অনুবাদ: মেহেদী হাসান

patricio-guzman-1প্যাট্রেসিয়া গাজমেন ১৯৪১ সালের ১১ আগষ্ট চিলির সান্তিয়াগোতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একই সাথে তথ্যচিত্র নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, চিত্রগ্রাহক এবং একজন অভিনেতা। তিনি মাদ্রিদের সরকারী চলচ্চিত্র বিজ্ঞান স্কুলে তথ্যচিত্রের উপর অধ্যয়ন করেন। তার নির্মিত তথ্যচিত্রগুলো আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যালে নিয়মিতভাবে নির্বাচিত ও পুরস্কৃত হয়ে আসছে। আলেন্দে সরকারের পতনের উপর ভিত্তি করে ১৯৭৩ সালে তিনি নির্মাণ করেন পাঁচ ঘন্টা দীর্ঘ “ব্যাটল অফ চিলি”। সিনেস্টে ম্যাগাজিন এই তথ্যচিত্রটিকে “বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দশটি রাজনৈতিক চলচ্চিত্রের একটি” হিসেবে মনোনীত করে। সামরিক অভ্যুত্থানের পর গাজমেনকে নির্বাসনে পাঠানোর হুমকি প্রদান করা হয় এবং তিনি গ্রেফতার হয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে দুই সপ্তাহ কাটান, সেসময় কাউকে তার অবস্থান সম্বন্ধে জানাতে পারেন নি। তিনি দেশ ত্যাগ করেন ১৯৭৩ সালের নভেম্বর মাসে। কিউবা, স্পেনে থাকার পর শেষে চলে যান ফ্রান্সে, যেখানে তিনি নির্মান করেন “ইন দ্যা নেম অফ গড” (গ্রান্ড প্রাইজ, ফেস্টিভ্যাল অফ পপলি, ১৯৮৭), “দ্যা সাউদার্ন ক্রস” (গ্রান্ড প্রাইজ, ফেস্টিভ্যাল ভু সুর লেস ডকস, মারসিলি, ১৯৯২) “চিলি, অবস্টিনেট মেমরি” (গ্রান্ড প্রাইজ, ফেস্টিভ্যাল অফ তেল আবিব, ১৯৯৯), “দ্যা পিনোশে কেস” (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস উইক, ক্যানাস, ২০০২), এবং “সালভাদর আলেন্দে” (অফিসিয়াল সিলেকশন, ক্যানাস, ২০০৪)। ২০০৫ সালে তিনি নির্মাণ করেন “মাই জুলভার্ন”। ইউরোপ এবং ল্যাটিন আমেরিকাতে তিনি তথ্যচিত্রের উপর অধ্যাপনা করেন। তিনি “ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টারী ফেস্টিভ্যাল অফ সান্তিয়াগো” প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। তিনি এখন ফ্রান্সে বসবাস করছেন।

চিলির নির্মাতা প্যাট্রেসিয়া গাজমেনের সাথে তার সাম্প্রতিক তথ্যচিত্র, নস্টালজিয়া ফর দ্যা লাইট, সমন্ধে কথা বলেছেন রব হোয়াইট।

রব হোয়াইট: “চিলি, দ্যা অবস্টিনেট মেমরি” তথ্যচিত্রে স্মৃতির কয়েকটি ধরন দেখানো হয়েছে অতীতে ফিরে যাওয়া, আয়নার গোলক ধাঁধাঁ। কিভাবে আপনি স্মৃতি এবং অতীতের সাথে এটার সম্পর্ককে নির্ণয় করেন?

প্যাট্রেসিয়া গাজমেন: আমি মনে করি যে, জীবনটাই হচ্ছে স্মৃতি, আসলে সবকিছুই স্মৃতির মধ্যে পড়ে। বর্তমান সময় বলতে কিছু নেই এবং জীবনের সবকিছুই শুধুমাত্র স্মৃতি হাতড়ে বেড়ানো। আমার মনে হয়, পুরো জীবন এবং মনের সবকিছুকেই স্মৃতি আবৃত করে আছে। আমি মানে শুধুই আমি নই আমি হচ্ছি আমার বাবা এবং আমার পূর্বে আসা সকলে, যারা সংখ্যায় মিলিয়ন মিলিয়ন। “নস্টালজিয়া ফর দ্যা লাইট” এই ধারণা থেকেই উঠে এসেছে। এটা শুধুমাত্র শরীর এবং চেতনাকে নয় বরঞ্চ বস্তু, পৃথিবী, মহাবিশ্ব, সবকিছুকেই একসাথে সম্পৃক্ত করে।

