদ কিন্তু ইসলাম ধর্ম প্রচারণাকারী আরব শাসক শ্রেণী ধর্ম প্রচারনার ক্ষেত্রে নি বর্ণের হিন্দুদের প্রতি যতোটা মনোযোগী ছিলেন নিজেদেও শাসন কার্য পরিচালনার জন্য উচ্চবর্ণের হিন্দুদের প্রতি ততোটাই নির্ভরশীল ছিলেন ফলে নিম্নবর্ণের হিন্দুরা নিজের আত্মপরিচয় পেল সত্য তবে বৈসয়িক জীবনে উন্নতি না ঘটায় আশরাফ আতরাফের পার্থক্য থেকেই গেল। ফলে আরব রাজ্যের শাসক দ্বারা নিয়োজিত হিন্দুর জমিদার কর্তীক নির্যাতন অব্যাহত থাকলো। ফলে পূর্বের বর্ণবাদি নির্যাতন সরাসরি শ্রেণী নির্যাতনে পরিণত হলো। আরব বংশভূত যে সমস্ত অভিজাত মুসলিম বিহাহ বন্দনের মধ্যে এ ভূখন্ডের সাথে স্থীয় সম্পর্ক স্থাপন করে ছিলো তারাই মুসলিমদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা লাভ করে। এরাই পরবর্তীতে নিজেদেও ধর্ম পরিচয় ব্যবহার করে এই জনগোষ্ঠীর উপওে শোষন ও নির্যাতন অব্যাহত রাখে। হিন্দু জমিদার ও শিক্ষিত মধ্যবত্ত হিন্দুরা একইভাবে মুসলিম ও নিম্নবর্ণের হিন্দুর উপর শোষন ও নির্যাতন অব্যাহত রাখে। বৃটিশ রাজ এই অবস্থাকে বিবেচনায় রেখে ভাগ করো এবং শোষন করো এই নীতি গ্রহণ করে। বৃটিশ রাজের সহযোগিতায় উচ্চ বিত্ত হিন্দু ও মুসলিমরা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ধর্মের নামে ভারত ভূখন্ডকে বিভক্ত করে। নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তান গঠন এদেশের সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম জনগোষ্টীর মধ্যে আশার সঞ্চার করে। কারণ, পাকিস্তান এদেশের মানুষের কাছে হিন্দু জমিদার দ্বারা নির্যাতন থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে আবির্ভাব হয়। কিন্তু আরব বংশজাত মুসলিম ধনীক শ্রেণী একইভাবে নির্যাতন অব্যাহত রাখলে এ ভূখন্ডের মানুষ হতাশ হয়। ’৪৭ থেকে ’৭১ পর্যন্ত এদেশে যে জাতীয়তাবাদি আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে তা মূলত গান্ধীবাদেও অনুকরণ। কিন্তু গান্ধীবাদেও ভিত্তি ছিল হাজার বছরের হিন্দু সংস্কৃতি ও পাশ্চাত্যের বুর্জোয়া সংস্কৃতির মেল বন্দন। যার বুদ্ধিভিত্তিক ভিত্তি রচনা করে রাজা রাম মোহন রায়, বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম, শরৎ, রবীন্দ্রনাথ প্রমূখরা। কিন্তু এ ভূখন্ডের জাতীয়তাবাদি আন্দোলনের ভেতর দিয়ে গড়ে উঠা বাঙ্গলিী আত্ম পরিচয়ের ভেতওে না ছিল বহু বছরের মুসলিম সংস্কৃতির চিহ্ন না ছিল পাশ্চাত্য বুর্জোয়া সংস্কৃতির প্রভাব। ফলে ’৭৪ থেকে ’৭১ বাঙ্গালী আত্ম পরিচয় নিয়ে লড়াই করেছে সত্য কিন্তু তা তার জীবন ও মননে গভীর প্রভাব রাখতে ব্যার্থ হয়েছে। অপরদিকে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারিদের নাস্তিক্যবাদেও বাহুল্যতা গণমানুষকে