লিখেছেন: আবিদুল ইসলাম

us-aggressionএকটি জাতির স্বাধীনতার সংগ্রাম কিংবা আগ্রাসনবিরোধী লড়াইয়ে আরেকটি রাষ্ট্রের সহযোগিতা গ্রহণ বিরল কোনো দৃষ্টান্ত নয়, বরং ইতিহাসে এর উদাহরণ ভুরি ভুরি। চিয়াং কাইশেকের সরকারের বিরুদ্ধে চীনা বিপ্লবে যেমন সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্য নেয়া হয়েছিল তেমনি ভিয়েতনামে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভিয়েতকংয়ের নেতৃত্বে গেরিলা লড়াইয়ে পাওয়া গিয়েছিল গণচীনের সহযোগিতা। এছাড়া সারা বিশ্বেই বিপ্লব ও রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালিত হয়ে থাকে সে দেশের আপন ভূমিতে বসেই। কিন্তু স্বাধীনতার লড়াই চালাতে গিয়ে পুরো যুদ্ধ পরিচালনার কেন্দ্র দেশ থেকে সরিয়ে অন্য দেশে স্থাপন এবং সেই দেশের ওপর পরিপূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে যুদ্ধ পরিচালনার দৃষ্টান্ত মনে হয় বিশ্বে একটাই আছে। ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই পাকিস্তানি সামরিক সরকার পূর্ব বাংলার মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের বাসনাকে ভেঙে চুরমার করবার চক্রান্ত হিসেবে পূর্ব বাংলায় মিলিটারি ম্যাসাকার করার যে পরিকল্পনা করে তার সংবাদ যে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ কিছুই জানতেন না এমন নয়। সামরিক/বেসামরিক সূত্র থেকে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে এসব বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল এবং বাংলার মানুষকে একটি সামরিক যুদ্ধ ও গণপ্রতিরোধ সংগঠনের জন্য প্রয়োজনীয়রূপে প্রস্তুত করে তোলার জন্য পরামর্শও প্রদান করা হয়েছিল। সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এই সংবাদ জেনেও ছিলেন উদাসীন, কিংবা বলা ভালো ১৯৭০ সালের নির্বাচনের রায় অনুযায়ী সরকার গঠনের স্বপ্নে বিভোর। সামরিক সরকার কর্তৃক গণপরিষদ অধিবেশন স্থগিত কিংবা বারবার তারিখ পরিবর্তন সত্ত্বেও এর তাৎপর্য সম্পর্কে দেশের মানুষকে সচেতন ও প্রস্তুত করে তোলার কোনো তাগিদ তিনি অনুভব করেন নাই। বরং মার্চ মাসেও যখন রাজপথ প্রকম্পিত গোল টেবিল না রাজপথরাজপথ, রাজপথকিংবা বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, পূর্ব বাংলা স্বাধীন করোপ্রভৃতি শ্লোগানে তখন পাকিস্তানি সর্বোচ্চ সামরিক নেতৃত্ব ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। সেই বৈঠকের ফলস্বরূপ কী সিদ্ধান্ত অথবা সিদ্ধান্তহীনতার উদ্ভব ঘটেছিল তা জানা যায় নাই। বস্তুত, ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চ লাইটের আগে পূর্ব বাংলার সরকারিবেসরকারি সামরিকবেসামরিক সব এলিমেন্ট ছিল এমন একটি আগ্রাসন ও নৃশংস গণহত্যা মোকাবেলার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায়। এমন পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ঘরে বসে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর কাছে ধরা দিলেন এবং অপরাপর নেতৃবৃন্দ দিশেহারা অবস্থায় পালিয়ে গেলেন ভারতে। দেশের জনগণও এই বর্বর আক্রমণের মুখে দিশেহীন হয়ে এবং সামনে ভরসা করার মতো কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেখতে না পেয়ে জীবন বাঁচানোর তাগিদে সংখ্যায় লক্ষ লক্ষ হয়ে পাড়ি জমালেন সীমান্তের ওপারে, অনেকে উদ্বাস্তু হলেন দেশের অভ্যন্তরেই। শহরের লোকজন আশ্রয় নিলেন গ্রামে, গ্রামের মানুষ দেশের আরো প্রত্যন্ত অঞ্চলে। পাকিস্তানি হায়েনা বাহিনীর হাতে তো বটেই, এভাবে পথে পথে কিংবা সীমানা পাড়ি দিতে গিয়েও প্রাণ হারালেন হাজার হাজার মানুষ।

অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের মূলকেন্দ্র ভারত রাষ্ট্রে স্থাপন করে আওয়ামী নেতৃত্ব তাদের শাসক গোষ্ঠীর হাতে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার প্রধান দায়িত্ব সঁপে দিয়ে নিজেরা গ্রহণ করলেন সহযোগীর ভূমিকা। ফলস্বরূপ যা হওয়ার তাই হলো। পশ্চিমবঙ্গে তৎকালীন নকশালবাড়ি আন্দোলনের জোয়ারে কম্পমান ভারত সরকার পূর্ব বাংলায়ও যাতে স্বাধীনতার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তি জোরদার হতে না পারে তার জন্য মুক্তি বাহিনীতে কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাপের (মোজাফফর) অধীন ছাত্রকর্মীদের যোগদানের ক্ষেত্রে যথাসম্ভব বাধা সৃষ্টি করে, বিপ্লবী কমিউনিস্ট রাজনৈতিক নেতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দমনের জন্য ‘-এর তত্ত্বাবধানে দেরাদুনে রাজ্জাক, তোফায়েল, ফজলুল হক মণি প্রমুখের নেতৃত্ব মুজিব বাহিনীকে আধুনিক অস্ত্র সহ প্রশিক্ষণ দিয়ে, স্বাধীনতার যুদ্ধের বাঙালি নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের হাতে বহাল রাখার ব্যবস্থা করল। একই সাথে যুদ্ধকালীন যৌথ সামরিক তৎপরতার সামগ্রিক নেতৃত্ব যাতে ভারতের হাতে থাকে সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হলো। ভারতে আশ্রয় নেয়া আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ (মোজাফফর), কংগ্রেস প্রভৃতি রাজনৈতিক দলের ভূমিকা এক্ষেত্রে তাদের সহায়ক হয়েছিল। ডিসেম্বরে মুক্তি বাহিনী এবং ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমান্ডের নেতৃত্বও তাই ছিল ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ অরোরার হাতে। মূলত তার কাছেই পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পণ করেন। ঐ সময়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী প্রধান ওসমানী অনুপস্থিত থাকলেও ডেপুটি প্রধান এ কে খন্দকার আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তার কাছে নিয়াজী আত্মসমর্পণ করলেন না, কেননা পাকিস্তান তখনো বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দ্যায় নি। এটা ছিল এক হিসেবে অদ্ভুত যুক্তি। কেননা তৎকালীন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণ ছিল পূর্ব বাংলার স্বাধীনতাকে এবং পাকিস্তান রাষ্ট্র থেকে তার বিচ্ছিন্নতাকে মেনে নেয়ারই নামান্তর। কিন্তু যুদ্ধে পরাজিত একটি বাহিনীর দেয়া শর্তের অধীনে আত্মসমর্পণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। এ ছিল এক আজব ব্যাপার। আজব হলেও ১৬ ডিসেম্বরে এই ঘটনাই ঘটেছিল।

ভারত যে ভরসায় আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতা যুদ্ধের নিরঙ্কুশ রাজনৈতিক নেতৃত্বে বহাল রাখার জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করেছিল ক্ষমতাসীন হয়ে লীগ সে বিষয়ে তাদেরকে হতাশ করে নি। স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের অধীনে যে সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার ওপর ছিল ভারত রাষ্ট্র ও তাদের বড় পুঁজির স্বার্থের আধিপত্য। পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়নকে সাথে নিয়ে তারা সেই আধিপত্যের সদ্ব্যবহার করেছিল। কিন্তু পাকিস্তানি শাসক চক্রের সামরিক ষড়যন্ত্র শুরু হওয়ার সাথে সাথেই যদি দেশবাসীকে এ বিষয়ে সচেতন করে, পূর্ব বাংলার সামরিকবেসামরিক প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে শুরু থেকেই এই ষড়যন্ত্র ও আগ্রাসন প্রতিরোধের ও সম্ভাব্য যুদ্ধ মোকাবেলার রাজনৈতিক ও সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হতো, যদি সঠিকভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হতো পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক নেতৃত্ব, তাহলে ক্ষেত্রবিশেষে ভারতের সাহায্য গ্রহণ করার প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ওপর তার আধিপত্য ও প্রভাব এমত নিরঙ্কুশ হওয়া সম্ভব ছিল না। কিন্তু এসব বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের যোগ্যতার অভাব এবং একই সাথে নির্বাচনমুখী রাজনীতির ওপর তাদের মেরুদণ্ডহীন নির্ভরশীলতার প্রাবল্যের কারণে তা আর হলো না।

