এত এত

image-এত অহংকার তোমাদের পেটে

এত অহংকার তোমাদের বুকে

আহ! এত হিংসা তোমাদের মুখে

আহ!এত দ্বেষ তোমাদের ঠোঁটে

 

কিভাবে তোমরা বেঁচে থাকো

কি করে তোমরা বয়ে বেড়াও নিজেকে

এত প্রতিহিংসা তোমাদের বুকে

কি করে থাকতে পারো এত এত সুখে

 

তোমাদের দৃষ্টিতে তীর্যক বান

তোমাদের সৃষ্টিতে তীব্র ঘৃণা

তোমাদের শরীর পারফিউমের আড়ালে

এত এত দুগর্ন্ধ, এত কটুঘাম, ক্লেদ,এত নীচতা

আহা! আভিজাত্য, আহা! চেতনার দাসত্ব।

—————————————-

 

বুয়া

যে রান্না করে দেয় যে বাসন কোসন মাজে

যে তোমাদের কাপড়চোপড় ধুয়ে দেয়

তার পোশাক এত নোংরা,এত অপরিস্কার

তার শরীরে এত অপুষ্টি, তার হাতে এত ঘা

আহ! তার পাক করা রান্না খাও তোমরা

তার হাতের ঘা খাও তোমরা.

তার অপরিস্কার পোশাকের গন্ধ খাও তোমরা

সে যখন মাছ কুটে, সে যখন মাছের কাটা ছাপ করে

যখন বাথ রুমে যায়, যখন বাথটাবে বসে তোমাদের অভিশাপ দেয়

যখন নামাজে দাঁড়ায়, যখন সে আনমনে চেয়ে তাকে আসমানে

কার কাছে সে অভিযোগ করে, শূন্যতা তার প্রিয় সঙ্গী

তোমাদের জন্য রান্না করতে দেরী হলে শাসানোর ভয়

তার ধ্যান ভেঙ্গে দেয়।

তোমার ক্ষুদে বুর্জোয়া সন্তান কোলে নিতে নিতে

সে যখন কাহিল হয়ে পড়ে তখন তাকে লাথি মারো, চড় দাও

হায়!সামান্তীয়, আহা! বুর্জোয়া এই কি সেই পৃথিবী

নফসের দাসত্বই নির্বাক নিয়তি।

———————————

 

আত্মা আগে না রুহ আগে

আত্মা আগে না রুহ আগে, রুহ আগে না আত্মা

এ প্রশ্নের মীমাংসা হতে না হতে

মানুষেরা কেউ হলো আস্তিক কেউ কেউ নাস্তিক

প্রাণীগুলো সে চিন্তার জগত থেকে নিরাপদ দূরত্ব থেকে গেলো

তারা কথা বলতে জানে না বলে মানুষ তাদের কোন পাত্তাই দিল না

এই পৃথিবী নিয়ে মানুষগুলো বেহুশ হয়ে গেলো, হামলে পড়লো

ডুব দিলো, তছনছ করলো, রক্ত বার করলো, খণ্ড খণ্ড করলো

পৃথিবীকে নিজের অধীনে এনে বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করলো

ভাব ও বস্তুুর ভেতর যে অনু, প্রাণ ও আলো ছড়াতো

তাকেও আবিস্কার করল মানুষ, এখন সে ভোগ করছে পৃথিবী

একি তার দুর্বিণীত সুখ, এ যে তার বাঁধণহারা অসুখ।

—————————————————-

 

সে নিয়ে আসে

সে তরঙ্গের উচ্ছ্বাস থেকে নিয়ে আসে অনেক কথা

সে ঢেউয়ের ঘূর্ণি থেকে নিয়ে আসে তূণীর তীর ধনুক

সে সমুদ্রের রেতবালি থেকে নিয়ে আসে অযুত হীরামন

সে নিয়ে আসে অজস্র টাটকা বাতাস, শীতলতা, স্রোত

আমি সমুদ্র বিকেলে তার সফলতার গান শুনতে শুনতে

শঙ্খচিল লালকাঁকড়ার ব্যথা বুঝতে না বুঝতে

ব্যক্ত করে ফেলি আমার অভিলাষ।

শঙখছিল যেখানে উড়ে সে আকাশ দিগন্তের আরক

লালকাঁকড়া যেখানে দৌড়ে সে বালুচর পৃথিবীর উঠান

আমরা সে উঠান ভাগ করে ফেলি, আমরা সে চর ডুবিয়ে ফেলি

সে ব্যক্ত করে তার বাসনা, সমুদ্র চির বিরহের ব্যকুলতা

ঢেউ ও সময় তরঙ্গের বুকে আঁচড়ায় সে শিহরণ কার বুকে কাঁপন ছড়ায়।।

———————————————————

Advertisements

মতামত জানান...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s