লিখেছেন: ধ্রুবনীল

image-2-মিজান ঝর্নার দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে। হাতে লম্বা একটা বেতের লাঠি। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হলো ঝর্নার একশোটি বেত্রাঘাত এই লাঠি দিয়েই করা হবে। আর সেটি করবে এই মাঝ বয়সী লোকটা মিজান। মিজানের বউটা মরেছে বছর খানেক আগে। জগত সংসারে তার আপন বলতে যা কিছু আছে সব ঐ বিচারকার্যের মাঝখানে বসা মুজিব কোট পরিহিত মেম্বার সাহেব। মায়া মহব্বত বলতে ওর মাঝে কিছুই নেই। চোখের সামনে হারিয়েছে সব আপনজনকে। লোকে বলে ওর বউটা নাকি গলায় দরি দিয়ে মরেছে। তা না হলে অমন সুন্দর তরতাজা মেয়েটা!! যার মুখে সবসময় হাসি লেগেই থাকতো, কি কারনে সেই মেয়েটা ভর সন্ধ্যায় গলায় দড়ি দিতে যাবে। এমন দিন খুব কম গেছে যেদিন ভোর রাতের দিকে মিজানের বউ তসলিমার চিৎকার চেঁচামেচিতে পাড়া প্রতিবেশীর ঘুম ভাঙেনি। মিজান ঐ ভোর রাতেও বউটাকে বেদরক মারত। প্রতিবেশীরা কেউ কাছে ঘেঁষত না। কারন একটাই মিজানের মুখের ভাষা খুব খারাপ। প্রথমদিকে বাড়ির মুরব্বী ছব্দার আলি বলেছিল। “ঐ মিজ্জ, বউডারে এত মারিস না, তোর মাথায় কিন্তু আল্লার গজব পরবে” জবাবে বাড়ির সবচেয়ে এই মুরুব্বি লোকটাকে মিজান যা বলেছিল তাতে পাড়া প্রতিবেশী সবাই পন করলো, মারতে মারতে মেরে ফেললেও আর কোনদিন তারা মিজান এবং তসলিমার মাঝে মুখ খুলবে না। কিন্তু সুরাতন বিবির কথা, “অত রাইতে মারিস ক্যান, মানুষ কি একটু শান্তিতে ঘুমাইতেও পারবে না?”

অনেকদিন পর্যন্ত অজানা থাকলেও বউকে ভোর রাতে মারার কারণটা এক সময় জানতে পারে আশে পাশের মানুষ। গঞ্জে লেবারের কাজ করত মিজান। সারাদিন কাজ কর্ম করে রাতে ঘরে ফিরত মিজান। গোসল করত না। করলেও সপ্তাহে দুই একবার। সমস্ত শরীরে ঘামের আশাটে গন্ধটা তসলিমাকে বিতৃষ্ণ করে তুলত। তার উপরে মুখ ভর্তি খোঁচা খোঁচা দাড়ি আর আসার পথে ফকিরহাটের পানের বরজ থেকে গাজা খেয়ে আসতো।মিজান ঘরের মধ্যে ডুকে যেখানে বসতো, মনে হত কোন ময়লার স্তূপ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।এ অবস্থায় রাতে ঝাপিয়ে পরত তসলিমার উপরে। অন্যদিকে আবার বেশিক্ষন থাকতে পারে না।তসলিমার শরীরে জোয়ার আসলেই শীতের পাতার মত একে একে মিজানের হাত পা নেতিয়ে পরত তসলিমার দেহের উপর। তাই রাতে মিজানের সাথে তসলিমা এমনভাবে শুতো, মনে হতো অনেক বছরের পুরনো আবর্জনার নিচে চাপা পরে আছে সে। আর একটা কুকুর এসে চার হাত পা দিয়ে খামছে খুমছে চেটে পুটে খাচ্ছে তাকে। শেষ মেশ তলপেটের নিচের দিকটায় গোটা কয়েক ধাক্কা মেরে ক্ষান্ত হয় মিজান। তসলিমা শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করে তার নেতিয়ে যাওয়া পর্যন্ত। অনেক কষ্ট হয় তসলিমার, কিন্তু কি করার? স্বামী নামক এই কুকুরটি যত পচাই হোক না কেন তার ক্ষুধা মেটাতে হবে। সে ভালো লাগুক আর নাইবা লাগুক। ক্রমে মিজানের আবদার বাড়তে থাকে। রাতে তিন চারবার করে চায়। তখন আর পারত না তসলিমা। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তসলিমার মুখ ফসকে বেড়িয়ে যেত……

চোদোনের মোডে মুরাদ নাই, আবার চাও। দোনডারে লইয়া এর চাইতে ক্যালাগাছের লগে ঘষা মারো”।

তখন বেশ লাগতো মিজানের। তসলিমার অর্ধ উলঙ্গ শরীরের উপর বসেই ডান হাত দিয়ে মারত এক চড়। আর বলত

কি কইলি মাগী? তাইলে তোরে বিয়া করছি ক্যা? তোরে তো চোদার লইগা বিয়া করছি”।

এর পরই শুরু হতো ঝগড়া। আর তসলিমার অ মাগো অ বাবা গো বলে চীৎকার। তসলিমার চুলের মুষ্টি ধরে যেখানে সেখানে লাথি ঘুষি মারত মিজান। একদিন সন্ধ্যা রাতে মাগরিবের নামাজ শেষ করে ফেরার পথে শাড়ি পড়া কি যেন একটা ঝুলতে দেখে চীৎকার শুরু করে দিল ছব্দার আলি। মিজানের দুর্গন্ধময় শরীরের লেপটা লেপটি আর যন্ত্রণার সংসার থেকে চির বিদায় নিয়েছে তসলিমা। তসলিমার মৃত্যুতে শোকের চেয়ে ভয়টা বেশি পেয়েছিলো মিজান। পুলিশি ঝামেলা টামেলা আবার হয় কিনা, প্রায় হয়েও গিয়েছিলো। কিন্তু থানার বাবুকে হাজার পাঁচেক টাকা দিয়ে মিজানকে নিজের করে নেয় এলাকার মেম্বার দেলোয়ার হোসেন। বয়সটা পাকলেও চুলটাকে সে ইচ্ছে করে পাকতে দেয় নি। পরপর তিনবার সে এলাকার মেম্বার। তিন সংখ্যার সাথে তার বেশ মিল। তিন বউ। যদিও তারা বেশ আগে পটল তুলেছে। তিন ছেলে, বিশ্বস্ত চামচাও তিনজন মিজানসহ। ছেলেরা সবাই বাইরে থাকে। এলাকার সবাই বলে মিজান নাকি মেম্বারের খাস কুত্তা। অরিজিনাল বাংলায় যেটাকে বলে দালাল।