তবে স্মৃতি এবং ইতিহাসের মাঝে একটি ধ্রুব পরস্পর বিরোধীতা আছে। দ্বন্দ্বটা এখানেই। চিলির সরকারী ইতিহাস বিষয়ক নথিপত্রে ১৯৭৩ সালের ক্যুদেতা প্রসঙ্গে বলা হয় যে, এটা একটা আকস্মিক র্ঘটনা। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে এখন পর্যন্ত স্মৃতিকে উপেক্ষা করে আসা হচ্ছে (ফ্রাঙ্কোর মৃত্যুর অনেক বছর পরেও স্পেনে যেমন দেখা গিয়েছিল)। সরকারের ভাবভঙ্গিতে তেমন কোন পরিবর্তন হতে দেখা যায় না। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ স্মৃতি নিয়ে কাজ করতে চায় এবং চিলির নতুন ইতিহাসবেত্তারা সহ আমাদের মধ্যে এরকম অনেকেই আছেন, তবে আমরা কাজ করি একাকী। আমার মনে হয়, স্মৃতি হচ্ছে অনেক লম্বা স্থায়িত্বকালের ব্যাপার। ভারসাম্য খুঁজে পেতে তোমার প্রচুর সময়ের দরকার পড়বে এবং আমার মনে হয়, চিলিতে আমরা সেখানে পৌঁছে যাবতবে সম্ভবত একশ বছরের মধ্যে। ইতিহাস এবং স্মৃতিকে সুপার ইমপোজ করতে ঐ স্মৃতির এরকম সময়ই লাগে, যা খুবই ধীর একটি প্রক্রিয়া। এটা অনেকটা প্রত্নতাত্ত্বিক কাজের মত, অবশ্য আবেগপূর্ণও বটে।

রব হোয়াইট: নস্টালজিয়া ফর দ্যা লাইট তথ্যচিত্রে দেখা যায়, মরুভূমিতে নিখোঁজ স্বজনদের দেহাবশেষ খুঁজে বেড়ানো একজন নারী বলে, “আমাকে যা বলা হয়েছে তা বিশ্বাস করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। তারা আমাকে শিখিয়েছে বিশ্বাস না করতে।” ক্যু সংগঠিত হওয়ার পর চিলিতে কিভাবে ইতিহাসের পক্ষে বিকৃত হয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিল?

প্যাট্রেসিয়া গাজমেন: মূল বিষয় হচ্ছে দুইটি। উপদ্রুত মানুষেরা ছিল আঘাতপ্রাপ্ত। জীবন চালিয়ে নেওয়ার স্বার্থে তাদেরকে এসব ভুলে থাকতে হয়েছিল। ঠিক একই সময়ে সরকার এবং বিশেষ করে পিনোশে, যা কিছু ঘটেছিল তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। আলেন্দে এবং পুরো বিপ্লবটিকে শ্রমিক শ্রেণীর সংগঠন, শ্রমজীবীদের আন্দোলন, মূলত শত বছরের প্রলেতারীয় জীবন উত্তরকালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে ক্রমপরম্পরায় মুছে ফেলা হয়েছিল, এটা এজন্যই গুরুত্বপূর্ণ যা ব্যাটল অফ চিলি তে তথ্যপুঞ্জীকৃত হয়েছে। এই তথ্যচিত্রটির চুড়ান্ত পর্ব শেষ হয়েছে শুরুতে গিয়ে, যেটা ছিল আলেন্দের সংগঠিত করা বিপ্লব। এটা ছিল তৃতীয় পর্বে যেখানে তুমি দেখতে পাবে জনগণের বিপ্লব, যা তখন গড়ে উঠছিল। পূর্বের পর্বগুলো ছিল প্রকৃত ঘটনা ও কৌশলসমূহের সমাহার তবে তারা বিপ্লবের নিজস্ব প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা করে না, যেটা হচ্ছে যা আসলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে চুড়ান্ত পর্বে। এ কারনেই এই পর্বটাকে সবচেয়ে বেশী আগ্রহোদ্দীপক বলে মনে হয়েছে, যদিও এটা অসম্পূর্ণ। তুমি এটাকে ভ্রূণস্বরূপ বলতে পারো এবং আজকের সময়ে এটা চিলির অধিবাসীদের কাছে খুব শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

