তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষায় জনআন্দোলনের ধারা

Posted: অগাষ্ট 21, 2013 in আন্তর্জাতিক, সাহিত্য-সংস্কৃতি
ট্যাগসমূহ:, , , , , , ,

লিখেছেন: অজয় রায়

Telangana_mapদীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে কংগ্রেস ও ইউপিএ পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের ঘোষণা করেছে। রাজ্য গঠনের এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে আরও চারপাঁচ মাস লাগবে বলে জানা গিয়েছে। ভারতের উনত্রিশতম রাজ্য হিসাবে তেলেঙ্গানা আত্মপ্রকাশ করছে। অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তরভাগের দশটি জেলা নিয়ে গঠিত হবে এই রাজ্য []। আর অন্ধ্রের বাকি জেলাগুলি নিয়ে গঠিত হবে সীমান্ধ্র। আগামী দশ বছরের জন্য দুই রাজ্যেরই রাজধানী হিসাবে থাকবে হায়দ্রাবাদ।

ভারতের উনত্রিশতম রাজ্য হিসাবে তেলেঙ্গানার ঘোষণায় বিভিন্ন ছোট রাজ্যের দাবি নতুন শক্তি পেয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে তেলেঙ্গানার দাবির। যা ন্যায্য আর ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে বাস্তবসম্মত। তাছাড়া তেলেঙ্গানা স্বাতন্ত্রে উজ্জ্বল। সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, ধনবাদ আর সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী রাডিকাল গণসংগ্রামের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এই অঞ্চল।

আরও যেটা লক্ষণীয়, তেলেঙ্গানা প্রাকৃতিক সম্পদেও সমৃদ্ধ। আর অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের জনসংখ্যার চল্লিশ শতাংশই বাস করেন সেখানে। কিন্তু তেলেঙ্গানা উপেক্ষিতই রয়ে গিয়েছে। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও তেমন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলি। যারা সাম্রাজ্যবাদীদের দালালি আর শাসক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষাতেই ব্যস্ত থেকেছে। অপেক্ষাকৃত উন্নত অন্ধ্র অঞ্চলের ধনিক শ্রেণীও দমনপীড়ন ও শোষণ চালিয়ে এসেছে তেলেঙ্গানায়।

বিগত কয়েক দশক ধরেই অবশ্য আন্দোলন চলছে স্বতন্ত্র তেলেঙ্গানার দাবিতে। বিশেষ করে উনিশশো উনসত্তর সালে এই আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠেছিল। কংগ্রেস সরকার তখন নির্মমভাবে সেই গণআন্দোলন দমন করে। আন্দোলনকে দুর্বল করতে শাসক শ্রেণী তেলেঙ্গানা ও সীমান্ধ্রের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ষড়য্ন্ত্রও করেছে। তবে তেলেঙ্গানার মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করতে পারেনি তারা। মানুষ বারংবার রাস্তায় নেমেছেন পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্যের দাবিতে। আর এই আন্দোলনে সামিল হয়েছেন সমাজের সমস্ত অংশের মানুষ। যে সতস্ফূর্ত গণবিক্ষোভ তেলেঙ্গানার জনগণের ঐক্যের পথ প্রশস্ত করেছে। বিভিন্ন সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দল (যেমন কংগ্রেস, টিআরএস, টিডিপি ইত্যাদি) ভোটে ফয়্দা তুলতে এই আন্দোলনকে হাইজ্যাক করার চেষ্টা করেছিল। তবে সেটাও সম্ভব হয়নি। কারণ এই আন্দোলনের ক্রমে প্রসার ঘটেছে। আর তা কোনও একক রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকেনি।

পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নিপীড়ন থেকে এঅঞ্চলের জনসাধারণের মুক্তির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। তবে এখনও অনেক পথ চলা বাকি। সেচের জন্য তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্র অঞ্চলের মানুষের মধ্যে কৃষ্ণা নদীর জলবন্টনের সুসমন্বিত ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। শুধু নগরকেন্দ্র হায়্দ্রাবাদে নয়, তেলেঙ্গানার প্রান্তীয় এলাকায় অর্থাৎ গ্রাম ও মফস্বল অঞ্চলেও উন্নয়নে জোর দেওয়া দরকার অসম বিকাশের সমস্যা মোকাবিলার জন্যে। আর তেলেঙ্গানার আদিবাসী, মহিলা, দলিত, ধর্মীয় এবং ভাষাগত সংখ্যালঘু সহ সমস্ত অংশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও সম্পদের সুষম বন্টনের বিষয়্টি সুনিশ্চিত করতে নবগঠিত রাজ্যে উপযুক্ত নীতি গ্রহণ করা জরুরি। যে দাবিতে সোচ্চার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।।

 

তথ্যসূত্র

[] “Telangana will be 29th state, Hyderabad to be common capital for 10 years’’, 30.07.2013.

http://articles.timesofindia.indiatimes.com/2013-07-30/india/40894864_1_telangana-agitation-separate-state-movement-andhra-pradesh

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s