বাংলাদেশের ওপর ভারত রাষ্ট্রের আধিপত্যের অবসান এরপর কোনো দিনই আর হয় নি। সেটা যে হয় নি, তার পক্ষে হাজারো প্রমাণ হাজির করা যায়, এ দেশের জনগণ সে বিষয়ে তাদের দিনানুদৈনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সম্যক অবহিত আছেন। বর্তমানে সুন্দরবনের রামপালে ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার কোম্পানির কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন নিয়ে শিক্ষিত তরুণ মহলে বেশ প্রতিবাদপ্রতিরোধের ঝড়ঝাপটা চলছে। কিন্তু এই প্রতিবাদপ্রতিরোধ ইত্যাদি অধিকাংশই ঘটছে নিছক একটি প্রকল্পবিরোধিতার আদলে, অনেকটাই যেন পরিবেশবাদী আন্দোলনের চরিত্র পরিগ্রহ করে। বলা হচ্ছে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সুন্দরবনের পরিবেশ ধ্বংস হবে, জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হবে ইত্যাদি। কিন্তু এই প্রকল্পের পেছনে ভারত রাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র ও তার বৃহৎ পুঁজির স্বরূপ ইত্যাদি বিষয়ে অনেকেই সঠিকভাবে রাজনৈতিক সচেতন নন। এ জাতীয় প্রতিবাদে আসলে বৃহৎ রাষ্ট্র ভারতের কোনো প্রকৃত সমস্যা হওয়ার কথা না। শুধু ভারতই নয়, সারা বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী বিভিন্ন প্রকল্পের বিরুদ্ধে নানা চেহারার ও ধরনের পকেটপ্রতিরোধ জারি থাকে। এই প্রতিরোধজাতীয় বিষয়গুলো মূলত পরিচালিত হয় সাম্রাজ্যবাদের অধীনে প্রণীত নির্দিষ্ট প্রকল্পকে মোকাবেলার তাগিদে, সামগ্রিকভাবে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে নয়। প্রতিরোধের তীর কখনোই চূড়ান্ত লক্ষ্যবস্তুর দিকে তাক করা হয় না। এ ধরনের পকেটপ্রতিরোধের কর্মসূচিতে বরং সাম্রাজ্যবাদীদেরই সুবিধা। জনগণের ক্ষোভের বাষ্প এইসব বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধের জানালা দিয়ে সহজেই বের করে দেয়া যায়, এর দ্বারা তাদের স্বার্থের ওপর কোনো মৌলিক আঘাত আসে না। কিন্তু রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রবিরোধী আন্দোলনকে যদি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের সাথে সংযুক্ত করে তার অধীনে একে পরিচালিত করা যায় তাহলেই কেবল এটি ফলপ্রসূ হতে পারে।

ভারতের শাসক শ্রেণী শুধু বাংলাদেশ নয়, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল থেকে শুরু করে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার মুক্তিকামী জনগণের সাধারণ শত্রু। একই সাথে তা নিজ দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষেরও শত্রুপক্ষ। ভারতীয় শাসক শ্রেণী আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদের সাথে মিলিত হয়েই দেশিবিদেশি বড় পুঁজির স্বার্থের অধীনে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে নিজ দেশের দলিত ও আদিবাসী সম্প্রদায় সহ দরিদ্র জনগণকে তাদের বাস্তুভূমি ও জীবিকার সংস্থান থেকে উচ্ছেদ করছে। বড় বড় বাঁধ নির্মাণ, বিদ্যুৎ প্রকল্প, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার স্বার্থে দখল করা হচ্ছে তাদের ভূমি, জলাশয়, চাষাবাদের