আজ সেই মিজানের উপরে দায়িত্ব পড়েছে ঝর্নাকে বেত্রাঘাত করার। এই ব্যাপারে মিজানও বেশ খুশি। অনেকদিন ধরে মেয়ে মানুষের গায় হাত উঠে না তার। মিজানের কাছে মেয়ে মানুষের চুলের মুষ্টি ধরে যেখানে সেখানে মারার মজাটাই নাকি আলাদা। এই মজাটা সে তসলিমার উপর থেকে পেয়েছে। কিন্তু বেতের লাঠি দিয়ে মারার মজাটা এবারই সে প্রথম নিতে যাচ্ছে। তার উপরে আবার প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে মিজানের মধ্যে। ঝর্নাকে কতদিন সে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ঝর্না রাজি হয়নি। একদিন মেম্বারের বাগানের কলা বিক্রি করা টাকা থেকে পাঁচশো টাকা মেরে দিয়েছিল মিজান। ঝর্নার প্রতি মিজানের খুব লোভ। অন্তত এক রাতের জন্য হলেও নিপাকে তার বিছানায় চাই। অনেক মেয়ে দেখেছে মিজান। কিন্তু ঝর্নার মত এই রকম ঠাসা কামরাঙ্গা সে আগে কখনো দেখেনি। না জানি একটু কামড় দিলেই রসের গঙ্গা বয়ে যাবে।

ঝর্না মিজানকে বলেছিল সে যার তার সাথে যায় না। পাঁচশো টাকার নোটটা মিজানের মুখের উপর ছুড়ে দিয়ে বলেছিল… “তোর মত কাইল্যা মাগুর, করো দালালি, হ্যার উপরে শরীর দিয়া আহে মরকের গন্ধ, তুই কেমনে চিন্তা করলি পাঁচশো টেকা দিলেই তোর লগে শুমু? শোন, তোর যে বাপেরা আছে না, দেলোয়ার। যে কয়দিন শুইছি পার নাইড একটা থ্রি পিছ আর পনেরশ টেকা দিছে। পাও ধরছে ফাও।

মিজান আগে থেকেই জানত ঝর্নার রেট টা একটু বেশি। আফটারয়াল বিদেশ ফেরত। তার উপর এলাকার বড় মেয়াদের গরম মাথা ঠাণ্ডা করে ও। মিজান চারপাশটায় একবার তাকিয়ে বলে, “তাইলে কত লাগবে তোর?”

কত লাগবে মানে? খাডো কামলা, আবার টেকার গরম দেহাও? মুখ ভেঙচিয়ে ঝর্না বলে। এই ছ্যারা, বাংলা কতা বোঝো না? লাখ টেকা দিলেও তোর লগে শুমু না।

মিজানকে আর কোন কথা বলার সুযোগ দেয় না ঝর্না। মিজানের চেহারার উপর চুলের ঝাপটা মেরে সন্ধ্যার হালকা অন্ধকারকে পেছনে ফেলে চলে যায় ঝর্না। মিজান স্থির হয়ে দাড়িয়ে থাকে। ঝর্নার চুল থেকে আসা বিদেশি শ্যাম্পুর গন্ধটা তার সমস্ত শরীরে যেন কারেন্টের শক দিয়ে যায়। পা থেকে মাথা পর্যন্ত অন্য রকম এক তাপমাত্রা। মন্দিরের ও পাশে গরুর গোয়ালে শুয়ে থাকা একটি গাভীর থেকে লক্ষ্য করে মিজান ওদিকটাতে হাটা শুরু করলো। সেদিনের কালা মাগুর বলা আর তাকে ফিরিয়ে দেয়ার ঝাল আজ মিটাবে মিজান।

ঝর্নার দুই হাত আমগাছের সাথে বাধা। সেই দুপুর থেকে ওকে বেধে রাখা হয়েছে। কমলা কালারের ড্রেসটার গলার কাছ থেকে অনেকটা ছেড়া। টানা হেঁচড়া করতে গিয়ে মনে হয় ছিরে গেছে। বুকের উপর দুই পাল্লা কাপড় ভেদ করে উইডিভির মত মাথা উঁচু করে আছে স্তন দুইটি। স্তন দুইটির মাথার অবস্থান খানিকটা বোঝা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ঝুলে থাকা লাউকে কেউ একজন ভেতর থেকে সোজা করে রেখেছে। ঝর্নার শরীরের উপর এ যাবত দেশী বিদেশী কত পুরুষ উঠলো তবু যেন উইডিভির মত জেগে থাকা স্তনে ফাটল ধরাতে পারেনি। পারবেই বা কি করে, ওখানে সে একটা তেল মালিশ করে। বোম্বেতে থাকা অবস্থায় ছোট স্যার এই তেলটা দিয়েছিল। খুব দামি তেল। একবার মালিশ করলে দুই তিনদিন পর্যন্ত এর তেজ থাকে। স্তন গুলো একদম বেলুনের মত ফুলে দাড়িয়ে থাকে। গত রাতে মেম্বারের ছেলে ও তার বন্ধুদের কাছে যাওয়ার আগে একবার মালিশ করেছিল। ঝাঁঝটা এখনও আছে। মাথার চুলগুলো সব এলোমেলো। চেহারার উপর লেপটে আছে। চেহারায় তার কোন ভয়ভীতির ছাপ নেই। একটু পরে যে তাকে একশোটি বেত্রাঘাত করা হবে সেটি যেন সে জানে না। নিচু মাথা উঁচু করে সে সামনের ঝট পাকানো মানুষগুলোর মধ্যে সামনের সারিতে গোল হয়ে বসা গুজবরত মানুষগুলোর দিকে তাকাল। যাদের যুক্তি উপস্থাপনায় তার বিচারের রায় একশোটি বেত্রাঘাতে থামিয়ে দেয়া হল। এদের সকলের চেহারা কেমন যেন পরিচিত লাগছে ঝর্নার। মনে খুব কাছ থেকে দেখেছে এদের। দিনের বেলা দূর থেকে হলেও রাতের বেলা অতি কাছ থেকে দেখেছে ঝর্না। স্পষ্ট দেখতে না পেলেও কখনো হারিকেন অথবা কখনো মোমবাতির আলোয় নিপার হাত হাতড়ে বেড়িয়েছে এদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত। এখন বলে দিতে পারবে কার বুকে কি পরিমান বয়সের লোম। ডান পাশ থেকে গনি মোল্লার দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি স্থির করলো নিপা। মসজিদে ইমামতি করে গনি মোল্লা। সব সময় লম্বা পাঞ্জাবি আর গোল টুপি পরে থাকে। একটু আগে যার মুখ থেকে শোনা গেলো ধর্মের কাহিনী।

ইসলামের দৃষ্টিতে জেনা সম্পূর্ণ হারাম। মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন সুরা আন নূরে বলেছেন, তোমরা ব্যভিচারী নারীকে একশোটি বেত্রাঘাত করো। এই মাইয়াটা ব্যভিচারী, সে আমাদের সমাজটারে নষ্ট কইরা দিতেছে। তাকে এই বেত দিয়া একশোটি বেত্রাঘাত করা হোক। তখন উপস্থিত ভদ্র লকেরা সায় দিল।

অথচ বিদেশ থেকে আসার পর এই গনি মোল্লার কাছে গিয়েছিল ঝর্না সামান্য পানি আর তেল পড়ার কারনে। মোল্লা সাহেবের পড়া তেল ব্যাথা জায়গায় মালিশ করলে নাকি ব্যাথা তারাতারি সেরে যায়। গনি মোল্লা জিজ্ঞেস করছিল, “তোমার কন জায়গায় বেথা”?

