লিখেছেন: আবিদুল ইসলাম

OLYMPUS DIGITAL CAMERA২০০৬ সালে বৃটিশ মালিকানাধীন গ্লোবাল কোল ম্যানেজমেন্ট (জিসিএম) রিসোর্সেসএর স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এশিয়া অ্যানার্জি কর্তৃক দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রচেষ্টার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধ এক নতুন রূপ পরিগ্রহ করে। তৎকালীন বিএনপি সরকারের সাথে সমঝোতার মাধ্যমেই এশিয়া অ্যানার্জি পরিবেশবিধ্বংসী এই প্রকল্প বাস্তবায়নের চক্রান্ত করেছিল। সে সময় সমগ্র ফুলবাড়ির জনগণ এই চক্রান্ত প্রতিরোধের জন্য যে ভূমিকা গ্রহণ করেন, তা এদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। ঐ বছরের ২৬ আগস্ট প্রতিবাদী মিছিলে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি চালালে আমিনুল, তরিকুল ও সালেকীন নামে তিনজন তরুণ নিহত হন। এর ফলে প্রতিরোধবিক্ষোভ নতুন মাত্রা গ্রহণ করে যার ফলে সরকার এলাকাবাসীর প্রতিনিধির সাথে ছয় দফা চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়। ঐ চুক্তিতে এশিয়া অ্যানার্জিকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করার বিষয়ে উল্লেখ ছিল। এ ঘটনার পর সেখানে ছুটে যান তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ফুলবাড়িতে এক সমাবেশে তিনি হুমকি দেন, যদি ছয় দফা বাস্তবায়িত না হয় তাহলে সরকারের পতন ঘটানো হবে। এছাড়া তিনি এই মর্মে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন যে, যদি তার দল সরকার গঠন করে তাহলে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হবে না।

২০০৯ সালের প্রথমে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার সাথে জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এশিয়া অ্যানার্জি বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়নি। তাদের অফিস এখনো ফুলবাড়িতে রয়েছে। অন্যদিকে, জিসিএম ফুলবাড়ির কয়লা খনির মালিকানা দেখিয়ে লন্ডনের মার্কেটে তার শেয়ার বিক্রি করছে। বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক পত্র মারফত ফুলবাড়ী এলাকায় এশিয়া অ্যানার্জির জরিপ কাজে সম্ভাব্য সবরকম সহযোগিতা প্রদানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে নামেবেনামে সেখানে বিভিন্ন লিফলেট প্রচার করছে এশিয়া অ্যানার্জি। কিছুদিন আগে তারা সচেতন এলাকাবাসীনাম নিয়ে একটি লিফলেট বিলি করে। ঐ লিফলেটটিতে উল্লেখ ছিল, এলাকাবাসী এই খনির পক্ষে!!গত বছরের ৯ জুলাই জিসিএম রিসোর্সেসএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে জ্বালানি সচিব মেজবাহ উদ্দীন একটি বৈঠক করেন। এছাড়া জিসিএমএর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিকই ইলাহী চৌধুরীর কাছে গত ৩০ আগস্ট একটি পত্র দেয়া হয়। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে জিসিএমের চেয়ারম্যান জেরার্ড হোলডেনের একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

ভেতরে ভেতরে এশিয়া অ্যানার্জির সঙ্গে সরকার নতুন করে চুক্তি সম্পাদনের কাজ করছে এ মর্মে পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে এশিয়া অ্যানার্জির ফাইল এমন তথ্যও শোনা গেছে। বাকি সব কাজ শেষ। সম্প্রতি ফুলবাড়ি কয়লাখনি উন্নয়নে এশিয়া অ্যানার্জি সরকারকে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। এ প্রস্তাবে ৬ শতাংশ রয়্যালটি ছাড়াও ১০ শতাংশ ‘ইকুইটি শেয়ার’ প্রদান এবং নিজস্ব বিনিয়োগে খনিমুখে দুই হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ সঙ্কটের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসে এ প্রস্তাব প্রদানের অর্থ হলো এই প্রকল্পের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করা। সরকার এখনো সম্মতি না জানালেও কোনো বিরোধিতাও করেনি। নির্বাচনের পূর্বে বর্তমান সরকার ফুলবাড়ি আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করলেও নিজস্ব চরিত্র অনুযায়ী তারা এখন এশিয়া অ্যানার্জিকে এলাকাবাসীর আন্দোলনসংগ্রামের হাত থেকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে। একটি সূত্রমতে, সরকার পক্ষ থেকে এশিয়া অ্যানার্জিকে জনমত গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা কিংবা পরামর্শ মোতাবেক এশিয়া অ্যানার্জি তার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

