লিখেছেন: জাহেদ সরওয়ার

anti-terrorism-act-2বাংলাদেশে সম্প্রতি পাশ হওয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন’র সংশোধনী ও সংযুক্ত ধারাগুলো বেশ আন্তর্জাতিক। হয়তো আন্তর্জাতিক হওয়াই বাঞ্চনীয়। কারণ আমরা বিশ্বায়নের কারণে দুনিয়াটাকে গ্লোবাল ভিলেজ বলে ডাকছি। কিন্তু কথা হচ্ছে দেশিয় আইনকে বিশ্বায়িত করতে গিয়ে তাতে যদি খোদ নিজের দেশের নাগরিকদেরই আতংকিত হবার অবকাশ থাকে তাহলে সেটা নিয়ে বাহাস করার দরকার আছে বৈকি। অবশ্য এই বিশ্বায়নের যুগে ‘সন্ত্রাসবাদ’ বা টেররিজমের সংজ্ঞাও সমালোচনার যোগ্য। যেহেতু সন্ত্রাসবাদ বিশ্বায়নেরই একটা পণ্য। ইতিমধ্যে শ্রেণীবিভাজিত দুনিয়ায় ধনীদরিদ্রের স্বার্থ যেমন এক হতে পারে না তেমনি প্রথম বিশ্ব ও তৃতীয় বিশ্বের স্বার্থও এক হতে পারে না। এবং দুনিয়ার বিকাশ থেকে বুঝতে হবে যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কেন্দ্রিক বিকাশে অবশ্যই মুনাফার অ্যাজেন্ডা থাকবে। তো মুক্তবাজারের উসিলায় যেভাবে প্রথম বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বে স্বাভাবিক থাকতে পারে অন্য কোনো উপায়ে নয়। মুনাফা সভ্যতার আদিকথাই হচ্ছে একজনকে ঠকতে হবে। একজন না ঠকলে লাভ হবে কেমন করে? সমান মজুরি সমান শ্রম হলেতো কোনো লাভই হলোনা। নিশ্চই শ্রমের চাইতে মজুরি কম হতে হবে তাহলে সেই কমটা মজুরি দাতার ভাগে পড়বে। আবার সেই শ্রমে তৈরি পণ্য বিক্রেতাও আরো লাভ করবেন বৃহত্তর পণ্য ক্রেতার কাছে।

যাইহোক প্রথম বিশ্ব যখন তৃতীয় বিশ্ব তথা এশিয়া আফ্রিকা থেকে পুঁজি সংগ্রহ করে তখন এশিয়া আফ্রিকা ছিল ঘুমন্ত অথবা এতই নৈতিকতাশ্রয়ী যার সাথে একমাত্র মহাত্মা ভলতেয়ারের ‘কাঁদিদ’র এলদোরাদোর বাসিন্দাদেরই তুলনা দেয়া যেতে পারে। প্রসঙ্গক্রমে বলা যায় ‘কাঁদিদ’ যদি নীতিবাদী দার্শনিক ভলতেয়ারের নীতিবাদী উপন্যাস না হয়ে ইতিহাস হতো তাহলে ইতিহাসের ছাত্রছাত্রীরা এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতেন যে ‘এলদোরাদোর আবিষ্কারক কে?’ উত্তর হতো ‘কাঁদিদ’। যেমন আমরা বলি আমেরিকা কে আবিস্কার করেন? উত্তরে বলি ‘কলম্বাস’। তাহলে দেখা যাক চাকার আবিষ্কার কে করেন? টেলিভিশনের আবিষ্কার কে করেন? রেডিও কে আবিষ্কার করেন? এইসব প্রশ্নের নানান উত্তর আছে শিক্ষার্থীদের কাছে। অর্থাৎ, যে জিনিস আগে কখনো ছিল না সে রকম একটা জিনিস উদ্ভাবন করাকেই আমরা আবিষ্কার বলি। তাহলে যখন বলি কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেন। তখন কিন্ত মেনে নেয়া যায় না। কারণ কলম্বাস আমেরিকার উপকূলে পৌছার আগেও সেখানে মানুষের বসবাস ছিল। তাহলে এই আবিষ্কার পড়নাটা আমেরিকার আদিবাসি তথা রেড ইন্ডিয়ানদের চোখে একরকম আবার ইউরোপীয়ানদের চোখে আরেক রকম। আমরা যদি রেড ইন্ডিয়ানদের তৈরি করা ইতিহাস পড়তাম সেখানে হয়তো কলম্বাসদের দেখানো হতো জলদস্যু হিসাবে, যারা রেড ইন্ডিয়ানদের জানমাল, নারী, শিশুদের লুট করেছিল আর পুরুষদের হত্যা করে সমুদ্র ভারী করেছিল লাশ ফেলে। যারা আমেরিকার আবিষ্কারক নয় ছিলেন দখলদার।