মাথা নিচু করে লজ্জিত কণ্ঠে ঝর্না বলল, না মানে হুজুর……

নিপার হাত থেকে তেলের বোতলটা নিয়ে দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকা ঝর্নাকে মোল্লা সাহেব বলল, আসো ভেতরে আসো।

ঝর্না দাড়িয়ে রইল। মোল্লা সাহেব আবার বলল, সবাই তোমারে খারাপ বলে, বেশ্যা বলে, কিন্তু আমি জানি তুমি ভালো। তুমি কেবল পরিস্থিতির শিকার।

ঝর্না স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। অন্তত একটা লোক বুজলো যে সে পরিস্থিতির শিকার। চারদিকে একবার তাকিয়ে ভেতরে ডুকলো ঝর্না। ভেতরে কেউ নেই। একটি মাত্র রুম। গনি মোল্লার ছেলে মেয়ে বউ ছেলে মেয়ে সবাই পাশের গ্রামে থাকে। ইমামতি করে বিধায় মসজিদের পাশে ছোট একটা রুম নিয়ে একা থাকে মোল্লা। ভেতরে ঢোকার পর দরজা আটকাল মোল্লা। কোথায় ব্যাথা, কখন ব্যাথা, কি রকম ব্যাথার নাম করে ইমাম সাহেবের হাত যখন ঝর্নার তলপেট থেকে আরও নিচে নামতে শুরু করলো ঝর্না বুজতে পারল একটু আগে তার ফেলান স্বস্তির নিশ্বাসটা বৃথা। ঝর্না বাধা দিতে গেলে বাম হাত দিয়ে চেপে ধরে ঝর্নাকে।

এমন করতাছ ক্যান? ব্যাথাটা তো নিচেও নামতে পারে, কতজনরে দেহাইয়া তো ব্যাথা পাইছো। আমারে দেখাইয়া না হয় ব্যাথাটা গোচাবা। ঝর্নার বাধা দেয়া ডান হাতটা সরিয়ে বলল ইমাম সাহেব।

বেশিক্ষন দেরি করে নি সে। বাম হাতটা ঝর্নার তলপেট বেয়ে পাজামার মধ্যে ডুকিয়ে ছেড়া জায়গাটায় আলতো করে বোলায়। মুখে বির বির করে বলে, এই জায়গায় দেখি বঙ্গোপসাগর বানাইয়া হালাইছ। ঝর্নার সমস্ত সমস্ত শরীর কেপে উঠে। কিছুক্ষন পর আঙুলের পরিবর্তে ইমাম সাহেব তার মুণ্ডুটা ঢুকিয়ে বার কয়েক ঝাকুনি মারে। সেদিন থেকে পানি পড়া আর তেল পড়ার নাম করে যে কদিন গিয়েছে গনি মোল্লার কাছে সে কদিনই সে ঝর্নার স্তন দুটোকে রুটি বানানোর কারিগরের ময়দা কচলানোর মত ছেনে বরশির মত বাকা মুণ্ডুটা ঝর্নার গতরে ঢুকিয়ে বার কয়েক ঘন ঘন ঝাকুনি মেরে তবেই না দিয়েছে চার পাঁচ এলাকা জুড়ে বিখ্যাত ব্যাথার জন্য কার্যকারী তার পানি আর সরষের তেল পড়া। আজ সে ব্যভিচারের জন্য সুরা আন নুর থেকে রায় দিয়েছে একশোটি বেত্রাঘাত। কিন্তু কি দোষ তার? দোষ তো সব মেম্বার পুতের। ঝর্নার একশোটি বেত্রাঘাত হলে ওর হওয়া উচিত এক হাজার। কুরআনে কি শুধু মেয়ের বিচারের কথা লেখা আছে ছেলের কোন বিচার নাই। কুরআন কি ব্যভিচারী ছেলেদের সম্পর্কে কিছু বলে নাই। ঝর্নার সবচেয়ে বড় অপরাধ মেম্বার পুতের মাথা ফেটেছে। কে ভেবেছিল অন্ধকারে ছুরে মারা ঢিলটা সজলের মাথায় লাগবে। রাগ উঠেছিলো বলেই তো ইটটা হাতে নিয়ে অদূরে ছুরে মেরেছিল ঝর্না। রাগ না উঠে কি পারে? কথা ছিল সজল আর তার বন্ধু মোট দুইজন। সারারাত। পাঁচ হাজার টাকা। কোথায় দুইজন। মেম্বারের ছেলে সজলসহ মোট চারজন। চারজনকে দেখে ঝর্না একটু ঘাবড়ে গিয়েছিল। পড়ে ভাবল দেনা পাওনার সময় পুশিয়ে নিবে। ঝর্না দেখা মাত্রই সবাই চমকে গেল। একজন বলে উঠলোও মাই গড, দোস্ত! এ কি মালরে…… এতো দেহি বাংলা ছিনেমার নায়িকা ফেল। সজল বোতল থেকে মদ ঢালতে ঢালতে একটু গর্ব করে বললমাদারচোত, মেইড ইন বোম্বে। আর একজন হাতের সিগারেট ফেলে দিয়ে বললতাইতো বলি বিদেশী বিদেশী গন্ধ। পুরাই আলাদা।

ঝর্না কোন কথা বলে না। এক কোনে দাড়িয়ে আছে। আর একটি ছেলে হাতে কাচের একটি বোতল নিয়ে ঝর্নার কাছে এসে গালে নাক ঠেকিয়ে হৃদরোগীর মত জোরে জোরে নিশ্বাস টানছে। দাত বের করে অন্যদের উদ্দেশ্যে সামান্য হেসে বললদোস্ত পুরাটাই অচাম। একদম আনলিমিটেড সার্ভিস। আইজকা আমি মঙ্গল পৃষ্টে আরোহণ করুম। আর পারতেছি না। তোরা থাক। বেয়াদবি মাফ করিস, বলে ঝর্নার হাত ধরে টেনে পাশের রুমে ঢুকল। বিছানাহীন মাটিতে একটি প্লাস্টিকের চট বিছিয়ে ঝর্নাকে নিয়ে শুয়ে পড়ল। ঝর্না বাধা দিচ্ছে না। নিজের ইচ্ছা গুলো তার কাছে মূল্যহীন এখন। শুধু এখন না, পুরোটা জীবন জুরেই ছিল মূল্যহীন। পাশেই একটি হারিকেন টিপ টিপ করে জলছে। ঝর্না তাকিয়ে আছে সেদিকে। তার শরীরের উপর দিয়ে একে একে বয়ে যাচ্ছে টর্নেডো। এখানে ওখানে মাংস খামচে ধরছে, কতগুলো ধারাল দাত আর লোভী জিহ্বা দিয়ে কুকুরের মত তার সমস্ত শরীর চাটছে।