ক্ষেত্র। ভারতের নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর ও জঙ্গলমহাল এই সমস্ত ঘটনার সুপরিচিত দৃষ্টান্ত। এসবের বিরুদ্ধে জনগণও সংগঠিত হচ্ছেন, পাল্টা সহিংস আক্রমণ পরিচালনা করছেন। সেখানে জনগণের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। এসব উচ্ছেদনিপীড়নরাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের পাশাপাশি তাই ভারতের শাসক গোষ্ঠী কর্তৃক সালওয়া জুডুম প্রভৃতি বেসরকারি বাহিনী দাঁড়া করিয়ে এর বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্দোলনসংগ্রাম প্রভৃতি দমনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে সেখানকার জনগণ ও তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন বহুদিন যাবত ভারতীয় বড় পুঁজির কবল থেকে মুক্তির লক্ষ্যে লড়াইসংগ্রাম চালাচ্ছেন। ভারতীয় বৃহৎ পুঁজির আধিপত্য থেকে মুক্তির জন্য সেখানকার জনগণের লড়াইসংগ্রামকে এই পুঁজি এবং এর স্বার্থের পাহারাদার মিডিয়া ও রাজনৈতিক দল কর্তৃক আখ্যায়িত করা হয় বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতাহিসেবে, স্বাধীনতা সংগ্রামীগণ আখ্যায়িত হন বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীহিসেবে। এদের সাথে সুর মেলায় বাংলাদেশে তাদের তাবেদার শাসক গোষ্ঠী। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগবিএনপির মধ্যে আচরণগত কোনো ভিন্নতা নেই। ভারতের সাথে বাংলাদেশের কোনো বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকলেও পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহের মুক্তি সংগ্রামী নেতৃবর্গ এ দেশে আশ্রয় গ্রহণ করলে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়। ভারতের শাসক গোষ্ঠীর স্তাবক ও স্বার্থের তল্পিবাহক এ দেশীয় শাসক শ্রেণী ও মিডিয়ার কল্যাণে দেশের জনগণের বড় অংশই অনুপ চেটিয়া সহ উলফা এবং এ ধরনের অন্যান্য নেতা ও গেরিলা সংগঠনকে চেনেন সন্ত্রাসী ব্যক্তি ও সংগঠন হিসেবে। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং এই যুদ্ধের চেতনা নিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলা রাজনৈতিক মহল ও প্রচার মাধ্যমেকে এ সমস্ত বিষয়ে দেখা যায় সকল তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দুতে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জনগণের, এমনকি ভারতের নিপীড়িত মানুষেরও মুক্তির লড়াই ভারত রাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনকে মোকাবেলা না করে শুধু বিচ্ছিন্নভাবে সংগঠন ও পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় জনগণের মৌলিক ও অভিন্ন স্বার্থের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের মধ্য দিয়েই কেবল ভারতীয় জাতীয় পুঁজি সহ আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির স্বার্থরক্ষক শাসক শ্রেণী ও তাদের ছোট তরফ দক্ষিণ এশীয় অন্যান্য শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমগ্র উপমহাদেশের জনগণের মুক্তির লড়াই অর্থবহ হতে পারে। আর এই ঐক্য স্থাপন সম্ভব জনগণের রাজনৈতিক শক্তি এবং এই শক্তির মূর্তরূপ হিসেবে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমেযে সংগঠন নিজ ভূমিতে তার চারিপাশে শক্তি সমাবেশের মধ্য দিয়ে প্রতিরোধসংগ্রামের বিকাশ ও বিস্তার ঘটাবে, এর সমান্তরালে দেশে দেশে পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে স্থাপিত হবে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে মানুষের সাথে মানুষের অভিন্ন সম্বন্ধসূত্র।।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s