সেই দখলদার ইউরোপীয়ানদের আমেরিকাই এখানকার ইতিহাসের বিজেতা ও লেখক। তাই তাদের তৈরি করা ইতিহাসই আমাদের পড়তে হয়। তো আফ্রিকা আবিষ্কার করে তারা ধরে নিয়ে এসেছিল লাখ লাখ কালোদের। যাদের দেহ থেকে তথা যাদের রক্ত ও শ্রম থেকে প্রচুর পুঁজি বানানো হয়। ভারত আবিষ্কার করে বৃটিশ সাম্রাজ্য নিয়ে গিয়েছিল ভারতবর্ষের অনাবিল সম্পদ। খোদ মমতাজের মাথার কহিনুর হীরা এখনো শোভা পায় বৃটেনের রাণীর মাথায়। তো এইযে ভারত শোষণ ও সাম্রাজ্যবাদীদের বিতাড়ন। যখন ভারতের নীতিবাদী মানুষ বা ঘুমন্ত মানুষ তাদের অধিকার সম্পর্কে সোচ্ছার হলো, যখন তারা দেখলো অনেক ভালো ভালো কথার আড়ালে আসলে লুটপাট ছাড়া সাম্রাজ্যবাদীদের আর কোনো লক্ষ্য নাই। একদিকে বৃটেনের আরো পুঁজি বাড়ানোর লোভ অন্যদিকে তাদের মুনাফা রক্ষার্থে করা রাষ্ট্র ব্যবস্থার চাপে ক্ষুদ্ধ ত্রাহি মানুষ। ফলে সশস্ত্র লড়াইয়ের ভেতর দিয়ে উভয়কে যেতে হয়। ফলে ভারতের স্বাধীনতা চাওয়া এই সব বিদ্রোহী মানুষের চরিত্র দাঁড়ায় সন্ত্রাসী হিসাবে। বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ তাদেরকে উপাধি দেয় ‘টেরর’ বা আতংকবাদী বা সন্ত্রাসী। তাদের কাজকর্মকে আখ্যায়িত করে ‘টেররিজম’ ‘আতংকবাদ’ বা ‘সন্ত্রাসবাদ’ নামে।