ঝর্না অনুভূতিহীন। তার ভেতরে কিছুই জাগে না। জাগতে সময় লাগে। যখন তার শরীরের, রক্তে, মাংসে, শিরায় কাপাকাপি শুরু হয়, তখন শরীরের উপর নাচতে থাকা ক্ষনিকের বীর জানোয়ার গুলো ঝর্নার চুল জোরে খামচে ধরে। ঝর্না টের পায়, তার ভেতরের সিংহ পুরুষটা মরা ইঁদুরের মত নেতিয়ে পড়েছে। ঝর্না তাই জাগায় না, জাগে না ওর ভেতরে। এভাবে একে একে চারজন। প্রত্যেকে দুইবার করে ঝর্নার শরীরটা খামচিয়ে খামচিয়ে ক্ষত করে দিয়েছে। মনে হয়েছে অনেক দিনের ক্ষুধার্ত কোন জন্তু হঠাত করে খাবার পেয়েছে। পশু, জন্তু খাবার হাজার ক্ষুধার্ত হলেও একটু বিস্রাম নেয়। কিন্তু এদের বিস্রাম নেই, একের পর একজন। এসেই ঝর্নার শরীরের উপরে ঝাপিয়ে পড়ে প্রথমেই জঙ্গলসাপের মত সমস্ত শরীরে নাক ঠেকিয়ে ফোঁস ফোঁস করে। ঝর্নার ভেতর থেকে বয়ে যায় অদম্য যন্ত্রণা, নিচের জায়গাটা মনে হচ্ছে শরীর থেকে আলাদা করে ফেলছে। পেটের ভেতরে কে যেন লোহার বড় দন্ড দিয়ে একের পর এক আঘাত করছে। ঝর্না অনুরধ করে তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য, তখন সজল এসে ঝর্নার সমস্ত শরীরে লালরঙের পানি ঢেলে দেয়, ক্যারে, বিদেশী গো লগে ঘুমাইলে ভোদায় ব্যাথা করে না, আমগো লগে আইলে উফফফফফ!! মারাও। আমাগ ধোন কি ওগো ওগো চাইতে বড়। ঝর্না কোন কথা বলে না আর। জিহ্বায় কামর দিয়ে সজ্জ করে। তার সমস্ত শরীর মনে হচ্ছে অবশ হয়ে যাচ্ছে। স্তনগুলো মনে হচ্ছে শরীর থেকে আলাদা হয়ে পড়ে যাচ্ছে, অনেক ভারি হয়ে গেছে। স্তনের মাথার দিকটায় মনে হচ্ছে কে যেন মরিচ লাগিয়ে দিয়েছে। ঝর্না চোখ বন্ধ করে রাখে। অন্ধকার দেখে, শুধুই অন্ধকার। দুই হাত দিয়ে দুই পাশের মাটি খামচে ধরেছে। শুকরের পাল্লায় পড়েছে সে, অপেক্ষা করেছে, শুকর গুলো কখন তাদের হিংস্রতা বন্ধ করে,

কিছুক্ষন পড়ে থামে সবাই। ঝর্না টের পায় তার নিচের অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। হাত দিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করে। তলপেট থেকে হাঁটু পর্যন্ত এক প্রকার ঘন আঠালো পানির অস্তিত্ব টের পায়। বুজতে পারে শুয়োর গুলো ইচ্ছে মত কামড়িয়ে তাকে রক্তাক্ত করেছে। আন্ধকারে রক্তের লাল রঙ দেখা যাচ্ছে না, হারিকেনের নিভু নিভু আলোয় হাতটা চোখের কাছে নিয়ে দেখার চেষ্টা করে ঝর্না। উঠার চেষ্টা করলে উঠতে পারে না। সমস্ত শরীরে ব্যাথা আর যন্ত্রণা। নিজের জায়গাটা শরীরের সাথে আছে কি নাই বুজতে পারে না ঝর্না। দুই চোখের দুই পাশ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে। ঝর্না হারিকেনটার দিকে একটু মোড় দেয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু পারে না। আধ মোড়া অবস্থায় দুই হাত ছড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। কিছুক্ষন পড়ে ওইপাশ থেকে মেম্বারের ছেলে সজল আসে। নিপার উলঙ্গ শরীরের উপড়ে এক হাজার টাকার একটি নোট ছড়িয়ে মারে। এবং কয়েকটি খাবারের প্যাকেট। এই নে ধর। এক হাজার টেকা, মজা পাইলাম না। পামু ক্যামনে,সব তো বিদেশে রাইখা আইছ। এহন খালি পটকা মাছের মতন পইরা থাহ। ঝর্নার চোখে মুখে রাগ উঠে যায়। মুখ থেকে কিছু বলবে পারছে না। সজল হালকা অন্ধকার রুমটার দরজার কাছে এসে বলে, আইজকাল তোগো মতন মাগী গো এক হাজার টাকার বেশি কেউ দেয় না। ঝর্না একটু উঠার চেষ্টা করে। হালকা হামাগুড়ি দিয়ে একটি ইটের টুকরা হাতে নিয়ে ছুরে মারে অন্ধকারে ওর চলে যাওয়ার দিকে। ইটের টুকরাটি আঘাত করে সজলের মাথার পেছনের দিকটা। সজল মাথা চেপে ধরে দৌরে এসে ঝর্নার তলের দিকে একটা লাথি মারে আর বলে, খানকী মাগী! ঝর্না চিৎকার করে উঠে। কে যেন মস্ত বড় পাথর দিয়ে তার শরীরের নীচের দিকটায় আঘাত করেছে। সমস্ত শরীর কেপে উঠে ঝর্নার। ঝর্নার কাছ থেকে টাকার নোট টা ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায় সজল। প্রচণ্ড ব্যাথা আর যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ঝর্না। সজলকে লক্ষ করে বললএই খানকীর পোলা, তোর মার ভোদার উপরে গিয়া লাথি মার! ঝর্না নিচের দিকটায় হাত দিয়ে অনুভব করলো রক্তের স্রোত বইছে তার ওখান থেকে। দাতে দাত কামড়ে ঢুকরে ঢুকরে কাঁদতে কাঁদতে একসময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