এ আদর্শ থেকে বিচ্ছিন্নই করেছে। কারণ পাশ্চাত্য থেকে আমদানিকৃত নাস্তিক্যবোধ সে অঞ্চলের বহু বছরের বুদ্ধিভিত্তিক প্রয়াস ছিল। ফলে হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়া নাস্তিক্যবোধ এ ভূখন্ডের মানুষকে হতবিহ্ববলই করেছে। কিন্তু এ ভূখন্ডের গণমানুষের মধ্যে বহু সংস্কৃতির মেলবন্দন তাদেও মধ্যে যে বিশ্ববিক্ষার জন্ম দিয়ে ছিল তা উপলব্দি করেতে এ নেতৃত্ব ব্যার্থ হয়। ফলে আত্ম পরিচয় নির্মাণে উদবেল জনগোষ্ঠীর এক অংশ বাঙ্গালী পরিচয় ধারণ করেছে এবং অপর পক্ষ নিয়েছে শুধু মুসলিম পরিচয়। পরবর্তীতে জিয়া এ সাংস্কৃতিক ব্যবধানকে ব্যবহার করে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয়। যা শুধু মুসলিম পরিচয়কে আত্মস্থ করে। কিন্তু ইসলামের উন্মেষকালীন সময়ে তার বিজ্ঞান, দর্শন ও সংস্কৃতির যে বিকাশ তা উপলব্দি করা থেকে বিরত থাকে। ফলে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ সাংস্কৃতিক বিকাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এই সময়ে এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষার বিস্তার ঘটানো হয় যেখানে শুধু ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত একটি গোষ্ঠী গড়ে তোলা হয়। এবং তাদেরকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। ফলে এরা হয়ে উঠে রাজনীতির লাশ উৎপাদনকারী শ্রেণী। অপরদিকে মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রচন্ড প্রতাপ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্পোরেট ফেরিওয়ালা গোষ্ঠী তৈরি করা হয়। এদেরকেও বিজ্ঞান দর্শন ও সংস্কৃতির শিক্ষা থেকে সচেতনভাবে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। ফলে এই দুই শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে জন্ম নেওয়া অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন গোষ্ঠী দুটি কারো পক্ষে সাংস্কৃতিক বিকাশের ভিত্তি নির্মাণের জন্য কোন প্রকার ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়। সংস্কৃতির এই ভাঙ্গা দরজা গলে হু হু করে প্রবেশ করে পাশ্চাত্য ও ভারতীয় হিন্দি বলয়ের কামুকভোগবাদি কর্পোরেট সংস্কৃতি। সংস্কৃতির এই ত্রি ধারার মিশ্রণ জন্ম দিল তা হলো প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতি। এই প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতির ছয়ার নিচে আশ্রয় নিল এদেশের প্রধান্য বিস্তারকারী লুটেরা গোষ্ঠী। অর্থনৈতিক জীবন যাপনের কৌশল এই ভূখন্ডের মানুষের বিকাশকে রোহিত করে শোষন অব্যাহত রাখা সহজ হয়। বর্তমান শোষকগোষ্ঠী এই আত্ম পরিচয়ের বিভক্তিকে কাজে লাগিয়ে শোষন কার্য অব্যাহত রেখেছে।