শুধু ভারতে নয়, দুনিয়ার বহু এলাকায় আগ্রাসীরা মুক্তিকামী মানুষের নাম দিয়েছে সন্ত্রাসী। তাদের কাজকর্মকে তারা আখ্যায়িত করেছে সন্ত্রাসবাদ বা টেররিজম নামে। বর্তমানে যেই মুনাফাচক্র লাতিন আমেরিকার রাষ্ট্রগুলা থেকে কিউবা, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকো, ভেনিজুয়েলা, গুয়েতেমালা, ইকুয়েডরসহ আরো অনেক দেশ থেকে চিনি, টিন, তেলসহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদ আহরন করতো অবাধে, অনেক দেশ থেকে এখনো করে। অবাধে বাণিজ্য করার জন্য সে সব দেশে বসাতো মুনাফাবাজদের আজ্ঞাবাহী সরকার। তাদের দিয়ে করাতো নানান ধরণের আইন, যার সিংহভাগই ছিল জনবিরোধী। সেসব দেশের জনগণ যখন তাদের অধিকারের প্রশ্নে স্বোচ্ছার হলো তাদের বলা হলো টেররিস্ট। এই টেররিজম শব্দটা মুনাফাবাজদের প্রিয় শব্দে পরিণত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে জুনিয়র বুশই বোধয় সবচাইতে বেশি এই শব্দটা উচ্চারণ করে থাকবেন। শব্দটার অর্থবোধকতা বুঝাতে তিনি খুব চমৎকারভাবে এই শব্দটা উচ্চারণ করতেন। শুধু কি লাতিন আমেরিকায়, কোথায় নাই এই মুনাফাচক্র? এশিয়ায়, আফ্রিকায় প্রায় গোটা দুনিয়াতেই বিস্তারিত এই মুনাফা শিকারের জাল। যেখানে তেলের খনি, যেখানে সোনা, যেখানে অল্পদামে শ্রম, যেখানে গ্যাস মোটকথা যেখানে মুনাফার গন্ধ সেখানেই মুনাফালোভী এই চক্র তাদের পসার করে। তারা সেদেশের রাজনীতিতে মাথা ঘামায়, তারা প্রায় প্রতিটি দেশে তাদের প্রেসারগ্রুপ তৈরি করে রাখে। তারা রাষ্ট্র ও তার সরকারকে পরিণত করে তাদের পাহারাদাররূপে। সে সব রাষ্ট্র ও সরকারের মাধ্যমে এমন সব কালাকানুন তৈরি করে। যাতে মুক্তিকামী মানুষদেরকে সন্ত্রাসী বলে হত্যা করা যায়। অ্যান্টিটেররিজমের ধারণাটা মূলত টেররিজমের ভেতর থেকেই তৈরি। যেমন ধরেন অ্যান্টিটেররিজমের ধারণাটার উদ্গাতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারাই মূলত গোটাদুনিয়ায় এই ধারণার সাপ্লাইয়ার এবং প্রডিউসার। কিন্তু ব্যাপারটা উল্টালেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে। গোটাদুনিয়ায় অবাধ ব্যবসা বা অতি মুনাফার জন্য তাদের নিজেদের ক্ষেত্র বা কলোনি প্রতিষ্টার জন্য মার্কিন দেশ একেকটা দেশের স্বাভাবিক অবস্থাকে অস্থির করে তোলে। সেই আক্রান্ত দেশের ভেতর থেকে দেখলে ব্যাপারটা এমন দেখাবে যে সেখানে টেররিস্ট হচ্ছে মুনাফালোভী পুঁজিবাদ বা মার্কিন স্রাম্রাজ্যবাদ। অথচ সাম্রাজ্যবাদ নিয়ন্ত্রিত হলিউড, সংবাদ মাধ্যম, উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলার টেক্সটে দেখা যাবে তারা কতিপয় তৃতীয় বিশ্বের দেশকেই যারা নিজেদের অস্তিত্বের জন্য লড়ছে তাদের উপাধি দিচ্ছে টেররিস্ট। অর্থাৎ সন্ত্রাসবিরোধীতাও সন্ত্রাসবাধেরই একটা টার্ম। বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী আইন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এত ভূমিকা করতে হলো সন্ত্রাসবাদের এই বিশ্বায়নের কারণে।

যাইহোক বর্তমানে সংশোধিত সন্ত্রাস বিরোধী আইনটা বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সাথে খানিকটা পরষ্পরবিরোধী অবস্থান নেয়। সংবিধান নিজেই যদিও নিজের অনেক ধারার সাথে বিরোধপূর্ণ অবস্থান নেয়। যেমন ধরুন, বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার বিভাগের ৩৭ নং ধারায় উল্লেখ আছে;

জনশৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যর স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে এবং নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।’

এই বাক্যটাকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করবার সুযোগ আছে। একটা স্বাধীন দেশের মানুষ তাদের নানান অনুষ্ঠানে, জনসভায়, শোভাযাত্রায় এমনকি তারা যদি মনে করে বর্তমান সরকারের দ্বারা তারা যথেষ্ট সেবাপ্রাপ্ত হচ্ছে না, তার বিরুদ্ধেও জনসভায় অংশ নিতে পারে। এটাই গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার। অথচ এই আইনের লাইনে লাইনেই শর্ত আরোপ করা আছে। নিরস্ত্র অবস্থা, শান্তিপূর্ণভাবে, সর্বপোরি আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ সাপেক্ষে। তার মানে রাষ্ট্র চাইলে আইনের দ্বারা, যুক্তি দিয়ে যে কোনো জনসভাকেই সন্ত্রাসবাদী জনসভায় রূপান্তরিত করতে পারে। যদিও সব জনসভাকেই সরকার এরকম মনে করবে এমন ধারণা করার কারণ নাই, কিন্তু যদি সে চায় তাহলে পারে। অথচ আইনটা হতে পারতো,