ইটের টুকরাটি সজলের মাথায় আঘাত করে এবং মাথা ফেটে যায়। সেজন্য আজকের বিচার। বিচারের জন্য অপরাধ কিছুক্ষন আগে পড়ে শুনাল গনি মোল্লা সাহেব। গতকাল মেম্বারের ছেলে এবং তার বন্ধুরা শহর থেকে গ্রামে বেড়াতে আসে। পুব পাড়ার রাস্তায় ঝর্নার সাথে দেখা হলে ঝর্না তাদের কু প্রস্তাব করে। এই প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করলে ঝর্না একটা ইট উঠিয়ে সজলের মাথায় আঘাত করে। ফলে সজলের মাথা ফেটে যায়। এই মেয়ে এই গ্রামে থাকলে গ্রামের সকল পোলাপাইন খারাপ হইয়া যাবে, আমগো মেম্বার সাবের পোলা বইলা কিছু করে না, অন্য পোলা পান হইলে এতক্ষনে একটা ব্যভিচারী কাম ঘইটা যাইত। এই ব্যভিচারের হাত থেকে গ্রামডারে রক্ষা করতে হইবেমোল্লা সাহেবের রায় কে সমর্থন দিয়ে বলল পাশে বসা মুরুব্বী। এই ঘটনা যে মিথ্যা তা সকলেই জানে তবুও তারা যেন মিথার মাঝেই বড় হয়েছে, মিথাকে আঁকড়ে ধরেই বড় হয়েছে, হাজার হাজার বছর ধরে মিথ্যার গোলামী করছে। ওদের ও দোষ নয়, অভাব ওদের গোলাম বানিয়ে রেখেছে। মোল্লা সাহেবের উপর থেকে চোখ গিয়ে পড়লো তার মা সাফিয়া বেগমের দিকে। তার মাকেও বেদে রাখা হয়েছে। মায়ের অপরাধ, ঝর্নার মত মেয়েকে সে জন্ম দিয়েছে। নিপা ভাবে। অপরাধ আসলে কার? তার না, তার মায়ের, নাকি তার বাবার। কাউকে দোষারোপ করতে পারে না। মায়ের দিকে তাকিয়ে জোরে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। কিছুক্ষনের জন্য মাকে অপরাধি মনে হলেও পরক্ষনে মাকে একজন অভাগী নারী হিসেবেই তার মনে হয়। নাকি অভাবের ঘোরে একটি সুন্দরী মেয়ে জন্ম দিয়েছে বলেই গ্রামের সবার সামনে তাকে আজকে বেধে রাখা হয়েছে। বাবা মারা যাওয়ার পর কিছুই রেখে যায় নি কেবল মাত্র খড়ের দেয়াল আর উপরে টিন এর চালের একটি ঘর ছাড়া। ওই অবস্থায় মাও বা কি করবে। ছোট ছোট দুটো ছেলে আর ঝর্নার মত একটা রূপসী উঠতি বয়সের মেয়েকে নিয়ে বিপাকে পরে যায় মমতাজ বেগম। রাতের বেলা গ্রামের বখাটে ছেলে রা এসে টিনের চালে ঢিল মারে। প্রতিবেশির কাছে অভিযোগ তুললে সবাই বলে, বিয়াত মাইয়া ঘরে রাখলে পলাপাইন ঢিল মারব না তয় কি পানি মারবো। মমতাজ বেগম অনেক কষ্ট করে পাশের গ্রামে বাদুর পুরে একটি সমন্ধ ঠিক করলো মেয়ের জন্য। কিন্তু বিয়ার আগের দিন রাতে তার বাড়িতে রাতে কয়েকজন মুখোশ পরে ঢুকে ঝর্নাকে তুলে নিতে আসে। মমতাজ বেগমের চিৎকার চেঁচামেচিতে সবাই ছুটে আসলে ঝর্না রেহাই পায়। কিন্তু মধ্য থেকে সম্বন্ধটা ভেঙ্গে গেল। ঝর্নার নামে বিভিন্ন কানাঘুষো চলতে থাকে। পারা প্রতিবেশি সবাই বলে ঝর্নার দোষ, না হলে এলাকায় এতো মেয়ে থাকতে তোমার মেয়ের উপরে পলাপাইনের এতো খায়েস কেন বাপু। মমতাজ বেগম উত্তরটা জানে, তারা গরীব, গরিবের ঘরে সুন্দর ঝর্না মানায় না, এই ঝর্নায় কেউ হাত দিলে মমতাজ বেগম কিছু বলতে পারবে না, কোথাও বিচার চাইতে পারবে না। গরিবের জন্য কোন বিচার নেই। বিচারের দরজা গরিবের জন্য বন্ধ। কিন্তু উত্তরটা দিতে পারেনি। মেয়েকে নিয়ে আরও বেশ বিপদে পরে মমতাজ বেগম। কিছুদিন পরে বাধ্য হয়ে ঝর্নাকে পাঠিয়ে দেয় শহরে দুঃসম্পর্কের এক বোনের বাসায়। ঝর্না নিরবে দেখে যায় মায়ের কান্না। মেয়ে হয়ে জন্মেছে বলে মায়ের কাছে, সমাজের কাছে সে একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাউকে কিছু বলছে না। শহরে খালার বাসায় থাকতে ঝর্নার খুব অসুবিধা হয়। খালা এবং খালু বস্তির মাঝে এক রুমের একটি বাসায় থাকে। রুমের মধ্যে একটি খাট, এক পাশে একটি আলমারি, তারপরে থালাবসন এর র‍্যাক সবকিছু মিলিয়ে ঝর্নার খালা এবং খালুর নিজেদেরই থাকতে অসুবিধা হয়। তারুপরে ঝর্না যেন একটি উটকো ঝামেলা। ঝর্নার খালা ঝর্নাকে ভাল চোখে না দেখলেও ঝর্নার খালু বলেআর তো কয়টা দিন, একটা চাকরি ম্যানেজ কইরা দিতে পারলে ও তহন আলাদা রুম নিয়া থাকব। তখন খালুর দিকে ঝর্নার খালা চোখ গরম করে তাকায়। ঝর্না কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়। কিন্তু এটা বেশি দিন থাকে না। একদিন রাতে ঝর্না আবিশকার করে তার শরীরের উপরে একটি শক্ত হাত কি যেন খুজছে। ঝর্না কিছু বলতে যাবে অমনি তার মুখ চেপে ধরে একটি ভয়ংকর অদ্ভুত কণ্ঠ বলছেখবরদার, কন কথা কইবি না। কতা কইলে একদম বাসা থেইকা বাইর কইরা দিমু আমি যা করতাছি, চুপ কইরা থাকবি, তোরে দুই একদিনের মধ্যেই চাকরিতে ঢুকাই দিমু। ঝর্না আবিষ্কার করে এটা তার খালুর কণ্ঠ। বাসা থেকে বের করে দিলে কোথায় যাবে ঝর্না, বারিতেও ফিরে যেতে পারবে না, তাহলে কোথায় যাবে। চোখ বন্ধ করে রাখে ঝর্না। আর পিতৃতুল্য খালু তার সমস্ত শরীর হাতিয়ে এক কিছুক্ষন পর খান্ত হয়। যাকে সে সম্মান করত, স্রদ্ধা করত, যার কাছে সে