————————————————–

এশিয়াটিক মার্কেটিং কমিউনিকেশন্স লিমিটেড নামক বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে কাজ করছে প্রায় চার দশক ধরে। এর আগে পেপসি, রবি, এয়ারটেল, গ্রামীণফোন, লাক্স, সানসিল্ক, বিএটিবি, নোকিয়া, এইচএসবিসি, হুইল, রেডকাউ, ডানো, আইসিসিএর সঙ্গে বাণিজ্যিক এবং বাংলাদেশ সরকার, ইউনিসেফ, ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার, টিআইবি, এসএমসি, ইউএনডিপি, বিসিসিপিসহ আরো বিভিন্ন এনজিও ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তাদের প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এবার তারা হাত মিলিয়েছে এশিয়া অ্যানার্জির মতো গণধিকৃত সাম্রাজ্যবাদী জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের সাথে। এখানে এশিয়াটিকের কর্ণধার ব্যক্তি হিসেবে কারা রয়েছেন সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা প্রয়োজন। এর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে রয়েছেন আলী যাকের ও সারা যাকের দম্পতি যারা বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ও নাট্যব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত তাদের পুত্র ইরেশ যাকের ও সুপরিচিত অভিনেতা ও আওয়ামী লীগের সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর।

এশিয়াটিকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এশিয়াটিক এমসিএল, এশিয়াটিক টকিংপয়েন্ট, মিডিয়া এজেন্সি ম্যাক্সাস, মাইন্ডশেয়ার, মিডিয়াএজসিআইএ, ধ্বনিচিত্র লিঃ, স্টুডিও টুয়েন্টি মাইলস, নয়নতারা কমিউনিকেশনস, এশিয়াটিক ইভেন্টস লিঃ, গবেষণা সংস্থা এমআরসিমোড, মৈত্রী প্রিন্টার্স, জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান ফোরথট পিআর এবং এফএম রেডিও চ্যানেল রেডিও স্বাধীন। জিসিএম রিসোর্সেসএর প্রধান নির্বাহী (সিইও) গ্যারি লাই গত বছরের ৯ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এশিয়াটিক মার্কেটিং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফোরথট পিআর(Forethought PR)কে “বিবিধ তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে সার্বিক গণমাধ্যম সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনার”দায়িত্ব দিয়েছে। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশে ফুলবাড়ি কয়লা খনিতে উন্মুক্ত খননের পক্ষে জনমত গঠন অর্থাৎ গণসংযোগের কাজ শুরু করেছে এশিয়াটিক মার্কেটিং!