তবে অনত্র ইতিহাসের এই সমস্ত অংশগুলো আমাদের দৃষ্টির সামনে থেকে অন্তর্ধান করে গেছে এমনকি চিলিতে এর উপরে একটা বইও প্রকাশিত হয় নি। পিনোশে দেশ পরিচালনা করতো ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে কোন অধ্যাপক শ্রেণীকক্ষে এই ক্যু এর একটি প্রসঙ্গও উল্লেখ করতে পারেন নি। এটা খুবই বিস্ময়কর ব্যাপার, কারন চিলি ছিল সংস্কৃতিসম্পন্ন ও আধুনিক একটা দেশ। সকল ধরনের কৃষ্টি অদৃশ্য হয়ে গেল। সঙ্গীত, চিত্রকলা এবং সংস্কৃতি অন্তর্ধান করলো। সকল কিছুই যেন অনড়, পক্ষাঘাতগ্রস্তের মত হয়ে উঠল। অনেক বছর ধরে ইতিহাসকে ধীরে ধীর নিচে নামানোর চেষ্টার প্রক্রিয়া চলছিল, তুমি যদি ভাগ্যবান হও তাহলে দেখতে পাবে ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তকগুলোতে অর্ধেক পৃষ্ঠা মাত্র ছিল এই ক্যু সম্বন্ধে এবং তাছাড়া পিনোশের ধরণধারণ সমন্ধে কোন কথাই ছিল না। পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারগুলো ভয় পেয়েই আসছে। একমাত্র যখন পিনোশে ইংল্যান্ডে বন্দীত্ব বরণ করল তখনই কেবলমাত্র ভয় প্রশমিত হতে বা ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে, তবে খুব ধীর গতিতে।

এটা ছিল ভয়ানক শক্তিশালী দমন, বিপরীত ক্ষেত্রে উদাহরনস্বরূপ আর্জেন্টিনার কথা বলা যায়, যেখানে স্মৃতি নিয়ে অনেক বেশী পরিমাণ সমন্বিত কাজ হয়েছে। আর্জেন্টিনা মালভিনাস যুদ্ধে হেরে যায় এবং এর ফলে সেনাবাহিনী তার মর্যাদা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে, যা এই প্রক্রিয়াটাকে সহজতর করে তুলেছিল, তবে প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা কির্চনার স্মৃতি সংক্রান্ত ব্যাপার বিহিত করার চেষ্টায় অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছিল, প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট চিলিতে সেরকম কিছুই করেনি। সে মূলত একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া আর কিছুই করেনি, যেটা ছিল শোভাস্বরূপ, যা ঘটেছিল তার কোন ধরনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সেখানে ছিল না। ইতিহাসের নতুন বইগুলোর জন্য দায়ী ছিল চিলির নাগরিকবৃন্দ, তবে তাদের জন্য কোন ধরনের সরকারী সহযোগিতা ছিল না। স্মৃতি পুনরুদ্ধার হতে শুরু হয়েছিল এনজিও, সৎ সাংবাদিক ও বিচারকবৃন্দ, নিখোঁজ ও নির্যাতনের শিকার লোকজনের পরিবারের মাধ্যমে। তবে এ কাজে রাষ্ট্রের কোন ধরনের অংশগ্রহণ ছিল না। রাষ্ট্র এখনও গুহায় বাস করছে।

কেবলমাত্র এখন কোন ধরনের ভয় নেই। নির্যাতনের শিকার হওয়া কিছু লোক অবশেষে কথা বলতে শুরু করেছে। আমরা আবার একটি ছাত্র আন্দোলন দেখছি, যেটা শুধুমাত্র ভালো মানের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রম ব্যবস্থার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে না, স্মৃতির জন্যও বটে। রাজনীতি বিজ্ঞান স্কুলে অধ্যয়ন করতে প্যারিসে আসা ছাত্রদের সাথে আমি দেখা করি, যেখানে আমি বিগত পাঁচ বছর ধরে অধ্যাপনা করছি। তারা পঁচিশ কি চাব্বিশ জন হবে এবং প্রথমে যা ঘটেছিল, এখনও তারা সেটা বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা পেছনের কোন তথ্য না জেনেই এসে পড়েছে। মঙ্গল গ্রহ থেকে আসার সাথে কোন পার্থক্য নেই। তারা ছিল বিষয়টা সমন্ধে পুরোপুরি অজ্ঞ এবং কি ঘটেছিল তা সত্যিকার অর্থে অনুধাবন করতে একবছর সময় নিয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে সাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, এ ব্যাপারে এই ছাত্রদের মধ্যে অনেকেরই এখনও কোন প্রাথমিক ধারনা পর্যন্ত নেই। তারা প্রথমে আমার সকল তথ্যচিত্রগুলো দেখে এবং পরবর্তীতে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করার জন্য আমাকে আমন্ত্রন জানায়, এবং হলের পিছনদিকে সবসময় এমন দুই একজন থাকতো যারা নির্বাক হয়ে যেত। এদের মধ্যে কিছু ছিল ডানপন্থী তবে তারাও এই মতানৈক্যের বিরোধীতা করে। ক্যুদেতা দ্বারা প্রান্তীয়করনের শিকার না হওয়া এটাই ছিল প্রথম প্রজন্ম। তারা সহজবোধ্য (lucid)হতে সক্ষম ছিল। এই নতুন প্রজন্মের সাথে আমার ব্যাপক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল তবে মাঝের প্রজন্মের সাথে নয়, তাদের অনেকেই আমাকে প্রচন্ডরকম ঘৃণা করে। তারা অনেকটা হারিয়ে যাওয়া প্রজন্মের মত সুতরাং এমন কিছু নেই যে ব্যাপারে আমরা কথা বলতে পারি, তবে যুবকদের ব্যাপার আলাদা। তাদের কাছে আমি বৃদ্ধ নই এবং তাদের সাথে আমার আলোচনার জায়গা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আছে।

রব হোয়াইট: মাঝের প্রজন্মের মধ্যে কি কোন দোষের ব্যাপার আছে?

