art works-10-মাথার গল্প

০১.

প্রাত ভ্রমণ। হাঁটতে হাঁটতে বড় রাস্তার মোড়ে দেখি আমার সাথিদের জটলা। কী শুনছে তারা! পাগলা রমিজ চেঁচাচ্ছে। সামনে এগোলাম। পাগলা রমিজ বলছে তোদের মাথা কই, মাথা নেই , মাথা নেই। সবাই যেনো ধাঁধায় পড়ে গেছে। কেউ হাত দিয়ে দেখতে গিয়ে আবার নামিয়ে আনছে। আমারও সংশয়হাত দিয়ে দেখছি না। রমিজ চিল্লাচ্ছে মাথা কই. মাথা নেই, মাথা নেইনোট নেই ..ভোট নাইনোট কই। ভিড়ের মধ্য থেকে কে একজন মৃদু বলল কি বলছো মাথা নেই! মাথা তো আছে, তুমি দেখছো না ! রমিজ পাগলা হাসলো হিহিহি

মাথা নেই, যে’ টা আছে কাগজেরনকল মাথা। দেখবে! এই বলে একজনের মাথা নাড়া দিতে খশ খশ শব্দ। তারপর

শব্দ উঠতেই থাকালো এবং মনে হলো সারা দেশে টন টন কাগজ উল্টাচ্ছে কেউ। রমিজ একটু দূরে সরে আবার এলো

এবং হাক দিয়ে বললো শুধু কী ঘাড়ের উপড়ে মাথা! তোদের নুনুর মাথাও নেইদেখ কাটা। আহা, আহাসবাই নুনুর দিকে হাত নামাতে সে বলল: এই মাথা কাটা নুনু দিযে কিচ্ছু হয় নানা সংযোজন না বিসর্জন।

তারপর পাগলা রমিজ এমন ভাবে দাঁড়ালো, দেখে মনে হলো তার কাঁধের মাথাটা তার বাহুর বেষ্টনিতে হেলমেটের মতো। সে বলল: কাগজের মাথা নিয়ে ঘুরিস, এটা খোলাও যায় আবার লাগিয়ে হাঁটাও যায়, বুঝেছিস?

আমি বাসার দিকে ফিরছিলাম, পথে মনে হলো দেখিনা খোলা যায় কিনা আমার সাহস হলো না, আমার কানে কেবল সেই সুরটাই বাজছে মাথা নেইমাথা নেই. মাথা নেইনোট নেই, ভোট নেই. নোট চাইমাথা চাই বাহ! বেশ, আমিও গাইছি।

৩০.১০.১৩

——————————————-

সমতার ভালোবাসা

০২.

ভালোবাসার ভাষা চরমে উঠলে হুমকিতে ধামকিতে নাচতে থাকে সবপ্রলয় নৃত্যে। তুমি যদি জিজ্ঞেস করো কিংবা অসুস্তি বোধ করো তা’ হলে শঙ্কা আরো বাড়বে। ঢাকের বাদ্যের মতো ভালোবাসা লাফিয়ে লাফিয়ে পাড় হবে নদী। আকাশে উড়বে বাজ। শৃগালগুলো হুয়াক্কাহুয়ায় দখলে নেবে অমলধবল শেফালি। জঙ্গল উজার হবে, জলাধার মুছে যাবে। দখল আর বেদখলের উৎসবে বেরিয়ে পড়বে ইতর প্রাণীরা, আর বিষ খাদ্যে ভরাবে বাজার।

তবু এই সব ভালোবাসার হাত থেকে পরিত্রাণ মিলবে না। দুষিত পানি নগরের নল বেয়ে পেট নামিয়ে দেবে। কিম্বা ভিটামিন, শুয়ে দেবে কফিনে শিশু, আর যেখানে যাবে ঘুষ ঘুষ, চাঁদা.,ঘুষতোমার কাঁধে চড়ে বলবে গুডবাই জনগণ। তোমাদের জন্যই এতো ভালোবাসাতারপর স্বাস্থ্যপান, চিয়ার্স

তবুও বলো না ভালোবাসা চাই না। ভালোবাসায় বাঁচে মানুষ, দেশ আর স্বাধীনতাতেমন ভালোবাসায় ওঠানামা নেই। উঁচুনিচু নয়। সমতায় সমতটে রোদের মতো বিস্তার নেয়া জীবনআনন্দ, আর তখন মধ্যগগনে নোঙ্গর ফেলে চাঁদহাসে প্রেমিক পুরুষ।

২৪.১০.১৩

——————————————-

ছুঁড়ে দিতে পারতো একটা হাসি

০৩.