জনশৃঙ্খলা, দেশ ও মানুষের কল্যাণকল্পে জনসভা বা শোভাযাত্রায় নাগরিকগণ যোগদান করিবে। যদি জনগণের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় তবে আইন সেটা খতিয়ে দেখবে।’

কথা হচ্ছে আগে জনগণের মৌলিক অধিকার ঘোষণা করা পরে শর্ত দেওয়া অথচ অধিকারের আগেই অজস্র শর্ত যুক্ত করে আইনটা বহন অযোগ্য ভারী, অচল আইনে পরিণত করা হয়েছে যাতে মনে হতে পারে এই ধারার ভেতর কোনো মৌলিক অধিকারই নাই আসলে।

চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা’ শিরোনামে সংবিধানের ৩৯ ধারায় বলা হয়েছে,

. চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল। ২. রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রসমুহের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি ও অপরাধ সংগঠনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা, যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ সাপেক্ষে ক. প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং খ. সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা নিশ্চয়দান করা হইল।

৩৯এর ১ ও ২ এই দুইটাই বর্তমানে পাশ হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সাথে সংঘর্ষপূর্ণ। চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা বা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তার পরিপন্থি হয়ে আছে এই সন্ত্রাসবিরোধী আইন। এই ধারা কেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের পরিপন্থী তা খতিয়ে দেখার আগে দেখা যাক এই আইনে কোন বস্তু সন্ত্রাস হিসাবে মর্যাদা পেয়েছে।

বর্তমান সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৬ ধারার খ.এ বলা হচ্ছে ‘অন্য কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত বা উহার সম্পত্তি বিনষ্ট করিবার অভিপ্রায়অনুরূপ কোনো অপরাধ সংঘটন করে বা সংঘটনের প্রচেষ্টা করে বা উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনের জন্য প্ররোচিত,ষড়যন্ত্র বা সহায়তা করে’।

. এ বলা হচ্ছে – ‘কোন আন্তর্জাতিক সংস্কাকে কোন কার্য করিতে বা করা হইতে বিরত রাখিবার জন্যঅনুরূপ কোনো অপরাধ সংঘটন করে বা সংঘটনের প্রচেষ্টা করে বা উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনের জন্য প্ররোচিত, ষড়যন্ত্র বা সহায়তা করে’।

. এ বলা হচ্ছে – ‘কোন সশস্ত্র সংঘাতময় দ্বন্দ্বের বৈরি পরিস্থিতিতে (hostilities in a situation of armed conflict) সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন নাই এইরূপ কোন বেসামরিক, কিংবা অন্য কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাইবার বা মারাত্মক শারীরিক জখম ঘটাইবার অভিপ্রায়ে এইরূপ কোন কার্য করে, যাহার উদ্দেশ্য, উহার প্রকৃতিগত বা ব্যাপ্তির কারণে, কোন জনগোষ্ঠীকে ভীতি প্রদর্শন বা অন্য কোন সরকার বা রাষ্ট্র বা কোন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কোন কার্য করিতে বা কোন কার্য করা হইতে বিরত থাকিতে বাধ্য করে; তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি, সত্তা বা বিদেশী নাগরিক ‘সন্ত্রাসী কার্য’ সংঘটনের অপরাধ করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