প্যাট্রেসিয়া গাজমেন: হ্যাঁ, খুব আছে। সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ সম্বন্ধে আমি নিজেই প্রশ্ন করেছি। যারা প্রকৃতপক্ষে অপরাধগুলো সংগঠিত করেছে তারা এটার খুব ক্ষুদ্র একটা অংশ। সম্ভবত তিনশ অথবা চারশো লোক দোষী। যদিও যে করেই হোক পুরো শসস্ত্রবাহিনী এই গ্রুপটাকে রক্ষা করেছে। কেন তারা এটা থেকে সরে আসে নি, ঐ লোকদের হাতেই তাদের নিজেদেরকে রক্ষা করার দায়িত্ব ছেড়ে দেয় নি? এবং গীর্জাও, যা এখন চরমভাবে ডানপন্থী, জড়িত ছিল। পিনোশের ক্ষমতায় আসার মুহূর্তে, গীর্জা নির্যাতিতদের পাশে ছিল বটে, তবে খুব বেশী দিন নয়। এখনকার গীর্জা পূর্বেকার গীর্জার অবস্থানকে স্বীকার করেনা। আমার মনে হয় যে, পুরো ক্যুদেতাটা সম্পূর্ণভাবে সঙ্গতিহীন ছিল এবং এটাই হচ্ছে দোষ বোধের মূল কারন। দেশের প্রধান সংবাদপত্র, দ্যা মারকারি, গুম হওয়া মানুষজনদের প্রত্যাখ্যান করেছিল, নির্যাতন যে হয়েছে এটাকেও সত্য বলে স্বীকার করেনি। এটা ত্রিশ বছর ধরে আলেন্দে সম্পর্কে কুৎসা রটিয়েছে। এটা নৈতিক, রাজনৈতিক, এবং কৌশলগতভাবে তার (আলেন্দের) গ্রহণযোগ্যতাকে ধ্বং করে ফেলার চেষ্টায় ছিল। সেই একই সংবাদপত্র বর্তমানে নিজেকে গণতান্ত্রিক সংবাদপত্র হিসেবে তুলে ধরে। এটা বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। সুতরাং এর ফলে যেটা দাঁড়ায়, চিলির কোন প্রতিষ্ঠানকেই বিশ্বাস করা সম্ভব হয় না এবং তুমি ঠিক একই ভাবে বিচার ব্যবস্থার উপরও আস্থা রাখতে পার না। সবচেয়ে ভয়ানক মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্ভবত ষাট শতাংশ বিচারের আওতায় আসে নাই। যদিও সকল ধরনের সাক্ষ্যপ্রমানাদি উপস্থিত। নথিপত্র, নানা ধরনের প্রতিবেদন, তথ্যাবলী সমৃদ্ধ দলিল সবকিছুই আছে। আমি বুঝতে পারি না কেন সশস্ত্র বাহিনী একটা বিষয় বলে না। এজন্যই নস্টালজিয়া ফর দ্যা লাইট তথ্যচিত্রে প্রত্নতত্ত্ববিদটি বলেছে, লাশগুলো মরুভূমি থেকে মাটি কাঁটার যন্ত্রপাতির সাহায্যে তুলে ফেলা হয়েছে। গনকবর সমন্ধে অনেকেই জানত তবে কেউ কোন কথা বলেনি। কেবলমাত্র হেলিকপ্টার পাইলটের সাহস ছিল এটা স্বীকার করার যে, সে আসলে লাশগুলো সাগরের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সেটা তেমন কিছুই না।

রব হোয়াইট: “ব্যাটল অফ দ্যা চিলি” শেষ করার পর ছয় বছর ধরে বিষাদগ্রস্ততায় ভোগার ব্যাপারে আপনি কথা বলেছেন। তারপর কি হল?