আশ্রয় খুজেছে সেই কিনা তাকে রক্তাক্ত করেছে। পরদিন নীচের দিকটায় খুব ব্যাথা অনুভব করে ঝর্না। সারা কোমরে তার ব্যাথা করে। কাউকে কিছু বলতে পারে না। একটা চাকরির জন্য নিরবে সয়ে যায় খালু নামক নরপিশাচের নির্যাতন। ঝর্না বুজতে পেরেছে তার শরীরটাই সব। এই শহরে যা করার এই শরীর দিয়েই করতে হবে। তার জীবনে আর কোন সম্বল নাই একমাত্র শরীর ছাড়া। খালুকে নির্বিঘ্নে শরীর দেয়ার কারনে কয়েকদিনের মাথায় গার্মেন্টস এ হেল্পার পদের একটি চাকরি পায় ঝর্না। চাকরীর পরেই তার জীবনে আসে আর এক পরিবর্তন। শিক্ষিত না হলেও ভাল চেহারা আছে। তাই অল্প কয়দিনের মাথায় ছোট সাহেবের নজরে আসে ঝর্না। হেল্পার থেকে তাকে সরাসরি নিজের ব্যক্তিগত সহকারী করে নেয়। ঝর্নাকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে উপজুক্ত করার জন্য যা যা করার দরকার তাই তাই করে ছোট সাহেব। ঝর্না এখন ছোট সাহেবের কাছের লোক। খালুর বাসা ছেড়ে একটি মহিলা হোস্টেলে উঠেছে। নিজেকে আরও আধুনিক হিসেবে তৈরি করার চেষ্টা করে ঝর্না। ছোট সাহেব তাকে নিয়ে রাতে বিভিন্ন নামি দামি হোটেলে যায়, দেশি বিদেশী অনেক জিনিস দেখে, দামি গারিতে ছরে ঝর্না। নিজের কাছে তার শবকিছুই কল্পনা মনে হয়। অবাস্তব মনে হয়। মনে হচ্ছে সে স্বপ্ন দেখছে। যেটা জীবনে কখনো দেখেনি, যেটার নাম শুনেনি গল্প শুনেনি আজ তাই দেখছে, কুদ্দুছ মিয়ার মাইয়া আইজক্যা ঢাকার শহরে পাজারো গারিতে চলবে, ফাইভ স্টার হোটেলে ঘুরবে। কুদ্দুছ মিয়া জানলে হার্টফেল করত। কথাটি মনে করে একটু ঝর্না হাসি দিত। সব ই সম্ভব হয়েছে কেবল শরীর আর রুপের এই দুইয়ের কারনে। ছোট সাহেবের সাথে এখানে ওখানে যেতে হয় তার, রাতে কখনো হোটেলে, কখনো ছোট সাহেবের বাসায় ছোট সাহেব তাকে জরিয়ে ধরে, খায় চুমু, এর পর আরও অনেক ভেতরে প্রবেশ করে। ঝর্না বাধা দেয় না, বাধা দিয়ে লাভ নেই। দেহ ছাড়া, শরীর ছাড়া তার আর কিছুই নেই। এই দেহ আর রুপের কারনেই ওর জীবনে পরিবর্তন এসেছে, ওর ছোট দুইটা ভাই এখন স্কুলে ভর্তি হয়েছে, খাবারের চিন্তায় মাকে এখন আর গভীর রাতে মাটির পিদিম জালিয়ে কাঁদতে হয় না। মমতাজ বেগমের আকস্মিক পরিবর্তন দেখে এলাকাবাসীর চোখ খারা হয়ে যায়। এখানে ওখানে সুর বাজেঅমনি অমনি কি হয়? অশিক্ষিত মাইয়া, গার্মেন্টস এ চাকরি করে আর কয় টাকা পায়, দেখ গিয়া বাপু সব ডলাডলির পয়সা। মমতাজ বেগম ও বুজতে পারে, মেয়ে তার কি করছে ঢাকাতে। কিন্তু কিছু জিজ্ঞেস করতে পারে না, মা হিসেবে নিজের অক্ষমতা এবং মেয়ের উপর নির্ভরশীলতা মমতাজ বেগমের মুখ আটকে দেয়। ঝর্নার আরও পরিবর্তন ঘটে। ছোট সাহেব যা বলে তাই করে। কেবল ছোট সাহেব নয়, তার বন্ধুদের সাথেও মাঝে মধ্যে রাত কাটাতে হয়। অন্য কিছু নয়। কেবল দেহ দেয়া, কেবল শরীর কে পেতে দেয়া অতাই যেন তার চাকরি। কার সাথে কখন কোথায় কিভাবে শুতে হবে সব ছোট সাহেব বলে দেয়। ঝর্না অভ্যস্ত হয়ে গেছে। ছোট সাহেব তাকে নিয়ে বিদেশে যায়, মোম্বাই, ব্যাংকক, গোয়া, সিঙ্গাপুর। ছোটবেলা মাটি উপরে দাড়িয়ে দূর থেকে আকাশকে দেখেছে। আকাশের বুকে একটা পাখির মত জিনিসকে উরে যেতে দেখেছে, সবাই বলত ওটা প্লেন। সব বড়লোকেরা ওইটাতে চলে। ঝর্না ভাবে সেও এখন অনেক বড়োলোক। বিদেশে গিয়ে ও ঝর্নার একি কাজ। বড় হোটেলে ছোট সাহেবের কথামত সাদা চামরা, কালো চামড়ার সব মানুষের সাথে মিশে যায় ঝর্না। ছোট সাহেব একদিন তার কম্পিউটারে দেখিয়েছিল কিভাবে বিদেশীদের সুখী করতে হয়, কিভাবে করলে পুরুষ মানুষরা বেশি মজা পায়। ছোট সাহেব আগে থেকেই বলে রাখতওনাকে খুশী করতে পারলেই আমাদের কোটি টাকার অর্ডার। ঝর্না তাই প্রানপনে চেষ্টা করত সবাইকে সুখী করতে, সবাইকে সুখী করত। ঝর্নার এখন আর কিছু চাওয়ার নেই, কারন সে জানেই না তার কি চাওয়ার আছে, কিছু পাওয়ার নেই কারন, কারন সে জানে না যে তার কি পাওয়ার বাকি আছে। তার শুধু একটাই কাজশরীর দিয়ে বেরান, পুরুশকে খুশী করান, ফ্যাক্টরির অর্ডার নেয়া। আর কিছুই নয়। ঝর্না ওই সময়টা উপভোগ করে। নিজেকে শান্তি দেয়, প্রশান্তি দেয়। পুরুষ মানুষগুলোর সাথে শুইতে তার আর আপত্তি লাগে না অভ্যেস হয়ে যায়, মনে মানিয়ে নিয়েছে সে। কিন্তু শরীর হয়তবা মানিয়ে নিতে পারেনি। ক্রমশ তলের জায়গাটায় আস্তে আস্তে ব্যাথা হওয়া শুরু করে, মাঝে মধ্যে চিন চিন করে ব্যাথা করে। তখন পাইন কিলার খায়, সাময়িক ব্যাথা কমে। একদিন ব্যাংককে দুইজন কালো চামড়ার মানুষের সাথে বস তাকে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং হোটেলের রুমে ডুকিয়ে দেয়। ঝর্না কালো চামরা দৈত্য আকৃতির মানুষ দেখে মনে মনে কিছুটা ভয় পেয়েছিল। আর সেই ভয়টা আস্তে আস্তে আরও বারতে থাকল।