আগেই বলেছিলাম এই সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনেক বেশি আন্তর্জাতিক। শুধু এই ধারাগুলো নয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনের দোহাই দিয়ে এরকম আরো অনেক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সেসবে পরে আসছি। কেন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলার আইনগুলাকে অনেক বেশি আন্তর্জাতিক করে তোলা হচ্ছে? পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ পর্যায় সাম্রাজ্যবাদ মহাত্মা লেলিন বলেছিলেন। সেই পুঁজিবাদেরই বর্তমান চেহারা কর্পোরেটোক্রেসি। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, বহুজাতিক বাণিজ্যসংস্থা ও ঋণদাতা সংস্থাগুলো, দাতা সংস্থাগুলো ও প্রথম বিশ্বের কর্পোরেট হাউস, তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার গোয়েন্দা সংস্থাগুলার যৌথ আচরণ এই কর্পোরেটোক্রেসি।

একসময়ে এই কর্পোরেটোক্রেসির অংশিদার, বর্তমানে অ্যাকটিভিস্ট জন পার্কিন্স তার ‘এক অর্থনৈতিক ঘাতকের স্বীকারোক্তি’ বইয়ে বলেন, এই কর্পোরেটোক্রেসিই যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোকে নিরঙ্কুশভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। মাফিয়ার সদস্যদের মতই অর্থনৈতিক ঘাতকেরা সুযোগ সুবিধা বিলায়। এগুলো মূলত ভৌত অবকাঠামো, যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র, হাইওয়ে, সমুদ্রবন্দর, সেতু, রেললাইন, বিমানবন্দর ও শিল্প স্থাপনা নির্মাণের জন্য ঋণ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এসব ঋণের মূল শর্ত হচ্ছে এই যে, এসব ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের কাজ যেকোন আমেরিকান কোম্পানিকে অবশ্যই দিতে হবে। তাই প্রকৃত অর্থে ঋণের অর্থ কখনই যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যায় না। বরঞ্চ এটি ওয়াশিংটনের ব্যাংকিং হাউজ থেকে নিউইয়র্ক, হাউস্টন বা সানফ্রান্সিসকোর ইঞ্জিনিয়ারিং হাউজে স্থানান্তরিত হয় মাত্র।

জাইকা, শেভরন, অক্সিডেন্ডাল, কনাকো ফিলিপস জাতীয় বহুজাতিক কোম্পানিগুলার সাথে বাংলাদেশেরও কাজকারবার দীর্ঘদিনের। এরা বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরে তেল গ্যাস অনুসন্ধান ও তা পেলে সূলভ মূল্যে সেখান থেকে তা সংগ্রহ করা এবং বাজারজাত করে তা থেকে কাড়ি কাড়ি মুনাফা বানানো ইত্যাদি করে থাকে। সম্প্রতি বাংলাদেশের মন্ত্রীসভায় টিকফা চুক্তি অনুমোদন পেয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে সন্ত্রাসবিরোধী আইন পাশ ও মন্ত্রীসভায় টিকফা চুক্তির অনুমোদন প্রায় কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই হয়েছে। টিকফা চুক্তির শর্তগুলোও উন্মুক্ত করা হয় নাই। কেন এই গোপনীয়তা? বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫’র ক’এ আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে, এবং রাষ্ট্রপতি তাহা সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা করিবেন; তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সহিত সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোনো চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হইবে।’ যেহেতু টিকফা কোন নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি নয় তাই সে চুক্তির শর্তগুলা প্রকাশ না করাটা সংবিধানের সাথে বিরোধপূর্ণ। ‘টিকফা’ চুক্তির শর্তসমূহ নিয়ে গোপনীয়তা ও রাখঢাক করার যে চেষ্টা চলছে তা সংবিধানের সাথে বিরোধপূর্ণ।