প্যাট্রেসিয়া গাজমেন: নিষ্ক্রিয়তার পর্যায় মূলত দশ বছর ধরে টিকে ছিল, একটা ক্যুদেতার পর স্বাভাবিক ভাবেই তুমি অবসন্ন হয়ে পড়বে, এটা হচ্ছে তাই। একই পরিস্থিতিতে থাকা অনেক লোকের সাথে আমি কথা বলেছি এবং গতানুগতিক মনে হয়েছেঃ আট, নয়, দশ বছর। এমনকি আর্জেন্টিনার যাদের সাথে আমি কথা বলেছি তারাও অনেকটা অনুরূপ বর্ননা দিয়েছে। তবে এর ফলে অবশ্য নিজেকে দশ বছর ছোট বলে মনে হয়! যে করেই হোক শরীরটা এখনও টিকে আছে, এটা যেন জমে গিয়েছিল এবং তারপর আবার ধীরে ধীরে জেগে উঠেছে। আমার ক্ষেত্রে এটা ঘটেছে তথ্যচিত্র নির্মাণের মধ্যদিয়ে, ইন দ্যা নেম অফ গড দিয়ে শুরু, যেটা ছিল ক্যাথলিক গীর্জা সম্বন্ধীয়, যা আমি ১৯৮৭ সালে নির্মাণ করেছিলাম। তখন আমি ধীরে ধীরে জেগে উঠতে শুরু করলাম, তবে এটা ছিল ধীর একটি প্রক্রিয়া। প্রকৃতপক্ষে নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছিলাম যখন আমি ফ্রান্সে চলে যাই। এই পরিবর্তনটা ছিল আমার জেগে উঠার শেষ ধাক্কা। ফলে আমার উপলদ্ধি হয়, আমি প্রচুর সময় নষ্ট করে ফেলেছি, তবে অন্যদিক থেকে বলা যায় বিষয়টা পুরোপুরি সঠিক নয় কারন অভিব্যক্ত হতে স্মৃতির এই সময়টা দরকার। এটা এমন কিছু নয় যা ঘটনাস্থলে উৎপন্ন হয়ে যেতে পারে। এটা হচ্ছে লম্বা সময় ধরে তৈরী হওয়া গভীর অভিব্যক্তি এবং আমি সত্যিকার অর্থে সুখী বোধ করি এই জন্য যে এই প্রক্রিয়াটির ভেতর দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছিল। এটা হচ্ছে দাগ সনাক্ত করার সর্বোতকৃষ্ট পন্থাএটা এমন একটা ক্ষত যা আমার এবং চিলিতে অন্যান্য পাঁচ মিলিয়ন লোকের জীবনকে পরিবর্তিত করে দিয়েছিল। এবং এটা খুবই কৌতূহলোদ্দীপক একটা ব্যাপার কারন একজন শিল্পী হিসেবে আমার জন্য সম্ভবত এই অভিজ্ঞতাটা পাওয়া জরুরী ছিল। শেষমেশ এটা আসলে খারাপ কিছু না।

রব হোয়াইট: “নস্টালজিয়া ফর দ্যা লাইট” তথ্যচিত্রে বাল্যকালের এবং বাড়িতে থাকাকালীন সময়ের রৌদ্রকরোজ্জল স্মৃতিচারণ দেখানো হয়েছে। এই প্রশান্ত অবস্থার স্মৃতিচারণ এবং একাকী ঝুঁকি নেওয়া কি রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস যা আলেন্দের নির্বাচনকে পথ দেখিয়েছিল সেটাকে কম গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে না?

প্যাট্রেসিয়া গাজমেন: রাজনৈতিক ইতিহাস দায় অনেক পিছনেসেই মরুভূমি পর্যন্ত যেখানকার খনি অঞ্চলগুলোতে প্রকৃত শ্রমজীবীদের দল গঠিত হয়েছিল। তবে আমি নিজে কখনও জঙ্গি (militant) ছিলাম না। আমার পরিবার বামপন্থী ছিল না। আমরা ছিলাম সাধারণ পেটি বুর্জোয়া এবং আলেন্দের উত্থান আমাদের শ্রেণী সংগঠনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হয় নি। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত করার জন্য আমি এই দৃশ্যগুলো ঢুকিয়েছি। অনেক মানুষ আলেন্দের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জেগে উঠেছিল, রাজনৈতিকভাবে অংশগ্রহণ না করেও। শিশু অবস্থায় এবং এমনকি কৈশোরেও আমি কখনই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলাম না এবং আমার মনে হয়েছিল এরকম বলাটাই প্রাসঙ্গিক। আলেন্দে ছিল সেই স্ফুলিঙ্গ। আমার রাজনৈতিক সচেতনতা সত্যিকারভাবে জেগে উঠেছিল ফ্রাঙ্কোর স্পেনে যখন আমি সেখানে পড়াশুনা করতে গিয়েছিলাম। ফ্রাঙ্কোর ক্ষমতায় থাকাকে আমি তেমন একটা পাত্তাই দেই নি। এটা ছিল ১৯৬৫ সাল এবং স্পেনজুড়ে বিরাজ করছিল একটি থমথমে ভাব কারন একনায়কতন্ত্র তার প্রভাব হারাচ্ছিল এবং এগিয়ে আসছিল বিশালাকারের একটি গণ আন্দোলন। ঠিক তখনই আমি বুঝতে আরম্ভ করি। এটা ছিল একটা বিশিষ্ট সময়। একনায়কতন্ত্র মূলত মারা গিয়েছিল এবং ভবিষ্যতের স্পেন অবয়ব নিচ্ছিলআমরা এখন যে স্পেন দেখি সেটা ছিল তার চেয়ে ভাল। পরিস্থিতি প্রত্যাবৃত্ত হয়েছে। এটাই হচ্ছে ক্রান্তিকালের সমস্যা। ১৯৮৫ সালে চিলিতে সংগঠিত গন আন্দোলন ছিল পুরোপুরি বিশিষ্ট এবং এটাই পিনোচেটের প্রত্যাখ্যান তৈরী করেছিল, তবে যখন উত্তরণকাল ঘনিয়ে এল, গন আন্দোলনটি সম্মুখীণ হল প্রচন্ড দমনপীড়নের, এবং আমি মনে করি না যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একজন অংশগ্রহনকারী ছিল না। এটা ছিল ভয়ঙ্কর একটা সময়। আরেকটি গণভ্যুত্থানের সম্ভাবনা তৈরী হয়েছিল যা হতে পারলে চিলি একটি আধুনিক প্রগতিশীল দেশে পরিণত হত।