অদের ভাষা বুজত না ঝর্না, ঝর্নার ভাষাও বুঝেনি ওরা। ছোট সাহেবের সাথে বসে ঝর্না অনেক ন্যাংটা ন্যাংটা ছবি ছবি দেখেছে। সেই ছবি গুলর মত ওরা ঝর্নাকে শুয়ে একজন তার মুখের মধ্যে মাংশের দণ্ড তা প্রবেশ করায় অপরজন তার নীচের দিকটায়। ঝর্না প্রচণ্ড ব্যাথা অনুভব করে। ছেড়ে দিতে ওরা দেয় না। রুপের মধ্যে চিতাকার করে, কিন্তু ওর চিৎকার কেউ শুনে না। কালো লোক দুইটা ওর এখানে ওখানে কামর দেয়, দুধের সমস্ত অংশ হাতের মুঠোয় নিয়ে চাপ দেয়, ঝর্না চিৎকার করতে থাকলে একজন মুখ চেপে ধরে, পরক্ষনে এর একজন তার লম্বা যন্ত্রটা ঝর্নার গতরে ঢুকিয়ে দেয়, ঝর্নার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো। কেউ যেন তার শরীরের উপরে উঠে বেড়ালের কুকুরের মত ধারাল নক দিয়ে তাকে আঁচড়াচ্ছে। ওরা এক সময় ঝর্নার হাত দুটো পেছনে বেধে ফেলে। ঝর্না খুব ভয় পায়, আজ বোধ হয় তার জীবনের শেষ রাত, চোখের সামনে মা মমতাজ বেগম আর ছোট ভাই দুটোর মলিন চেহারা তার চোখের সামনে ভাসে। ঝর্না যতটুকু ইংলিশ শিখেছে ছোট সাহেবের কাছ থেকে সেটা ব্যাবহার করছে, প্লীজ, ন মোর, প্লীজঝর্না কথা বললেই ওরা একজন মুখ চেপে ধরছে। ওরা থাম্লে ঝর্না যেন জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায় কিন্তু ততক্ষনে ওর ভেতর থেকে প্রচণ্ড রক্ত বেরচ্ছে। ঝর্না দেখতে পায় সমস্ত বিছানার সাদা চাদর রক্তে লাল হয়ে আছে। অদুরে কালো লোক দুইটা ন্যাংটো হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে হাসছে আর বোতল থেকে কি যেন ঢেলে খাচ্ছে। ঝর্না টের পায় তার নিচ থেকে অনেকটা জায়গা ছিরে গেছে। উঠে বসার মত শক্তি নেই টার গায়। কালো লোক দুইটার দাত কেলানো হাসি দেখে সে নিজেকে একটু ঢেকে নেয়। ছোট সাহেবকে ফোন করে। ছোট সাহেব দৌরে আসে। ঝর্নাকে ভর্তি করানো হয় হসপিটালে। ডাক্তার বলে দিয়েছে ওকে দিয়ে আর কাজ হবে না, ওকে দিয়ে যেন আর কখনো এসব কাজ না করানো হয় সেই সাথে আরও একটি কথা বলে দিয়েছে। ঝর্নার বিয়ে হলে ও কোনদিন মা হতে পারবে না। ঝর্নার যেন নিজের কোন অনুভুতি নেই, সেও মা হতে চায় না, ঘর বাধতে তার কোন ইচ্ছে আকাঙ্খ্যা কিছুই নেই। ছোট সাহেব ঝর্নাকে কিছু টাকা দিয়ে দেশের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। ততক্ষনে গ্রামের সবার মাঝে খবরটা ছড়িয়ে পরে। বিদেশী নিগ্রোর লগে ঘুমাইতে গিয়া তার গতর ছির‍্যা গ্যাছে। ঝর্নাকে দেখে মা মমতাজ বেগম চোখের পানি ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না, ঝর্নাকে কিছু বলে না, কিছু জিজ্ঞেস ও করে না। মায়ের কান্না দেখে ওর ও কান্না পায় হাউ মাউ করে মায়ের গলা ধরে কান্না শুরু করে। মাকে বলে, মা আমার কিচ্ছু করার ছিল না। আমি কি করমু? তুমি যার ধারে পাঠাইছো হেই তো আমারে পরথম………বলে ঝর্না আরও চিৎকার করে কাঁদে। ওদের কান্না দেখে ছোট ভাই বোন দুটো কেদে দেয়। ওদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। স্কুলের মাস্টার বলে দিয়েছে। ওদেরকে দেখলে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা হাসাহাসি করে। গ্রামের লোকজনের সামনে আর বের হতে পারে না মমতাজ। বের না হলেও লোকজন আসেতার বাড়িতে। নানান কথা বলে। মমতাজ বেগম সব কথা শুনে যায় কাউকে যেন কিছুই বলতে পারে না। বলার কোন ভাষা নেই। তারা গরীব। গরিবের ভাষা সবসময় সীমিত। তার উপরে মেয়ের এই অবস্থা। আস্তে আস্তে শুস্থ হয় ঝর্না। কিন্তু জীবনকে তো টেনে নিয়ে যেতে হবে। কি করবে? কি করবে ওর মা। একদিন মেমার আসে ওদের বাড়িতে। কয়েকদিন পর থানার দারগা বাবু আসে, উকিল আসে। সবাই কেবল ঝর্নাকে চায়। ঝর্নার শরীরটা চায়। রাতের অন্ধকারে ঝর্নাকে নিয়ে হয় নিজের বাড়িতে না হয় অন্য কোথাও যেতে চায়। ঝর্না প্রথম প্রথম ফিরিয়ে দিলেও এখন আর দেয় না। ফিরিয়ে দিলে ওদের পরিবারের লছ। এরা হল গেরামের মাথা, এদের ঠাণ্ডা রাখলেই সব হবে। মেম্বারও বলেছে, যা বলব তাই যদি শুনিস গেরামের লোকজন কেউ মুখ খুলবে না, কেউ তোরে কিছু বলবে না। কতদিন আর ঘরে আটকে থাকা যায়, কতদিন বা মানুষের কথা সোনা যায়। শরীর দেওয়াটা যখন নাম হয়ে গেছে তখন যতদিন শরীর আছে ততদিন তো চলতে পারবে। ঝর্না তখন আর না করে না। মেম্বার। থানার দারোগা, উকিল থেকে শুরুর করে গেরামের সব বড় বড় গরম মাথা গুলো ঠাণ্ডা করে ঝর্না। বিনিময়ে তারাও তাকে ভরে দেয়। খাবার দাবার, টাকা পয়সা, কাপর চোপড়। পানি পরার জন্য মোল্লা সাহেবের কাছে গেলেও সেই একি অবস্থা। কিন্তু এখন আর গেরামের লোকজন কিছুই বলে না। কারন মেম্বার আছে ঝর্নার সাথে। ঝর্না এখন মাথা উচু করে গেরামে ছলাফেরা করে। এই পারায় ওই পারায় যায়। মাঝে মধ্যে দুই একজন কিছু বললে ঝর্না সরাসরি মেম্বারকে নালিশ দেয়। মেম্বার তখন সেই ব্যবস্থা নেয়। তবে তার ব্যাথাটা পুরপুরি সারে না। তাই ইদানিং আর খুব একটা ভাল পারে না ঝর্না। শরীরটাও একেবারে নিস্তেজ হয়ে আছে তার। মেম্বার সহ সকলের চাহিদা মোতাবেক আর পারে না, আস্তে আস্তে সবাই ওর উপরে আবার ক্ষেপে যায়। সেদিন মিজান এসে তাকে বলে, মেম্বারের ছেলে আর তার একজন বন্ধু আশবে ঢাকা থেকে, থাকবি নাহি ওগো লগে।