 

বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা

বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উৎসমূল তার ভিতরে গড়ে উঠা প্রধান্যকারী অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের গঠন প্রক্রিয়ায় এক সীমাবদ্ধতা দেখা যায় আর তা হলো, একটি শক্তিশালী বুর্জোয়া শ্রেণীর অভাব। যারা কিনা পশ্চিম পাকিস্তানের রেখে যাওয়া কল কারখানা সচল রাখতে এবং লাভজনক করতে পারত। তবে সবচেয়ে বলিষ্ট সিধান্ত হত যদি কল কারখানার পরিকল্পনা, উৎপাদন ও বিতরণের দায়িত্ব শ্রমিকদের হাতে ন্যাস্ত করা হতো। কিন্তু এ ধরনের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি নেওয়া গণবিরোধী আওয়ামীলীগ সরকারের জন্য সম্ভব ছিল না। ফলে রাষ্ট্রীয়করণের নামে এই কল কারখানার দায়িত্ব দেওয়া হলো আওয়ামীলীগ বংশবদ কিছু ব্যাক্তির হাতে। তাদের পক্ষে কল কারখানার যন্ত্রপাতি, রাষ্ট্রীয় ভূর্তকী, কাঁচামাল চুরি করে বিক্রি করা ছাড়া আর কোন যোগ্যতা ছিল না। অপরদিকে উৎপাদিত পণ্য বিপননের দাায়িত্ব দেওয়া হলো ব্যাক্তিখাতে। যারা কৃষিপণ্য ও খাদ্য পণ্য কম মূল্যে ক্রয় করে বেশি মূল্যে বিক্রয় করলো। বিশাল খাদ্য পণ্যেও মজুদ রেখে খাদ্য পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিলো। এই সম্স্ত অর্থনৈতিক কর্মকান্ডা এক শক্তিশালী লুটেরা শ্রেণী জন্ম দিল। এদের লুন্ঠন এতোটাই ব্যাপক আকার ধারণ করলো যে ’৭৪ এ সাধারণ মানুষ দুর্ভিখের মধ্যে পতিত হলো। ’৭৫ পরবর্তী সামরিক সরকার যার নেতৃত্বে ছিল জিয়া সেই বেসরকারীকরণের নামে এই লুটেরা শ্রেণীর তালিকা বড়ো করলো। অপরদিকে জিয়া দাতা সংস্থাকে প্রবেশের অববাদ সুযোগ দিল যার দ্বারা এদেশে প্রাকৃতিক সম্পদ লুটের বৈধতা পেল। এই দাতা সংস্থার কাজে সহযোগিতা করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী লুটেরা শ্রেণীর জন্ম হলো। বর্তমানে যারা সুশীল সমাজের ভদ্রবেশী লেবাস ধারণ করে আছে। যেহেতু এই সমস্ত ঘটনাপ্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের বিপর্যস্ত ছিল ফলে তাদেরকে শান্ত করার জন্য ধর্মেকে ব্যবহার জরুরি করা ছিল। ফলে জিয়া একটি গোষ্ঠীকে এই অথনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত করে যারাদেও একটি ’৭১ পাক বাহিনীর সাথে মিলে এদেশের মানুষকে হত্যা করেছে ও লুন্ঠন করেছে। বর্তমানে তারা জামায়েতে ইসলাম নাম ধারনকারী রাজনৈতিক দল। যেহেতু ’৭৫ পরবর্তী রাষ্ট্র সামরিক বাহিনী দখল করে ফলে তারাও এই অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের প্রধান কান্ডারী হয়ে ওঠে। আর এই সমস্ত কর্মকান্ডকে সমন্বয় করা জন্য গড়ে উঠে বিশাল আমলাযন্ত্র। যেহেতু বাংলাদেশে সম্পদ গড়ার প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হলো লুটপাট সেহেতু রাজনীতি হলো এই নিরাপদ আশ্রয়স্থল। বারবার হিসাব করা হয় সংসদে কতজন ব্যবসায়ী আছে এটা না করে বরং হিসাব করা উচিত সংসদে কতজন লুটপাটকারী আছে। তাহলেই সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাবে বাংলাদেশের লুটপাটের অর্থনীতির গভীরতা কতটুকু বিতৃস্ত। বর্তমানে এই লুটপাটের অর্তনীতির নেতৃত্বদানকারী প্রধান দুইটি দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি। তাদের মধ্যে বর্তমান যে সংঘাত তা আস্বাভাবিক কোন প্রক্রিয়া নয়। কারণ পরবর্তী ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কে কতো বড় মাস্তান তা প্রমাণ করা দরকার। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর তাদের এই মাস্তানীর পরিক্ষায় উর্তীণ হতে হয়। সরকারী দলে থাকলে বিরোধী দলকে ঠেঙ্গিয়ে ঠান্ডা রাখতে হয়। আর বিরোধী দলে থাকলে হত্যা জ্বালাও পোড়াও ভাঙ্গচুর করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলতে হয়। অস্থান অনুযায়ী আওয়ামীলীগ বিএনপি বারংবার এই ভূমিকায় অবর্তীণ হয়েছে। ্এই প্রক্রিয়ায় যে জয়ী হয় সে পরবর্তীতে সেনাবহিনী, আমলা ও বিদেশী শক্তির সাথে সমঝোতা যায় এবং পরবর্তী লুন্ঠন পরিকল্পনা বয়ান করে তাদেরকে সন্তুষ্ট করতে হয়। যদি এ প্রক্রিয়াটি সফল তাহলে তাদের ক্ষমতায় যাওয়া সুনিশ্চিত হয়।। এবং পরবর্তীতে জনগণকে ডেকে নির্বাচণের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়াকে বৈধ করে নেওয়া হয়। তবে রাজনৈতিক দলের বাহিরেও দুটি গোষ্ঠীর ক্ষমতায় যাওয়ার লিপ্সা আছে। এদেওর একটি হলো সামরিক বাহিনী ও অপরটি হলো স্বেচ্ছাসেবী লুটেরা সুশীল সমাজ। দুই রাজনৈতিক দলের মাস্তানীর পরিক্ষায় এদের কোন অংশের জয় যদি নির্ধারণ না হয় তবে এরা ক্ষমতায় আরোহণ করার চেষ্টা করবে। বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো ভেতরে দৃষ্টি আকর্ষণকারী রাজনৈতিক দল জামায়েতী ইসলাম মূলত আমেরিকার পরিকল্পনায় গড়ে উঠেছে এবং এ দলটির সমস্ত কর্মকান্ড আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দ্বারা নির্ধারিত হয়।

 