অন্যদিকে আমাদের কাছেই রয়েছে সম্প্রসারণবাদী রাষ্ট্র ভারত। বলা যায় একাত্তরের পর থেকেই বাংলাদেশ ভারতের কলোনির মতই। বাংলাদেশে বর্তমানে এমন কোনো পণ্য নাই, যার একটা অলটারনেটিভ ভারতীয় পণ্য নাই। আপনি কাঁচাবাজারে যান, বাংলাদেশি পেয়াজ, ভারতিয় পেয়াজ, বাংলাদেশি রসুন, ভারতিয় রসুন, বাংলাদেশি চিনি, ভারতিয় চিনি। কাপড়ের দোকানে যান যেকোন ধরণের বাংলাদেশি পণ্যেও এটা অলটারনেটিভ ভারতিয় পণ্য পাবেনই। আর আমরাতো টেলিভিশনে দেখি আসলে ভারতিয় চ্যানেলগুলাই। এমনকি বইয়ের দোকানগুলাতেও ভারতিয় বইয়ে ঠাসা। তার ওপর ট্রানজিট, করিডর থেকে শুরু করে ভারত অনেক রকম সুবিধা নেয় বাংলাদেশের কাছ থেকে। অথচ ভারতিয় নদীগুলাতে বাঁধ সৃষ্টি কওে বাংলাদেশের নাব্যতা প্রতিনিয়তই খর্ব করছে তারা, আবার অসময়ে বাঁধ কেটে বন্যার সৃষ্টি করছে। টিপাইমুখ নিয়েতো অনেক আন্দোলন হলো দেশে। এখনো হচ্ছে। এই সব আন্দোলনকারীরাও সন্ত্রাসবাদের আওতায় পড়তে পারেন। ভারত বা আমেরিকাকে খুশী করার জন্য যতই সন্ত্রাসবিরোধী আইন করা হোক জনগণ তার প্রতিরোধ চালিয়ে যাবেই।

উপরোক্ত আলোচনার আলোকে এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কয়েকটি ধারা যাচাই করা যাক। ‘অন্য কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত বা উহার সম্পত্তি বিনষ্ট করিবার অভিপ্রায়.. .. অনুরূপ কোনো অপরাধ সংঘটন করে বা সংঘটনের প্রচেষ্টা করে বা উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনের জন্য প্ররোচিত,ষড়যন্ত্র বা সহায়তা করে’। গ.এ বলা হচ্ছে ‘কোন আন্তর্জাতিক সংস্কাকে কোন কার্য করিতে বা করা হইতে বিরত রাখিবার জন্যঅনুরূপ কোনো অপরাধ সংঘটন করে বা সংঘটনের প্রচেষ্টা করে বা উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনের জন্য প্ররোচিত,ষড়যন্ত্র বা সহায়তা করে’।

জাতি হিসাবে বাঙালিদের নীতি নৈতিকতার দিক দিকে জাতিগতভাবেই নষ্ট করে ফেলা হয়েছে গত চল্লিশ বছরে। এর আগে অনেক নৈতিক বলিয়ানের প্রমাণ দিয়েছে এদেশের জনগণ ফকির বিদ্রোহ, সিপাহী বিদ্রোহ, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, সর্বপরি একাত্তরে পাকিস্তানিদের জুলুম আর শোষণের বিরুদ্ধে তাদের নৈতিক বিজয় হয়েছে। গত চল্লিশবছর ধরে নিজেরাই নিজেদের হত্যা করছে। আত্মরক্ষা করতে পেরেই তারা সুখী হওয়ার চেষ্টা করেছে। অন্য কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় আঘাত করা দূরে থাক। এই জাতির ভেতর যা নাই তাকে উপজিব্য করে কেন এই রাষ্ট্র আইন করে ? আমরা জানি ইতমধ্যে কনাকো ফিলিপস কর্তৃক বঙ্গোপসাগর ইজারা নেয়া বা বিভিন্ন ব্লকে তেল গ্যাস অনুসন্ধান করার পায়তারার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে এদেশের সচেতন জনসমাজ। গঠিত হয়েছে ‘তেল গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি’। এ ছাড়া ফুলবাড়িতে শেভরনের গ্যাস লুটকরার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সেখানকার জনগণ। গার্মেন্টস শোষণ ও শ্রমিক হত্যার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে জনগণ। সার্বিকভাবে আইনটার যা চেহেরা দাঁড়ায় তা জনগণের এই চেতনার বিরুদ্ধেই।