আমার শৈশবের স্মৃতি জাগানিয়া দৃশ্যগুলোর ছিল এক ধরনের স্বর্গীয় আমেজ, নানা ধরনের জিনিসপত্রের এক মোহনীয় বিশ্ব যেখানে আমি বেড়ে উঠি। যে বাড়িটিতে আমরা চলচ্চিত্রায়নের কাজ করেছিলাম তা খুঁজে পেতে আমাদের সময় লেগেছিল তিনমাস। আমার শৈশব কালের বাড়িটি আসলে ধ্বংশপ্রাপ্ত হয়েছিল। চলচ্চিত্রায়নের কাজ করা বাড়িটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল মাত্র পাঁচ হাজার মানুষের একটি প্রাদেশিক শহরে এবং আমি এটা বিশ্বাস করতে পারিনি। আমার নিজের বাড়িতে যে সমস্ত জিনিস পত্র ছিল তার সবকিছুই ওখানে পাওয়া গিয়েছিল। আমি আবিষ্কার করি যে প্রদেশগুলোতে সময় বেশ ধীর গতিতে এগোয়। সান্তিয়াগোতে যদি আমরা থাকি ২০১০সালে তাহলে দেখতে পাবোআশেপাশের জিনিস পত্রের বিবেচনায় ছোট প্রাদেশিক শহরটি এখনও ১৯৬০ সালে ঠেকে আছে। এই বিভিন্ন ধরনের সময়ের প্রতি আমি আগ্রহী হয়ে উঠি। বিভিন্ন দেশে এগিয়ে চলা সময়ের মধ্যেও পার্থক্য আছে। ইকুয়েডরে যেমন সবকিছুই ১৯৬০সালে পড়ে আছেঃ কাপড়চোপড়, জুতামোজা, পেশাগত কাজে ব্যবহৃত টুকিটাকি জিনিসপত্র, এবং শব্দগুলোও। এটা খুবই কৌতূহলোদ্দীপক বিষয়।

জানালার ভেতর দিয়ে ছলকে পড়া সূর্যের আলোর সুন্দর দৃশ্যগুলো, ভেসে বেড়ানো ধূলিকণার আবৃত হতে থাকা প্রতিচ্ছবির আভাস দেয়, তবে অবশ্য জ্যোতির্বিদ বলে কিভাবে সে কল্পনায় তার বাবা এবং মাকে স্বর্গে খুঁজে বেড়ায় এবং ভ্যালেন্টিনা স্মৃতিচারণ করে অভ্যুত্থান ঘটা সত্ত্বেও তার সুখী শৈশবের। তবে একটি বিগত সুখী পরিবারের এরকম বিষাদময়তা জড়িত এই সামষ্টিক স্বাধিকার আন্দোলন প্রকৃত ঐতিহাসিক পরিপেক্ষিত এনে দেয়।

আবার একটি বড় ধরনের অসঙ্গতি, যদিও অবশ্য সুখ পাশাপাশি বাস করতে পারে বেদনা এবং বিষাদময়তার সাথে। এই বিশেষ বিষয়টাকে আমি স্পর্শ করতে চেয়েছিলাম। শোকাবহ ঘটনার শিকার হয়েও তুমি একই সময়ে সুখী হতে পার। জীবনটাই আসলে এরকম। ভ্যালেন্টিনা তারা পিতামাতার ক্ষুদ্রতম অংশ দেখতে পায় মিল্কি ওয়েতে এবং সে অবশ্য তার অনন্ত জীবন সমন্ধেও কথা বলে যায়, ধর্মীয় নয় বরঞ্চ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে।

