সাক্ষাৎকার গ্রহণ: মহুয়া চ্যাটার্জি

অনুবাদ: শাহেরীন আরাফাত

naxal-3(সম্প্রতি সিপিআই (মাওবাদী)-এর দণ্ডকারণ্য বিশেষ আঞ্চলিক কমিটির সেক্রেটারি রমণ্য, সাংবাদিক মহুয়া চ্যাটার্জি’র কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাদের দলের নির্বাচন বর্জনের আন্দোলন ও অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি ২১ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে “দি টাইমস অফ ইন্ডিয়া” পত্রিকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। নিম্নে সাক্ষাৎকারটির প্রকাশিত অংশের অনুবাদ তুলে দেওয়া হলো অনুবাদক)

প্রশ্ন:আপনারা নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছেন কেন?

উত্তর:যথারীতি আমরা জনগণের নিকট নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছি, কারণ তা প্রহসন ভিন্ন কিছু নয়। বর্তমান বিরাজমান ব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে কেবল পাঁচ বছর মেয়াদী লুট আর অত্যাচারের প্রতিনিধিত্বই পুনঃনির্বাচন করা হয়। আমাদের লক্ষ্য পুরো ব্যবস্থা সমূলে পাল্টে দেওয়া এবং এর স্থলে গণমুখী সমাজ নির্মান করা, যা নির্বাচনের মাধ্যমে সম্ভব নয়।

—————————————

প্রশ্ন:ভোট বর্জন কি এবারও সহিংসতায় রূপ নিবে?

উত্তর:এর কোনো কিছুই আমাদের কথার উপর নির্ভর করে না। অন্যান্য বারের মতো এবারও সরকার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নামে ব্যাপক সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করেছে, যারা এখনো শোষণ ও গণনিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। তল্লাসী অভিযানের নামে গ্রামে আক্রমন করা, গ্রেপ্তার, জনগণকে মারধর, বা ভুয়া এনকাউন্টার এখন নিত্যদিনের ঘটনা। আর এদের প্রতিহত করাটা ভীষণ জরুরী। অতএব, আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি যে, সরকার যখন আমাদের ভোটবর্জন আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে গণনিপীড়ন চালায়, তখন অবশ্যই এর প্রতিক্রিয়াও থাকবে।

—————————————

প্রশ্ন:ভোট দিলে আঙ্গুল কেটে ফেলা হবে” জনগণকে এমন ভয় দেখানোকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

উত্তর:একদমই বাজে কথা। দণ্ডকারণ্যে আমাদের গত ৩৩ বছরের সংগ্রামের ইতিহাসে জনগণকে ভয় দেখানোর মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। আপনি একটা উদাহরণও খুঁজে পাবেন না। এসবই মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য প্রচার করে আমাদের নামে কুৎসা রটানো এবং আমাদের কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর সরকারী কৌশল। আমাদের ভোটবর্জন আন্দোলন একটি রাজনৈতিক কাজ। জনগণকে সচেতন করাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কখনোই জোরপূর্বক অর্জন করা সম্ভব নয়।

—————————————

প্রশ্ন:ভোট দেওয়া তো গণতান্ত্রিক অধিকার, তাহলে জনগণকে ভোট বর্জন করতে কেন বলছেন?

উত্তর:ভোট দেওয়াটা যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার, তেমনি নির্বাচন বর্জন করাটাও গণতান্ত্রিক অধিকার। এমন কি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টও বলেছে, যদি কোনো ভোটারের ব্যালট পেপারে উল্লিখিত কোনো প্রার্থীকেই পছন্দ না হয়, তবে তিনি “না ভোট” দিতে পারবেন। এর মানে হলো আদালতকেও মেনে নিতে হলো যে, নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর জনগণ আস্থা হারাচ্ছে। তাই নির্বাচন বর্জন করাটা জনগণের অধিকার।

—————————————

প্রশ্ন:রমন সিংএর সরকার বলছে মাওবাদীরা উন্নয়নের বিপক্ষে। এ সম্পর্কে আপনার মতামত কি?

উত্তর:হ্যাঁ, আমরা ঐ শোষকলুটেরাদের উন্নয়নের বিরুদ্ধে, মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং যাদের প্রতি সদা নিবেদিত। আমরা ছত্তিশগড়ের জমি টাটা, জিন্দাল, বেদান্তএর মতো কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার রমন সিংএর স্বপ্ন কখনোই পূরণ হতে দেব না। যদি এই অবস্থানকে “উন্নয়ন বিরোধী” বলা হয়, তাহলে আমরা এর জন্য গর্ববোধ করবো।

—————————————

প্রশ্ন:আপনারা ২৫ মার্চ কংগ্রেস নেতাদের উপর আক্রমন করেছিলেন কেন? আপনারা সাধারনত রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে আঘাত করেন না, এটি কি কোনো কৌশলগত পরিবর্তন?

উত্তর:যেমনটা পূর্বে আমাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও জানানো হয়েছিল এটি ছিল আমাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত “অপারেশন গ্রিন হান্ট” ও “সালওয়া জুডুম”এর প্রতিক্রিয়া। এটি ছিল একই সাথে একটি প্রতিশোধপরায়ণ এবং আত্মরক্ষামূলক আক্রমন। “সালওয়া জুডুম” ও “অপারেশন গ্রিন হান্ট” ব্যবহার করে ব্যাপক সংখ্যক আদিবাসীদের হত্যা করা হয়েছে, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছেএটি ছিল আমাদের প্রতিশোধ। আর কৌশলগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বলতে হয়, আমরা এর আগেও রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে আক্রমন চালিয়েছি। তবে মহেন্দ্র কর্মাকে খতম করতে পারাটাই এই আক্রমনের মূল কৃতিত্ব।

—————————————

প্রশ্ন:আপনাদের পার্টির ভেতরকার পার্থক্য ও নারী নির্যাতন সম্পর্কে বলুন।

উত্তর:আমাদের বিপ্লবী সংগ্রাম সর্বোতভাবে জনগণের মধ্যকার সকল পার্থক্য এবং শোষন বন্ধ করার জন্যই পরিচালিত। বছরের পর বছর ধরে চলা এই সংগ্রামে জনগণ বিভিন্ন ধরণের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। নারী নির্যাতনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। এই ইস্যু আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না, তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, আত্মসমর্পণ করা পার্টি সদস্যরা পুলিশের শেখানো মিথ্যা বুলিই আওড়াচ্ছে। সরকার আমাদের আন্দোলনকে ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়ে ব্রিটিশদের শেখানো “ডিভাইড এন্ড রুল” পলিসি কাজে লাগাতে চাইছে। তারা এমন সব কল্পকাহিনী তৈরী করছে, আর কেউ সেগুলো বিশ্বাসও করছে না।।

—————————————

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s