কোন আন্তর্জাতিক সংস্কাকে কোন কার্য করিতে বা করা হইতে বিরত রাখিবার জন্য.. .. অনুরূপ কোনো অপরাধ সংঘটন করে বা সংঘটনের প্রচেষ্টা করে বা উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনের জন্য প্ররোচিত,ষড়যন্ত্র বা সহায়তা করে’। তাহলে তাকে সন্ত্রাসী কর্মকাহিসাবে অভিহিত করা হবে। বাহ কি অসামান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার গোলামি, কোথায় বাস করি? তাহলে এদেশের সরকার কি এই আন্তর্জাতিক সংস্থার অ্যাজেন্সি নিয়েছে ? কর্পোরেটোক্রেসি এদেশে এসে গ্যাস লুটবে, তেল লুটবে, প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করবে আর তার বিরুদ্ধে জনগণ ফুঁসে উঠলে তাদেরকে সন্ত্রাসী বলে হত্যা করার নীলনকশা এই সন্ত্রাসবিরোধী আইন? পুরা আইনটাই গণবিরোধী, এদেশের মানুষকে বা এদেশের সম্পদ আন্তর্জাতিক বেনিয়াদের হাতে তুলে দেবার জন্যই এই পায়তারা। কিন্তু এতে ক্ষমতাসীনদের কী লাভ? এর বিনিময়ে ভরে উঠবে তাদের বিদেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। প্রত্যেকটা বহুজাতিক কোম্পানির দেশিয় অ্যাজেন্ট হবে ক্ষমতাবানদের সন্তান ও পরিবার। জনগণের তেলগ্যাস বিদেশি কোম্পানিকে দিয়ে কমিশন খাবে ক্ষমতাবানরা। তাতো আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি পদ্মাসেতু দুর্নীতিতে।

তবে এই আইনের সবচাইতে মারাত্মক দিক হচ্ছে বিদেশি কোম্পানিগুলো এদেশের তেলগ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করবে, এদেশে পরিবেশ নষ্ট করবে, এদেশের বড় বড় ব্যবসাগুলা চলে যাবে বহুজাতিক কোম্পানির হাতে। এদেশের মানুষ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তারা সন্ত্রাসী হিসাবে চিহিৃত হবেন। তারা সমেবত হলে তাদের সমাবেশ সন্ত্রাসী সমাবেশ বলে বন্ধ করে দেয়া হবে। এমনকি তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে, তাদের সত্তা বা রাজনৈতিক অবস্থান মুছে ফেলা হবে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হবে, সর্বপরি তাদের ফাঁসিতে ঝুলানো হবে। এমনকি তাদের হত্যা করা হবে। শুধু সমাবেশ, বক্তৃতা, আন্দোলন নয়।

১৬ নং আইনের ধারা ২১’র ৩নং সংযোজন, কোন সন্ত্রাসী ব্যক্তি বা সত্তা কর্তৃক ব্যবহৃত ফেসবুক, স্কাইপি, টুইটার বা যে কোন ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আলাপ আলোচনা ও কথাবার্তা অথবা তাহাদের অপরাধ সংশ্লিষ্ট স্থির বা ভিডিও চিত্র পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক কোন মামলার তদন্তের স্বার্থে যদি আদালতে উপস্থাপন করা হয়, তাহা হইলে, সাক্ষ্য আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক উপস্থাপিত উক্ত তথ্যাদি আদালতে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে।

ফুলবাড়ি বা তেলগ্যাস আন্দোলন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয় নাই সেরকম সচেতন মানুষ নাই, এখন থেকে এসব কাজ সন্ত্রাসী কার্য হিসাবে গণ্য হবে। সংবিধান যেই চেতনা, চিন্তা ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলেছিল তাকে এখানে জবাই করা হয়েছে। এদেশে বুদ্ধিজীবী বা চিন্তকদের উপর এত বড় আঘাত এর আগে কেউ করে নাই। আপনার টুইটার, ফেসবুকে সবসময় দৃষ্টি রাখবে পুলিশ, স্কাইপি টেপ করবে পুলিশ ইন্টারনেট চ্যাটবক্স দখলে থাকবে পুলিশের, আপনার ফোন রেকর্ড করা হবে এসবই অপরাধের সাক্ষ্য হিসাবে উপস্থাপিত হবে আদালতে। এদেশের দৈনিক পত্রিকাগুলা, মিডিয়াগুলা বহু আগেই কর্পোরেশনের খোপে চলে গেছে। যেখান সরকারের, বহুজাতিক কোম্পানির অবৈধ কর্মকাের ব্যাপারে লেখালেখি করা বা কথা বলা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাকী ছিল এই সামাজিক গণমাধ্যম বা যোগাযোগ মাধ্যম। সেখানেও মুক্তচিন্তার প্রকাশ প্রায় আইন করে বন্ধ করে দেয়া হল। এর চাইতে চেতনা বিরোধী, চিন্তার স্বাধীনতা বিরোধী সিদ্ধান্ত আর কি হতে পারে? এই আইনের মাধ্যমে মানুষের চিন্তা বা মস্তিষ্ককে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে যে কেউ একজন সত্য কথা ভাবার আগেই, তা প্রকাশ করা আগেই লেখক ভাববেন তিনি একজন সন্ত্রাসী হতে যাচ্ছেন, তার চিন্তাকে এমনভাবে নপুংসক করা হচ্ছে যাতে আগামীতে চিন্তাহীন, বিবেকহীন, মানবতাহীন একটা রোবট প্রজন্ম দুনিয়াকে আমরা উপহার দিতে পারে।