ধূলিকণা সম্বন্ধে বলা যায় এই চলচ্চিত্রের অর্ধেক পর্যন্ত চলচ্চিত্রায়নে ব্যবহার করা নানা ধরনের বস্তুর গঠন কাঠামো সমন্ধে আমরা বেশ সচেতন ছিলাম। মরুভূমিতে কেবল সকালে এবং বিকালে তুমি চলচ্চিত্রায়নের কাজ করতে পারবে। দিনের মধ্যভাগে সূর্য খুবই শক্তিশালী হয়ে উঠে। সুতরাং যখন মরুভূমিতে চলচ্চিত্রায়নের কাজ করতে পারতাম না, তখন আমরা ছোট ছোট জিনিসের ছবি তোলার সিদ্ধান্ত নেইছোটখাট খুটিনাটি, ক্ষুদ্র পাথর, আলোক রশ্মি, প্রতিফলন, ছায়া, বস্তুর বাহির এবং ভেতরের মধ্যকার ফাটল। এর ফলে বস্তুর সারবত্তার যে ছবি উঠলো সেগুলোকে বিমূর্ত মনে হল এবং এটা খুবই হৃদয়গ্রাহী। আমরা প্রচুর পরিমাণ এরকম ছবি তুলেছিলাম। আমরা নিশ্চিত ছিলাম না কেন এমন করছি, তবে এভাবেই তথ্যচিত্রটি গড়ে উঠেছে। অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখলে তুমি এর মূলভাবটা ধরতে পারবে। কখনও কখনও এটা সফল হয়েছে কখনও কখনও হয়নি। তবে ঐ ধূলিকনার দৃশ্যগুলো মৌলিক হয়েছিল। আমরা খুঁজে পেয়েছিলাম জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত একটা বিশাল গম্বুজ যেখান থেকে টেলিস্কোপটি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এটা ছিল অনেক দিন ধরে অব্যবহৃত এবং ময়লাআবর্জনায় ভর্তি। যখন আমি জায়গাটা দেখলাম তখন যেন আমি প্রকৃতপক্ষে দেখতে পেলাম ধ্বংসযজ্ঞের সময়কালের ক্যুদেতার পুরো প্রক্রিয়া এবং অনুপুস্থিত এমন অনেক কিছু যা এখানে থাকার কথা ছিল। আমি এই নোংরা জায়গাটিকে একটি রূপক আকারে দেখতে পেলাম। ধুলোময়লার আস্তরনে এটা মোটা হয়ে উঠেছিল। সেখানে প্রচুর চূর্নবিচূর্ণ কাচ ছিল এবং একটা সময় আমরা সেগুলোকে বাতাসে ছুড়তে শুরু করলাম যখন ভবনটির ভেতরে আলো প্রবেশ করছিল, গীর্জার অভ্যন্তরে যেমন আলো তুমি দেখতে পাও। যখন আমরা এরকম করছিলাম তখন এটা এমন দেখা যাচ্ছিল যেন তুমি প্রকৃতপক্ষে এখানে মিল্কি ওয়ে দেখতে পাচ্ছ। এই দৃশ্যটা দেখে আমরা সারাদিন ধরে সম্মোহিত ছিলাম। এই মানমন্দিরটির অধ্যক্ষ বলে উঠল, “আপনারা এখানে করছেন টা কি? আরে আমাদের টেলিস্কোপগুলো সব দেখি এখানে!” সে পুরোপুরি হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিল! এই পুরো আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের আয়োজন সে করেছিল এবং আমরা বাতাসে কাঁচের চূর্ণ ছোড়ায় আমাদের সারাদিন ব্যয় করলাম। তবে তথ্যচিত্র নির্মাণে এরকমটাই তোমার করা দরকার। এটা একটা পথ যা তোমাকে খুঁজে বের করতে হবে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। তুমি জানো না, এটা তোমাকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, যেকোন জায়গায় নিয়ে যেতে পারে, তবে প্রক্রিয়াটি প্রায়ই খুব সঞ্চরনশীল।

রব হোয়াইট: যে নারীরা মরুভূমিতে সন্ধানকার্য চালাচ্ছে তারা অবশেষে অন্য একটি মানমন্দিরে জ্যোতির্বিদদের সাথে দেখা করে এবং যদিও এই মুখোমুখি হওয়াটা পরিশীলিত তবুও মনে হয় তাদের মধ্যে এক ধরনের অন্তর্গত স্নায়ুচাপ এবং দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে একটা মৌলিক অসঙ্গতি ছিল।