এখানে ফোরথট পিআর তথা এশিয়াটিকের কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য কী হবে? নিশ্চিতভাবেই উন্মুক্ত পদ্ধতির কয়লা খনি এবং এশিয়া অ্যানার্জির তৎপরতা বিষয়ে জনমানসে ইতিবাচক ভাবমূর্তি সৃষ্টি করা। প্রকৌশলী ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনকারী কর্মী কল্লোল মোস্তফার ভাষ্যমতে, পিআর এজেন্সি যখন গণমাধ্যমকে ম্যানেজ করে, যখন গণমাধ্যমে কোন ধ্বংসাত্মক প্রকল্পকে উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে চালানোর জন্য সাক্ষাৎকার, মতামত, বিশ্লেষণ ইত্যাদি প্রকাশ করে কিংবা অন্য কোনোভাবে, পরোক্ষ প্রচারণা চালায় তখন সেগুলোকে বিশেষজ্ঞ মতামত, বিশ্লেষণ, ওপিনিয়ন হিসেবে চালায়। আবার সেলিব্রেটি ইমেজ ব্যবহার করে জনগণের মতামত প্রভাবিত করে। কিন্তু এগুলো যে নানানভাবে কোম্পানি স্পনসরড তা গোপন করে। কারণ এটা প্রকাশ পেলে তো এগুলোর পিআর ভ্যালু বলে কিছু থাকবে না। ফলে জনগণের পক্ষে বোঝা মুশকিল হয়ে যায় কোনটা বিশেষজ্ঞ মতামত আর কোনটা কোম্পানির পয়সা খাওয়া মতামত। এশিয়াটিকের এখানে জড়ানোতে আমরা এই আশঙ্কাটাই করছি। এশিয়া অ্যানার্জির পয়সা খাওয়া লোকজন এশিয়া অ্যানার্জির পক্ষে বক্তব্য দিবে। এশিয়াটিক এটার প্রচার চালাবে ‘বিশেষজ্ঞ মত’ হিসেবে। এটা ভয়ঙ্কর এক আঘাত। জনগণকে এখনই সচেতন হতে হবে।”

উন্মুক্ত পদ্ধতির কয়লা খনি যে একটি পরিবেশবিধ্বংসী ও গণবিরোধী ব্যাপার সেটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী আগেই উঠে এসেছে। ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সরকার বাংলাদেশের কয়লা খনিসমূহের ভূতাত্ত্বিক ও পরিবেশগত অবস্থা, কয়লা উত্তোলনের বিভিন্ন দিক এবং বাংলাদেশের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উন্মুক্ত খনির ঝুঁকি ও সম্ভাবনা ইত্যাদি বিষয়ে বিশ্লেষণ করে মতামত প্রদানের জন্য একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির সদস্যরা মত দেন, বাংলাদেশের কয়লা মজুদের ক্ষেত্রে এটা ঠিক যে উন্মুক্ত খনি কয়লা উত্তোলনের হার অনেক বৃদ্ধি করে বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে, কিন্তু পরিবেশের বিপর্যয়ের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক ও প্রতিবেশগত ক্ষতি বর্ধিত কয়লা উত্তোলনের থেকে প্রাপ্ত সুবিধার তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। যদিও বৈজ্ঞানিক যুক্তিতর্কে এটা বলা সম্ভব যে, স্ট্রিপ মাইনিংয়ে কয়েক বছর পরেই ভূমি আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব, কিন্তু বাস্তবে মাটির উপরের স্তর সরিয়ে ফেলার পর জমির উর্বরতা পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে। উন্মুক্ত খনির ক্ষতি এতো বেশি যে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” রিপোর্টটিতে আরো বলা হয়েছে, উন্মুক্ত খনির খরচ কম কিন্তু পরিবেশের জন্য তা খুবই ক্ষতিকর। এতে অতিরিক্ত বর্জ্য ফেলার জন্য বিশাল জায়গার প্রয়োজন হয়। হিসাব অনুযায়ী অতিরিক্ত বর্জ্য ও কয়লার অনুপাত হচ্ছে ২৫:১। অর্থাৎ, ১ মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলনের জন্য ২৫ মেট্রিক টন সরাতে হবে। এই ভূগর্ভস্থ দ্রব্য যেগুলো প্রধানত দূষিত, তা রাখতে হবে পার্শ্ববর্তী কৃষি জমি জলাশয় ও নদীতীরে। এগুলো যে শুধু আশেপাশের জলাশয়কে দূষিত করবে তাই নয়, তার নিচের দিকের সকল নদী, খাল ও জলাভূমিকে ভয়াবহ মাত্রায় দূষিত করবে। বৃষ্টির কারণে অনেক বর্জ্য পানিতে ধুয়ে যাবে এবং তা জমি, জলপ্রবাহ ও নদীকে বিষাক্ত করবে।”