আহ্বান

বাংলাদেশে আজ যতটুকু উন্নয়নের খবর লুটেরা সরকারী দলের মুখ থেকে পাওয়া যায় তা সম্ভব হয়েছে এদেশে কৃষক শ্রমিক ও শ্রমজীবি মানুষের নিরলস প্রচেষ্টায়।যদিও লুটেরারা কৃষকে অধিক বিদেশী সার ও হাইব্রিড বীজ কিনতে বাধ্য করেছে। আমাদের জমিকে অনুর্বর করে তুলেছে এই লুটেরারেই। কৃষক তাতে লাঙ্গল চালিয়ে ফলিয়েছে ফসল। মধ্যস্বত্বভোগীরা দাপটে সেই ফসল পানির দরে বিক্রি করতে হয়েছে। ক্ষুদ্র কৃষক পরিণত হয়েছে ভ’মিহীন কৃষকে, মধ্য কৃষক পরিণত হয়েছে ক্ষুদ্র কৃষকে। কৃষক সন্তানেরা দাসত্বে অভিশাপ নিয়ে শহরমুখী হয়েছে। গার্মেন্ট মেশিন চালিয়ে লুটেরা ধনীকের থলি বিদেশী ডলারে ভরেছে। কিন্তু শ্রমিকের ন্যায্য মজুরী না দিয়ে ওরা শ্রমিককে আগুনে পুড়িয়ে, দেওয়াল চাপা দিয়ে, গুলি করে মেরেছে। গ্রাম ও শহরের কৃষক শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা আয়ের উদ্দেশ্য বিদেশে গমন করেছে। মানবেতর জীবনযাপন করে এদেশে অর্থ পাঠিয়েছে। এই লুটেরা সরকারেরা এদেরকে সহযোগিতা করার বদলে কেবলই লুটে নিয়েছে। সর্বসান্ত হয়েছে বহুপরিবার। মধ্যবিত্তের কষ্টে সঞ্চিত সম্পদ ব্যাংক থেকে শেয়ার বাজারের মাধমে লুট করেছে। বিদেশীদের হাতে এদেশের তেল, গ্যাস, অরণ্য তুলে দিয়ে আমাদেরকে নিঃস্ব করেছে। ধ্বংস করেছে আমাদের প্রকৃতি ও সম্পদ।

এই মাটিতে রয়েছে হাজার বছরের সংগ্রমী গণমানুষের রক্ত। এই মাটিতে বুনা হয়েছে এক বলিষ্ট সমাজ নির্মাণের স্বপ্ন। একাত্তর পরবর্তী ইতিহাস প্রমাণ করেছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর দ্বারা এই ভূখন্ডের মানুষের অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবনের বিকাশ সম্ভব নয়। এ বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে শুধু কৃষক শ্রমিক ও শ্রমজীবি সাধারণ মানুষের হাতে। লুটেরা ধনীকের কাছ থেকে কারখানাগুলি কেড়ে নিয়ে, জোতদারদের হাত থেকে কৃষি জমি কেড়ে নিয়ে যৌথ প্রক্রিয়ায় উৎপাদন ও বন্টন করে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট সমাধান করতে পারে। আবার কৃষক শ্রমিকের নেতৃত্বে সংগঠিত মুক্তাঞ্চল গঠনের সংগ্রাম এক নতুন সাংস্কৃতিক ধারার জন্ম দিবে। যা ধারণ করবে এ ভূখন্ডের গণমানুষের হাজার বছরের সংস্কৃতি এবং আতস্থ করবে এ পর্যন্ত গড়ে উঠা বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞান দর্শন ও গণমানুষের রাজনৈতিক বিকাশের চেতনা। কৃষকশ্রমিক ও শ্রমজীবি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের লড়াইয়ের ভেতর দিয়ে এ ভূখন্ডের মানুষ পাবে প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ। তাই আজ কৃষকশ্রমিক ও শ্রমজীবি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের নেতৃত্বে আমাদের হাতিয়ার তুলে নিতে হবে সকল লুটেরা গোষ্ঠীর নিপিড়নের বিরুদ্ধে। কৃষকশ্রমিক ও শ্রমজীবি সাধারণ মানুষের বাহিনীর সাথে যুক্ত হয়ে তাকে অপরাজেয় করে তুলতে হবে।

তাই আজ আর দেরী নয় এই ভূখন্ডের গণমানুষকে বাঁচাতে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবে সামিল হন।।

 

[বি.দ্র. লেখাটি দাবানল’এর ডক্যুমেন্ট বা দলিল; মঙ্গলধ্বনির মৌলিক লেখা নয়। এই ডক্যুমেন্টের জন্য মঙ্গলধ্বনি দায়বদ্ধ নয়।]

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s