প্যাট্রেসিয়া গাজমেন: তুমি ঠিকই ধরেছ। একেবারেই যথার্থ। জ্যোতির্বিদরা যখন নারীদের সাথে টেলিস্কোপের পাশে মিলিত হয় তখন মীমাংসা হয়ে যাওয়ার একটা মুহূর্ত আপাতদৃষ্টিতে চোখে পড়েছিল। তবে এটা দেখানো ব্যাপার, এটা ছিল উপরিভাগে। এই তিনজন একটি মুহূর্তকে ভাগাভাগি করে নেয়। তারা ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ, তবে এটাই সবকিছু নয়। দৃশ্যটা ছিল খুবই মজার কারন নারীগুলো ওখানে যেতে চায়নি এবং ওরকম কিছু করতে চায় নি। তারা জ্যোতির্বিদদের সাথে কথা বলতে আপত্তি প্রকাশ করেছিল। তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, জ্যোতির্বিদদেরকে আমরা কি বলব? আমরা তো এসব ব্যাপারে অজ্ঞ। এবং জ্যোতির্বিদ বলেছিল, আমি তাদেরকে কি বলতে যাচ্ছি? তারা তো আমার চেয়ে অনেকবেশী গুরুত্বপূর্ণ। ফলে যখন তারা মিলিত হল, শুরু করাটা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তবে জ্যোতির্বিদটির খুব সুন্দর একটা পরিকল্পনা ছিল। সে বলেছিল, মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে চাঁদ আমাদের এই পৃথিবীকে অবলোকন করে আসছে। পৃথিবীর কোথায় কি ঘটছে চাঁদ সেগুলো খুব ভাল ভাবে জানে। সুতরাং আমরা চাঁদকে জিজ্ঞাসা করতে পারি ঐ নিখোঁজ মানুষগুলো কোথায় চলে গেছে। এই কল্পনাটি একটি আবগমথিত মুহূর্তকে উস্কে দিয়েছিল। সে তাদের বিশ্বাস অর্জন করল এবং আমরা তাদের এই মিলিত হওয়াকে চালিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিলাম। তবে আমি সকল সংলাপকে এখানে রাখতে চাইনি। আমার মনে হয়েছিল, এর জন্য সামান্য একটু সঙ্গীতই যথেষ্ট হবে।

রব হোয়াইট: ক্ষতিগ্রস্ত এবং শোকগ্রস্তদের ভেতর থেকে কি তাদের স্মৃতিকে মুছে দেয়া যায়?

প্যাট্রেসিয়া গাজমেন: কিছু জনের জন্য এটা একরকম এবং অন্যদের জন্য আবার ভিন্ন রকম। যখন তুমি বেদনার অনুপুস্থিতি এবং হারিয়ে যাওয়া সমন্ধে ভাবতে থাকো। মারা যাওয়ার অনেক পথ আছে। এমনকি স্বপ্ন দেখাটাও মারা যাওয়ার একটা রূপ। অন্তর্ধান করাও মারা যাওয়ার অন্য একটি ধরণ। ভুলে যাওয়াটাও একরকমের মারা যাওয়া। এরকম নানা রূপের মৃত্যু নানা ধরনের লোকের মাঝে বিদ্যমান, এমনকি জ্যোতির্বিদের মধ্যেও যখন সেতার নিজস্ব আত্মীয়স্বজনরা নক্ষত্রের মধ্যে হারিয়ে গেছেএই ধারনাটিকে জাগিয়ে তোলে অথবা প্রত্নতত্ত্ববিদদের মধ্যে যারা আমাকে বলে, “প্যাট্রেসিয়া তুমি ক্যুদেতার মধ্যে আবিষ্ট হয়ে আছো। ভারতীয়দের কথা কি বলবে তুমি? ভারতীয়দের কারা হত্যা করেছে? আমরা তাদেরকে খুন করেছি।” এই সকল ধরনের মৃত্যু এই তথ্যচিত্রটি অধিকার করে আছে। আমি আসলে এই তথ্যচিত্রের মৃত্যুভাবনার কাছাকাছি হতে ভীত ছিলাম গ্রহানুপুঞ্জ এবং হাড়ের পরম্পরার কারনে, আমি আসলে এসব কথা ভাবছিলাম যখন প্যারিসের বাসায় থাকতাম হাড়কে গ্রহাণুপুঞ্জের সাথে তুলনা করে কারন তারা দেখতে একই রকম এবং একই পদার্থ দিয়ে তৈরী (আমেরিকান জর্জ প্রেস্টন যেরকমভাবে তথ্যচিত্রটিকে বিশ্লেষণ করে) এবং এটাই হচ্ছে সেই চক্র, মৃত্যু চক্র।।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s