উত্তারাধিকার সূত্রে

window-6উত্তরাধিকার সূত্রে তুমি ও তুমি পেয়ে গেছো

এই দেহ ও মন। যদিও তুমি ও তোমার সাথে

কখনো সেভাবে হয় নাই মিলন।

 

দূর থেকে সূর্যের মতন তুমি টেনে নিচ্ছো আমার

জীবনের অনন্ত অধ্যায়। মিটেনা তোমার তৃষ্ণা ও ক্ষুধা

কিছুতেই। আমার মতো আরো অনেকেই লাখে লাখে

কোটি কোটি মানুষের প্রাণ নিয়া ইচ্ছামতো তুমি

ও তুমি খেলিতেছো, উত্তারাধিকার সূত্রে।

 

প্রাণের চাপে গিনিপিগ প্রাণ, তোমাদের নিরীক্ষা

তুমি ও তোমার সুভাসিত বস্ত্রের ভাজে ভাজে

আমরা করছি অনন্ত ইবাদত।

 

তুমি ও তোমার সুডৌল, অনন্ত ক্ষুধার্ত মাংসের ভাজে

ভাজে আমাদের রক্ত দিয়ে, আমরা সাজাচ্ছি কাম

অজস্র অবদমন আর সঙ্গমে আমরা হারাচ্ছি

আমাদের অস্তিত্ব, হারিয়ে যাচ্ছি নিথর

ব্ল্যাকহোল সম তোমাদের ক্ষমতার গুপ্ত যৌনাঙ্গে।

————————————————–

 

বস্তুর ভেতর নিহিত চেতনা

সকালে পড়া বইটির যে চেতনা আমাকে গ্রাস করলো

তা লুকিয়ে ছিল বই নামের বস্তুটির ভেতর।

তেমনি যিনি বইটি লিখেছিলেন। তিনি তার চেতনাকে

পুঞ্চিভূত করেছিলেন বই নামের বস্তুটির ভেতর।

ভাবছি বস্তু থেকেই চেতনার বিকাশ তেমনি

চেতনাই পরিণত হয় বস্তুর গভীর আত্মায়।

 

মানুষ কতটুকু দুনিয়াকে জানতে পারে, এই দার্শনিক প্রশ্নে

আমি আর থমকে দাড়াই না। মানুষ জানতে পারে

বস্তু যখন হয়ে উঠে ক্রমাগত উৎপাদনের হাতিয়ার।

আর রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপুঞ্জ, যুদ্ধ ও বিদ্রোহ শ্রেণি চৈতন্য

এমনকি তোমার আমার প্রেম, স্বপ্ন

ও অনিবার্য বিচ্ছেদ নিহিত কেবল উৎপাদন সম্পর্কের ভেতর!

————————————————————–

 

উলঙ্গ কই মাছ

লোডশেডিংয়ের অন্ধকার। বিদ্যুৎ আসেনা।

জানলা খুলে দিই মশারা আসে, বিরামহীন

কনসার্টে তারা জাগিয়ে রাখে।

শুয়ে থাকি দিগম্বর, সারাদিনের তাপ জমিয়ে

রাখা ফ্লোরে। তাপছাড়া গরমের ভেতর শুয়ে

থাকি যেন তাওয়ায় শুয়ে ছটফট করা

এক উলঙ্গ কই মাছ।

————————

 

নয়া আশাবাদ

প্রতিদিন অগুন্তি মানুষের সাথে তৈরি হয় সম্পর্কের সেতু।

হাটতে হাটতে এসব মানুষের কারো পা ক্ষয়ে যাচ্ছে

কারো হাটু। ধরতে ধরতেই সরে যাচ্ছে হাত।

এভাবেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে সেতুগুলো।

 

শহরেগ্রামে, বাসে বা লঞ্চে বসে মানুষগুলো

সেই সেতু দিয়ে আমার কাছে পাঠাচ্ছে অজস্র দীর্ঘশ্বাস

অভিযোগ। এরপাশেই গড়ে উঠছে পরদেশি শকুনের সাথে

দেশি লাশের সম্পর্কের সেতু।

 

আমার কাছে দীর্ঘশ্বাস গচ্ছিত রেখে জীবন সপে দিচ্ছে

তারা উৎপাদন সর্ম্পকের কাছে, যন্ত্রের নিত্যতার কাছে।

চারিদিকে এত এত মানুষের দীর্ঘশ্বাস, ক্রন্দন, অভিযোগ

আমাকে ক্রমশ আশাবাদি করে দিচ্ছে।

——————————————

 

কবিতার ভাষা, তুমি কি কেবল আত্মরতি!

কবিতা কি বলের চাইতে, প্রশ্ন জাগে

কবিতায় কি বলা যায়।

বিমুখ থাকি কবিতা থেকে গণমানুষের মতো

যেখানে শুধু ব্যক্তিগত বাসনার চিমনির ধুয়ায়

ঢেকে যায় আকাশ।

 

শুধু প্রেম, পরস্ত্রী ভোগের বাসনা, সোনালি

অলঙ্কারের মতো শব্দের বেসাতি

শেষে বিছানার কাতরতা, অরক্ষিত সন্তানের ক্রন্দন

এমন এক ভাষা, যা বুঝেনা হরিজন

কবিতার ভাষা, তুমি কি কেবল আত্মরতি!

 

ফের যুক্ত হই, ভাবি মানুষের সামগ্রিক যাত্রাপথে

এ এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, যেখানে অন্ধকারে

কিলবিল করছে ইশ্বরের ছানাপোনা

জীবন আদালতের বারান্দায় সঙ্গমের আবেদন

পত্রের লেখকরা শাসন করছে এই অন্ধকার।

———————————————-

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s