abstract_art_4খুন

খুব জমেছে আড্ডা :

ও দিকে স্যাঁকা হচ্ছে কাবাব,

এদিকে গেলাশে লালচে সুরা।

বয়ান করছে সবাই, উস্‌কো দাড়িটেকো মাথাখুস্‌কো চুলবিপ্লবী গোঁফ :

আধুনিকতা বাসি। মানেকি, বোদলেয়ারএর শব :

উদ্ভূত অন্ত্রনালিতে ছলোচ্ছল কৃমি রাস্তায় রৌদ্রদগ্ধ।

কের্‌মে–কের্‌মে সবাই বাগ্মী তুরুপ মারে।

 

– “মশাই, ব্যাখ্যা দেয়া তো কবির দায়িত্ব নয়, পাঠককে

নিজে বুঝে নিতে হবে”।

– “আজকাল কার পড়ুয়ারা এত অলস কেন, শব্দ … শব্দ …

সব তার মধ্যে : বজ্রশব্দসিন্ধুশব্দব্রহ্মশব্দ”?

পালাও, পালাও এখানে না থেকে অনন্তে যাত্রা করো :

র‍্যাঁবোর সঙ্গে আবিসিনিয়ায়,

নেরুদার সঙ্গে রেঙ্গুনে।

সবার চোখের লেগুনে নৌকো,

হাওয়ায় বাতি তির্‌তির্‌ করে কাঁপে।

একজন তামাকের লাকান এক পাতায় ফুকো মুড়িয়ে

ফুক্‌ফুক্‌ করে ফোঁকে ।

আরেকজন দেখি, চণ্ডীদাসএর এক পদ্যলেখা ভূর্জপত্র নিয়ে

মাটিতে ফেলে কোন এক মৈথিলী শব্দে ভারী হাতুড়ি দিয়ে

পেরক ঠুকছে ; হাতুড়ির ব্র্যান্ড, দেরিদা।

– “কি করো! কি করো!”

– “শব্দ তো ক্রিস্টালের পরতের পর পরত, এক অর্থের

মধ্যে আরেক অর্থ : অর্থনৈতিক, ঔপনিবেশিক, নৃতাত্ত্বিক।

তাই অভ্যন্তরের ভিতরে অভ্যন্তর খুঁজছি”।

 

তখুনি, আমি আমার কায়ার থেকে আমাকে বার ক’রে নিয়ে

বুকশেলফের তৃতীয় তাকে জীবনানন্দর সমগ্র কবিতার

পাশে নির্বাক মাছি হয়ে বসি বুঁদ।

হা হয়ে দেখি, সবাই ছুরিচাপাতি দিয়ে আমার ধড় জবাই করলো –

কেউ ঠ্যাং ঠেসে, কেউ বুক চিপে, আবার কেউ হাত দুমড়িয়ে – চাকু।

যাকে সবচেয়ে নিরীহ মনে হতো, সেই সবচেয়ে হিংস্র।

তারপর ভোজালি দিয়ে কেটে টুকরোটুকরো, বটিবটি করলো,

শিকেয় গেঁথে – সুরুয়া, মশলা সমেত – আগুনে চড়ালো।

ঘুরিয়ে, মুড়িয়ে, পুড়িয়ে প্লেটে ঢেলে একজন হাঁকলো :

বেয়ারা, সালাদ দে।।

——————————-

 

জ্যাহীন তীর

অন্যান্য মানুষের মতো

বাদামী ত্বকের পরে সবুজাভ শার্ট প’রে ঘুরেছে শহর,

চেঁচিয়েছে রেস্তোরাঁয়

আড্ডায় তুড়ি মেরে তর্ক ক’রে।

রাস্তায় দ্যাখা হলে ঘাড় নেড়ে বলেছে সে:

 

ভালো আছো!

 

সংস্কৃতি, রাজনীতি, ডায়ালেকটিকস্ তর্কে তার

তারস্বর শোনা গেছে।

মুজিব ও প্রত্যয়, বাঙালি ও বিশ্বাসইতিহাস,

বিতর্কে ব্যাধের মতো ছুঁড়েছে নিপুণ আলোচনা

দামী ইস্কাপনটেক্কা যেন।

ফেব্র“য়ারির পথেপথে সেও ছিলে,

বৈশাখের গানেগানে

উন্মুখর অভ্যুত্থানে।

 

ভাবতে অবাক লাগে,

পার্থিব এই সব লোক

সহসাই হয়ে যায় দেহহীন, মুণ্ডুহীন নৃশংস চোখ।

 

মৌমাছির কুঞ্চিত অন্ধকার ঢোকে আত্মায়।

দৃষ্টি ও দীক্ষার দুটো চোখ নিবে

কুৎসিত ক্বাথটানে শুয়োরের স্থবিয়ান সংসর্গ।

পেষে দাঁত

ফোঁড়ে ঠোঁট

দন্ত্যজ ক্রোধ স্খলে লোল যতো রোল

* * *

জ্যাহীন তীরের মতো পরিক্রম করে শহর,

দেহহীন চীৎকারের মতো বিদ্ধ করে শরীর।

 

তুমি কি মোগল উদ্যানে চারু ফোয়ারা জল,

নিসর্গে মাছ রূপ পেয়ে যায় যাও ইন্দ্রতল!

——————————————-

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s