এই হাসির কোন পরিমাপ নেই, না সাধারণ কাটাকামানে, না বিজ্ঞানাগারের সুক্ষ্ম নিক্তিতে। কি অর্থ হয় ওই সব ইশারার! সে কী হারাণো কিছু পেয়ে যাবার ইঙ্গীত, নাকি কোনো কংক্রিটের ঝরে পড়া লাবণ্য! নাকী এক অদৃশ্য হাওয়ায় সারগন সোলেমানের উড়ে বেড়ানোর অলৌকিক কাহিনী? কী মানে বহন করে বাক্যবিন্যাসের চাতুর্য ! শব্দ ভাঙে, ভেঙে ভেঙে রাজ্যের সীমা রেখার মতো অস্পষ্টতায় ডুবে থাকে।

আলেকজা তার ছেঁড়া আঁচল বাতাসে উড়িয়ে বলে এই দেখো স্বাধীনতা, আর বরগুনার গফ্ফার লঞ্চের ছাদে চিমনীর কালো ধোঁয়া জলহাওয়ায় মিশে যাওয়া দেখে আর ভাবে স্বাধীনতা কী ধোঁয়ার মতো নাকি ঝড়ে উড়ানো পাতা ! আর বিষাক্ত বর্জ্য গিলে মরা নদী পুরাতন দিনের কথা ভেবে বয়ে যায়মরে যায়। তখন মাঝ নদীতে জেলেরা জাটকা মেরে বস্তা ভরে পানিতে ডুবিয়ে রাখে, আর রিভার পুলিশ জনকের মাথা গুনে পকেট চাপেক’টা মাথা পাওয়া গেলো। মরা নদী আরো মরে যায়

কোন কিছুরই অর্থ খুঁজনা বলল: ভোরের বাতাস। যা কিছু বলা হলো তা’ আর যা বলা গেলো না তার পরিমাপ কী জানতেন আর্কিমিডিস! কিন্তু ওই যে কচুরি পানা ভাসতে ভাসতে চলে যাচ্ছে তারা একদিন শেকড়ে মাটির নাগাল পেলে কী কান্ডটাই না ঘটাবে। মাত্র কয়েক দিনে হালকা বেগুনি ফুলে ভরে দেবে সমস্ত আকাশস্বাধীনতায় ফুটাবে আনন্দ।

তবুও ইশারা চলছে, অঙ্গভঙ্গি, তর্জনীর ওঠা নামায় কাঁপছে রাত্রি আর বাক্যবানের দুরূহতা কুঁকরে দিচ্ছে আগামীর সতেজ শিশুর জন্ম, যারা পরিমাপ যোগ্য একটা হাসি ছূঁড়ে দিতে পারতো সকালের মতো, পারতো তো

১৬.১০.১৩

——————————————-

ভুলে গেছে নাম

০৪.

কী নাম তার ভুলে গেছি। কেনো ভুলে গেছি সেই নাম। তা’ হলে কী তার কোন নাম ছিল না ? আমার নাম ? তাও কী মনে পড়ছে আমার? কী অর্থ এই নামের! ফুটপাতে যে মেয়েটি অনাবৃত দেহ দান যার অন্ন তারও কী একটা নাম আছে? কোথায় তার বাড়ি? রংপুর! সেওতো একটা নাম কয়েকটা অক্ষর। যারা বিত্তশালী ধনবান, তাদেরও নাম আছে। কারো না কারো সাথে ওই নামের মিল আছে, সাদৃশ্য আছে। তা’হলে কী অর্থ হয় ওই সব নামের!

আমার নামও মনে করতে পারছি না আর। আর গার্মেন্টস এর ক্রিতদাস খেতের মজুর তাদেরও একটা নাম আছে , মনে করতে পারছিনা কারো নাম। আমার বুদ্ধি প্রজ্ঞা বলছে কোন নাম নেই মানুষের। তারা কেবলই নাম হীন এক মানুষ তারা ভুল মানুষ, ভুল ঠিকানার মানুষ, ভুল রাষ্ট্রের মানুষ, ভুল সময়ের মানুষ। তারা এক অর্থহীন নাম নিয়ে ঘুরছে।

তুমি কে হে, নাম নাম বলে ডাকছো চিৎকার করছো জনে জনে জিজ্ঞেস করছো এই নামের কাউকে চেনেন ? কেউ জবাব দিচ্ছেনা, কারণ তারাও মনে করতে পারছে না তাদের নিজ নাম। তারা ভুলে,গেছে পাখির নাম, ফুলের নাম শষ্যের নাম ফাগুনের লাল কৃষ্ণচূডাকারণ তাদের সামাজিক অবস্থান নেই তারা ব্রাত্য তারা নিঃস্ব। আর নিঃস্বদের নাম একটা বাড়তি বোঝা কেবল বিকৃত হয়।

২৩.১০.১৩

——————————————-

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s