বৃক্ষস্বভাবে

abstract_art_4-মাথার ভেতরে ঢুকে আছে এক প্রান্তর। রাত্রি নেই দিন নেই বিশ্রামের ফাঁকটুকু নেই, কেবল নানা দৃশ্যের ওঠানামা। প্রান্তর জেগে থাকে মাথার ভেতরে। নূরুল হুদার লখনৌ কুহু নানা ইমেজের ছবি আর সুর। আমি তার মন ছোঁয়া বিস্তৃতি দেখি, আকাশটা দেখি চেয়ে আছে যেনো হঠাৎ সে হয়েছে অবাক

কি চায় ওই প্রান্তর আমার কাছে? না কী আমি কিছু চাই? আমার আকাঙ্খার প্রজাপতি উড়িয়ে সারাদিন ঘুরি শিল্পের নগরে

রাত্রির চাঁদ যখন নরম জোছনার চাঁদর বিছিয়ে শুয়ে পড়ে, আমি তার প্রকাশ দেখি জীবনের নানা আঙিনায়। চিনতে কী পারি আমাকে আবার ! সত্তার অনন্ত লড়্ইা কি চাই কি চাই যেখানেই যাই আঁধারেরা এসে ঢেকে দেয় ভালোবাসার দিনগুলো, বিষণœ সবুজ ঢেউয়ে সাঁতরায় ভ্রান্তির মীন। আমি অশোকের কাছে চাকার মহত্ব জানতে চাইলে সে বললো: রাজনীতি সমমাত্রায় ছড়িয়ে দিয়ে দেখো পরিষ্কার শুনতে পাবে নদীর ভাষা আর পাখিদেরতো বারোমাস কন্ঠের মনোজ্ঞ তালিম তোমাকে শেখাবে আরগ্যের ইশারা

মাথার মধ্যে এক ক্লান্তি জেগে থাকে তবু এক ভালোলাগা, আলো আসবে প্রভাতের মুখে ব্লল: রাতের বাতাস । আর দিনের দেবতারা এলে আমি তাদের সাথে হেঁটে যাবো ওই প্রান্তরে দেখবো নিজের মতো : আমারই বাসনায় সবুজ হাসে। শেখায় নতুন দিনের প্রথম পাঠ বৃক্ষস্বভাবে

০১.০৭.১৩

******************************************

 

গন্তব্যহীন এক সময়

তারা বকবক করছিলো: কি বলছিলো আমি শুনছি না। তিনজন আমার টেবিলে তিনটি চেয়ার দখলে নিয়েছে, চিৎকার করছে পরষ্পরের দিকে তাকিয়ে। কখনো আমার দিকে সম্মতি পাবার আশায়। কি বলছিলো তারা ! তারা কী সত্যি কিছু বলছিলো ? অন্যেরাও চারপাশ ঘিরে দাঁড়ালো এবং কখনো একজন আবার সবাই বলে যাচ্ছিল, আমি শুনছিলাম কিন্তু কিছুই বলিনি, কারণ বলা মানে আমার বিশ্বাসের বিপরীতে দাঁড়ানো অসম্মতির প্রকাশ বিপদকে ডেকে আনা। ভিন্নমত গণতন্ত্র বিরুদ্ধ। যদিও তাদের বকবকানির মধ্যে গণতন্ত্রের কথাটাও ছিলো। সে হলো গণতন্ত্র যা তারা শিখছে কিছু দিন।

আর আমি এও জানি তাদের মতের বিরুদ্ধতা মানে বিষ্ফোরক আইনে চালান হয়ে যাওয়া

তারপর আমি আমার বিশ্বাসের কথা আর বলতে পারবো না। আজও যেমন বলছি না। এমনটি ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তাকিয়ে দেখলাম ফুটপাত দিয়ে একা একা হাঁটছি আমার কোন গন্তব্য নেই। যে রকম আজকাল অনেকের কোনো গন্তব্য থাকে না

১৪.০৩.১৩

 

সর্বনাশ যখন গলা বাড়িয়ে

সর্বনাশ যখন গলা বাড়িয়ে ঘরের দুয়ারে

পাকাফল ঠুকরে খায় কাক

আর চাষীর হৃদপিণ্ড থেকে টপটপ রক্ত ঝরে

তবু তারা বলে জগতে আমরা বদলাই না,

সবকিছু ঠিকঠাক

 

তখন আষাঢ় আকাশ ক্ষণিক রোদ ক্ষণিক বৃষ্টি

আর বিড়ালের মতো বুদ্ধিজীবি রাত্রিতেই দেখে ভালো

বলে আহা, শেগাল আর মাতিস যদি হতো

কি সুন্দর আঁকতো, আকাশ আকাশ

তাদের অন্তরদৃষ্টি আরো বেড়ে যায়বেড়ে যায়

 

সর্বনাশ যখন গলা বাড়িয়ে আসে তখন রাস্তাটা সোজা

সেই ভবনটায় গরম বুদ্ধির উচ্ছ্বাস আর কতোটা ইঁদুর

মারাগেলো তার হিসেব

এবং এসব শুনতে শুনতে লাল

ইটগুলো কালসে পানসে ঘুম পায় তার

একদল হাঁটছে পিছু পিছু আর রাস্তাঘাট ঠিক আগের মতোই

বসে থাকা বসে থাকা

তারণ্য উড়ে যাচ্ছে নানারঙা প্রজাপতি

এবং হেজাবখেজাব সাজুগুজু ইছালে সাওয়াব

 

বৃক্ষগুলো কিছুতেই বুঝতে পারেনা আর পাখিগুলো!

তখন সর্বনাশ ঢুকে পড়ছে একেবারে ঘরে মাঝখানে

সব কিছু ঠিকঠাক, হ্যা তাই মনে হয় ।

২৪.০৭.১৩

*****************************************

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s