সংবিধানের ২৫এর গ’এ বলা হয়েছে, সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ ও বর্ণবৈষম্যেবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন।

অবস্থাগতিক দেখে মনে হয় এই সন্ত্রাসবিরোধী আইন সাম্রাজ্যবাদীদের খুশী করার জন্য, ঔপনিবেশিকতাবাদের নবজাগরণের জন্য। বিশ্বজুড়ে ক্ষমতা আসলে পুঁজির সম্প্রসারণ আর মুনাফা আহরনের পথই সুগম করে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলার পবিত্র সংবিধান তার অজস্র ধারা নিয়ে পুত হয়ে পড়ে থাকে রাষ্ট্রের রেহেলে, যার ধারাগুলো উপেক্ষা করবার অধিকার রয়েছে ক্ষমতাবানদের, আর এই সংবিধান পায়ের শেখল হয়ে থাকে শোষিত বঞ্চিত জনগণের।

আর এই আইনটার প্রয়োগ অতি দ্রুত করার জন্য কোনো জটিলতা রাখা হয় নাই। যাকে সরকার সন্ত্রাস মনে করে সে রকম কোনো উপকরণ পেলেই তা দিয়ে মামলা শুরু করা যাবে।

১৬ নম্বরের ৪০ এর ১ এর পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত এক নম্বরে বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মমর্তা, তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিতক্রমে মামলা রুজু করিবে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করিবে।

সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে এটা তাবেদার সরকার তাদের প্রভুদের খুশী করার জন্য করলেও সেটার পার্শপ্রতিক্রিয়া হিসাবে নিজেরাও ব্যবহার শুরু করবে। যেমন যেকোন ক্ষমতাসীন সরকার বিরোধীদলে আন্দোলন দমানোর জন্য এই আইনের ব্যবহার করবে। কোনো সামাজিক গণমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করলেও সেটাও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু ক্ষমতাবানরা একটা জিনিস মনে হয় ভাবে না এইসরকার তার মেয়াদ শেষে কোনো কারণে যদি আবার ক্ষমতায় আসতে ব্যর্থ হয় যে সরকার আবার ক্ষমতায় আসাবে সেই সরকার তাদের বিরুদ্ধেও এই আইন প্রয়োগ করবে।

কিন্তু কথা হচ্ছে সংবিধানের সাথে এতরকম বিরোধপূর্ণ, স্বাধীন চিন্তা বা ভাবের ওপর এতবড় আঘাত, মানুষের কণ্ঠস্বর স্তব্দ করে দেবার এমন পায়তারা কি জনগণ মেনে নেবে? জনগণতো জানেইনা এই আইনের ভেতর কি আছে। তো জনগণকে যারা জানাবে সেরকম বুদ্ধিজীবীর কি অস্তিত্ব আছে দেশে? আমাদের প্রায় বুদ্ধিজীবীরাইতো কর্পোরেটোক্রেসির বুদ্ধিদাতায় পরিণত হতে চলেছে। যাদের কলম সমঝোতার মাধ্যমেই বন্ধ হয়ে আছে তাদের জন্যতো আইনের কোনো দরকার নাই।।

জাহেদ সরওয়ার: কবি ও প্রাবন্ধিক

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s