এই যখন অবস্থা তখন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও নাট্যব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ও স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তি হিসেবে স্বঘোষিত ব্যক্তিদের মালিকানাধীন বিপণন প্রতিষ্ঠান এই এশিয়া অ্যানার্জির পক্ষে তাদের হয়ে প্রচারণার জন্য দাঁড়িয়েছে! এশিয়াটিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী যাকেরকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এশিয়া অ্যানার্জির সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো সমস্যা নেই বিধায় ফোরথট পিআর এই কাজটা নিয়েছে।” এশিয়া অ্যানার্জির কর্মকাণ্ড এবং তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংঘটিত হওয়ার কথা জানানো হলে তিনি বলেছেন, এ জাতীয় কোনো আন্দোলনের বিষয়ে তার জানা নেই। অর্থাৎ, মুক্তিযুদ্ধ, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি বিষয়ে প্রিন্টেড ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রভূত বাক্যবিস্তার করা এই ব্যক্তি জানেন না যে, ফুলবাড়িতে এশিয়া অ্যানার্জির কর্মতৎপরতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ঐতিহাসিক এক আন্দোলন হয়েছিল,সেখানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ গুলি ছুড়ে তিনজনকে হত্যা করেছিল, শেষ পর্যন্ত তৎকালীন সরকার বাধ্য হয়ে ছয় দফা চুক্তি করে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়েছিল যে এশিয়া অ্যানার্জিকে সেখানে তার কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেয়া হবে না!!

এখানে সংস্কৃতিসেবী নামক উপর্যুক্ত চরিত্রের ব্যক্তিরাই কেবল নয়, বিভিন্ন সময়ে সরকারি ক্ষমতায় থাকা শাসক শ্রেণীর রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য। ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ফুলবাড়িতে জনসভা করে সেই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং ছয় দফা চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারকে হুমকি পর্যন্ত প্রদর্শন করেছিলেন! তাদের এই সমস্ত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড যে লোকদেখানো এক ভাঁওতাবাজি ছাড়া অন্য কিছুই ছিল না সেটা এখন দিবালোকের মতোই পরিষ্কার। প্রকৃতপক্ষে সংস্কৃতিসেবী হিসেবে স্বআখ্যায়িত এই সমস্ত লোকজন, আওয়ামী লীগবিএনপি সহ শাসক শ্রেণীর রাজনৈতিক দলসমূহ, বিশেষজ্ঞ হিসেবে কথিত তাদের ভাড়াখাটা বুদ্ধিজীবী এদের সবার কর্মতৎপরতার শেকড় সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের ভিত্তিভূমিতে দৃঢ়মূলে প্রোথিত। আওয়ামী লীগবিএনপির পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি, গালিগালাজ ও ব্যক্তিগত বিষোদগার সত্ত্বেও শ্রেণীচরিত্রের দিক থেকে তারা যে অভিন্ন স্বার্থের সংরক্ষক সে বিষয়টি ইতোমধ্যেই বেশ ভালোভাবে প্রমাণিত হয়েছে। একইভাবে এদের সকল তৎপরতা শ্রমিককৃষক সহ সাধারণ শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধেই পরিচালিত হয়। এ পরিস্থিতিতে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত হতে দেশের সাধারণ মানুষকে মুক্ত করতে হলে এশিয়া অ্যানার্জির মতো বিদেশি জ্বালানি প্রতিষ্ঠান, এশিয়াটিকের মতো বিপণন প্রতিষ্ঠান ও এর কর্তাব্যক্তিদেরই নয় কেবল, আন্দোলনসংগ্রাম সংগঠিত ও পরিচালিত হতে হবে সমগ্র শাসক শ্রেণী সহ তাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে বাংলাদেশের ভিত্তিভূমি থেকে চিরতরে উচ্ছেদের লক্ষ্যে।।

তথ্যসূত্র

এশিয়া এনার্জির হয়ে মাঠে এশিয়াটিক!

এশিয়া এনার্জির পক্ষে এশিয়াটিক বিশিষ্টজনের মন্তব্য

———————————————

(লেখাটি মঙ্গলধ্বনি’র ৩য় প্রিন্ট সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লেখকের অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা সেখানে প্রকাশের তাগিদ থাকায় তা অনলাইনে তুলে দেওয়া হলো। মঙ্গলধ্বনি)

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s