ঝর্না মেম্বারের ছেলের কথা শুনে হাসে। হেদিনগো ওই পিচ্চি পোলাডা।

মিজান মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলে, পিচ্চি আর কই? ২০ এর পরে কারও দোন আর খাডো থাকে নাহি?

ঝর্না বললতুই তো হাদা রাম, তোর তো দোন এহনও খাডো, হেইডা সবাই জানে।

মিজান একটু লজ্জা পেল। একদিন আমার লগে ঘুমাইতি। তোরে বুজাই দিতাম, আমার মেশিনের কি জোর?

ঝর্না আবার হাসলকন বিলাইতে উন্দুর মারে হ্যার গোঁফ দেখলে চেনা যায়। আমি অইসব ছাও পোনার লগে যাই না। বলে ফিরিয়ে দেয় ঝর্না। কিন্তু পরিবারেও অভাব, গেরামের বড় মাথা গুলর কাজ করে না বলে এখন আর টাকা পইসা নাই হাতে। বিকালে মিজান আবার আসে। মিজানের সাথে চুক্তি হয়, দুইজন সারা রাত, পাছ হাজার টাকা। এক পয়সাও কম নাই। যদি রাজি থাকে তাইলে ঝর্নাকে যেন খবর দেয়।

মিজান পরের দিন আবার আসে। পাচ হাজার টাকার চুক্তি হয়। কিন্তু পাচ হাজার তো দুরের কথা, দুই জনের জায়গায় এসেছে চারজন, তার উপরে ঝর্নাকে রক্তাক্ত করেছে। ঝর্নার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। তাকে আঘাত করা হয়েছে। এখন আবার বিচার, তাও ছেলের পক্ষে। গরিবের পক্ষে যেন কোন কিছুই নেই। সকালে জ্ঞান ফেরার পর ঝর্না বাড়িতে আসে। মমতাজ বেগম কে সব খুলে বলে। ঝর্নার সমস্ত শরীরের তাপমাত্রা তখন বেরে গেছে। মেয়ের সারা শরীর রক্তাক্ত দেখে মমতাজ বেগম কেদে দেয়। ঝর্নাও কাঁদে মুখ তুলে দাড়াতে পারে না। ঘরের মেঝেতে শুয়ে পরে।

ততক্ষনে মেম্বার বাড়ি থেকে লোক আসে। তাদের মা এবং মেয়ে দুইজনকেই যেতে বলছে। ঝর্না উঠে দাড়াতে পারে না। দারানর মত শক্তি নাই তার শরীরে। ঝর্নাকে ধরে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে আসে।

মাকে আর অপরাধি ভাবতে পারে না ঝর্না। একবার চোখ ঘুরিয়ে ভির জমানো সব মানুষগুলোকে দেখে নিচ্ছে। তারা এক প্রকার কানাগুশো করছে। তা শুনতে পায় না ঝর্না। শোনার চেষ্টাও করে না। ওরা আর কি বলবে। হয়তবা কেউ খারাপ বলে, কী ভাল বলে। ঝর্নাকে কেউ ভাল বললেও এইখানে তার মুখ খোলার সাহস নাই। মেম্বার যখন বললএরা মায় আর মাইয়ায় মিল্যা আমাগ গেরামডারে একদম মাগিপারা বানাইয়া ফালাইছে। এগোরে মাইরা গেরাম থেইকা বাইর কইরা দেওন লাগবো।

তখন কয়েকজন তার সাথে সুর মেলাল। মেম্বারের ছেলে সজলের পাশে শহুরে কয়েকটা ছেলের দিকে তাকাল ঝর্না। রাতে তাদের যেমন দেখেছে এখন তেমন মনে হয় না। রাতের আড়ালে ওদের জানোয়ার আর ক্ষুধার্ত বাঘ মনে হলেও এখন অনেক ভদ্র মনে হয়। ওরা মোল্লা সাহেবের দিকে তাকিয়ে আছে। ঝর্না আর শরীরের ভারসাম্য রাখতে পারে না। মাথাটা একদিকে কাত হয়ে আছে। দুই হাত উঁচু করে বাধা তার। পায়জামাটা একদম রক্তে ভিজে গেছে। আম গাছের গোরা থেকে কতগুলো পিঁপড়ে শরীর বেয়ে উঠছে। পিঁপড়ে রাও কি নারীর শরীর খায়? ঝর্না ভাবতে গিয়েও আর পারল না। ভেতরে কয়েকটা পিঁপড়ে কামর বসিয়েছে। বাম পা থেকে সেগুলো ছাড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পা টা জাগাতে পারে না। জাগানোর মত শক্তি নেই। কিছুক্ষন আগে আম গাছের ফাক দিয়ে একটু রোদ এসে তার গায়ে পড়েছিল এখন আর সেটা নেই। দুরের সূর্যটা রক্তে লাল হয়ে গেছে। ঝর্নার শরীর যেমন রক্তে লাল হয়ে গেছে। সূর্যটা ডোবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঝর্না টের পাচ্ছে, মিজান তার দিকে লম্বা একটি বেত নিয়ে এগিয়ে আসছে।।

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s